প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশিদের জন্য মেডিকেল ভিসা চালু থাকবে, এই খবর জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। মানবতাকে মাথায় রেখে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে, যা দিয়ে বাংলাদেশিদের প্রয়োজন মেটানো হবে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাজধানীর যমুনা ফিউচার পার্কে ভারতীয় ভিসা সেন্টার পরিদর্শনের সময় গণমাধ্যমকে এ ঘোষণা দেন তিনি।
দীনেশ ত্রিবেদী জানান, ঢাকায় ২টি, চট্টগ্রাম, সিলেট এবং খুলনায় ৫টি ভিসা সেন্টার থেকে আপাতত টুরিস্ট ভিসা দেয়া হবে। ধীরে ধীরে অন্যান্য সেন্টারগুলোও চালু করা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ২৮ জুন থেকে বাংলাদেশিদের জন্য টুরিস্ট ভিসা স্বাভাবিকভাবে পাওয়া যাবে।
এর আগে দীনেশ ত্রিবেদী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে তার ক্রেডেনসিয়াল পেশ করেন এবং আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
এর আগের শুক্রবার (১২ জুন) তিনি পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে বেনাপোল পৌঁছালে বাংলাদেশিরা তাকে শূন্যরেখায় অভ্যর্থনা জানান। গত ৫ জুন রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছ থেকে ক্রেডেনসিয়াল গ্রহণের মাধ্যমে দায়িত্ব গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন তিনি।
দীনেশ ত্রিবেদী ভারতের জাতীয় রাজনীতির পরিচিত মুখ। তিনি ১৯৫০ সালে নয়াদিল্লিতে জন্মগ্রহণ করেন। গুজরাটি বংশোদ্ভূত হলেও তিনি কলকাতায় বড় হয়েছেন। বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে রয়েছে তার দীর্ঘদিনের নিবিড় সম্পর্ক। কলকাতার সেন্ট জেভিয়ার্স কলেজ থেকে বাণিজ্যে স্নাতক এবং যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি কংগ্রেস, জনতা দল এবং তৃণমূল কংগ্রেসে সক্রিয় ছিলেন। ২০২১ সালে বিজেপিতে যোগদান করেন। পশ্চিমবঙ্গ থেকে একাধিকবার রাজ্যসভা ও লোকসভায় সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিংয়ের মন্ত্রিসভায় রেলমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
চলতি বছরের এপ্রিলে বাংলাদেশের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে তার নিয়োগের ঘোষণা দেয় নয়াদিল্লি, যেখানে তিনি প্রণয় কুমার ভার্মারের স্থলাভিষিক্ত হন।
সাধারণত এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদে পেশাদার কূটনীতিকদের নিয়োগ দেওয়া হয়, কিন্তু ভারত সরকার এবার একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদকে বেছে নিয়েছে।
এদিকে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ‘পুশ ইন’ এবং ‘পদ্ধতিগত পুশব্যাক’ নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। দুই দেশের কূটনৈতিক টেবিলে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনার কথা বলা হলেও, প্র্যাক্টিক্যাল গ্রাউন্ডে বা সীমান্তে কাঁটাতারের দুই পাশে পরিস্থিতি বেশ থমথমে। এ অবস্থার মধ্যে দায়িত্ব গ্রহণ করেন দীনেশ ত্রিবেদী। ফলে ঢাকা-নয়াদিল্লি সম্পর্কের বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই নিয়োগকে বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন