বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুন, ২০২৬ ইং
০৩:২৬ পি.এম
প্রয়াত সাবেক মন্ত্রী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। আদালত অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় শ্রম, কর্মসংস্থান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র ও সংসদের সরকার দলীয় হুইপ জি কে গৌছ এবং সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) আবুল হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আদালত সূত্র জানায়, এর আগে চলতি বছরের এপ্রিল মাসে আলোচিত এই মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়। সেই সাথে গত ৭ এপ্রিল একই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধি ৩৪২ ধারায় আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পর্কে বক্তব্য জানতে চান বিচারক। শুনানীতে অংশ নিয়ে অভিযুক্তদের মধ্যে শ্রম, কর্মসংস্থান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র ও সংসদের সরকার দলীয় হুইপ জি কে গৌছ, সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ও বর্তমান সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছেন।
জানা যায়, ২০০৪ সালের ২১ জুন সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের নির্বাচনী এলাকা সুনামগঞ্জের দিরাই বাজারে একটি রাজনৈতিক সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। সেদিন সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। গ্রেনেড বিস্ফোরণে যুবলীগের এক কর্মী ঘটনাস্থলেই নিহত হন এবং ২৯ জন আহত হন। হামলায় অল্পের জন্য রক্ষা পান সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।
ওই ঘটনায় দিরাই থানার এসআই হেলাল উদ্দিন অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা করেন। এরপর ২০২০ সালের ২২ অক্টোবর সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনায় দুটি মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, তৎকালীন সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র জি কে গউছসহ ১০ জনকে আসামি করে অভিযোগ গঠন করা হয়। মামলায় ১২৩ জন সাক্ষী ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল বিশ্বকাপের ‘সি’ গ্রুপের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করেছে।
সেলেসাওদের এই বড় ব্যবধানের জয়ের সাথে সাথে ফুটবলপ্রেমীদের কাছে সবচেয়ে বড় আকর্ষণের বিষয় ছিল তারকা ফরোয়ার্ড নেইমারের মাঠে ফেরা।
জাতীয় দলের জার্সিতে ফিরে আসার পর প্রায় তিন বছরের বিরতি কাটিয়ে আসা এই ফরোয়ার্ড এবং দলের টানা জয় দেখে সমর্থকরা যখন উল্লাসে মাতে, তখন কোচ কার্লো আনচেলত্তি তাদের মাটিতে পা রাখার আহ্বান জানান। ইতালীয় কোচের হাস্যোজ্জ্বল মুখে সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া সংক্ষিপ্ত বার্তা ছিল, ‘সবাই শান্ত থাকুন’।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে আনচেলত্তি জানিয়ে দেন, প্রথম ম্যাচে মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করার পর দল এখন দারুণ ছন্দে রয়েছে। তিনি বলেন, দলটি একটি ইউনিট হিসেবে খেলতে সক্ষম হচ্ছে, তবে পুরোপুরি নিখুঁত নয়। বল দখলে থাকার সময় খেলার গতি আরও বাড়ানোসহ কিছু জায়গায় এখনো উন্নতির প্রয়োজন রয়েছে। নকআউট পর্বে পৌঁছানোর পর দলের শক্তিশালী থাকা সবচেয়ে জরুরি। শেষ বত্রিশের রাউন্ডে গ্রুপ ‘এফ’-এর রানার্স-আপ দলের মুখোমুখি হবে ব্রাজিল।
ম্যাচের ৭৬তম মিনিটে নেইমার যখন বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামেন, তখন মিয়ামির গ্যালারিতে উপস্থিত হাজার হাজার সমর্থক তাকে তুমুল করতালির মাধ্যমে স্বাগত জানান। ৩৪ বছর বয়সী এই তারকার আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফিরে আসার প্রসঙ্গে আনচেলত্তি বলেন, চোট কাটিয়ে সম্পূর্ণ ফিট হতে নেইমার কঠোর পরিশ্রম করেছেন এবং তিনি যোগ্য হিসেবেই এই ম্যাচে মাঠে নামার সুযোগ পেয়েছেন। তিনি আরও বলেন, নেইমারের বয়স ৩৪ হলেও তার মধ্যে এখনও একজন তরুণ ফুটবলারের তাড়না বজায় রয়েছে।
প্রথমার্ধে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের দুটি গোল এবং দ্বিতীয়ার্ধে কুনিয়ার একটি গোলে ম্যাচের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় সেলেসাওরা। ম্যাচে অসাধারণ খেলে গতি ও ড্রিবলিংয়ে প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করা ভিনিসিয়ুসের ভূয়সী প্রশংসা করেন আনচেলত্তি। তিনি বলেন, ভিনি যে বিশ্বের অন্যতম সেরা ফুটবলারের একজন, তাতে তার মনে কখনোই সন্দেহ ছিল না। গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর দলের প্রথম লক্ষ্য পূরণ হলেও, ম্যানেজার হিসেবে ভালো খেলা নয়, বরং জয় পাওয়াটাই তার মূল লক্ষ্য বলে স্পষ্ট জানিয়ে দেন আনচেলত্তি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশিদের জন্য মেডিকেল ভিসা চালু থাকবে, এই খবর জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। মানবতাকে মাথায় রেখে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে, যা দিয়ে বাংলাদেশিদের প্রয়োজন মেটানো হবে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কে ভারতীয় ভিসা সেন্টার পরিদর্শনের সময় গণমাধ্যমকে এ ঘোষণা দেন তিনি।
দীনেশ ত্রিবেদী জানান, ঢাকায় ২টি, চট্টগ্রাম, সিলেট এবং খুলনায় ৫টি ভিসা সেন্টার থেকে আপাতত টুরিস্ট ভিসা দেয়া হবে। ধীরে ধীরে অন্যান্য সেন্টারগুলোও চালু করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ২৮ জুন থেকে বাংলাদেশিদের জন্য টুরিস্ট ভিসা স্বাভাবিকভাবে পাওয়া যাবে।
এর আগে দীনেশ ত্রিবেদী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে তার ক্রেডেনসিয়াল পেশ করেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
এর আগের শুক্রবার (১২ জুন) তিনি পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে বেনাপোল পৌঁছালে বাংলাদেশিরা তাকে শূন্যরেখায় অভ্যর্থনা জানান। গত ৫ জুন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছ থেকে ক্রেডেনসিয়াল গ্রহণের মাধ্যমে দায়িত্ব গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন তিনি।
দীনেশ ত্রিবেদী ভারতের জাতীয় রাজনীতির পরিচিত মুখ। তিনি ১৯৫০ সালে নয়াদিল্লিতে জন্মগ্রহণ করেন। গুজরাটি বংশোদ্ভূত হলেও তিনি কলকাতায় বড় হয়েছেন। বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে রয়েছে তার দীর্ঘদিনের নিবিড় সম্পর্ক। কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে বাণিজ্যে স্নাতক এবং যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি কংগ্রেস, জনতা দল এবং তৃণমূল কংগ্রেসে সক্রিয় ছিলেন। ২০২১ সালে বিজেপিতে যোগদান করেন। পশ্চিমবঙ্গ থেকে একাধিকবার রাজ্যসভা ও লোকসভায় সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের মন্ত্রিসভায় রেলমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
চলতি বছরের এপ্রিলে বাংলাদেশের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে তার নিয়োগের ঘোষণা দেয় নয়াদিল্লি, যেখানে তিনি প্রণয় কুমার ভার্মারের স্থলাভিষিক্ত হন।
সাধারণত এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদে পেশাদার কূটনীতিকদের নিয়োগ দেওয়া হয়, কিন্তু ভারত সরকার এবার একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদকে বেছে নিয়েছে।
এদিকে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ‘পুশ ইন’ এবং ‘পদ্ধতিগত পুশব্যাক’ নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। দুই দেশের কূটনৈতিক টেবিলে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনার কথা বলা হলেও, প্র্যাক্টিক্যাল গ্রাউন্ডে বা সীমান্তে কাঁটাতারের দুই পাশে পরিস্থিতি বেশ থমথমে। এ অবস্থার মধ্যে দায়িত্ব গ্রহণ করেন দীনেশ ত্রিবেদী। ফলে ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কের বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই নিয়োগকে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভেনেজুয়েলায় আজ ভোরে সংঘটিত একটি ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পের কারণে বহু মানুষের প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতি ঘটেছে। এই ঘটনায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের শোক প্রকাশ করেছে।
আজ বৃহস্পতিবার দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, 'আমি ভেনেজুয়েলার এই ব্যাপক প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতিতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছি।' তিনি আরও জানান, 'নিহতদের যথাযথ মর্যাদা কামনা করছি এবং নিহতদের পরিবার-পরিজন ও আহতদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা প্রকাশ করছি।'
তিনি আরও বলেন, 'ভেনেজুয়েলার জনগণ আজ এক কঠিন সময় অতিক্রম করছে।' তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও ভেনেজুয়েলার সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, 'আমরা তাদের এই দুঃসময়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে প্রয়োজনীয় মানবিক সহায়তা প্রদান ও পুনর্বাসন কার্যক্রম জোরদারে এগিয়ে আসার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।'
জামায়াত সেক্রেটারি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, 'ভেনেজুয়েলার সরকার ও জনগণ শিগগির তাদের এই কঠিন বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হবে।'
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ