১১:০৬ এম
আজ রোববার সুইজারল্যান্ডের ভোটাররা দুটি গুরুত্বপূর্ণ ও বিতর্কিত বিষয়ে গণভোটে অংশ নিচ্ছেন। এই দুটি বিষয়ের মধ্যে একটি হলো অভিবাসন নিয়ন্ত্রণের প্রস্তাব, যা দেশটির জনসংখ্যা সীমিত রাখতে প্রস্তাব দেয়া হয়েছে এবং অন্যটি হল সামরিক সেবার বিকল্প হিসেবে বেসামরিক সেবায় যোগদানের সুযোগ কঠোর করার উদ্যোগ।
সুইজারল্যান্ডের প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র ব্যবস্থার আওতায় এই দুটি ভোটের ক্ষেত্রে জনমত জরিপে দেখা গেছে, সেগুলোতে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে পারে।
সংবাদটি বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
আরও পড়ুন: ২ বছরের বেতনবৃদ্ধি স্থগিত, ২৪ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ১৭টি প্রমাণিত
রোববার সকালে ভোটকেন্দ্র কয়েক ঘণ্টার জন্য খোলা থাকবে এবং দুপুর ১২টায় (গ্রিনিচ মান সময় ১০০০) ভোটগ্রহণ শেষ হবে। কিন্তু বেশিরভাগ ভোটার আগে থেকেই ডাকযোগে তাদের ভোট প্রদান করেছেন। প্রথম ফলাফল বিকেলের মধ্যেই জানা যেতে পারে।
সুইস পিপলস পার্টি (এসভিপি) এর প্রস্তাবিত ‘এক কোটি জনসংখ্যার সুইজারল্যান্ড নয়’ উদ্যোগকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তীব্র বিতর্ক ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।
এই প্রস্তাব অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ৯১ লাখ জনসংখ্যার সুইজারল্যান্ডে ২০৫০ সালের আগে জনসংখ্যা ১ কোটির বেশি হতে দেওয়া যাবে না। এই লক্ষ্য অর্জন করতে হলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
সুইজারল্যান্ডের মোট জনসংখ্যার এক-চতুর্থাংশেরও বেশি বিদেশি নাগরিক রয়েছে। ফলে প্রস্তাবটি পাস হলে অভিবাসনের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হবে।
আরও পড়ুন: রিজভী: গ্যারান্টি ক্লজের অভাবে তিস্তার পানি পায়নি বাংলাদেশ
দেশটির সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল এসভিপির দাবী, অতিরিক্ত অভিবাসনের ফলে আবাসন সংকট, বাড়িভাড়া বৃদ্ধি, ট্রেনে অতিরিক্ত ভিড় এবং যানজটসহ নানা সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।
এসভিপির সংসদ সদস্য ইভান পাহুদ এএফপিকে বলেছেন, ‘সুইজারল্যান্ড একটি ছোট দেশ, যার আয়তন বাড়ানো সম্ভব নয়। আমরা পুরো ইউরোপকে এখানে স্বাগত জানাতে চাই না।’
তবে সমালোচকদের মতে, প্রস্তাবটি অনুমোদিত হলে তা অর্থনীতি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সুইজারল্যান্ডের সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সুইজারল্যান্ডের বিচারমন্ত্রী বিট ইয়ান্স ট্রিবিউন দ্য জেনেভ পত্রিকাকে বলেন, ‘এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ভোট, এখানে ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি।’ তিনি সতর্ক করে জানান, গণভোটের ফলাফল সুইজারল্যান্ডের জন্য ‘ব্রেক্সিট’-সদৃশ পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে।
আরও পড়ুন: ঝালকাঠিতে মা ইলিশ সংরক্ষণে ৭৫ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ
সরকার, পার্লামেন্ট ও বিভিন্ন অর্থনৈতিক খাত ইতোমধ্যেই এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে।
সাম্প্রতিক জরিপগুলোতে দেখা গেছে, ভোটে প্রস্তাবটির বিরোধীরা সামান্য এগিয়ে রয়েছে। তবে এটি পাস হতে হলে শুধুমাত্র সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটই নয়, দেশের ২৬টি ক্যান্টনের মধ্যে অন্তত অর্ধেকের বেশি ক্যান্টনের সমর্থন প্রয়োজন হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন