বৃহস্পতিবার, ৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং
০১:১২ পি.এম
চলমান ফিফা ফুটবল বিশ্বকাপের আয়োজক হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি অভিযোগ করেছেন, ওয়াশিংটন বিশ্বকাপের আয়োজনের ক্ষেত্রে নিয়ম ভেঙেছে, প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোকে ভয় দেখিয়েছে, প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছে।
বিবিসির এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে জানা যায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফিফার ওপর রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর বিতর্কের প্রেক্ষাপটে ইরানের প্রেসিডেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) একটি পোস্টে এসব অভিযোগ করেন।
পোস্টে পেজেশকিয়ান লেখেন, বিশ্বকাপের আয়োজক হিসেবে মার্কিন সরকারের আচরণ তাদের পরিচিত পররাষ্ট্রনীতিরই প্রতিফলন, নিয়ম বাঁকানো, প্রতিদ্বন্দ্বীদের ওপর দাদাগিরি করা, বাধা সৃষ্টি করা এবং জালিয়াতি। এটিই তাদের পরিচিত ‘ম্যাগা প্লেবুক’। ইরান এ ধরনের নোংরা খেলাকে সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান করে। তারা তাদের অধিকারের পক্ষে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছে।
ইরানের অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে মার্কিন ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানকে নিয়ে সাম্প্রতিক বিতর্ক। রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিরুদ্ধে ফাউলের জন্য বালোগান লাল কার্ড দেখেন। নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী নকআউট ম্যাচে তাঁর এক ম্যাচের স্বয়ংক্রিয় নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু বেলজিয়ামের বিরুদ্ধে ম্যাচের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে ফোন করে এই সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার আবেদন জানান বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। এরপর ফিফা বালোগানের নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করে এবং তাকে মাঠে নামার অনুমতি দেয়।
ফিফার এই সিদ্ধান্তকে ‘নজিরবিহীন’ ও ‘রাজনৈতিক প্রভাবাধীন’ বলে সমালোচনা করে বেলজিয়াম ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এবং উয়েফা। তবুও সে ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্র ৪-১ গোলে বেলজিয়ামের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয়।
ইরানের দাবি, বিশ্বকাপ জুড়ে তাদের দলের সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করেছে মার্কিন প্রশাসন। ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার অজুহাতে টুর্নামেন্ট শুরুর আগে ইরান দলের টেকনিক্যাল স্টাফ এবং কর্মকর্তাদের ভিসা প্রদানে দীর্ঘসূত্রতা করা হয়। একই সাথে নিরাপত্তার কারণে যুক্তরাষ্ট্রে ইরান দলের কোনও বেস ক্যাম্প অথবা অনুশীলনের সুযোগ দেওয়া হয়নি।
এর ফলে পুরো দলকে বাধ্য হয়ে মেক্সিকোর টিজুয়ানায় অবস্থান করতে হয়েছে। প্রতিটি ম্যাচের দিন বিমানযোগে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ম্যাচ খেলে আবার দ্রুত ফিরে আসতে হয়েছে তাদের।
ইরানের মতে, এই দীর্ঘ ভ্রমণ এবং লজিস্টিক জটিলতা দলের পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তবুও, গ্রুপ পর্বে তারা কোনো ম্যাচে হারেনি। কিন্তু গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় গত ২৮ জুন নকআউট পর্বে ওঠার আগে তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শেষ হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরান যুক্তরাষ্ট্রের যে কোন নতুন হামলার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ও আরও ব্যাপক আকারে পাল্টা জবাব দেওয়ার ব্যাপারে একটি হুঁশিয়ারি প্রকাশ করেছে। তেহরানের একটি উচ্চপদস্থ নিরাপত্তা সূত্র আল মায়াদিনকে জানিয়েছে যে, চলমান উত্তেজনার আগে ইরান তার এই কঠোর অবস্থানের কথা ওয়াশিংটনকে স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয়। সূত্রটি এ নিয়ে মন্তব্য করেছে যে, মার্কিন আগ্রাসন বিশ্ব জ্বালানি বাজারে কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, সেটাও উল্লেখ করা হয়েছে। তারা বলেছে, "ডোনাল্ড ট্রাম্প যদি তেলের চড়া দাম চান, তবে আমরা তাকে স্বাগত জানাই।"
ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, দেশটির ওপর যেকোনো ধরনের আঘাতের ফল হবে তাৎক্ষণিক এবং আরও বড় পরিসরে। তেহরানে নিযুক্ত আল মায়াদিনের প্রতিনিধি জানিয়েছেন, সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর থেকে এটিই ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় হামলার ঘটনা। এবারের হামলায় দক্ষিণ ইরানের চাবাহার বন্দর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ইরানি সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় চাবাহার বন্দরের দুটি সামুদ্রিক জেটি এবং একটি নেভিগেশন কন্ট্রোল টাওয়ারসহ বেশকিছু বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে। এ ছাড়াও মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্রের গোলার আঘাতে ইমাম আলী হাসপাতালও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চাবাহার ছাড়াও কোনারাক, সিরিক, জাস্ক, বুশেহর প্রদেশ, আবু মুসা দ্বীপ এবং উত্তর ইরানের যোগাযোগ অবকাঠামোতে মার্কিন হামলার খবর পাওয়া গেছে।
এই মার্কিন হামলার পরপরই ইরান তার পাল্টা জবাবের প্রথম ধাপ শুরু করে দিয়েছে। ইরানের ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাতে জানা গেছে, কাতার ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট এলাকাগুলো লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। অন্যদিকে, মেহের নিউজ এজেন্সি বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন নৌবাহিনীর পঞ্চম ফ্লিটের সদর দপ্তরের কাছে শক্তিশালী বিস্ফোরণের খবরও নিশ্চিত করেছে।
এছাড়া কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতেও বড় ধরনের বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলেও জানিয়েছে তাসনিম নিউজ এজেন্সি। পরবর্তীতে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানায় যে, তাদের নৌ ও মহাকাশ বাহিনী কুয়েতে এবং বাহরাইনের আরিফজান, আলী আল-সালেম, জুফায়ার এবং শেখ ঈসা ঘাঁটির গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে সফলভাবে হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে তারা সতর্ক করে বলেছে যে, যদি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় আগ্রাসন চালায়, তবে অঞ্চলের অন্য সব মার্কিন ঘাঁটিতেও হামলা আরও জোরদার করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
আগামী জাতীয় নির্বাচন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থায় অনুষ্ঠিত হবে, এই কথা জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
তিনি বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) দুপুরে সসচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফেরানো আমাদের রাজনৈতিক অঙ্গীকার। আগামী নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থায় অনুষ্ঠিত হবে। তবে তত্ত্বাবধায়ক নাকি অন্তবর্তী সরকার থাকবে, এই বিষয়ে সব শ্রেণীর মানুষের মতামত নিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
এছাড়া, তিনি জানান, জুলাই সনদকে প্রাধান্য দিয়েই সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে যা যা করা দরকার সেই পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, ‘রায়ে ৫৪টি বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, জুলাই সনদকে প্রাধান্য দিয়ে ৫৪টি বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এছাড়া এই রায়ে অন্তত চারটি বিষয়ে জনআকাঙ্ক্ষা পূরণ হয়েছে।’
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের রায় এবং জন আকাঙ্ক্ষা সামনে রেখেই রায় বাস্তবায়ন করা হবে। জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশনেই জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন উত্থাপন করা হবে।’
এর আগে, এদিন সকালে বহুল আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায় বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। এই আদেশের ফলে সংবিধানে গণভোট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরেছে, এই বিষয়ে আইনজীবীরা জানিয়েছেন।
গত বছরের ১৩ নভেম্বর বহুল আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের অনুমতি দিয়েছেন সর্বোচ্চ আদালত। প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।
গত ৩ নভেম্বর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবাদে পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করা হয়। আপিলে পঞ্চদশ সংশোধনীর পুরোটা বাতিল চাওয়া হয়।
রিটকারী সুজনের সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের পক্ষে আইনজীবী ড. শরীফ ভূঁইয়া এ আপিল করেন।
গত বছরের ১৭ ডিসেম্বর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্ট। একইসঙ্গে সংবিধানে গণভোটের বিধান ফিরিয়ে আনেন উচ্চ আদালত। তবে পঞ্চদশ সংশোধনী পুরোটা বাতিল করা হয়নি এ রায়ে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে যে, কুয়েত, কাতার ও বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এই হামলা ইরানে মার্কিন হামলার জবাব হিসেবে পাল্টা হামলা পরিচালিত হয়েছে, এমনটি জানায় দেশটির সেনাবাহিনী।
এক বিবৃতিতে ইরানি সেনাবাহিনী জানায়, কুয়েতে অবস্থিত একটি মার্কিন প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রব্যবস্থা, কাতারে একটি স্যাটেলাইটভিত্তিক আগাম সতর্কতা অ্যান্টেনা এবং বাহরাইনে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সংরক্ষণাগারকে হামলার লক্ষ্যবস্তু করা হয়। এই আক্রমণে বিভিন্ন ধরনের বিপুলসংখ্যক আক্রমণকারী ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানায় সেনাবাহিনী।
এতে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে ইরানি সেনাবাহিনীর কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় এই নতুন আক্রমণ সংঘটিত হয়েছে। এর আগে বাহরাইন, কুয়েত ও কাতারসহ বেশ কয়েকটি উপসাগরীয় দেশ হামলার খবর দিয়েছে বা নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করেছে।
এদিকে, মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরানে নতুন দফায় ৯০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে। মার্কিন পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ ও নিরীহ বেসামরিক নাবিকদের উপর ইরানের হামলার পরিপ্রেক্ষিতে এটি সংঘটিত হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ