ঢাকা শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শুক্রবার, ২৩শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৭ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কালিয়াকৈরে ৪ সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ, ক্যামেরা-টাকা ছিনতাই; সাংবাদিকদের নিরাপত্তা কোথায়?


কালিয়াকৈরে ৪ সাংবাদিকের ওপর হামলার অভিযোগ, ক্যামেরা-টাকা ছিনতাই; সাংবাদিকদের নিরাপত্তা কোথায়?

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক এলাকায় চার সাংবাদিককে মারধর, টাকা ও ক্যামেরাসহ মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেওয়া এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সাংবাদিক মো. জসিম উদ্দিন খান কালিয়াকৈর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।

অভিযোগে বলা হয়, শনিবার (৮ আগস্ট) দুপুরে জসিম উদ্দিন খান, সাংবাদিক মো. সাহ আলম, মো. তরিকুল ইসলাম সাগর ও মো. সোহেল রানা তিনটি মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন। মৌচাকের আল আকসা মসজিদের পাশে পৌঁছালে মো. সুলতানসহ অজ্ঞাতনামা ১০-১৫ জন তাদের পথরোধ করে মারধর করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, জসিম উদ্দিন খানের কাছ থেকে নগদ ১৫ হাজার টাকা ও একটি Panasonic NX100 ক্যামেরা এবং সোহেল রানার কাছ থেকে স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া ও মোবাইল ফোন ভাঙচুর করা হয়। একই সঙ্গে ঘটনার বিষয়ে কথা বললে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

আরও পড়ুন: ময়লার ভাগাড় থেকে জ্বালানি তৈরির চেষ্টা, সুজনের উদ্যোগে নতুন সম্ভাবনা

অভিযুক্ত মো. সুলতানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

তবে অভিযোগে উত্থাপিত বিষয়গুলোর সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হবে। সাংবাদিকদের ওপর এ ধরনের হামলার অভিযোগে উদ্বেগ প্রকাশ করে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সাংবাদিক মহল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাউন্ট ব্রোমোতে দাবানল, ইন্দোনেশিয়ায় সব প্রবেশপথ বন্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:৩৮ পি.এম


মাউন্ট ব্রোমোতে দাবানল, ইন্দোনেশিয়ায় সব প্রবেশপথ বন্ধ

ইন্দোনেশিয়ার পূর্ব জাভার জনপ্রিয় মাউন্ট ব্রোমো জাতীয় উদ্যানে সব ধরনের পর্যটন কার্যক্রম এখন বন্ধ করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত শনিবার রাতে নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি শুরু হওয়া দাবানল উদ্যানের আগ্নেয়গিরির গহ্বর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার কারণে এটি ঘটেছে।

উদ্যান পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শনিবার সন্ধ্যা থেকে তাদের উদ্যানের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য বন্ধ থাকবে। সরকারি ইনস্টাগ্রাম পেজে এক বিবৃতিতে এটি জানানো হয়। উল্লেখ্য, মাউন্ট ব্রোমো একটি সক্রিয় আগ্নেয়গিরি। এই আগ্নেয়গিরির গহ্বরের চারপাশের বিশাল বালুময় অঞ্চলটি পর্যটকদের কাছে ‘বালুর সমুদ্র’ হিসেবে পরিচিত।

প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক পর্যটক এখানে ঘুরতে আসেন। কিন্তু সাম্প্রতিক কয়েকদিনের দাবানলে উদ্যানটির বড় একটি এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

উদ্যান কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দাবানলে এখন পর্যন্ত মাউন্ট ব্রোমোর প্রায় ১৭৬ হেক্টর এলাকা পুড়ে গেছে। এই পরিমাণ প্রায় ৪৩৪ দশমিক ৯১ একর। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আগুন প্রায় ৬০ হেক্টর এলাকায় ছড়িয়েছিল, কিন্তু পরে আগুন বিস্তার লাভ করে ১৭৬ হেক্টরে পৌঁছায়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উদ্যান কর্তৃপক্ষের প্রকাশ করা ভিডিওতে দেখা যায়, রাতের অন্ধকারে পাহাড়ের ঢালজুড়ে আগুন জ্বলছে এবং আগুনের শিখা পাহাড়ের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ছে।

উদ্যান কর্তৃপক্ষ বলেছে, পর্যটক, উদ্যানের কর্মী এবং আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে। আগেই প্রবেশের টিকিট কিনে রাখা পর্যটকদের জন্য কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তারা চাইলে তাদের ভ্রমণের তারিখ পরিবর্তন করতে পারবেন। যদি কেউ ভ্রমণ বাতিল করতে চান, তবে টিকিটের টাকা ফেরত নেওয়ার সুযোগও থাকবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পর্যটকদের সেখানে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

দাবানল নিয়ন্ত্রণে নেয়ার জন্য আগুন নেভানোর কাজ জোরদার করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। পূর্ব জাভার দুর্যোগ মোকাবেলা সংস্থা জানিয়েছে, আগুন নেভানোর কাজে পানি ছিটাতে সক্ষম হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি পানি প্রহণ এবং ছিটাতে সক্ষম ড্রোনও কাজে লাগানো হচ্ছে। আগুন যাতে আরো বিস্তৃত এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে না পারে সে জন্য বিভিন্নভাবে এটি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে। তবে পাহাড়ি ও দুর্গম এলাকা হওয়ায় আগুন নেভানোর কাজ এটি চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠেছে।

দাবানলের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে তা এখনো জানা যায়নি কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে। আগুনের কারণ নিয়ে কোনো বিস্তারিত তথ‌্যও সাংবাদিকদের কাছে প্রকাশ করা হয়নি। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। তবে আগুনের বিস্তার এবং এটি পর্যটন এলাকায় পৌঁছানোর ঘটনায় নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছে কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত মাউন্ট ব্রোমো জাতীয় উদ্যানে পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিক্ষার্থীদের জীবনের লক্ষ্য ও বদলে যাওয়া স্বপ্ন: কাঠামোগত বাস্তবতার সংকট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:৪১ পি.এম


শিক্ষার্থীদের জীবনের লক্ষ্য ও বদলে যাওয়া স্বপ্ন: কাঠামোগত বাস্তবতার সংকট

শিক্ষার্থীদের জীবনের লক্ষ্য ও বদলে যাওয়া স্বপ্ন: কাঠামোগত বাস্তবতার সংকট

মো. ওয়াকিলুর রহমান

সদস্য, বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিল (বিএসি)
প্রফেসর, গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান বিভাগ
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়।

"বড় হয়ে তুমি কী হতে চাও?"- শৈশবজুড়ে এই একটি প্রশ্ন শোনেনি, এমন মানুষ বাংলাদেশে হয়তো খুঁজে পাওয়া যাবে না। পরিবার, প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজন কিংবা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, প্রায় সবার পাঠ্যক্রম-বহির্ভূত আলোচনার প্রিয় অনুসঙ্গ এটি। একসময় এই প্রশ্নের উত্তরও ছিল বেশ নির্ধারিত। সিংহভাগ শিশুর উত্তর হতো- ডাক্তার, প্রকৌশলী, শিক্ষক, আইনজীবী কিংবা প্রশাসনিক কর্মকর্তা। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট বদলেছে, বদলেছে তরুণদের আকাঙ্ক্ষাও। আজকের প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা আর কেবল নির্দিষ্ট কয়েকটি পেশায় সীমাবদ্ধ থাকতে চায় না। তারা স্বপ্ন দেখে সফল উদ্যোক্তা হওয়ার, সফটওয়্যার প্রকৌশলী হয়ে প্রযুক্তি বিশ্ব জয়ের, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গবেষণা করার কিংবা পররাষ্ট্র ক্যাডারে যুক্ত হয়ে বিশ্বমঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার। কিন্তু এই বদলে যাওয়া স্বপ্নের পেছনে একটি গভীর ও মৌলিক প্রশ্ন বিশ্লেষণ করা জরুরি, মানুষের জীবনের লক্ষ্য কি সত্যিই তার সম্পূর্ণ নিজস্ব পছন্দের প্রতিফলন? নাকি পরিবার, সমাজ, শিক্ষাব্যবস্থা, অর্থনীতি এবং রাষ্ট্রের প্রচলিত কাঠামোর অদৃশ্য টানাপোড়েন মিলে ব্যক্তির এই স্বপ্নকে তৈরি বা পরিবর্তন করে দেয়?

সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, মানুষের স্বপ্ন বা পেশাগত আকাঙ্ক্ষা কখনোই একাকী বা বিচ্ছিন্নভাবে গড়ে ওঠে না। এটি মূলত ব্যক্তির সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়া, অর্থনৈতিক বাস্তবতার চাপ, সামাজিক মূল্যবোধ এবং রাষ্ট্রের সামগ্রিক কাঠামোগত নীতির একটি সম্মিলিত ফল। শৈশবে পেশা নির্বাচনের ক্ষেত্রে আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি থাকে বেশ ভাবাবেগপূর্ণ ও মহৎ। তখন একজন পেশাজীবীকে সমাজ কীভাবে দেখে, সেটিই প্রধান আকর্ষণ হয়ে দাঁড়ায়। শৈশবে তরুণরা সাধারণত পেশাকে সামাজিক মর্যাদা ও সেবার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখে। একজন চিকিৎসক জীবনের রক্ষক, প্রকৌশলী উন্নয়নের রূপকার, কৃষিবিদ খাদ্য নিরাপত্তার কারিগর আর প্রশাসনিক কর্মকর্তা রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিনিধি।

তবে বয়স বাড়ার সাথে সাথে, বিশেষ করে মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক পেরিয়ে যখন একজন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের আঙ্গিনায় পা রাখে, তখন শৈশবের সেই ভাবাবেগের সাথে মুখোমুখি সংঘাত শুরু হয় কঠিন বাস্তবতার। তরুণরা বুঝতে শেখে, কেবল ব্যক্তিগত পছন্দ বা ভালোবাসা দিয়ে পেশা নির্বাচন করা যায় না। জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে চাকরির স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা, সময়মতো পদোন্নতি, উপযুক্ত বেতন-ভাতা, সামাজিক প্রভাব, কাজের সুস্থ পরিবেশ এবং ভবিষ্যৎ অগ্রগতির সম্ভাবনা সমান গুরুত্বপূর্ণ। ঠিক এই পর্যায়ে শুরু হয় ব্যক্তিমানুষের 'লালিত স্বপ্ন' ও 'কাঠামোগত বাস্তবতার' মধ্যকার মনস্তাত্ত্বিক সংঘাত।

বর্তমানে বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষিত তরুণদের মধ্যে একটি বিশেষ প্রবণতা খুব সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে। চিকিৎসাবিজ্ঞান, প্রকৌশল, কৃষি বা অন্যান্য বিশেষায়িত কারিগরি বিষয়ে বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রম ও বিপুল সরকারি-বেসরকারি বিনিয়োগের পর পড়াশোনা শেষ করেও বিপুলসংখ্যক তরুণ সাধারণ ক্যাডারে (যেমন— প্রশাসন, পুলিশ, পররাষ্ট্র) যোগ দিতে প্রবলভাবে আগ্রহী হচ্ছেন। পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) সাম্প্রতিক তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করলে এটি আরো স্পষ্ট হয়। গত কয়েকটি বিসিএসের চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা গেছে, প্রশাসন বা পুলিশের মতো সাধারণ ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্তদের একটি বড় অংশই চিকিৎসা ও প্রকৌশল ব্যাকগ্রাউন্ডের শিক্ষার্থী। এমনকি বিশেষায়িত ক্যাডারে চাকরি পাওয়ার পরও অনেকে পরবর্তী বিসিএসে পুনরায় অংশ নেন শুধুমাত্র সাধারণ ক্যাডারে রূপান্তরের (Cadre Change) আশায়। এই পেশা পরিবর্তনের ঘটনাকে কেবল কতিপয় ব্যক্তির 'ব্যক্তিগত ইচ্ছে' হিসেবে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। এর পেছনে রয়েছে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক কাঠামোর জটিল হিসাব-নিকাশ।

সমাজতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই পরিবর্তনকে ব্যাখ্যা করা বেশ সহজ। সমাজবিজ্ঞানী এমিল দুর্খেইম (Émile Durkheim) তাঁর তত্ত্বে দেখিয়েছিলেন, সমাজের মূল কাঠামো বা অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি যখন বদলায়, তখন মানুষের সামাজিক ভূমিকা ও পেশাগত আকাঙ্ক্ষাও পরিবর্তিত হতে বাধ্য। ম্যাক্স ওয়েবার (Max Weber)-এর সমাজতত্ত্ব অনুযায়ী, সমাজিক ক্ষমতা (Power), মর্যাদা (Status) এবং অর্থনৈতিক সুবিধা (Economic Opportunity)— এই তিনটি উপাদান পেশা নির্বাচনের ক্ষেত্রে মানুষের সিদ্ধান্তকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে। অন্যদিকে, পিয়ের বুরদ্যু (Pierre Bourdieu)-র সাংস্কৃতিক ও সামাজিক মূলধনের (Social and Cultural Capital) তত্ত্বও নিশ্চিত করে যে, ব্যক্তির স্বপ্ন মূলত তাঁর চারপাশের সুযোগ-সুবিধার সমীকরণ দ্বারাই নির্ধারিত হয়।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ওয়েবার ও বুরদ্যুর তত্ত্ব বাস্তবতার সাথে অনেকাংশে মিলে যায়। আজ একজন মেধাবী শিক্ষার্থী যখন বছরের পর বছর কঠিন পড়াশোনা শেষ করে নিজ নিজ পেশায় প্রবেশ করেন, তখন তিনি দেখতে পান, রাষ্ট্র ও প্রশাসনিক ব্যবস্থায় কারিগরি বা বিশেষায়িত পেশাজীবীদের নেতৃত্বের সুযোগ ও নীতিনির্ধারণী ক্ষমতা অত্যন্ত সীমিত। স্বাস্থ্য ব্যবস্থার নীতিনির্ধারণ, প্রকৌশল ও অবকাঠামোগত মূল পরিকল্পনা কিংবা কৃষিনীতির শীর্ষ সিদ্ধান্ত গ্রহণের চেয়ারে প্রায়শই বিশেষায়িত ক্যাডারের স্বকীয় ক্ষমতার অভাব দেখা যায়।

বিপরীতে, সাধারণ ক্যাডার বিশেষ করে প্রশাসন, পুলিশ ও পররাষ্ট্র সার্ভিস কেবল একটি চাকরি নয়; বরং এটি সামাজিক ক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ, সময়মত পদোন্নতি, রাষ্ট্রীয় নীতি-নির্ধারণে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণের সুযোগ এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রশাসনিক সুরক্ষার অন্যতম প্রতীক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ফলে একজন চিকিৎসক বা প্রকৌশলী যখন অনুভব করেন যে নিজ পেশায় নিজের সর্বোচ্চ মেধা ও শ্রম দেওয়ার পরও তিনি কাঠামোগত কারণে নীতিনির্ধারণের শীর্ষ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারবেন না, তখন তাঁর অবচেতন মন নিজস্ব পেশার প্রতি আকর্ষণ হারিয়ে ফেলে। এটি রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগের একটি বিশাল অপচয়; যে মেধা তৈরিতে রাষ্ট্র লাখ লাখ টাকা খরচ করল, নীতিনির্ধারণে বৈষম্যের কারণে সেই মেধার সঠিক ব্যবহার সুনিশ্চিত করতে রাষ্ট্রের অনীহাই ফুটে ওঠে।

আমাদের এখন সময় এসেছে শৈশবের সেই অতিপরিচিত প্রশ্ন "তোমার জীবনের লক্ষ্য কী?" এটিকে একটি ব্যক্তিগত অনুভূতির খোলস থেকে বের করে রাষ্ট্রীয় মানসম্পন্ন মানবসম্পদ নীতির অংশ হিসেবে দেখার। শিক্ষাব্যবস্থা ও পেশাগত সুযোগের মধ্যে ভারসাম্য আনতে নিচের সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপগুলো বিবেচনা করা প্রয়োজন:

১. জাতীয় স্বেচ্ছাসেবী সেবা (National Volunteer Service): বাংলাদেশে একজন শিক্ষার্থীকে কম বয়সে (১৫-১৬ বছর বয়সে) বিজ্ঞান, মানবিক বা ব্যবসায় শিক্ষার মতো বড় সিদ্ধান্ত নিতে হয়, যা অনেক ক্ষেত্রে সঠিক হয় না। উচ্চমাধ্যমিকের পর ১ থেকে ২ বছরের একটি বাধ্যতামূলক বা উৎসাহমূলক 'জাতীয় স্বেচ্ছাসেবী সেবা' চালু করা যেতে পারে। এই সময়ে তরুণরা শিক্ষা, জনস্বাস্থ্য, স্থানীয় সরকার, পরিবেশ সুরক্ষা কিংবা সমাজসেবামূলক কাজে সরাসরি যুক্ত থাকবে। এর ফলে তারা সমাজকে বাস্তবের চোখে দেখতে পারবে, নিজের সত্যিকারের ঝোঁক ও সক্ষমতা অনুধাবন করবে এবং পরিপক্ক চিন্তা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করবে।

২. বিষয় পরিবর্তনের নমনীয়তা (Flexibility in Higher Education): বিশ্বমানের বহু বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বাংলাদেশেও প্রথম ১ বা ২ বছর সাধারণ ও বুনিয়াদি শিক্ষা প্রদানের পর শিক্ষার্থীদের নিজস্ব মেধা ও আগ্রহের ভিত্তিতে চূড়ান্ত বিষয় নির্বাচনের সুযোগ দেওয়া উচিত। এতে অকাল ভুল সিদ্ধান্তের কারণে ক্যারিয়ারমুখী হতাশা অনেকটাই কমে যাবে।

৩. পরিকল্পিত ও সুনির্দিষ্ট শিক্ষা বিনিয়োগ (Targeted Investment in Education): আগামী ২০, ৩০ বা ৫০ বছরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক রূপান্তরে কতজন চিকিৎসক, কতজন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিশেষজ্ঞ, কতজন প্রকৌশলী, কৃষি বিজ্ঞানী বা গবেষক প্রয়োজন তার একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা বা 'জাতীয় মানবসম্পদ মাস্টারপ্ল্যান' তৈরি করা প্রয়োজন। সেই চাহিদার ওপর ভিত্তি করেই বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন সংখ্যা, সরকারি বৃত্তি এবং গবেষণার অর্থায়ন নিরূপণ করা উচিত।

৪. বিশেষায়িত পেশার প্রশাসনিক ও নীতিনির্ধারণী ক্ষমতায়ন: প্রতিটি বিশেষায়িত খাতের শীর্ষ নীতিনির্ধারণী পদগুলো সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিশেষজ্ঞদের জন্য উন্মুক্ত করতে হবে। একজন চিকিৎসক যেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও নীতি কাঠামোর সর্বোচ্চ পদে পৌঁছাতে পারেন, একজন প্রকৌশলী যেন অবকাঠামো উন্নয়নের মূল নেতৃত্বের চেয়ারে বসতে পারেন এবং একজন কৃষিবিদ যেন দেশের সামগ্রিক কৃষিনীতির নেতৃত্ব দিতে পারেন, এমন একটি আকর্ষনীয় ক্যারিয়ার ট্র্যাক গঠন করা সমায়ের দাবী।

৫. নিয়োগে আন্তঃবিষয়ক ও বাস্তবমুখী দক্ষতার মূল্যায়ন: বিসিএসসহ সমস্ত সরকারি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় কেবল মুখস্থনির্ভর সাধারণ জ্ঞান বা ধরাবাঁধা সিলেবাসের বাইরে গিয়ে সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা (Problem Solving Skills), নেতৃত্ব, প্রযুক্তিগত জ্ঞান এবং নীতি-বিশ্লেষণের দক্ষতাকে বেশি প্রাধান্য দিতে হবে।

এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সামরিক বাহিনীর জনবল কাঠামোর একটি নীতিগত দিক বিবেচনা করা যেতে পারে। তারা উচ্চমাধ্যমিকের পর যোগ্য ও মেধাবী তরুণদের প্রারম্ভিক ক্যাডেট হিসেবে নির্বাচন করে এবং পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানের চাহিদা ও ব্যক্তির সক্ষমতা অনুযায়ী উচ্চশিক্ষা ও বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ প্রদান করে। বেসামরিক প্রশাসনের কাঠামো ভিন্ন হলেও "আগে মেধাবী জনবল নির্বাচন, পরে প্রয়োজনভিত্তিক উচ্চতর দক্ষতা উন্নয়ন" এই নীতিগত ধারণা নিয়ে জাতীয় পর্যায়ে আলোচনা হতে পারে। তবে কোনো মডেল হুবহু অনুসরণের প্রস্তাব নয় এটি মানবসম্পদ উন্নয়নের একটি চিন্তার খোরাক।

পরিশেষে, "আমার জীবনের লক্ষ্য" কেবল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মুখস্থ রচনা কিংবা পরীক্ষার খাতায় নম্বর পাওয়ার কোনো বিষয় নয়; এটি একটি রাষ্ট্রের সামগ্রিক উন্নয়ন দর্শন ও বৈষম্যহীন দূরদর্শিতার প্রতিফলন। রাষ্ট্র যদি প্রতিটি বিশেষায়িত পেশাকে সঠিক মর্যাদা, উপযুক্ত পদোন্নতির সুযোগ এবং নীতিনির্ধারণের স্বাধীন ক্ষেত্র তৈরি করে দিতে পারে, তবেই একজন প্রকৌশলী নতুন প্রযুক্তির গবেষণায়, একজন চিকিৎসক চিকিৎসা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনে এবং একজন কৃষিবিদ খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিজের সেরাটা দেওয়ার স্বপ্ন দেখবেন। পেশা পরিবর্তন তখন আর কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা থেকে বাঁচার তাগিদে হবে না; তা হবে ব্যক্তির নিজস্ব ও স্বাধীন ইচ্ছার এক সুস্থ বহিঃপ্রকাশ।

 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:৪৩ পি.এম


মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী

কক্সবাজারের মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পরিদর্শন করেছেন। রবিবার (৯ আগস্ট) সকাল ১০টা ৫৫ মিনিটে তিনি প্রকল্প এলাকায় পৌঁছান।

এ সময় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ফরিদ এবং জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। সফরের সময় তাঁর সঙ্গে রয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, প্রধানমন্ত্রী মহেশখালীতে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প এবং মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম পরিদর্শন করছেন। এরপর তিনি বন্যাকবলিত বাঁশখালী ও হাটহাজারী এলাকায় যাবেন এবং বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর হাতে পুনর্বাসনের জন্য নতুন ঘরের চাবি হস্তান্তর করবেন।

ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রধানমন্ত্রী মাতারবাড়ী কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকা ঘুরে দেখেন। এরপর তিনি প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে পর্যালোচনা বৈঠকে অংশগ্রহণ করেন। কক্সবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর মুহাম্মদ মাহফুজউল্লাহ ফরিদ জানান, বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রী মাতারবাড়ীর গভীর সমুদ্রবন্দর এবং মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্পের কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।

সকাল ৮টা ৫০ মিনিটে গুলশানের বাসা থেকে প্রধানমন্ত্রী তেজগাঁও বিমানবন্দরে আসেন। সেখানে থেকে সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে তিনি হেলিকপ্টারযোগে মহেশখালীর মাতাবাড়ীর উদ্দেশে রওনা না হন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রচণ্ড রোদেও প্রধানমন্ত্রীর জন্য অপেক্ষা তাদের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:৪৪ পি.এম


প্রচণ্ড রোদেও প্রধানমন্ত্রীর জন্য অপেক্ষা তাদের

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কক্সবাজারের মাতারবাড়ী থেকে চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বাহারছড়া সমুদ্র সৈকতে পৌঁছাবেন। তাকে একনজর দেখার জন্য প্রচণ্ড রোদ উপেক্ষা করে সমুদ্র সৈকতে মানুষের ঢল নেমেছে।

সমাবেশস্থলে উপস্থিত রয়েছেন দলীয় নেতাকর্মীসহ অধিকাংশ নানা শ্রেণি পেশার মানুষ। রবিবার (৯ আগস্ট) সরেজমিনে সমাবেশস্থল ঘুরে দেখা গেছে, বাহারছড়া সমুদ্র সৈকতে বিশাল মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। এই মঞ্চে সংসদ সদস্য সরোয়ার জামাল, এনামুল হক, আবু সুফিয়ান, জসিম উদ্দিন, সা চিং প্রু রাজপুত, বিএনপি নেতা মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরীসহ দলের সিনিয়র নেতারা উপস্থিত রয়েছেন। জামায়াতের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী এবং জহিরুল ইসলামও মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কক্সবাজারের মাতারবাড়ি পৌঁছেছেন। প্রধানমন্ত্রীকে এক নজর দেখার জন্য এসেছেন রিকশাচালক অনু কুন্ড। তিনি বলেছেন, 'প্রধানমন্ত্রী আসবেন, এটা আমাদের জন্য খুশির বিষয়। তাকে একনজর দেখতে এসেছি।'

স্কুলশিক্ষার্থী কোহিনুর আক্তার তার বান্ধবীদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে দেখতে সমাবেশে যোগ দিয়েছেন। তিনি বলেন, 'আমার জন্মের পর কোনো প্রধানমন্ত্রী আমার এলাকায় আসছেন। আমি জানি না ভবিষ্যতে আবার হবে কিনা, তাই বান্ধবীদের নিয়ে এখানে এসেছি।'

প্রধানমন্ত্রী মাতারবাড়ী সমুদ্র বন্দর থেকে হেলিকপ্টারযোগে সমুদ্র সৈকতে এসে পৌঁছাবেন। এখানে তিনি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের গৃহ হস্তান্তর, অনুদান ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করবেন।

পরবর্তীতে বাঁশখালী থেকে ফটিকছড়ি যাবেন হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা মহিব্বুলাহ বাবুনগরীর সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। এরপর হাটহাজারী ও নগরের রেডিসন ব্লু হোটেলে দলের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১২ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৯
মাগরিব ০৫:২৬
ইশা ০৬:৩৭
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%