০৯:২২ এম
বুকভরা শোক নিয়েই পরীক্ষাকেন্দ্রে গেছিল নোয়াখালীর শিক্ষার্থী আবতাহি উদ্দিন লাবিব। পরীক্ষার পর বাড়ি ফিরে বাবার জানাজা ও দাফনে অংশ নিয়েছিল সে। কঠিন সময়কে শক্তিতে পরিণত করে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কারণে লাবিব সব বিষয়ে এ-প্লাস পেয়ে গোল্ডেন জিপিএ ৫ অর্জন করেছে। তবে, কাঙ্ক্ষিত এই সাফল্যের দিনে সবচেয়ে বেশি খুশি হওয়ার কথা ছিল বাবা, কিন্তু তিনি আজ আর নেই।
সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে নোয়াখালী জিলা স্কুল থেকে মোট ২৩৫ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। তাদের মধ্যে ১৩১ জন জিপিএ ৫ পেয়েছে।
জনপ্রিয় সংবাদ অনুযায়ী, লাবিবের বাবা মফিদুল আলম চাটখিল মহিলা ডিগ্রি কলেজের পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন। তিনি গত ১৯ মে রাতে ঢাকায় হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। মৃত্যুর সময় তার বয়স হয়েছিল ৫৪ বছর।
আরও পড়ুন: দুর্গাপুরে সাংবাদিক হত্যার ২৪ ঘণ্টা পর স্ত্রীর মামলা, আসামি ৮ জনই অজ্ঞাত
পরিবারের সদস্যরা জানান, সন্তানের ভালো ফলাফল ও উচ্চশিক্ষা ছিল মফিদুল আলমের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন। বাবার সেই স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যেই গভীর শোকের মধ্যেও পরীক্ষায় অংশ নেয় লাবিব। আজকের এই ফলাফল বাবার প্রতি তার ভালোবাসা ও শ্রদ্ধারই প্রকাশ পায়।
লাবিবের এই সাফল্যে নোয়াখালীর শিক্ষাঙ্গনে প্রশংসা এবং আবেগঘন প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তার এই অর্জন প্রতিকূল পরিস্থিতিতে অন্য শিক্ষার্থীদের জন্য সাহস ও অনুপ্রেরণার উদাহরণ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ফলাফল প্রকাশের পর লাবিব বলেন, বাবা সব সময় চাইতেন আমি ভালো ফল করি। পরীক্ষার সময় বাবাকে হারানো আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্ত ছিল। কিন্তু বাবার স্বপ্ন পূরণের কথা ভেবে নিজেকে সামলে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলাম। আজ আমি গোল্ডেন জিপিএ ৫ পেয়েছি, কিন্তু বাবা পাশে নেই। তিনি ফলাফল পেলে খুব খুশি হতেন।
এদিকে ফলাফল প্রকাশের পর লাবিব নিজের ফেসবুকে বাবাকে স্মরণ করে আবেগঘন একটি স্ট্যাটাস দিয়েছে। সেখানে সে লিখেছে, আজকের দিনে যদি আমার বাবা বেঁচে থাকতেন, তাহলে হয়তো নিজের আইডি থেকে পোস্ট করে বলতেন— আমার ছেলে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়েছে।
আরও পড়ুন: আশুলিয়ায় ৪ দিন পর ১১ বছরের শিশু ফাহিমকে উদ্ধার করলো পুলিশ
তিনি আরও লিখেছেন, ভালো রেজাল্ট হওয়ার পরেও মনে কেমন যেন এক নীরব ব্যথা কাজ করছে। সকলের কাছে আমার এবং আমার বাবার জন্য দোয়া করার অনুরোধ রয়েছে। মহান আল্লাহ যেন আমার বাবাকে জান্নাতের উচ্চ মাকাম দান করেন এবং আমি যেন বড় হয়ে আমার বাবার স্বপ্ন পূরণ করতে পারি।
লাবিবের আবেগঘন স্ট্যাটাসটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে অনেকেই তার প্রতি সহানুভূতি জানিয়ে শুভকামনা জানিয়েছেন। শিক্ষক, সহপাঠী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তার এই সাফল্যকে প্রয়াত বাবার স্বপ্ন পূরণের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখছেন।
নোয়াখালী জিলা স্কুলের এক শিক্ষক মন্তব্য করেছেন, লাবিব শুরু থেকেই অত্যন্ত মেধাবী ও পরিশ্রমী। ব্যক্তিগত জীবনের এত বড় শোককে জয় করে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া এবং গোল্ডেন জিপিএ ৫ অর্জন করা তার অসাধারণ মানসিক দৃঢ়তার পরিচয়।
চাটখিল মহিলা ডিগ্রি কলেজের উপাধ্যক্ষ ফারুক সিদ্দিকী ফরহাদ বলেন, মফিদুল আলমের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন ছিল সন্তানের সাফল্য। লাবিবের এই অর্জন নিঃসন্দেহে তার বাবার স্বপ্ন পূরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। আমরা তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি।
আরও পড়ুন: চাঁদপুরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আব্দুল কুদ্দুস চৌধুরী
চাটখিল মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম মন্তব্য করেছেন, লাবিবের এই সাফল্য শুধু ভালো ফল নয়, এটি অধ্যবসায়, দায়িত্ববোধ ও মানসিক শক্তির অনন্য উদাহরণ। বাবাকে হারানোর গভীর শোকের মধ্যেও তার ধৈর্য ও সাহস অন্য শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন