ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় নতুন গতি, ট্রাম্পের দূত সুইজারল্যান্ড সফরে


ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় নতুন গতি, ট্রাম্পের দূত সুইজারল্যান্ড সফরে

মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি ও পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে আলোচনা নতুন করে গতি লাভ করেছে। যুদ্ধবিরতির পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ সুইজারল্যান্ড সফরে যাচ্ছেন, যেখানে তেহরানের সঙ্গে আলোচনা শুরুর প্রথম পর্যায় শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

এই আলোচনায় অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তার সফর বাতিল করা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপ এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

তেহরান শুরু থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে যুদ্ধবিরতিকে আলোচনা করার বিশেষ শর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ায় কূটনৈতিক উদ্যোগটি কিছুটা সহজ হয়েছে বলেই মনে হচ্ছে। একজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, সম্ভাব্য নতুন পারমাণবিক চুক্তির বিষয়বস্তু নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু করতে জন্য উইটকফ সুইজারল্যান্ডে যাচ্ছেন। এই বৈঠকটি ভবিষ্যতের সমঝোতার ভিত্তি তৈরির একটি প্রথম ধাপ হিসেবে ভাবা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: রাজনীতিবিদদের জনকল্যাণমুখী রাজনীতি করার আহ্বান জানালেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

যদিও যুদ্ধবিরতির আগ পর্যন্ত পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত উত্তপ্ত। লেবাননে ইসরায়েলের হামলায় ৪৭ জনেরও বেশি লোক প্রাণ হারায় এবং যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরও বিচ্ছিন্ন কিছু হামলার ঘটনা ঘটে। এই প্রেক্ষাপটে ভ্যান্স আলোচনায় অংশ নিতে অনাগ্রহী বলে ধারণা করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সরাসরি ইসরায়েলি নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং সংযমের আহ্বান জানান। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র, কাতার এবং ইরানের মধ্যস্থতায় এই যুদ্ধবিরতি সম্ভব হয়েছে।

এর আগে, বুধবার ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেন, যা ভবিষ্যতের চুক্তির ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টক অবকাশকেন্দ্রে দুই দেশের প্রতিনিধিদের বৈঠকের পরিকল্পনা ছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনার পরিবেশ কিছুটা ইতিবাচক হলেও পুরো প্রক্রিয়াটি এখনও অনেকটাই নাজুক অবস্থায় রয়েছে। বিশেষ করে ইসরায়েলের একটি অংশ এই সমঝোতার বিরুদ্ধে অবস্থান করে আসছে, যা আলোচনার পথে নতুন বাধা সৃষ্টি করতে পারে। যুদ্ধবিরতির পর নতুন করে শুরু হওয়া এই কূটনৈতিক তৎপরতা মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে কতটা কার্যকর হবে, তা এখন দেখার বিষয়।

তথ্য সূত্র- রয়টার্স।

আরও পড়ুন: স্পিকার সরকারি দলের নেতাকর্মীদের সতর্ক করে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা জানালেন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষণা, ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে নতুন দফার আলোচনা শুরু হবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:৪৬ এম


যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষণা, ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে নতুন দফার আলোচনা শুরু হবে

আগামী সপ্তাহের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে ইসরায়েল এবং লেবাননের প্রতিনিধিদের মধ্যে নতুন দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার খবর দিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। শুক্রবার একটি বিবৃতির মাধ্যমে এই বিষয়টি জানানো হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রকাশিত বিবৃতির অল্প সময় আগে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ লেবাননে পুনরায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার ঘোষণা দিয়েছে। গৃহীত পদক্ষেপগুলির মধ্যে লেবাননে ইসরায়েলের অব্যাহত হামলার ফলে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ সমাধানের চলমান সমঝোতা স্মারক ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও শুক্রবার লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেছেন। এ সময় তিনি জোর দিয়ে বলেন, “ইসরায়েলের সঙ্গে লেবাননের দ্বিপক্ষীয় আলোচনা দেশটির পুনর্গঠন, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ও সহিংসতা অবসানের একমাত্র বাস্তবসম্মত পথ।”

দুই নেতা ২৩ ও ২৫ জুন অনুষ্ঠিতব্য আলোচনার বিষয়ে আলোচনা করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, “বৈঠকগুলোতে দুটি সার্বভৌম সরকার স্থায়ী শান্তির লক্ষ্যে অগ্রগতি অর্জনের চেষ্টা করবে।”

গত এপ্রিল মাসে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে প্রথম দফার সরাসরি আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৯৩ সালের পর এটি ছিল প্রথম দুই দেশের প্রতিনিধিদের মুখোমুখি বৈঠক।

সেই বৈঠক এবং জুনে অনুষ্ঠিত পরবর্তী দফার আলোচনার পর ইসরায়েল ও লেবানন দুজনই সংঘর্ষে বিরতির ঘোষণা দেয়। তবে এসব আলোচনায় হিজবুল্লাহকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, যা অর্থবহ কোনো অগ্রগতি সাধনের জন্য একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে হিজবুল্লাহ এবং ইসরায়েলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা চলছেই। সর্বশেষ, লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৪৭ জন নিহত হয়েছে।

২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে সংঘটিত যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর থেকে লেবাননের সরকার যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত একটি রোডম্যাপের আওতায় হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার চেষ্টা করে যাচ্ছে।

লেবাননের সরকার দেশটির দক্ষিণাঞ্চল থেকে ইসরায়েলি বাহিনীকে প্রত্যাহারের দাবি জানাতে শুরু করেছে। তবে জুন মাসের চুক্তিতে হিজবুল্লাহকে দক্ষিণ লেবাননের লিতানি নদীর উত্তরে সরে যেতে বলা হলেও সেখানে ইসরায়েলের সম্পূর্ণ সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধের বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করতে ওয়াশিংটনের সাথে তেহরানের স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকে লেবাননের ভৌগোলিক অখণ্ডতা ও সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

তবে চলমান সংঘর্ষ এই সমঝোতা বাস্তবায়নের পথে বারংবার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিরল ভাবে ইসরায়েলকে সমালোচনার আওতায় আনেন।

এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই অভিযোগ করেছেন যে, “ইসরায়েল স্থায়ী যুদ্ধের পরিবেশ বজায় রাখতে চায়।”

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফিফার নতুন আইন অনুযায়ী লাল কার্ড দেখে ইতিহাস গড়লেন প্যারাগুয়ের তারকা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:৫০ এম


ফিফার নতুন আইন অনুযায়ী লাল কার্ড দেখে ইতিহাস গড়লেন প্যারাগুয়ের তারকা

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ম্যাচে ভিনিসিউস জুনিয়রকে মুখ ঢেকে কিছু কথা বলেছিলেন জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ান্নি। ব্রাজিলিয়ান তারকার দাবি, বেনফিকার আর্জেন্টাইন তারকা তাকে বর্নবাদী গালিগুলো দিয়েছেন। সেসময় প্রেস্তিয়ান্নি লাল কার্ড দেখেছেন এবং ফিফা নতুন আইন গঠনে বাধ্য হয়েছে। মাঠে এখন মুখ ঢেকে কিছু বললে লাল কার্ড প্রদানের বিধান করা হয়েছে। চলতি বিশ্বকাপে এই আইনের প্রথম শাস্তি পেলেন প্যারাগুয়ের মিডফিল্ডার মিগুয়েল আলমিরন।

প্যারাগুয়ের মিডফিল্ডার মিগুয়েল আলমিরন মুখ ঢেকে মর্ত মুলদুরের সঙ্গে আলাপ করায় লাল কার্ড দেখেন। ফিফার নতুন নিয়ম অনুযায়ী এটি ফুটবল ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এই ধরনের শাস্তির প্রয়োগ হয়েছে।

এই ঘটনা ঘটে শনিবার (২০ জুন) ২০২৬ বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘ডি’-এর দ্বিতীয় ম্যাচে, যেখানে প্যারাগুয়ে বনাম তুরস্কের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। প্রথমার্ধের শেষের দিকে উত্তেজনা বৃদ্ধি পায়। ওই সময় আলমিরন মুখ ঢেকে তুর্কি ডিফেন্ডার মুলদুরের সঙ্গে কথা বলেন। মুলদুর সাথে সাথে রেফারিকে এই বিষয়টি জানান। পরে ভিএআরের পরামর্শ অনুযায়ী ঘটনাটি পর্যালোচনা করে রেফারি আলমিরনকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান।

এল সালভাদরের রেফারি ইভান বার্টন স্টেডিয়ামে উপস্থিত সকলে বলেন, 'পর্যালোচনার পর দেখা গেছে, প্যারাগুয়ের ১০ নম্বর খেলোয়াড় মুখ ঢেকে কথা বলেছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত, লাল কার্ড।'

ক্যালিফোর্নিয়ার সান ফ্রান্সিসকোতে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচটি এভাবেই ইতিহাসের পাতায় অন্তর্ভুক্ত হলো। কারণ এটি ছিল নতুন নিয়মের প্রথম প্রয়োগ।

এই নিয়মের পেছনে রয়েছে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের বিতর্কিত ঘটনায়। যেখানে রিয়াল মাদ্রিদের ব্রাজিলিয়ান তারকা ভিনিসিউস দাবি করেছিলেন, বেনফিকার তারকা প্রেস্তিয়ান্নি তাকে মুখ ঢেকে বর্ণবাদী মন্তব্য করেছেন। মুখ ঢেকে রাখার কারণে বিষয়টি যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এছাড়া ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিত ফিফা কংগ্রেসে এ ধরনের আচরণের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ২০২৬ বিশ্বকাপে কোনো খেলোয়াড় প্রতিপক্ষের মুখোমুখি অবস্থায় ইচ্ছাকৃতভাবে মুখ ঢেকে কথা বললে তাকে লাল কার্ড প্রদর্শন করা যেতে পারে।

ফিফার নিয়ম প্রণয়নকারী সংস্থা আইএফএবি একটি বিবৃতিতে জানায়, 'বৈষম্যমূলক বা অনুপযুক্ত আচরণ গোপন করার উদ্দেশ্যে মুখ ঢাকার ঘটনায় লাল কার্ডের বিধান সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন করা হয়েছে।'

আলমিরন নতুন নিয়মের কারণে এই বিশ্বকাপে আগেও আলোচনা তৈরি করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে টিম রিমকে প্রথমে ফাউলের কারণে হলুদ কার্ড দেখানো হয়েছিল। কিন্তু ভিএআর হস্তক্ষেপ করে জানায়, ভুল খেলোয়াড়কে শাস্তি দেওয়া হয়েছে। রিপ্লেতে দেখে রেফারি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেন এবং রিমের হলুদ কার্ড বাতিল করে আলমিরনকে অভিনয়ের (সিমুলেশন) দায়ে হলুদ কার্ড দেখান।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী ভিএআরের ক্ষমতাও বেড়ে গেছে। এখন গোল, পেনাল্টি, সরাসরি লাল কার্ড, ভুল খেলোয়াড়কে শাস্তি দেওয়া এবং স্পষ্টভাবে ভুল কিকের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রেও ভিএআর রেফারিকে সহায়তা করতে হবে, যদি দ্রুত সিদ্ধান্ত সংশোধন করা সম্ভব হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভেনিসে বাংলাদেশিদের নিয়ে ইতালিয়ানদের উন্মুক্ত আলোচনা ও নৈশভোজ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:৫২ এম


ভেনিসে বাংলাদেশিদের নিয়ে ইতালিয়ানদের উন্মুক্ত আলোচনা ও নৈশভোজ

ইতালির ভেনিসে বাংলাদেশিদের সংখ্যা প্রায় ২৫ হাজার। তাদের মধ্যে নতুন প্রজন্মের অনেকেই ইতালিতেই বড় হয়ে উঠছে। ইতালিয়ান ও বাংলাদেশি সংস্কৃতি, কর্মজীবন, সহাবস্থান এবং সামাজিক সম্পর্ক নিয়ে একটি মুখোমুখি প্রশ্নোত্তর এবং উন্মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই আলোচনার আয়োজন করেছেন ইংল্যান্ডের ইউসিএল (UCL) বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর ভারতীয় বংশোদ্ভূত মেঘনা মেহেত্তা। ঐতিহাসিক ভেনিসের 'Wetlands and Tocia' নামক একটি সংগঠনের উদ্যোগে মারঘেরা ও মেস্ত্রে এলাকায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের ইতালিয়ানদের সঙ্গে একত্রে বসবাস, কর্মজীবন ও নতুন প্রজন্মের বিকাশের নানা বিষয় নিয়ে প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে অংশ নেন প্রফেসর মেঘনা মেহেত্তা, ভেনিসে বসবাসরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পিএইচডি শিক্ষার্থী জুয়াইরিয়া উদ্দিন দেখা, ইতালিতে কর্মরত দোভাষী জোহরা হক, রেস্টুরেন্টকর্মী ইফতেখার সেতু এবং সদ্য ইতালিতে আগত হীম উদ্দিন। তারা ইতালীয়, ইংরেজি ও বাংলা ভাষায় নিজেদের কর্মজীবন, অভিজ্ঞতা ও ইতালিতে বসবাসের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য ছিল ইতালিয়ানদের সঙ্গে বাংলাদেশিদের সুসম্পর্ক গড়ে তোলা, পারস্পরিক ভাববিনিময় এবং ভ্রাতৃত্ববোধ সৃষ্টি করা। পাশাপাশি বাংলাদেশিদের অগ্রযাত্রা, দুই দেশের সংস্কৃতি এবং খাদ্য ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়। এ সময় অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর মেঘনা মেহেত্তার রচিত একটি নতুন বই প্রকাশের আগাম বার্তাও উপস্থাপন করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে অতিথিদের জন্য ইতালীয় ও বাংলাদেশি বিভিন্ন খাবার পরিবেশন করা হয়। এ সময় ভেনিস বাংলা স্কুল পরিবারের সদস্য, শিক্ষার্থীদের অভিভাবক, স্থানীয় সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানটি উপভোগ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দক্ষিণ আফ্রিকায় এইচআইভি কর্মসূচির জন্য অর্থ সহায়তা বন্ধ করছে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:৫৯ এম


দক্ষিণ আফ্রিকায় এইচআইভি কর্মসূচির জন্য অর্থ সহায়তা বন্ধ করছে যুক্তরাষ্ট্র

 

দক্ষিণ আফ্রিকায় এইচআইভি এবং এইডস প্রতিরোধে চলমান বিভিন্ন কর্মসূচিতে যুক্তরাষ্ট্র আর অর্থ সহায়তা দেবে না। মার্কিন সরকার এই সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছে।

এই কারণেই বিশ্বের সবচেয়ে বড় এইচআইভি আক্রান্ত জনগোষ্ঠীর দেশের স্বাস্থ্য খাত নতুন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

দক্ষিণ আফ্রিকায় ৮০ লাখেরও বেশি মানুষ এইচআইভি নিয়ে বসবাস করছেন। বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় এই সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। বহু বছর ধরে এই রোগ মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র দেশটিকে বড় ধরনের আর্থিক সহায়তা দিয়ে এসেছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ইঙ্গিত দিয়েছে, দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে চলমান রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক বিরোধের কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে শ্বেতাঙ্গ সংখ্যালঘু আফ্রিকানার সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দক্ষিণ আফ্রিকা ব্যর্থ হয়েছে বলেই যুক্তরাষ্ট্রের এ অভিযোগের সাথে এই সিদ্ধান্তের সম্পর্ক রয়েছে।

তবে দক্ষিণ আফ্রিকার সরকার এসব অভিযোগ একাধিকবার প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটি দাবি করেছে, আফ্রিকানারদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের বৈষম্য বা নিপীড়ন চলছে না।

দক্ষিণ আফ্রিকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তাদের পূর্বে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। তবে তারা দীর্ঘদিন ধরেই বিদেশি সহায়তার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজেদের অর্থায়নে স্বাস্থ্য কর্মসূচি পরিচালনার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। ২০২৫ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকার এইচআইভি প্রতিরোধ কর্মসূচিতে প্রতিবছর প্রায় ৪০ কোটি ডলার সহায়তা দিত যুক্তরাষ্ট্র। এই অর্থ ‘প্রেসিডেন্টস ইমার্জেন্সি প্ল্যান ফর এইডস রিলিফ’ বা পিইপিএফএআর কর্মসূচির মাধ্যমে আসত। এই কর্মসূচি বহু বছর ধরে আফ্রিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এইচআইভি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

যদিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর দুই দেশের সম্পর্ক আরো খারাপ হতে শুরু করে। ক্ষমতা গ্রহণের পর ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে অভিযোগ করেন, দক্ষিণ আফ্রিকার কিছু সরকারি নীতি সমান সুযোগের পরিবেশ নষ্ট করছে। তিনি আরও দাবি করেন, দেশটির নীতিমালা বর্ণগত কারণে কিছু জমির মালিকদের বিরুদ্ধে বৈরী পরিস্থিতি তৈরি করছে। দক্ষিণ আফ্রিকার সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের মতে, বর্ণবাদী শাসনের সময় তৈরি হওয়া অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করতে কৃষ্ণাঙ্গ জনগণের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নীতি প্রয়োজন। ট্রাম্পের ওই নির্বাহী আদেশে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার করা মামলার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। সঙ্গে সঙ্গেই ইরানের সাথে সম্পর্ক নিয়েও সমালোচনা করা হয়। হোয়াইট হাউস বলেছে, দক্ষিণ আফ্রিকার এসব কর্মকাণ্ডকে তারা ‘অন্যায় ও অনৈতিক’ মনে করছে। এজন্য দেশটিকে আর সহায়তা দেওয়া হবে না। ট্রাম্প আরো দাবি করেছেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় শ্বেতাঙ্গদের বিরুদ্ধে ‘গণহত্যা’ ঘটছে। তবে এই দাবির পক্ষে কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক এবং গবেষকরা এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলেও উল্লেখ করেছেন। ট্রাম্প প্রশাসন আফ্রিকানারদের জন্য একটি বিশেষ শরণার্থী কর্মসূচি চালু করেছে এই দাবির ভিত্তিতে।

আফ্রিকানাররা মূলত পশ্চিম ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত শ্বেতাঙ্গ জনগোষ্ঠী, যারা ১৭শ শতকে দক্ষিণ আফ্রিকায় বসতি স্থাপন করেছিলেন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পাওয়া শরণার্থীদের মধ্যে এই গোষ্ঠী অন্যতম প্রধান। দক্ষিণ আফ্রিকার এইচআইভি কর্মসূচির মোট ব্যয়ের প্রায় ২০ শতাংশ আসত পিইপিএফএআরের অর্থ থেকে। গত বছরের অক্টোবরে একটি ‘সেতুবন্ধন পরিকল্পনার’ মাধ্যমে এই অর্থায়ন সাময়িকভাবে চালু রাখা হয়েছিল। তবে এখন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর নিশ্চিত করেছে, এই অর্থায়ন ধাপে ধাপে কমানো হবে এবং শেষ পর্যন্ত বন্ধ করে দেওয়া হবে। পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকা যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত উদ্বেগগুলো দূর করতে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি প্রদর্শন করতে পারেনি। এজন্য অর্থ সহায়তা কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চায় দক্ষিণ আফ্রিকা নিজেদের সক্ষমতার ওপর আরো বেশি নির্ভরশীল হোক এবং মার্কিন অর্থের ওপর নির্ভরতা কমাতে চাইছে। তার মতে, দক্ষিণ আফ্রিকা একটি মধ্যম আয়ের দেশ এবং তাদের নিজেদের স্বাস্থ্য কর্মসূচি পরিচালনা করার মতো সক্ষমতা রয়েছে। তবে দক্ষিণ আফ্রিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এইচআইভি আক্রান্তদের জীবন রক্ষাকারী অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল ওষুধের অর্থায়ন সরাসরি এই সহায়তার ওপর নির্ভরশীল নয়। এসব ওষুধের বেশিরভাগ অর্থই দক্ষিণ আফ্রিকার সরকার নিজেই বহন করে।

এদিকে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিভিন্ন উদ্যোগও সফল হয়নি। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ছিল হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প এবং দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসার বৈঠক। সেই বৈঠকে ট্রাম্প দক্ষিণ আফ্রিকায় শ্বেতাঙ্গদের ওপর নিপীড়নের অভিযোগ নিয়ে রামাফোসার মুখোমুখি হন। গত নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত জি-২০ সম্মেলনেও যুক্তরাষ্ট্র অংশ নেয়নি। বিশ্বের বৃহৎ অর্থনীতির দেশগুলোর এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আয়োজক ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা।

সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো দুই দেশের মধ্যে বাড়তে থাকা দূরত্বের পূর্বাভাস দিচ্ছে। এবং এর প্রভাব শুধুমাত্র কূটনীতিতে নয়, স্বাস্থ্য খাতেও দেখা দিতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%