১১:০৯ এম
কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংশোধনের জটিলতার কারণে দীর্ঘ সময় ধরে বেতন না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা। তাঁর পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিনের আর্থিক সংকট এবং অভাব-অনটনের চাপেই তাঁর অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলে নুমিম আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে।
জানা গেছে, কুতুবদিয়া উপজেলার বড়ঘোপ ইউনিয়নের ঘিলাছড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কানিজ তানিয়া সোলতানা ২০১৮ সালে জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের জন্য নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেন। কিন্তু অভিযোগ অনুযায়ী, দীর্ঘ আট বছর পার হলেও তাঁর এনআইডি সংশোধনের কাজ সম্পন্ন হয়নি। এই জটিলতার কারণে গত প্রায় দুই বছর ধরে তাঁর সরকারি বেতন বন্ধ রয়েছে।
পরিবারের সদস্যরা জানান, বেতন বন্ধ থাকায় তারা দীর্ঘদিন ধরে চরম আর্থিক সংকটে দিন কাটাচ্ছেন। সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ, সন্তানের লেখাপড়া ও অন্যান্য প্রয়োজন মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
আরও পড়ুন: উখিয়ায় ১৫ ঘণ্টা পরও জ্বলছে গ্যাসের আগুন, ১৫ কিলোমিটার এলাকায় বিদ্যুৎ বন্ধ
গতকাল শনিবার (২৭ জুন) বিদ্যালয়ে দায়িত্ব পালন শেষে বাসায় ফিরে অনেক ডাকাডাকি করেও ছেলে নুমিমের কোনো সাড়া পাননি কানিজ তানিয়া সোলতানা। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে দরজা ভেঙে নুমিমকে উদ্ধার করে দ্রুত কুতুবদিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। বর্তমানে সে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিনের অভাব-অনটন, আর্থিক সংকট ও মানসিক চাপ থেকেই নুমিম আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, বছরের পর বছর ধরে একটি এনআইডি সংশোধনের আবেদন ঝুলে থাকার কারণে যদি একজন সরকারি কর্মচারীর বেতন বন্ধ থাকে এবং তার পরিবার এমন চরম সংকটে পড়ে, তবে এর দায়ভার কার?
ভুক্তভোগী শিক্ষিকা কানিজ তানিয়া সোলতানা বলেন, ‘২০১৮ সালে এনআইডি সংশোধনের আবেদন করেছি। বারবার সংশ্লিষ্ট দফতরে যোগাযোগ করেও কোনো সমাধান পাইনি। দীর্ঘদিন ধরে বেতন না পাওয়ায় পরিবার নিয়ে চরম কষ্টে আছি। আমার সন্তানের এমন ঘটনার পর আমি এর সুষ্ঠু সমাধান এবং সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা কামনা করছি।’
আরও পড়ুন: তাহিরপুরে প্রবাসীর স্ত্রী ও পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে উধাও নাজমুল, পরিবার উদ্বিগ্ন
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, প্রশাসনিক জটিলতা বা দায়িত্বে অবহেলার কারণে যদি একজন সরকারি শিক্ষকের বেতন বছরের পর বছর বন্ধ থাকে, তাহলে বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া উচিত। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এনআইডি সংশোধনের আবেদনগুলোরও দ্রুত নিষ্পত্তি করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নুরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমাদের জানা আছে। আবেদনটি বর্তমানে চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন অফিসে তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত কবে শেষ হবে, সে বিষয়ে আমরা নিশ্চিতভাবে কিছু বলতে পারছি না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন