১০:৪৪ এম
মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি ও পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে আলোচনা নতুন করে গতি লাভ করেছে। যুদ্ধবিরতির পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ সুইজারল্যান্ড সফরে যাচ্ছেন, যেখানে তেহরানের সঙ্গে আলোচনা শুরুর প্রথম পর্যায় শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
এই আলোচনায় অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তার সফর বাতিল করা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক পদক্ষেপ এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
তেহরান শুরু থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলগুলোতে যুদ্ধবিরতিকে আলোচনা করার বিশেষ শর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে শুক্রবার ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ায় কূটনৈতিক উদ্যোগটি কিছুটা সহজ হয়েছে বলেই মনে হচ্ছে। একজন মার্কিন কর্মকর্তার বরাতে জানা গেছে, সম্ভাব্য নতুন পারমাণবিক চুক্তির বিষয়বস্তু নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু করতে জন্য উইটকফ সুইজারল্যান্ডে যাচ্ছেন। এই বৈঠকটি ভবিষ্যতের সমঝোতার ভিত্তি তৈরির একটি প্রথম ধাপ হিসেবে ভাবা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: রাজনীতিবিদদের জনকল্যাণমুখী রাজনীতি করার আহ্বান জানালেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী
যদিও যুদ্ধবিরতির আগ পর্যন্ত পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত উত্তপ্ত। লেবাননে ইসরায়েলের হামলায় ৪৭ জনেরও বেশি লোক প্রাণ হারায় এবং যুদ্ধবিরতির ঘোষণার পরও বিচ্ছিন্ন কিছু হামলার ঘটনা ঘটে। এই প্রেক্ষাপটে ভ্যান্স আলোচনায় অংশ নিতে অনাগ্রহী বলে ধারণা করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সরাসরি ইসরায়েলি নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং সংযমের আহ্বান জানান। কূটনৈতিক সূত্রগুলো জানাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র, কাতার এবং ইরানের মধ্যস্থতায় এই যুদ্ধবিরতি সম্ভব হয়েছে।
এর আগে, বুধবার ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেন, যা ভবিষ্যতের চুক্তির ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টক অবকাশকেন্দ্রে দুই দেশের প্রতিনিধিদের বৈঠকের পরিকল্পনা ছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, আলোচনার পরিবেশ কিছুটা ইতিবাচক হলেও পুরো প্রক্রিয়াটি এখনও অনেকটাই নাজুক অবস্থায় রয়েছে। বিশেষ করে ইসরায়েলের একটি অংশ এই সমঝোতার বিরুদ্ধে অবস্থান করে আসছে, যা আলোচনার পথে নতুন বাধা সৃষ্টি করতে পারে। যুদ্ধবিরতির পর নতুন করে শুরু হওয়া এই কূটনৈতিক তৎপরতা মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে কতটা কার্যকর হবে, তা এখন দেখার বিষয়।
তথ্য সূত্র- রয়টার্স।
আরও পড়ুন: স্পিকার সরকারি দলের নেতাকর্মীদের সতর্ক করে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা জানালেন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন