ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ব্রাজিলের দ্বৈত অবস্থান: ফিলিস্তিনের পক্ষে থেকেও ইসরায়েলকে জ্বালানি সহায়তা


ব্রাজিলের দ্বৈত অবস্থান: ফিলিস্তিনের পক্ষে থেকেও ইসরায়েলকে জ্বালানি সহায়তা

গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের চলমান সামরিক অভিযানের কড়া সমালোচনা করেছেন ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। তিনি বলেন, এই পরিস্থিতিকে ‘পরিকল্পিত গণহত্যা’ বলেই উল্লেখ করেছেন। তবে একই সময়ে ইসরায়েলের সঙ্গে ব্রাজিলের বাণিজ্যিক সম্পর্ক, বিশেষ করে জ্বালানি রপ্তানি অব্যাহত থাকায় দেশটিতে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

২০২৫ সালে ফ্রান্স সফরের সময় লুলা গাজায় ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানান। এদিকে প্রেসিডেন্টের বিশেষ উপদেষ্টা সেলসো আমোরিম গত সপ্তাহে আইনপ্রণেতাদের জানান, ব্রাজিল ইসরায়েলের সঙ্গে বিভিন্ন চুক্তি পুনর্বিবেচনা করছে। তিনি মূলত সামরিক সহযোগিতার প্রসঙ্গ উল্লেখ করেছেন।

তবে আমোরিম শুরুতেই কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করার সম্ভাবনা নাকচ করে দেন। তার যুক্তি হল, এমন সিদ্ধান্ত ইসরায়েলে অবস্থানরত ব্রাজিলীয় নাগরিকদের জন্য সমস্যা তৈরি করতে পারে।

আরও পড়ুন: স্পেনে দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত ৬৮, আহত ৮০

সম্পর্ক ছিন্নের বিকল্প পথের প্রস্তাব

সাও পাওলোর পন্টিফিকাল ক্যাথলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ব্রুনো হুবারম্যান এই যুক্তির সঙ্গে পুরোপুরি একমত নন। যদিও তিনি স্বীকার করেন, ইসরায়েলে থাকা ব্রাজিলীয়দের জন্য কনস্যুলার সহায়তা নিশ্চিত করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে।

তবে তার মতে, এর বাস্তবসম্মত সমাধান রয়েছে। হুবারম্যান বলেন, বর্তমানে তেল আবিবে যেসব ব্রাজিলীয় নাগরিক কনস্যুলার সেবা নেন, তারা চাইলে ফিলিস্তিনে ব্রাজিলের দূতাবাস থেকেও সেই সেবা নিতে পারেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, অধিকৃত পশ্চিম তীরের রামাল্লাহ শহরে ব্রাজিল এরই মধ্যে এ ধরনের সেবা দিয়ে আসছে।

তার ভাষায়, রামাল্লাহ ও পূর্ব জেরুজালেমে কনস্যুলার সেবা থাকায় ইসরায়েল নামে পরিচিত ওই ভূখণ্ডে বসবাসকারী ব্রাজীলীয়দের জন্য সহজ বিকল্প তৈরি করা সম্ভব।

আরও পড়ুন: কাতারের নতুন প্রস্তাব ইরানকে, যুদ্ধ বন্ধের চেষ্টা

অভ্যন্তরীণ রাজনীতির প্রভাব

আরেক আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ও অধ্যাপক ব্রুনো লিমা রোচা মনে করেন, ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে ব্রাজিল সরকারের অনীহার পেছনে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক কারণ উপস্থিত রয়েছে।

তার মতে, অতীতের আরব-ইসরায়েল যুদ্ধ, ১৯৬৭ সালের ছয় দিনের যুদ্ধ, ১৯৭৩ সালের ইয়োম কিপুর যুদ্ধ কিংবা লেবাননে ইসরায়েলের অভিযানের সময় ব্রাজিলের রাজনীতিতে এত সংখ্যক জায়নবাদপন্থী ও ইভানজেলিক্যাল মতাদর্শের আইনপ্রণেতা ছিল না।

তিনি বলেন, আজকের পশ্চিমা বিশ্বের উগ্র ডানপন্থিদের মতোই এদের অবস্থান শতভাগ ইসরায়েলপন্থি। এটি চরম ডানপন্থার নতুন বিন্যাস।

আরও পড়ুন: ইসরায়েলে রাজনৈতিক অচলাবস্থা: সরকার গঠনের তিন সম্ভাব্য পথ

রোচার মতে, ব্রাজিলের অবস্থান অনেক আরব দেশের মতোই দ্ব্যর্থক। কারণ গত কয়েক দশকে বহু আরব ও মুসলিম দেশ ইসরায়েলের সঙ্গে, বিশেষ করে বাণিজ্যিক সম্পর্ক, আরও জোরদার করেছে।

তিনি বলেন, লুলা আসলে অনেক আরব ও মুসলিম রাষ্ট্র যা করে, তাই করছেন। তারা যদি কঠোর অবস্থান না নেয়, তাহলে একটি লাতিন আমেরিকান দেশের কাছ থেকে আরও কঠোর অবস্থান কীভাবে আশা করা যায়?

তবে তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে গণহত্যা হিসেবে উল্লেখ করে ব্রাজিল ও ইসরায়েলের মধ্যে সম্পর্ক ছিন্নের পক্ষ থেকে মত দেন। অন্তত লুলার বক্তব্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সাময়িকভাবে বাণিজ্য স্থগিত করার পরামর্শ দেন তিনি।

সরকারের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে নাগরিক সমাজ

আরও পড়ুন: নির্বাচনে হারের মুখে আরব দলগুলোর বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ লিকুদ পার্টির

এদিকে সামাজিক আন্দোলন, রাজনৈতিক দল, বুদ্ধিজীবী, শিল্পী ও শিক্ষাবিদদের একটি বড় অংশ ব্রাজিল সরকারকে ইসরায়েলের ওপর চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছে। তাদের দাবি, ফিলিস্তিনে গণহত্যা বন্ধে ব্রাজিলকে ইসরায়েলের সঙ্গে বাণিজ্য বাতিল করতে হবে। বিশেষ করে জ্বালানি রপ্তানি বন্ধ এবং ইসরায়েলি পণ্যের বর্জনের দাবি জোরালো হয়ে উঠেছে।

গত ১৫ জুন ব্রাজিলের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে অংশগ্রহণকারীরা লুলা সরকারের কাছে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক শেষ করার আহ্বান জানান।

ব্রাজিল-ইসরায়েল বাণিজ্যের চিত্র

২০২৪ সালে ইসরায়েলের ১২তম বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার ছিল ব্রাজিল। ইসরায়েলের মোট বৈদেশিক বাণিজ্যের ২.১ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করেছে দেশটি।

আরও পড়ুন: শামা ওবায়েদের স্পেন ও ইইউর সহযোগিতার প্রশংসা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায়

আমেরিকা মহাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের পর ব্রাজিল ছিল ইসরায়েলের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার।

একই বছরে ব্রাজিল ইসরায়েলে ৭২৫.১ মিলিয়ন বা ৭২.৫১ কোটি মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি করে, যা ২০২৩ সালের তুলনায় ৯ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি।

অন্যদিকে, ইসরায়েল থেকে ব্রাজিল আমদানি করে ১.১ বিলিয়ন বা ১১০ কোটি ডলারের পণ্য, যা আগের বছরের তুলনায় ১৪.৯ শতাংশ কম।

রপ্তানি বাড়লেও এবং আমদানি কমলেও ব্রাজিলের বাণিজ্য ঘাটতি অব্যাহত রয়েছে। ২০২৪ সালে দেশটির ঘাটতি ছিল ৪২৫ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার।

আরও পড়ুন: "অসহিষ্ণু বক্তব্য রাজনীতিকে ‘পয়েন্ট অফ নো রিটার্ন’-এ নিয়ে যেতে পারে": সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স

সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হয় জ্বালানি

২০২৪ সালে ব্রাজিল থেকে ইসরায়েলে সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হওয়া পণ্য ছিল জ্বালানি তেল, যা মোট রপ্তানির ৩০ শতাংশ। এরপর ছিল গরুর মাংস (২৩ শতাংশ) এবং সয়াবিন (১১ শতাংশ)।

অন্যদিকে, ইসরায়েল থেকে ব্রাজিলে রপ্তানির মধ্যে কীটনাশক, জৈব ও রাসায়নিক সার মিলিয়ে ছিল মোট রপ্তানির ৪৪ শতাংশ। বিমান ও বিমানযন্ত্রাংশ ছিল ৪.৮ শতাংশ।

২০২৫ সালেও ঘাটতি

২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত সময়েও ব্রাজিলের বাণিজ্য ঘাটতি অব্যাহত রয়েছে।

এই সময়ে ইসরায়েলে ব্রাজিলের রপ্তানি ছিল ২১৯ মিলিয়ন বা ২১ কোটি ৯০ লাখ ডলার। বিপরীতে আমদানি হয়েছে ৫২৮ মিলিয়ন ডলারের পণ্য। ফলে পাঁচ মাসেই ব্রাজিলের ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ৩০৮ মিলিয়ন বা ৩০ কোটি ৮০ লাখ ডলার।

সম্পর্ক ছিন্ন করলে কার ক্ষতি বেশি?

অর্থনীতিবিদ ডায়ানা শাইবের মতে, বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করলে অর্থনৈতিক প্রভাব অবশ্যই পড়ে। তবে সেই প্রভাব নির্ভর করে পারস্পরিক নির্ভরতার মাত্রার ওপর।

তিনি বলেন, ইসরায়েল ব্রাজিলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হলেও কেন্দ্রীয় কোনো বাজার নয়। ২০২৪ সালে দেশটি ব্রাজিলের মোট রপ্তানির মাত্র ০.৪ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করেছে।

তার মতে, ব্রাজিল সহজেই নতুন বাজার খুঁজে নিতে পারবে। অন্যদিকে ইসরায়েলের জন্য পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন।

শাইব বলেন, ব্রাজিল ছিল ইসরায়েলের ১২তম বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। বিশেষ করে জ্বালানি ও খাদ্যপণ্যের মতো অপরিহার্য পণ্যে ইসরায়েলের নির্ভরতা বেশি।

তার মতে, সম্পর্ক ছিন্নের অর্থনৈতিক প্রভাবের চেয়ে রাজনৈতিক বার্তাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হবে। তিনি বলেন, এটি মানবাধিকার এবং যুদ্ধবিরতির পক্ষে আন্তর্জাতিক চাপের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি শক্তিশালী কূটনৈতিক বার্তা হবে।

সামরিক সহযোগিতাও রয়েছে

বাণিজ্যের পাশাপাশি ইসরায়েলের সঙ্গে ব্রাজিলের সামরিক সহযোগিতাও রয়েছে। ২০২২ সালের এপ্রিলে সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারো সংগঠিত অপরাধ দমনে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করেন।

চুক্তিতে গোয়েন্দা তথ্য, তথ্যপ্রযুক্তি ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সহযোগিতার বিষয় অন্তর্ভুক্ত ছিল।

কূটনৈতিক সংকট

২০২৪ সালের মে মাসে প্রেসিডেন্ট লুলা তেল আবিব থেকে রাষ্ট্রদূত ফ্রেদেরিকো মেয়ারকে প্রত্যাহার করেন। এর আগে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় লুলাকে ‘অবাঞ্ছিত ব্যক্তি’ ঘোষণা করেছিল।

সংকটের সূত্রপাত হয়, যখন লুলা গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে অ্যাডলফ হিটলারের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তুলনা করেন।

পরে ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূতকে পূর্বঘোষণা ছাড়াই একটি হলোকাস্ট স্মরণ অনুষ্ঠানস্থলে নিয়ে যাওয়া হয়, যা কূটনৈতিক অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

পরবর্তী সময়ে মেয়ারকে জেনেভায় বদলি করা হয়। এরপর থেকে ইসরায়েলে ব্রাজিলের রাষ্ট্রদূতের পদটি শূন্য রয়েছে।

সেলসো আমোরিম এই ঘটনাকে কূটনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে ‘নাটকীয় বার্তা’ বলে বর্ণনা করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের মূলধারার রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হওয়ার ডাক তিতুমীরের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১৪ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:০০ এম


যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশিদের মূলধারার রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হওয়ার ডাক তিতুমীরের

 প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেশের মূলধারার রাজনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং অন্যান্য কর্মকাণ্ডে আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

গত শুক্রবার ভার্জিনিয়ার হলিডে ইন হোটেলে ওয়াশিংটন ডিসি বিএনপি আয়োজিত ‘যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মতবিনিময়’ সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতা দেয়ার সময় তিনি এ আহ্বান জানান।

ড. তিতুমীর বলেন, ‘পতিত সরকার লুটপাট করে পালিয়ে যাবার পর দেশের অর্থনীতি যে সচল থাকল, তার কৃতিত্ব প্রবাসী বাংলাদেশিদের.’

তিনি যোগ করেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশীদের কৃতিত্ব আরও একটু বেশি। কারণ তারা যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের কাছে ফ্যাসিস্ট সরকারের নিপীড়ন এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের চিত্র তুলে ধরেছিল। যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশি ও বাংলাদেশি-আমেরিকানদের কাছে আমাদের প্রত্যাশা, আপনারা মূলধারার রাজনীতি এবং অন্যান্য কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত হন। তাহলে দেশের প্রতি আরও বড়ভাবে অবদান রাখার সুযোগ পাবেন।’

ড. তিতুমীর আরও বলেন, ‘এবারের প্রস্তাবিত বাজেট বৈষম্যহীন আঞ্চলিক উন্নয়নের সমতাভিত্তিক বাজেট।’ তিনি উল্লেখ করেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ এর মানে বাস্তবভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের পরিকল্পনা। যার মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের সকল মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন করতে চান এবং তা শুরু করেছেন।’

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের চরম সংকটময় সময়ে জনগণ তারেক রহমানের নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রেখেছে। তিনি বলেন, পতিত ফ্যাসিস্ট সরকার লুটপাট করে পালিয়ে গেছে এবং রেখে গেছে ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি। এ পরিস্থিতিতে জনগণের আস্থা বিএনপির দিকে রয়েছে।

ড. তিতুমীর আরো বলেন, ‘১৯৭৫ সালের পরে একটি বিধ্বস্ত দেশ ও অর্থনীতি মেরামতের দায়িত্ব জনগণ দিয়েছিল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ওপর। একইভাবে ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার পতনের পর জনগণ ধ্বংসযজ্ঞ অর্থনীতি মেরামতের দায়িত্ব দিয়েছিল বেগম খালেদা জিয়ার হাতে। জিয়াউর রহমান এবং বেগম খালেদা সেই দায়িত্ব দক্ষতা, যোগ্যতা ও সততার সঙ্গে পালন করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় লুটপাটে পঙ্গু করা অর্থনীতি মেরামতের দায়িত্ব জনগণ ভোটের মাধ্যমে তুলে দিয়েছেন তারেক রহমানের হাতে।’

তিনি আরও বলেন, দেশের প্রতিটি সংকটময় সময়ে মানুষ বিএনপির ওপর আস্থা রেখেছে এবং জিয়া-খালেদার ধারাবাহিকতায় তারেক রহমানও জনআস্থার প্রতিদানে কাজ শুরু করেছেন, যার প্রতিফলন ইতিমধ্যে দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে।

অনুষ্ঠানে আরও সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন জাহিদ খান, মিয়া মজনু, নয়ন বাঙালি ও তুহিন।

ওয়াশিংটন ডিসি বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেনের সঞ্চালনায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাইরে তুমুল বৃষ্টি উপেক্ষা করে প্রায় তিন শতাধিক প্রবাসী অনুষ্ঠানে অংশ নেন। রাত পর্যন্ত চলা অনুষ্ঠান শেষ হয় প্রশ্নোত্তর পর্বের মাধ্যমে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুই জেলায় ইপিজেড ও তিন জেলায় অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের উদ্যোগ সরকারের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১৪ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:০৪ এম


দুই জেলায় ইপিজেড ও তিন জেলায় অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের উদ্যোগ সরকারের

বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, রপ্তানি বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্দেশ্যে বরিশাল ও লালমনিরহাটে নতুন রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) এবং গাজীপুর, বরগুনা ও পিরোজপুরে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত সরকার নিয়েছে।

এ লক্ষ্যে সকল প্রয়োজনীয় কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব ও সংশ্লিষ্টদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

গত মে মাসে অনুষ্ঠিত জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করণীয় স¤পর্কিত আলোচনায় বেশ কয়েকজন জেলা প্রশাসক নতুন ইপিজেড ও অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। এসব কর্মপরিকল্পনার বাস্তবায়ন অগ্রগতি নিয়মিতভাবে মন্ত্রিপরিষদে প্রতিবেদন আকারে পাঠাতে হবে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো চিঠিতে এসব বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে জানান, বিভিন্ন জেলা থেকে পাওয়া ১ হাজার ৭২৯টি প্রস্তাবের মধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বাস্তবায়নকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিক বৈঠকের পর বাস্তবায়নযোগ্য প্রস্তাবগুলো সরকারপ্রধানসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে উপস্থাপন করা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়-সংশ্লিষ্ট ছয়টি সিদ্ধান্ত স্বল্প (এক বছর), মধ্য (তিন বছর) এবং দীর্ঘ (পাঁচ বছর) মেয়াদি পরিকল্পনার আওতায় বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বরিশাল ও লালমনিরহাটে ইপিজেড এবং গাজীপুর, বরগুনা ও পিরোজপুরে অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের উদ্যোগ রয়েছে।

বর্তমানে বাংলাদেশ এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন অথরিটির (বেপজা) অধীনে দেশে আটটি সরকারি ইপিজেড রয়েছে। এগুলো হলো- ঢাকা, চট্টগ্রাম, মোংলা, কুমিল্লা, ঈশ্বরদী, কর্ণফুলী, আদমজী ও উত্তরা ইপিজেড। কর ও শুল্ক সুবিধার মাধ্যমে কাঁচামাল আমদানি এবং উৎপাদিত পণ্য সরাসরি বিদেশে রপ্তানি সহজ করাই এসব ইপিজেডের প্রধান দায়িত্ব।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জেলা ও মাঠ প্রশাসন অধিশাখার যুগ্ম সচিব মোহাম্মদ খোরশেদ আলম খান বাসস’কে জানান, প্রতিবছরই ডিসি সম্মেলনে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রস্তাব আসে। গুরুত্ব বিবেচনায় সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করে। এবারও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে এবং এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

ডিসি সম্মেলনে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক জেলার শিল্পকারখানাগুলো একটি নির্দিষ্ট স্থানে স্থানান্তরের লক্ষ্যে একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের প্রস্তাব দেন। এতে পরিকল্পিত শিল্পায়নের মাধ্যমে বর্জ্য ও পরিবেশ দূষণ কমবে, কৃষিজমি রক্ষা পাবে, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে এবং উদ্যোক্তারা সহজে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য জায়গা পাবেন বলে উল্লেখ করা হয়।

বরিশালের জেলা প্রশাসক সেখানে একটি ইপিজেড স্থাপনের প্রস্তাব দিয়ে বলেন, এখানে এটি বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে কর্মসংস্থানের জন্য ঢাকা বা চট্টগ্রামে যেতে হবে না। নতুন শিল্পকারখানা গড়ে ওঠায় দারিদ্র্য কমবে এবং জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে। পাশাপাশি ঢাকার সঙ্গে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ এবং পায়রা সমুদ্র বন্দরের নিকটবর্তী অবস্থান পণ্য পরিবহনে সহায়ক হবে।

বরগুনার জেলা প্রশাসক উপকূলীয় এ জেলায় একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের প্রস্তাব দেন। পায়রা বন্দরের নিকটবর্তী হওয়ায় এটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের একটি কৌশলগত কেন্দ্র হতে পারে বলে প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়। একই সঙ্গে সামুদ্রিক সম্পদ প্রক্রিয়াজাত ও সংরক্ষণ, মৎস্য, কৃষি, শিল্প ও পর্যটন খাতের সমন্বিত উন্নয়নেরও সুযোগ সৃষ্টি হবে।

পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক সদর উপজেলায় একটি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের প্রস্তাব দেন। তিনি প্রস্তাবের পক্ষে যুক্তি দেন, সড়কপথে ঢাকা, খুলনা ও বরিশালের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ এবং নৌপথে চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরের সঙ্গে সংযোগ থাকায় কাঁচামাল ও উৎপাদিত পণ্য পরিবহন সহজ হবে। কাঁচামাল ও শ্রমিকের সহজলভ্যতায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে এবং কৃষি ও মৎস্যভিত্তিক শিল্প গড়ে ওঠার মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। উৎপাদিত পণ্য দেশের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি করা যাবে।

লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক সেখানে একটি ইপিজেড স্থাপনের প্রস্তাব দেন। তাঁর মতে, এটি বাস্তবায়িত হলে নতুন শিল্পকারখানা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা দারিদ্র্য বিমোচন ও জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। ধান, আলু ও ভুট্টাসহ কৃষিপণ্যের প্রাচুর্যের কারণে কৃষিভিত্তিক শিল্পেরও ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। বুড়িমারী স্থলবন্দর এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভাগীয় কার্যালয় থাকায় কাঁচামাল আমদানি ও পণ্য রপ্তানি সহজ হবে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন অধিশাখার উপসচিব মো. মামুন বাসস’কে জানান, ডিসি সম্মেলনের উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে বিজি প্রেস বই প্রকাশের কাজ করছে। বইগুলো সংশ্লিষ্টদের কাছে পাঠানো হবে। একই সঙ্গে সব মন্ত্রণালয়ের সচিবদের চিঠির মাধ্যমে তাদের করণীয় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি মন্ত্রিপরিষদের মাঠ প্রশাসন শাখায় পাঠাতে বলা হয়েছে।

এদিকে অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে সরকারের পরিকল্পনার কথা সংসদে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সম্প্রতি সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশকে গড়ে তুলতে হলে অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার কোনো বিকল্প নেই। এ লক্ষ্যে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজীকরণে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর মাধ্যমে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে ‘রপ্তানি নীতি’ হালনাগাদ করা হয়েছে। পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশের বাজারে প্রবেশ সহজ করতে ‘আমদানি নীতি আদেশ ২০২৬-২০২৯’ হালনাগাদের কাজ চলছে।

প্রাতিষ্ঠানিক জটিলতা কমাতে সরকার বড় ধরনের কাঠামোগত সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেবা প্রদানের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আমলাতান্ত্রিক দীর্ঘসূত্রতা কমাতে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ অথরিটি (পিপিপিএ) এবং বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষকে একীভূত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের প্রস্তাব ঘিরে সুইজারল্যান্ডে চলছে ভোটগ্রহণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১৪ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:০৬ এম


অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের প্রস্তাব ঘিরে সুইজারল্যান্ডে চলছে ভোটগ্রহণ

আজ রোববার সুইজারল্যান্ডের ভোটাররা দুটি গুরুত্বপূর্ণ ও বিতর্কিত বিষয়ে গণভোটে অংশ নিচ্ছেন। এই দুটি বিষয়ের মধ্যে একটি হলো অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের প্রস্তাব, যা দেশটির জনসংখ্যা সীমিত রাখতে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে এবং অন্যটি হল সামরিক সেবার বিকল্প হিসেবে বেসামরিক সেবায় যোগদানের সুযোগ কঠোর করার উদ্যোগ।

সুইজারল্যান্ডের প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র ব্যবস্থার আওতায় এই দুটি ভোটের ক্ষেত্রে জনমত জরিপে দেখা গেছে, সেগুলোতে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে পারে।

সংবাদটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র।

রোববার সকালে ভোটকেন্দ্র কয়েক ঘণ্টার জন্য খোলা থাকবে এবং দুপুর ১২টায় (গ্রিনিচ মান সময় ১০০০) ভোটগ্রহণ শেষ হবে। কিন্তু বেশিরভাগ ভোটার আগে থেকেই ডাকযোগে তাদের ভোট প্রদান করেছেন। প্রথম ফলাফল বিকেলের মধ্যেই জানা যেতে পারে।

সুইস পিপলস পার্টি (এসভিপি) এর প্রস্তাবিত ‘এক কোটি জনসংখ্যার সুইজারল্যান্ড নয়’ উদ্যোগকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

এই প্রস্তাব অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ৯১ লাখ জনসংখ্যার সুইজারল্যান্ডে ২০৫০ সালের আগে জনসংখ্যা ১ কোটির বেশি হতে দেওয়া যাবে না। এই লক্ষ্য অর্জন করতে হলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

সুইজারল্যান্ডের মোট জনসংখ্যার এক-চতুর্থাংশেরও বেশি বিদেশি নাগরিক রয়েছে। ফলে প্রস্তাবটি পাস হলে অভিবাসনের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হবে।

দেশটির সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল এসভিপির দাবী, অতিরিক্ত অভিবাসনের ফলে আবাসন সংকট, বাড়িভাড়া বৃদ্ধি, ট্রেনে অতিরিক্ত ভিড় এবং যানজটসহ নানা সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।

এসভিপির সংসদ সদস্য ইভান পাহুদ এএফপিকে বলেছেন, ‘সুইজারল্যান্ড একটি ছোট দেশ, যার আয়তন বাড়ানো সম্ভব নয়। আমরা পুরো ইউরোপকে এখানে স্বাগত জানাতে চাই না।’

তবে সমালোচকদের মতে, প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে তা অর্থনীতি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সুইজারল্যান্ডের সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

সুইজারল্যান্ডের বিচারমন্ত্রী বিট ইয়ান্স ট্রিবিউন দ্য জেনেভ পত্রিকাকে বলেন, ‘এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ভোট, এখানে ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি।’ তিনি সতর্ক করে জানান, গণভোটের ফলাফল সুইজারল্যান্ডের জন্য ‘ব্রেক্সিট’-সদৃশ পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে।

সরকার, পার্লামেন্ট ও বিভিন্ন অর্থনৈতিক খাত ইতোমধ্যেই এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে।

সাম্প্রতিক জরিপগুলোতে দেখা গেছে, ভোটে প্রস্তাবটির বিরোধীরা সামান্য এগিয়ে রয়েছে। তবে এটি পাস হতে হলে শুধুমাত্র সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটই নয়, দেশের ২৬টি ক্যান্টনের মধ্যে অন্তত অর্ধেকের বেশি ক্যান্টনের সমর্থন প্রয়োজন হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেক্সিকোয় গুলিবর্ষণে প্রাণ গেল মেয়রের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১৪ই জুন, ২০২৬ ইং

১১:০৮ এম


মেক্সিকোয় গুলিবর্ষণে প্রাণ গেল মেয়রের

  মেক্সিকোর দক্ষিণাঞ্চলের একটি বিশেষ এলাকায় এক মেয়রকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। ওই এলাকায় মাদক চক্রগুলো মাদক পাচারপথ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সংঘর্ষে জড়িত হয়ে পড়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ এই তথ্য জানিয়েছে।

ওয়াহাকা রাজ্যের প্রসিকিউটরদের দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শহর সান মিগেল আমাতিতলানের মেয়র জোয়েল ব্রাভো সশস্ত্র হামলায় নিহত হয়েছেন। এই শহরের জনসংখ্যা প্রায় ৭ হাজার। তবে ঘটনার প্রসঙ্গে বিস্তারিত কিছু তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি।

খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র পক্ষ থেকে এসেছে।

রাজ্যের গভর্নর সালোমোন হারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ একটি পোস্টে এই হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘ওয়াহাকায় আমরা আইন নিজের হাতে তুলে নিতে  এবং সহিংসতাকে প্রশ্রয় দিবো না।’

প্রসিকিউটররা এই বিষয়েও জানিয়েছেন, এলাকায় পুলিশি উপস্থিতি জোরদার করা হয়েছে এবং হামলাকারীদের খুঁজে বের করার জন্য একটি ট্যাকটিক্যাল ইউনিট মোতায়েন করা হয়েছে। আর এতে ফেডারেল বাহিনীর সহযোগিতাও নেওয়া হচ্ছে।

এলাকাটিতে জালিস্কো নুয়েভা জেনারাসিওন এবং সিনালোয়া কার্টেল—এই দুটি মাদক চক্র ওয়াহাকা রাজ্যে সক্রিয় রয়েছে। এই রাজ্যটি প্রশান্ত মহাসাগরের উপকূলে অবস্থিত, যা তাদের কার্যকলাপের একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত।

মেক্সিকোতে ২০০৬ সাল থেকে মাদক-সহিংসতা ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ার পর, এখন পর্যন্ত প্রায় ১০০ জন মেয়র হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%