০৫:০৭ পি.এম
বন্যায় কৃষকের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। তবে সেই ঘাটতি কাটিয়ে উঠতে চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে আমন ধানের চারা রোপণ শুরু হয়েছে।
সরকারি প্রণোদনা ও কৃষকদের নিজস্ব উদ্যোগের মাধ্যমে নতুন করে বীজতলা প্রস্তুত হওয়ায় আমন আবাদে গতি ফিরেছে।
আরও পড়ুন: নওগাঁয়ে ঘরে মাটির নিচে ২৪৫ কেজির কষ্টিপাথরের শিবলিঙ্গ উদ্ধার, আটক ১
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে বোয়ালখালীতে আমনের বীজতলা তৈরির লক্ষ্যমাত্রা ২৪৯ হেক্টর। এর মধ্যে ২১০ হেক্টর বীজতলা প্রস্তুত হয়েছে। এছাড়া চার হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার আহলা করলডেঙ্গা, আমুচিয়া, শ্রীপুর-খরণদ্বীপ, চরণদ্বীপ ও পোপাদিয়া ইউনিয়নে আমনের চারা রোপণ চলছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহানুর ইসলাম বলেন, সম্প্রতি বন্যায় উপজেলার প্রায় ৪৮ হেক্টর আমনের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। পরে সরকারি প্রণোদনার আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নতুন করে বীজতলা প্রস্তুতে সহায়তা দেওয়া হয়। এতে কৃষকরা আবার আমন আবাদে ফিরতে পেরেছেন।
কৃষি কর্মকর্তা আরো বলেন, এবার ব্রি ধান-২২, ব্রি ধান-২৩, ব্রি ধান-৫২ ও ব্রি ধান-৫৭ ছাড়াও সিনজেনটার বিভিন্ন হাইব্রিড জাতের ধান চাষ হচ্ছে। জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহ থেকে চারা রোপণ শুরু হয়েছে। আগস্টজুড়ে রোপণ কার্যক্রম চালানো হবে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সেপ্টেম্বরের প্রথমার্ধে রোপণ শেষ হবে। নভেম্বরের শেষ থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে ধান কাটা শুরু হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: দিনাজপুর বোর্ডের ১ কোটি ২৬ লাখ টাকার দুর্নীতির তদন্তের নির্দেশ
তবে বাড়তি উৎপাদন ব্যয় নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকরা।
তিন কানি বর্গা জমিতে আমন চাষ করছেন জৈষ্ঠ্যপুরা সূযব্রত বিলের কৃষক খোরশেদ আলম। তিনি বলেন, গতবছর প্রতিকানি জমিতে ট্রাক্টর দিয়ে চাষ করতে খরচ হয়েছিল তিন হাজার টাকা। এবারে তা বেড়ে গিয়ে হয়েছে চার হাজার টাকা। শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ৮০০ টাকা। প্রতিকানি জমিতে ৬০ থেকে ৭০ আড়ি ধান পাওয়ার আশা থাকলেও তাঁর মতে, ৬০ আড়ির বেশি পাওয়া কঠিন।
একই এলাকার কৃষক সুবল দে পাঁচ কানি বর্গা জমিতে সাদা পানজা (ব্রি ধান-২৮) ধানের চারা রোপণ করছেন। তিনি বলেন, প্রতিকানি জমিতে প্রায় ৫০ আড়ি ধান পাওয়ার আশা করছেন। তবে চাষ করে লাভ হচ্ছে না, বরং ক্ষতি হচ্ছে। তবুও অন্য কাজ জানা না থাকায় দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে কৃষিকাজ করেই জীবিকা নির্বাহ করছেন তিনি।
এদিকে শ্রীপুর-খরণদ্বীপ, জৈষ্ঠ্যপুরা, আমুচিয়া ও করলডেঙ্গা এলাকায় বন্য হাতির উপদ্রবও কৃষকদের নতুন করে দুশ্চিন্তায় ফেলেছে।
আরও পড়ুন: দুমকীতে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আনন্দ র্যালিতে মোঃ কামরুল ইসলাম মুন্না
কৃষক বাবুল বলেন, প্রায় এক মাস ধরে তিনটি বন্যহাতি সন্ধ্যার পর আমুচিয়া রাবার বাগান এলাকা থেকে লোকালয়ে নেমে আসে। পাহারা দিয়েও ফসল রক্ষা করা যাচ্ছে না। হাতির পাল বীজতলা ও রোপণ করা ধানের চারা নষ্ট করছে। এতে ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন