ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

১৪ বছরে চিংড়ি রপ্তানি কমেছে ৬২ শতাংশ


১৪ বছরে চিংড়ি রপ্তানি কমেছে ৬২ শতাংশ

দেশের হিমায়িত চিংড়ি খাতের সংকট দিন দিন গভীর রূপ ধারণ করছে। বিশ্ববাজারে কম দামে বেশি উৎপাদনশীল ‘ভেনামি’ চিংড়ির চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে, তবে বাংলাদেশ এখনো মূলত ‘বাগদা’ চিংড়ির ওপর নির্ভরশীল।

ফলে, ১৪ বছরের ব্যবধানে দেশের চিংড়ি রপ্তানি প্রায় ৬২ শতাংশ কমে গেছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি), মৎস্য অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএফইএ) তথ্য অনুযায়ী, ২০১২-১৩ অর্থবছরে বাংলাদেশ প্রায় ৫০ হাজার টন চিংড়ি রপ্তানি করে আয় করেছিল প্রায় ৫৭ কোটি ডলার। তবে সদ্য শেষ হওয়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রপ্তানি নেমে এসেছে মাত্র ১৯ হাজার টনে, এ থেকে আয় হয়েছে ২৮ কোটি ৫৬ লাখ ১০ হাজার ডলার।

এর মানে হচ্ছে, ১৪ বছরের ব্যবধানে চিংড়ি রপ্তানি কমেছে প্রায় ৩১ হাজার টন, অর্থাৎ ৬২ শতাংশ। এই একই সময়ে বৈদেশিক মুদ্রার আয় কমেছে ২৮ কোটি ৪৪ লাখ ডলার।

আরও পড়ুন: সাংসদকে বাঁচাতে হামলাকারী নাপিতকে ধরলেন, পেলেন ‘নায়ক’ খেতাব

বণিক বার্তা এক প্রতিবেদনে জানাচ্ছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশ ২৯ কোটি ৬২ লাখ ৯০ হাজার ডলারের ২৩ হাজার ২৩৮ টন চিংড়ি রপ্তানি করেছিল। আগের অর্থবছরের তুলনায় ওই বছর রপ্তানি বেড়েছিল ৪ হাজার ৭ টন এবং আয় বেড়েছিল ৪ কোটি ৮০ লাখ ডলার।

কিন্তু ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আবারও বড় ধরনের পতন ঘটে। এক বছরের ব্যবধানে চিংড়ি রপ্তানি কমেছে ৪ হাজার ২৩৮ টন। সেই সঙ্গে, রপ্তানি আয়ও কমেছে ১ কোটি ৬ লাখ ৮০ হাজার ডলার।

সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে বাংলাদেশ মোট ৪৪ কোটি ৩৪ লাখ ২০ হাজার ডলারের হিমায়িত মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানি করেছে। আগের অর্থবছরে এ আয় ছিল ৪৪ কোটি ১৫ লাখ ৮০ হাজার ডলার। অর্থাৎ, প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র দশমিক ৪২ শতাংশ। এর মধ্যে হিমায়িত চিংড়ি থেকে এসেছে ২৮ কোটি ৫৬ লাখ ১০ হাজার ডলার, হিমায়িত মাছ থেকে ৯ কোটি ৪১ লাখ ৩০ হাজার ডলার এবং অন্যান্য মৎস্যজাত পণ্য থেকে ৬ কোটি ৩৬ লাখ ৮০ হাজার ডলার।

রপ্তানিকারকরা বলছেন, বাংলাদেশের চিংড়ি রপ্তানি বর্তমানে মূলত বাগদানির্ভর হয়ে আছে। আর আন্তর্জাতিক বাজারে ভেনামি চিংড়ির চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। তুলনামূলক কম দাম এবং বেশি উৎপাদনশীলতার কারণে ইউরোপ সহ বিভিন্ন বাজারে ভেনামি চিংড়ির চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে চীন, নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, পর্তুগাল, যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানির মতো দেশে বাগদা চিংড়ির সীমিত চাহিদা রয়েছে। এর ফলে, চাহিদা কমে আসার কারণে এসব দেশে বাগদা আমদানিও প্রতি বছর কমছে।

আরও পড়ুন: দোকানে চুরির অভিযোগে ধাওয়া, পুলিশের গুলিতে প্রাণ গেল ১ বছরের শিশুর

বর্তমানে দেশে মোট ২ লাখ ৬২ হাজার ৯৮০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের চিংড়ি চাষ হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, ভেনামি চিংড়ির হেক্টরপ্রতি উৎপাদন বাগদার তুলনায় ১০ থেকে ১২ গুণ বেশি। কিন্তু বাংলাদেশে এখনো বাণিজ্যিকভাবে ভেনামি উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হয়নি।

খাতসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, এক সময়ে দেশে ১২২টি প্রতিষ্ঠান চিংড়ি ও মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানির সঙ্গে যুক্ত ছিল। বর্তমানে সক্রিয় রয়েছে মাত্র ৩০ থেকে ৩৫টি প্রতিষ্ঠান। বাকিগুলোর বেশিরভাগ বন্ধ হয়ে গেছে কিংবা কারখানা ভাড়া দিয়ে দিয়েছে। এসব কারখানার সম্মিলিত বার্ষিক উৎপাদন সক্ষমতা ছিল চার লাখ টনের বেশি। ফলে, উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও কাঁচামালের সংকট, আন্তর্জাতিক বাজারের প্রতিযোগিতা এবং উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান টিকে থাকতে পারছে না।

এমইউসি ফুডসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শ্যামল দাস বলেন, বৈশ্বিক বাজারে চিংড়ি রপ্তানিতে বাংলাদেশ খুবই আগেই তার অবস্থান হারিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ভেনামি চিংড়ির চাহিদা বেশি থাকলেও বাংলাদেশ সেই সুযোগ নিতে পারেনি। এখনো বাগদা চিংড়ি রপ্তানির কেন্দ্র করেই পরিকল্পনা হচ্ছে। তিনি বলেন, সরকার বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু সেগুলো মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়ন না হওয়ায় মৎস্য খাতে রপ্তানি বাড়ানোর জন্য আশাব্যঞ্জক পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। যদি সরকার নজর না দেয়, তাহলে দেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি পণ্য চিংড়ি একসময় শুধুমাত্র অভ্যন্তরীণ বাজারেই সীমাবদ্ধ হয়ে পড়তে পারে।

বিশ্ববাজারের চাহিদা বিবেচনায় ভেনামি চিংড়ি উৎপাদনে বিভিন্ন দেশ বড় ধরনের বিনিয়োগ করছে। এর মধ্যে ইন্দোনেশিয়া অন্যতম। দেশটির পূর্ব নুসা তেংগারা প্রদেশের পূর্ব সুম্বা জেলায় প্রায় ২ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে সরকারি উদ্যোগে ওয়াইংগাপু সমন্বিত চিংড়ি চাষ প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পে বছরে প্রায় ৫২ হাজার টন চিংড়ি উৎপাদন এবং ৭ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের লক্ষ্য রয়েছে।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রাম বিভাগে বৃষ্টির আভাস, আবহাওয়া অফিসের তাপমাত্রা সংক্রান্ত বার্তা

দেশটির সরকারের বিনিয়োগ ধরা হয়েছে ৭ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন রুপিয়া বা প্রায় ৩৯ কোটি ৮৬ লাখ ডলার। ২০২৮ সালের মধ্যে প্রকল্পটি চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে বছরে প্রায় ৪ ট্রিলিয়ন রুপিয়া বা ২২ কোটি ১৪ লাখ ডলারের উৎপাদনমূল্য অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে দেশটি।

বাংলাদেশ ফ্রোজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএফইএ) ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তারিকুল ইসলাম জহির বলেন, ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের বাগদা চিংড়ির দাম বেশি হওয়ার কারণে ভেনামির সঙ্গে প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়ছে। বলেন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া ও ভিয়েতনাম ছোট আকারের চাকা চিংড়ি প্রতি কেজি ৪ থেকে ৫ ডলারে বিক্রি করলেও বাংলাদেশের স্থানীয় বাজারে একই ধরনের চিংড়ির দাম ৭ ডলারের বেশি। দেশে চিংড়ির চাহিদা থাকায় উৎপাদন বাড়ানো ছাড়া বিকল্প নেই।

তারিকুল ইসলাম জহির জানান, সম্প্রতি অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের মাধ্যমে মৎস্য খাতে ২ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠন করা হয়েছে। এখন কীভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় এ অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হবে, তা নিয়ে আলোচনা চলছে। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের পক্ষে জমি কিনে বড় বিনিয়োগ করা সম্ভব নয়। তাই সরকার যদি চিংড়ি চাষের জন্য জমি লিজ দেয়, তাহলে উদ্যোক্তারা সেখানে বিনিয়োগ করতে পারবেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্যবসায়ীরা মাঠপর্যায়ের চাষীদের প্রয়োজনীয় লজিস্টিক ও বিনিয়োগ সহায়তা দেবেন এবং উৎপাদিত চিংড়ি কিনে নেওয়ার নিশ্চয়তাও দেওয়া হবে।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী তিন বিভাগ রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রামে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারতের অভিজাত হোটেলে মিলল মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার, আইনি নোটিশ জারি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৫১ এম


ভারতের অভিজাত হোটেলে মিলল মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার, আইনি নোটিশ জারি

ভারতের বেঙ্গালুরুর বিভিন্ন ফাইভ স্টার হোটেলে অভিযান পরিচালনা করে কর্ণাটকের খাদ্য সুরক্ষা বিভাগ মেয়াদোত্তীর্ণ এবং পচা খাবার জব্দ করেছে। শহরের ২৬টি অভিজাত হোটেলে একযোগে এই অভিযানটি হয়েছিল, যেখানে কর্মকর্তাদের ৩০টি দল অংশ নিয়েছে।

অভিযানের সময় রান্নাঘরের পরিবেশে নোংরা অবস্থা, পচা মাংস, ছত্রাক ধরা সবজি এবং মেয়াদোত্তীর্ণ দুধ ব্যবহারের প্রমাণ ফলস্বরূপ উঠে এসেছে।

অভিযানে দ্য ললিত অশোক থেকে ৭৬ কেজি পচা মাংস, ২০০ কেজি পচা সবজি, ৩২ লিটার মেয়াদোত্তীর্ণ দুধ জব্দ করা হয়েছে। র‍্যাডিসন ব্লু থেকে ১০৫ কেজি মেয়াদোত্তীর্ণ খাবার, যার মধ্যে ৫০ কেজি মুরগি, ২৫ কেজি মাংস এবং ২৩ কেজি মাছ অন্তর্ভুক্ত ছিল, জব্দ করা হয়েছে। তাজ যশবন্তপুর থেকে ৭২ কেজি পচা মাংস ও মাছ এবং ফোর সিজনস থেকে ১৯ কেজি এবং শাংরি-লা থেকে ১৫ কেজি পচা মাংস ধ্বংস করা হয়েছে।

২০০৬ সালের ‘খাদ্য নিরাপত্তা ও মান আইন’ লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত হোটেলগুলোর বিরুদ্ধে ইতোমধ্যেই কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়েছে। ল্যাব টেস্টের রিপোর্ট আসার পর আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা এবং কড়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, খাদ্য সুরক্ষা বিভাগ জানিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রিয়ালকে ‘না’ বলা রদ্রির জন্য বার্সার কাছে কত চাইল ম্যানসিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৫৩ এম


রিয়ালকে ‘না’ বলা রদ্রির জন্য বার্সার কাছে কত চাইল ম্যানসিটি

ম্যানচেস্টার সিটির সঙ্গে কথা হচ্ছিল রিয়াল মাদ্রিদের। রদ্রিকে চায় রিয়াল। বেশ কিছুদিন ধরেই তাদের আলোচনা চলছিল। তবে হঠাৎ করেই তাদের আলোচনা থমকে গিয়ে ঢুকে পড়ে বার্সেলোনা।

রদ্রিকে চাই রয়েছে বার্সারও। এই ভাবে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর মাঝে লড়াইয়ে যেকোনো এক দল বেছে নিতে হবে স্পেনের মিডফিল্ডারকে। রিয়ালকে ‘না’ করে দিয়ে বার্সেলোনাকে বেছে নিয়েছেন ৩০ বছর বয়সী রদ্রি। এই সিদ্ধান্তটি নিতে সাবেক কোচ পেপ গার্দিওলার দ্বারস্থ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

তবে বার্সায় যেতে রাজি হলেও রদ্রির জন্য পুরো প্রক্রিয়াটি সহজ হচ্ছে না। কারণ, দরদামে অগ্রসর হচ্ছে না সিটি এবং বার্সার মধ্যে।

বিশ্বকাপজয়ী রদ্রিকে পেতে বার্সেলোনা ৩৮.৫ মিলিয়ন পাউন্ডের প্রস্তাব দিয়েছিল। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই পরিমাণ প্রায় ৬৪০ কোটি ৫৪ লাখ ৮০ হাজার টাকায় পরিণত হয়। কিন্তু তাতে সম্মত হয়নি ম্যানচেস্টার সিটি।

নতুন করে আলোচনায় বসেছে দুই পক্ষ। বিবিসি জানিয়েছে, ৬০ মিলিয়ন পাউন্ডের বেশি হলে তবেই ম্যানসিটি রদ্রিকে বিক্রি করতে রাজি হবে। নতুন করে বার্সা কোনো অফার দিয়েছে কিনা, সেটি এখন পর্যন্ত জানা যায়নি।

ম্যানসিটির সঙ্গে রদ্রির চুক্তি রয়েছে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত। স্প্যানিশ মিডফিল্ডারকে নেওয়ার পেছনে ফ্রেঙ্কি ডি ইয়ংয়ের চোট অন্যতম কারণ। নতুন মৌসুমের শুরুতে পাওয়া যাবে না ডান হাঁটুর লিগামেন্টে চোট পাওয়া নেদারল্যান্ডসের মিডফিল্ডারকে। এছাড়া, রদ্রির সঙ্গে পেদ্রি এবং দানি ওলমোদের জুটিও দুর্দান্তভাবে জমে। ইউরো ও বিশ্বকাপ, উভয় টুর্নামেন্টে স্পেনকে চ্যাম্পিয়ন করতে রদ্রির অবদান ছিল অনবদ্য। তাই তার স্বীকৃতি হিসেবে তিনি জিতেছেন টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কার।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পুতিনের তুরুপের তাস ব্যালিস্টিক মিসাইল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৫৫ এম


পুতিনের তুরুপের তাস ব্যালিস্টিক মিসাইল

২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এখন পঞ্চম বছরে পদার্পণ করেছে। কিন্তু থামার বদলে গত জুন থেকে যুদ্ধের তীব্রতা আরো বেড়েছে।

এর জন্য অবশ্য ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির ওপর দোষ রয়েছে।

যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে বাধ্য করতে জেলেনস্কি জুন মাসে রাশিয়ার ভেতরে বৃষ্টির মত ড্রোন হামলা চালানো শুরু করে। রাশিয়াকে দুর্বল করতে ইউক্রেন বড় বড় তেল শোধনাগার, তেলের ট্যাংকার, বিদ্যুৎকেন্দ্র, সামরিক এবং অর্থনৈতিক অবকাঠামোতে সুনির্দিষ্ট হামলা চালায়।

এই হামলায় ভালোভাবেই রাশিয়া চাপে পড়ে।

বিশেষ করে রাশিয়ার মত তেল উৎপাদনকারী দেশেও জ্বালানী তেলের তীব্র সঙ্কট নজিরবিহীন ছিল। কিন্তু পুতিন ভয়ে কাবু হওয়ার মানুষ নন। ড্রোন হামলায় ক্ষতি হলেও যুদ্ধ বন্ধের বদলে তিনি আরো তীব্রভাবে পাল্টা আক্রমণ শুরু করেন। ফলস্বরূপ, দুই পক্ষেই ক্ষয়ক্ষতি বেড়েছে, বিশেষ করে বেসামরিক নাগরিকদের মৃত্যু বাড়ছে।

ইউক্রেনের আক্রমণের পাল্টা হিসেবেও রাশিয়াও ড্রোন হামলার পাশাপাশি ব্যাপকভাবে মিসাইল হামলা চালাচ্ছে। ইউক্রেনে রাশিয়ার ব্যাপক বিমান হামলাগুলো অত্যন্ত জটিল।

ইউক্রেনীয় বিমান বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ৩০ জুন রাতে কিয়েভ ও লভিভ অঞ্চলে চালানো একটি হামলায় রাশিয়া বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে ৪টি জাহাজ-বিধ্বংসী মিসাইল, ৯টি ব্যালিস্টিক মিসাইল, ৬১টি ক্রুজ মিসাইল এবং প্রায় ৩০০টি ড্রোন ব্যবহার করে।

এর মধ্যে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক মিসাইলগুলো বিশেষ উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইউক্রেনের জন্য প্রাণঘাতী এই ব্যালিস্টিক মিসাইল ঠেকানোর সক্ষমতা কমে আসছে।

রাশিয়াও এটা জানে। ইউক্রেনের প্রতিরক্ষার এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে আক্রমণের ছক সাজাচ্ছেন পুতিন। ব্যালিস্টিক মিসাইল ঠেকাতে চাই আমেরিকার তৈরি প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর। কিন্তু এই প্যাট্রিয়টের সরবরাহে মারাত্মক ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়টের স্টক অর্ধেকে নেমে এসেছে। নিজেদের যুদ্ধ ফেলে ইউক্রেনকে আগের মত প্যাট্রিয়ট সরবরাহ করা আমেরিকার পক্ষেও সম্ভব নয়।

গত জুনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেলেনস্কিকে প্যাট্রিয়ট তৈরির লাইসেন্স দেয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু সে অবস্থান থেকে পিছিয়ে এসেছেন ট্রাম্প। রাশিয়ার ড্রোন মোকাবেলায় ইউক্রেন কিছুটা দক্ষতা অর্জন করলেও ব্যালিস্টিক মিসাইলের সামনে ইউক্রেন আসলে অসহায়।

ব্যালিস্টিক ঠেকাতে প্যাট্রিয়টের জন্য ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির হাহাকার এখন তীব্র হচ্ছে। বুধবার এক বিবৃতিতে জেলেনস্কি আরও ইন্টারসেপ্টর সরবরাহের জন্য সহযোগীদের প্রতি আকুল আবেদন জানিয়ে বলেছেন, 'ব্যালাস্টিক মিসাইল ঠেকাতে ইন্টারসেপ্টরগুলো আজ যারা নিহত হয়েছেন, তাদের জীবন বাঁচাতে পারতো।

আমাদের সহযোগীদের এটি বোঝা অত্যন্ত জরুরি যে, এগুলো সরবরাহে বিলম্ব করা অথবা অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক সিস্টেম দিতে অনীহা প্রকাশ করার সরাসরি ফল হলো এই ধরনের ভয়াবহ হতাহত এবং ধ্বংসযজ্ঞ।

যেসব সহযোগী দেশ এখনও ইন্টারসেপ্টর সরবরাহে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে প্রস্তুত নয়, তারা নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সাহায্য করতে পারে। রাশিয়ার ব্যালিস্টিক মিসাইল উৎপাদনের একটি বড় অংশ এখনও কোনো নিষেধাজ্ঞার আওতায় নেই।'

বর্তমান রাশিয়ার হামলার ধরন তিনটি- ব্যালিস্টিক মিসাইল, ক্রুজ মিসাইল এবং ড্রোন। এসব হামলার অধিকাংশই রাশিয়ার ভেতর থেকে বা ইউক্রেনের রুশ-অধিকৃত অঞ্চল থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়।

যুদ্ধক্ষেত্রের সম্মুখ সারির কাছাকাছি এলাকাগুলোতে, রুশ বাহিনী ইউক্রেনের বেসামরিক এলাকাগুলোকে আতঙ্ক ছড়াতে তুলনামূলক ছোট ড্রোন ব্যবহার করছে। এই ড্রোনগুলো তুলনামূলকভাবে সস্তা এবং প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়।

রাশিয়া ইরানি নকশার শাহেদ ড্রোনের একটি সংস্করণ 'গেরান-২' ব্যাপক হারে তৈরি করছে। তবে তুলনামূলকভাবে ধীরগতির ড্রোনের বিরুদ্ধে ইউক্রেনের একটি বহুমাত্রিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। ইউক্রেন ইতিমধ্যেই রাশিয়ান ড্রোন মোকাবেলায় তার দক্ষতা ও উদ্ভাবনী ক্ষমতার পরিচয় দিয়েছে।

ক্রুজ মিসাইলগুলো সাধারণত একটি ড্রোনের চেয়ে অনেক বড় যুদ্ধাস্ত্র বহন করে। জেট ইঞ্জিন দ্বারা চালিত এই মিসাইলগুলো রাডার ফাঁকি দেওয়ার জন্য সাধারণত মাটির খুব কাছ দিয়ে উড়তে পারে। 'মিসাইল ডিফেন্স অ্যাডভোকেসি অ্যালায়েন্স'-এর তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার যুদ্ধজাহাজ এবং সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপিত ক্রুজ মিসাইল 'কালিব্র' সমুদ্রপৃষ্ঠের মাত্র ২০ মিটার বা ভূপৃষ্ঠের ৫০ মিটার ওপর দিয়ে উড়ে যেতে পারে।

তবে পুতিনের হাতে তুরুপের তাস হলো ব্যালিস্টিক মিসাইল। এই মিসাইলের গতি এবং গতিপথ সম্পূর্ণ আলাদা। রকেট ইঞ্জিন দ্বারা চালিত এই মিসাইলটি তার লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগে একটি উঁচু ধনুকের মতো বৃত্তাকার পথ অনুসরণ করে। এর পাল্লা বা দূরত্বের ভিন্নতা থাকলেও এর গতি দূরন্ত।

রাশিয়ার স্বল্পপাল্লার 'ইস্কান্দার' ব্যালিস্টিক মিসাইল শব্দের চেয়ে ছয় থেকে সাত গুণ গতিতে উড়তে পারে এবং এটি ৭০০ কিলোগ্রাম পর্যন্ত বিস্ফোরক বহন করতে পারে।

একটি দূরপাল্লার আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রাশিয়া থেকে সুমেরু বৃত্ত পার হয়ে যুক্তরাষ্ট্রের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে ৩০ মিনিটেরও কম সময়ে। কিয়েভে সাম্প্রতিক হামলাগুলোর সময় দেখা গেছে, বিমান হামলার সাইরেন বাজার সাথে সাথেই বিস্ফোরণ ঘটেছে।

রাশিয়া এবার ইউক্রেনের বিরুদ্ধে কয়েকবার 'ওরে্পনিক' নামে একটি মধ্যম পাল্লার হাইপারসনিক মিসাইলও ব্যবহার করেছে। তবে রুশ সামরিক বাহিনীর প্রধান ভরসা হিসেবে কাজ করছে ইস্কান্দারের মতো স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক মিসাইলগুলো। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের মতে, রুশ বাহিনী ইউক্রেনের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার জন্য তাদের 'এস-৪০০' বিমান-প্রতিরক্ষা মিসাইলকেও ব্যালিস্টিক মিসাইল হিসেবে পুনর্ব্যবহার করেছে।

এ ছাড়া রাশিয়ার অস্ত্রাগারে উত্তর কোরিয়ার ব্যালিস্টিক মিসাইল যুক্ত হওয়ার খবর ইউক্রেনের দুশ্চিন্তাকে আরো বাড়িয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের দূত ভ্লাদিস্লাভ ভ্লাসিউক জানিয়েছেন, ইউক্রেন উত্তর কোরিয়ার একটি কেএন-২৩ মিসাইল শনাক্ত করেছে, যা রাশিয়ার ইস্কান্দার মিসাইলের সমকক্ষ। মিসাইলটি সম্প্রতি ডিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের গ্রামীণ এলাকা রাদুনোর একটি বাড়ি ধ্বংস করে দিয়েছে, যার ফলে তিন শিশুসহ ছয়জন নিহত হয়েছে এবং হামলার পর আরও ৫ শিশু এখনও নিখোঁজ রয়েছে।

কেএন-২৩ সম্পর্কে তিনি বলেন, 'এটি কার্যত রাশিয়ান ইস্কান্দারের একটি হুবহু প্রতিরূপ। এমনকি এগুলোতে পশ্চিমা প্রযুক্তিতে তৈরি যন্ত্রাংশসহ একই ধরনের উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে। উত্তর কোরিয়ার সামরিক সহায়তার ওপর রাশিয়ার নির্ভরশীলতার এটি একটি অন্যতম উদাহরণ। রাশিয়ার মিসাইলগুলোর মতোই উত্তর কোরিয়ার মিসাইলগুলোও ইউক্রেনের বেসামরিক নাগরিকদের হত্যা করছে।'

ইউক্রেনে সাম্প্রতিক এক গবেষণা সফর শেষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এর একটি পোস্টে সামরিক বিশ্লেষক দারা মাসিকোট বলেন, 'ব্যালিস্টিক মিসাইল প্রতিরোধ করা এখনও একটি কঠিন সমস্যা। প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরের সমস্যাগুলো সবার জানা। ইউক্রেনও জানে কী করতে হবে।

তিনি বলেন, 'আমার মতে এখন ইউক্রেনের জন্য ‘প্ল্যান বি’ এবং ‘প্ল্যান সি’ নিয়ে ভাবার সময় এসেছে। কীভাবে রাশিয়ার মিসাইল ছোঁড়ার সক্ষমতা কমানো যায়, তা নিয়ে ভাবতে হবে।' তবে ইউক্রেনের ভাবনার জন্য তো রাশিয়া বসে থাকবে না। ইউক্রেন যখন প্ল্যান বি বা সি নিয়ে ভাববে, ততক্ষণে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক মিসাইল তাদের দেশে হামলা চালিয়ে ছাড়খাড় করে দেবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চিকিৎসক সমাবেশের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১০:৫৬ এম


চিকিৎসক সমাবেশের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) এর ৩৭ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে চিকিৎসক সমাবেশের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ শনিবার সকালে জাতীয় সংসদের এলডি হলে আয়োজিত চিকিৎসক সমাবেশের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এর আগে প্রধানমন্ত্রী একটি নিম গাছের চারা জাতীয় সংসদ প্রাঙ্গণে রোপণ করেন। এ সময় তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও একটি গাছের চারা রোপণ করেন। এরপর জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন সম্পন্ন হওয়ার পর এবং দলীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে পরবর্তী কর্মসূচি শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী। চিকিৎসক সমাবেশ শুরুর আগে তাঁরা শান্তির দুটি পায়রা আকাশে উড়িয়ে দেন। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ, মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%