ঢাকা বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২১শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৫ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ভেনিসে বাংলাদেশিদের নিয়ে ইতালিয়ানদের উন্মুক্ত আলোচনা ও নৈশভোজ


ভেনিসে বাংলাদেশিদের নিয়ে ইতালিয়ানদের উন্মুক্ত আলোচনা ও নৈশভোজ

ইতালির ভেনিসে বাংলাদেশিদের সংখ্যা প্রায় ২৫ হাজার। তাদের মধ্যে নতুন প্রজন্মের অনেকেই ইতালিতেই বড় হয়ে উঠছে। ইতালিয়ান ও বাংলাদেশি সংস্কৃতি, কর্মজীবন, সহাবস্থান এবং সামাজিক সম্পর্ক নিয়ে একটি মুখোমুখি প্রশ্নোত্তর এবং উন্মুক্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই আলোচনার আয়োজন করেছেন ইংল্যান্ডের ইউসিএল (UCL) বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর ভারতীয় বংশোদ্ভূত মেঘনা মেহেত্তা। ঐতিহাসিক ভেনিসের 'Wetlands and Tocia' নামক একটি সংগঠনের উদ্যোগে মারঘেরা ও মেস্ত্রে এলাকায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের ইতালিয়ানদের সঙ্গে একত্রে বসবাস, কর্মজীবন ও নতুন প্রজন্মের বিকাশের নানা বিষয় নিয়ে প্রশ্নোত্তর পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। উন্মুক্ত আলোচনা পর্বে অংশ নেন প্রফেসর মেঘনা মেহেত্তা, ভেনিসে বসবাসরত বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত পিএইচডি শিক্ষার্থী জুয়াইরিয়া উদ্দিন দেখা, ইতালিতে কর্মরত দোভাষী জোহরা হক, রেস্টুরেন্টকর্মী ইফতেখার সেতু এবং সদ্য ইতালিতে আগত হীম উদ্দিন। তারা ইতালীয়, ইংরেজি ও বাংলা ভাষায় নিজেদের কর্মজীবন, অভিজ্ঞতা ও ইতালিতে বসবাসের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য ছিল ইতালিয়ানদের সঙ্গে বাংলাদেশিদের সুসম্পর্ক গড়ে তোলা, পারস্পরিক ভাববিনিময় এবং ভ্রাতৃত্ববোধ সৃষ্টি করা। পাশাপাশি বাংলাদেশিদের অগ্রযাত্রা, দুই দেশের সংস্কৃতি এবং খাদ্য ঐতিহ্য তুলে ধরা হয়। এ সময় অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর মেঘনা মেহেত্তার রচিত একটি নতুন বই প্রকাশের আগাম বার্তাও উপস্থাপন করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে অতিথিদের জন্য ইতালীয় ও বাংলাদেশি বিভিন্ন খাবার পরিবেশন করা হয়। এ সময় ভেনিস বাংলা স্কুল পরিবারের সদস্য, শিক্ষার্থীদের অভিভাবক, স্থানীয় সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত থেকে অনুষ্ঠানটি উপভোগ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দক্ষিণ আফ্রিকায় এইচআইভি কর্মসূচির জন্য অর্থ সহায়তা বন্ধ করছে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

১০:৫৯ এম


দক্ষিণ আফ্রিকায় এইচআইভি কর্মসূচির জন্য অর্থ সহায়তা বন্ধ করছে যুক্তরাষ্ট্র

 

দক্ষিণ আফ্রিকায় এইচআইভি এবং এইডস প্রতিরোধে চলমান বিভিন্ন কর্মসূচিতে যুক্তরাষ্ট্র আর অর্থ সহায়তা দেবে না। মার্কিন সরকার এই সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছে।

এই কারণেই বিশ্বের সবচেয়ে বড় এইচআইভি আক্রান্ত জনগোষ্ঠীর দেশের স্বাস্থ্য খাত নতুন চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

দক্ষিণ আফ্রিকায় ৮০ লাখেরও বেশি মানুষ এইচআইভি নিয়ে বসবাস করছেন। বিশ্বের অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় এই সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। বহু বছর ধরে এই রোগ মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র দেশটিকে বড় ধরনের আর্থিক সহায়তা দিয়ে এসেছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ইঙ্গিত দিয়েছে, দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে চলমান রাজনৈতিক এবং কূটনৈতিক বিরোধের কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে শ্বেতাঙ্গ সংখ্যালঘু আফ্রিকানার সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দক্ষিণ আফ্রিকা ব্যর্থ হয়েছে বলেই যুক্তরাষ্ট্রের এ অভিযোগের সাথে এই সিদ্ধান্তের সম্পর্ক রয়েছে।

তবে দক্ষিণ আফ্রিকার সরকার এসব অভিযোগ একাধিকবার প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটি দাবি করেছে, আফ্রিকানারদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের বৈষম্য বা নিপীড়ন চলছে না।

দক্ষিণ আফ্রিকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত সম্পর্কে তাদের পূর্বে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। তবে তারা দীর্ঘদিন ধরেই বিদেশি সহায়তার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজেদের অর্থায়নে স্বাস্থ্য কর্মসূচি পরিচালনার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। ২০২৫ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকার এইচআইভি প্রতিরোধ কর্মসূচিতে প্রতিবছর প্রায় ৪০ কোটি ডলার সহায়তা দিত যুক্তরাষ্ট্র। এই অর্থ ‘প্রেসিডেন্টস ইমার্জেন্সি প্ল্যান ফর এইডস রিলিফ’ বা পিইপিএফএআর কর্মসূচির মাধ্যমে আসত। এই কর্মসূচি বহু বছর ধরে আফ্রিকাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এইচআইভি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।

যদিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় আসার পর দুই দেশের সম্পর্ক আরো খারাপ হতে শুরু করে। ক্ষমতা গ্রহণের পর ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশে অভিযোগ করেন, দক্ষিণ আফ্রিকার কিছু সরকারি নীতি সমান সুযোগের পরিবেশ নষ্ট করছে। তিনি আরও দাবি করেন, দেশটির নীতিমালা বর্ণগত কারণে কিছু জমির মালিকদের বিরুদ্ধে বৈরী পরিস্থিতি তৈরি করছে। দক্ষিণ আফ্রিকার সরকার এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তাদের মতে, বর্ণবাদী শাসনের সময় তৈরি হওয়া অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করতে কৃষ্ণাঙ্গ জনগণের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নীতি প্রয়োজন। ট্রাম্পের ওই নির্বাহী আদেশে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার করা মামলার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। সঙ্গে সঙ্গেই ইরানের সাথে সম্পর্ক নিয়েও সমালোচনা করা হয়। হোয়াইট হাউস বলেছে, দক্ষিণ আফ্রিকার এসব কর্মকাণ্ডকে তারা ‘অন্যায় ও অনৈতিক’ মনে করছে। এজন্য দেশটিকে আর সহায়তা দেওয়া হবে না। ট্রাম্প আরো দাবি করেছেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় শ্বেতাঙ্গদের বিরুদ্ধে ‘গণহত্যা’ ঘটছে। তবে এই দাবির পক্ষে কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি। আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক এবং গবেষকরা এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলেও উল্লেখ করেছেন। ট্রাম্প প্রশাসন আফ্রিকানারদের জন্য একটি বিশেষ শরণার্থী কর্মসূচি চালু করেছে এই দাবির ভিত্তিতে।

আফ্রিকানাররা মূলত পশ্চিম ইউরোপীয় বংশোদ্ভূত শ্বেতাঙ্গ জনগোষ্ঠী, যারা ১৭শ শতকে দক্ষিণ আফ্রিকায় বসতি স্থাপন করেছিলেন। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি পাওয়া শরণার্থীদের মধ্যে এই গোষ্ঠী অন্যতম প্রধান। দক্ষিণ আফ্রিকার এইচআইভি কর্মসূচির মোট ব্যয়ের প্রায় ২০ শতাংশ আসত পিইপিএফএআরের অর্থ থেকে। গত বছরের অক্টোবরে একটি ‘সেতুবন্ধন পরিকল্পনার’ মাধ্যমে এই অর্থায়ন সাময়িকভাবে চালু রাখা হয়েছিল। তবে এখন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর নিশ্চিত করেছে, এই অর্থায়ন ধাপে ধাপে কমানো হবে এবং শেষ পর্যন্ত বন্ধ করে দেওয়া হবে। পররাষ্ট্র দপ্তরের এক কর্মকর্তা বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকা যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত উদ্বেগগুলো দূর করতে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি প্রদর্শন করতে পারেনি। এজন্য অর্থ সহায়তা কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র চায় দক্ষিণ আফ্রিকা নিজেদের সক্ষমতার ওপর আরো বেশি নির্ভরশীল হোক এবং মার্কিন অর্থের ওপর নির্ভরতা কমাতে চাইছে। তার মতে, দক্ষিণ আফ্রিকা একটি মধ্যম আয়ের দেশ এবং তাদের নিজেদের স্বাস্থ্য কর্মসূচি পরিচালনা করার মতো সক্ষমতা রয়েছে। তবে দক্ষিণ আফ্রিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এইচআইভি আক্রান্তদের জীবন রক্ষাকারী অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল ওষুধের অর্থায়ন সরাসরি এই সহায়তার ওপর নির্ভরশীল নয়। এসব ওষুধের বেশিরভাগ অর্থই দক্ষিণ আফ্রিকার সরকার নিজেই বহন করে।

এদিকে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিভিন্ন উদ্যোগও সফল হয়নি। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত ছিল হোয়াইট হাউসে ট্রাম্প এবং দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসার বৈঠক। সেই বৈঠকে ট্রাম্প দক্ষিণ আফ্রিকায় শ্বেতাঙ্গদের ওপর নিপীড়নের অভিযোগ নিয়ে রামাফোসার মুখোমুখি হন। গত নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত জি-২০ সম্মেলনেও যুক্তরাষ্ট্র অংশ নেয়নি। বিশ্বের বৃহৎ অর্থনীতির দেশগুলোর এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আয়োজক ছিল দক্ষিণ আফ্রিকা।

সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো দুই দেশের মধ্যে বাড়তে থাকা দূরত্বের পূর্বাভাস দিচ্ছে। এবং এর প্রভাব শুধুমাত্র কূটনীতিতে নয়, স্বাস্থ্য খাতেও দেখা দিতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নীলফামারীর পঞ্চপুকুরে বটগাছে ‘মনসা দেবীর প্রতিচ্ছবি’, দর্শনার্থীদের ভিড়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

​ নীলফামারী স্টাফ রিপোর্টার রায়হান আলী

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:০১ এম


নীলফামারীর পঞ্চপুকুরে বটগাছে ‘মনসা দেবীর প্রতিচ্ছবি’, দর্শনার্থীদের ভিড়

নীলফামারীর পঞ্চপুকুর এলাকায় একটি অলৌকিক ঘটনার খবর এখন চারপাশে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানকার রাজু অর্গানিক গার্ডেনের পাশে অবস্থিত একটি প্রাচীন বটগাছের গায়ে গজানো ছত্রাকে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা দেবী মনসার প্রতিচ্ছবি দেখতে পাওয়ার দাবি করেছেন। এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই সেখানে সনাতন ধর্মাবলম্বী মানুষদের ঢল নেমেছে।

স্থানীয় এবং প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র থেকে জানা যায়, বটগাছটির কাণ্ডে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা ছত্রাকের অবয়ব দেখতে অনেকটা দেবী মনসার প্রতিকৃতির মতো মনে হচ্ছে। প্রথমদিকে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আলোচিত হলেও বর্তমানে দূর-দূরান্ত থেকে মানুষজন সেই প্রতিচ্ছবি দেখার জন্য আসছেন। অনেকে একে অলৌকিক সংকেত বিশ^াস করে দেখছেন।

এই বিশ্বাসকে কেন্দ্র করে বর্তমানে বটগাছের নিচে নিয়মিত পূজা-অর্চনা এবং ধর্মীয় সংগীত পরিবেশন করা হচ্ছে। স্থানীয় ভক্তরা সেখানে মানত করছে এবং ভক্তিভরে প্রণাম জানাচ্ছে। পুরো এলাকা এখন ধর্মীয় আমেজে মুখরিত হয়ে উঠেছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, "বটগাছের গায়ে ফুটে ওঠা এই রূপটি দেখেই আমাদের দেবী মনসার কথা মনে হয়েছে। বিশ্বাস থেকেই আমরা এখানে পূজা দিতে আসছি। মানুষজন এখানে মনের বাসনা পূরণের আশায় মানত করছেন।"

অন্যদিকে, দর্শনার্থীদের ভিড় সামলাতে এবং এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য স্থানীয়ভাবে তদারকি করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি পুরোপুরি মানুষের বিশ্বাস ও ভক্তির ওপর নির্ভরশীল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হ্যারি-মেগান যুক্তরাজ্য সফরে রাজকীয় বাসভবনে থাকার প্রস্তাব পেলেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:০৪ এম


হ্যারি-মেগান যুক্তরাজ্য সফরে রাজকীয় বাসভবনে থাকার প্রস্তাব পেলেন

প্রিন্স হ্যারি ও তার স্ত্রী মেগান মার্কেল আগামী মাসে সন্তানদের নিয়ে যুক্তরাজ্য সফরে যেতে পারেন। সফরের সময় তাদের থাকার জন্য রাজপরিবারের একটি বাসভবন ব্যবহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, এমনটি জানা গেছে।

হ্যারি ও মেগানের (সাসেক্সের ডিউক ও ডাচেস) সঙ্গে থাকবেন তাদের দুই সন্তান। ছেলে আর্চির বয়স সাত বছর এবং মেয়ে লিলিবেটের বয়স পাঁচ বছর। চার বছর পর তাদের পুরো পরিবার একসঙ্গে যুক্তরাজ্য সফরে যাচ্ছে। বিবিসি নিউজ জানায়, রাজপরিবারের একটি এস্টেটে পরিবারটির থাকার ব্যবস্থা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

তবে বর্তমানে হ্যারি ও মেগান সেই প্রস্তাব গ্রহণ করবেন কি না, সেই সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি। পরিবারটির জন্য কোন রাজকীয় বাসভবন নির্ধারণ করা হয়েছে, সেটিও প্রকাশ করা হয়নি। ফলে তারা কোথায় থাকবেন, তা স্পষ্ট নয়। এর আগে যুক্তরাজ্য সফরের সময় নিরাপত্তাজনিত কারণে প্রিন্স হ্যারি বাকিংহাম প্যালেসে থাকার প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। তার মতে, বিশ্বের সবচেয়ে পরিচিত ভবনগুলোর একটি হওয়ায় সেখানে থাকা নিরাপত্তার দিক থেকে ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

আগামী মাসে যুক্তরাজ্যে কয়েকটি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে প্রিন্স হ্যারির। এসব অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে ইনভিক্টাস গেমসকে ঘিরে। আহত ও অসুস্থ সামরিক সদস্যদের জন্য আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পরবর্তী আসর আগামী বছরের জুলাইয়ে ইংল্যান্ডের বার্মিংহামে অনুষ্ঠিত হবে। সেই আয়োজন শুরুর এক বছর বাকি থাকা উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচিতে যোগ দেবেন তিনি।

রাজপরিবার থেকে দূরে সরে যাওয়ার পরও হ্যারি ও তার পরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিষয়ে আগ্রহের কথা আগেই জানিয়েছিলেন। গত বছর বিবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, রাজপরিবারের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতি চান এবং তিনি একটি 'পুনর্মিলন' দেখতে চান। রাজা তৃতীয় চার্লস শেষবার সরাসরি তার নাতি-নাতনি আর্চি ও লিলিবেটকে ২০২২ সালে দেখেছিলেন। সে সময় যুক্তরাজ্যে প্রয়াত রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথের প্লাটিনাম জুবিলি উদযাপন চলছিল। গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাজ্য সফরের সময় প্রিন্স হ্যারি তার বাবা রাজা চার্লসের সঙ্গে ক্লারেন্স হাউসে সাক্ষাৎ করেন। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারির পর সেটিই ছিল বাবা-ছেলে প্রথম সরাসরি বৈঠক।

তবে আসন্ন সফরে রাজা চার্লস তার ছেলে, পুত্রবধূ ও নাতি-নাতনিদের সঙ্গে দেখা করবেন কি না, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে বাকিংহাম প্যালেস। তাদের ভাষ্য, এটি পরিবারের ব্যক্তিগত বিষয়। সফরের সময় কী ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে, সেটিও এখনো চূড়ান্ত হয়নি। জানা গেছে, বাকিংহাম প্যালেস থেকে আলাদা কোনো নিরাপত্তা সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়নি। অতিরিক্ত নিরাপত্তা প্রয়োজন হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত নেবে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ফলে হ্যারি ও তার পরিবারের সফরকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কী হবে, তা এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফ্রান্সে বহিষ্কারের জন্য বিদেশিদের ৭ মাস পর্যন্ত আটকের অনুমোদন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:০৭ এম


ফ্রান্সে বহিষ্কারের জন্য বিদেশিদের ৭ মাস পর্যন্ত আটকের অনুমোদন

ফ্রান্সে অনিয়মিতভাবে অবস্থানরত বিদেশিদের, যারা জননিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে বিবেচিত, প্রশাসনিক আটকের সর্বোচ্চ মেয়াদ বাড়িয়ে ২১০ দিন করা হয়েছে। বিতর্কিত এই আইনটি মঙ্গলবার (১৬ জুন) ফরাসি পার্লামেন্টে চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করে।

সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, এ পদক্ষেপটি বহিষ্কার প্রক্রিয়া আরো কার্যকর করার জন্য এবং জননিরাপত্তা জোরদারের উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু বিরোধী দলের সদস্যরা এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো এটিকে ব্যক্তিস্বাধীনতার প্রতি খর্বকারী হিসেবে গণ্য করেছেন।

ফরাসি পার্লামেন্টের সিনেটের অনুমোদনের পরে, নিম্নকক্ষ ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিও বিলটির পক্ষে চূড়ান্ত সম্মতি প্রদান করে। ভোটাভুটিতে ৩৪৫ জন সংসদ সদস্য বিলটির পক্ষে এবং ১৭৭ জন বিপক্ষে ভোট দেন।

সরকার, ডানপন্থি দলগুলো এবং কট্টর ডানপন্থি ন্যাশনাল র‍্যালি এই বিলটিকে সমর্থন করেছে।

বর্তমানে ফ্রান্সে প্রশাসনিক আটকের সর্বোচ্চ সময়সীমা ৯০ দিন পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। সন্ত্রাসবাদে দণ্ডিত বিদেশিদের জন্য তা ১৮০ দিন। নতুন আইনের আওতায় নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এ সময়সীমা বাড়িয়ে সর্বোচ্চ ২১০ দিন পর্যন্ত করা যাবে।

আইন অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ফরাসি ভূখণ্ড ত্যাগের নির্দেশ (ওকিউটিএফ) থাকতে হবে। এছাড়া, অতীতে গুরুতর অপরাধে অন্তত পাঁচ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত হতে হবে এবং তাকে জননিরাপত্তার জন্য বাস্তব ও গুরুতর হুমকি হিসেবে গণ্য করা হবে। যদি এসব শর্ত পূরণ হয়, তবে বহিষ্কার কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত তাকে প্রশাসনিক আটক কেন্দ্রে রাখতে পারবেন।

নতুন আইনে সন্ত্রাসবাদে দণ্ডিত বিদেশিদের ক্ষেত্রেও প্রশাসনিক আটকের সর্বোচ্চ মেয়াদ ১৮০ দিন থেকে বাড়িয়ে ২১০ দিন করা হয়েছে।

বিলটি পাস হওয়ার পরে, প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লকর্নু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, রাজনৈতিক অবস্থানের চেয়ে কার্যকারিতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ফরাসিদের নিরাপত্তাই আমাদের একমাত্র দিকনির্দেশনা।’

আইনটিতে একটি নতুন বিধানও যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে, প্রশাসনের প্রতিনিধিরা প্রয়োজন মনে করলে নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের বাধ্যতামূলক মনোরোগ মূল্যায়নের নির্দেশ দিতে পারবেন। সরকারের দাবি, সম্ভাব্য সন্ত্রাসী ঝুঁকি মোকাবিলায় এ ব্যবস্থা সহায়ক হবে।

তবে বিরোধীরা এ বিধানের মতো সমালোচনা করেছেন। সোশ্যালিস্ট পার্টির সংসদ সদস্য রোমাঁ এসকেনাজি এ সম্পর্কে বলেন, প্রস্তাবিত আইনটি মানসিক স্বাস্থ্য, সন্ত্রাসবাদ ও অভিবাসন—এই তিনটি পৃথক বিষয়কে একসঙ্গে মিশিয়ে ফেলেছে। বামপন্থি দলগুলো ইতোমধ্যে বিষয়টি সাংবিধানিক পরিষদে নেওয়ার বিষয়ে ঘোষণা দিয়েছে।

আইনটির সমর্থক কয়েকজন সংসদ সদস্য ২০২৪ সালের আলোচিত ‘ফিলিপিন’ হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। ওই ঘটনায় অভিযুক্ত মরক্কোর একজন নাগরিকের বিরুদ্ধে ফ্রান্স ছাড়ার নির্দেশ জারি ছিল এবং ঘটনার আগে তিনি একটি প্রশাসনিক আটক কেন্দ্র থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন।

তবে সমালোচকদের দাবি, নতুন আইন কার্যকর থাকলেও ওই হত্যাকাণ্ড প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে না। সংসদ সদস্য অঁদি কেরব্রা বলেন, অভিযুক্তকে ৭০ দিনের মাথায় মুক্তি দেওয়া হয়েছিল। সে সময় বিদ্যমান আইন অনুযায়ী তার ৯০ দিন পর্যন্ত আটকে রাখার সুযোগ ছিল। তাই আটকের মেয়াদ বাড়ানো হলেও ওই ঘটনার পরিণতি ভিন্ন হতো না।

ফ্রান্সে অনিয়মিত অবস্থানে থাকা বিদেশিদের বহিষ্কারের উদ্দেশ্যে প্রশাসনিক আটক কেন্দ্রে রাখা হয়। তবে ইউরোপীয় আইন অনুযায়ী এটি একটি ব্যতিক্রমী ব্যবস্থা, যা কেবল শেষ অবলম্বন হিসেবে ব্যবহার করা উচিত।

অভিবাসীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন লা সিমাদের মতে, ব্যক্তিস্বাধীনতায় কম হস্তক্ষেপকারী অন্য কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না থাকলে কীভাবে বহিষ্কার কার্যকর করা যায় তা নিয়েই প্রশাসনিক আটক ব্যবহার করা উচিত।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ফ্রান্সের মূল ভূখণ্ডে প্রায় ১৬ হাজার ৫০০ বিদেশিকে প্রশাসনিক আটক কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। মায়োতসহ ফরাসি ওভারসিজ অঞ্চলগুলোর হিসাব যুক্ত করলে এ সংখ্যা প্রায় ৪০ হাজারে পৌঁছায়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১০ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৯
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%