০৩:৪৫ পি.এম
ময়মনসিংহের নান্দাইলে একটি আবাসিক মাদরাসার এক শিশুশিক্ষার্থী (৯) কে ঘুম থেকে উঠিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে আবু সাঈদ নামে মাদরাসাটির এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে যে, ঘটনার পর ওই শিক্ষক ‘জিনে ধরেছে’ বলে নাটক সাজানোর চেষ্টা করেছেন। ঘটনার পর অভিযুক্ত শিক্ষক মাদরাসা ছেড়ে পালিয়ে গেছেন।
রবিবার (৪ অক্টোবর) সকালে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের পাশে নান্দাইল পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ চন্ডীপাশা গোরস্থান সংলগ্ন বাইতুর রাসূল (সা.) মাদরাসাটি ঘেরাও করে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বিক্ষোভ করেন। অভিযুক্ত শিক্ষকের বাড়ি উপজেলার বালিয়াপাড়া গ্রামে।
এদিকে, ভুক্তভোগী শিশুটি বর্তমানে প্রচণ্ড জ্বর নিয়ে তার গ্রামের বাড়িতে শয্যাশায়ী অবস্থায় রয়েছে। শিশুটির বাবা থানায় মামলা দায়েরের উদ্দেশ্যে নান্দাইল উপজেলা সদরে অবস্থান করছেন এবং সুষ্ঠু বিচারের আশায় রয়েছেন।
আরও পড়ুন: কাঁঠালিয়ায় অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ, আত্মীয়তার সম্পর্ক নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন
ভুক্তভোগী শিশুর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নির্যাতনের শিকার শিশুটি ওই মাদরাসার হিফজ বিভাগের ছাত্র। ইতিমধ্যে সে ৬ পারা পবিত্র কুরআন মুখস্থ করেছে। শনিবার (৩ অক্টোবর) ভোরে ফজর নামাজ শেষে শিশুটি পড়াশোনা করে ঘুমিয়ে পড়ে। এ সময় মাদরাসার হুজুর আবু সাঈদ তাকে ঘুম থেকে ডেকে তুলে পাশের একটি বাথরুমে নিয়ে যান এবং সেখানে তাকে ধর্ষণ করেন।
এক পর্যায়ে শিশুটির চিৎকার শুনে অন্য শিক্ষার্থীরা ছুটে এলে অভিযুক্ত শিক্ষক ‘জিনে ধরেছে’ বলে মিথ্যা অজুহাতে শিক্ষার্থীদের সেখান থেকে তাড়িয়ে দেন এবং পুরো ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। এদিন বিকেলে শিশুটি মারাত্মক অসুস্থ বোধ করলে তার বাবাকে ডেকে এনে মাদরাসা থেকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে বাড়ি ফিরে শিশুটি তার মায়ের কাছে পুরো বিষয়টি খুলে বলে।
সূত্র আরো জানায়, রবিবার সকালে শিশুটির বাবা মাদরাসায় এসে অভিযুক্ত হুজুরের খোঁজ করলে অন্য শিক্ষকরা জানান, তিনি ছুটি নিয়ে চলে গেছেন। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় জনতা মাদরাসার সামনে জড়ো হয়ে তা ঘেরাও করে রাখে এবং দ্রুত অভিযুক্তের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায়।
মাদরাসার পরিচালক বিল্লাল জানান, বিষয়টি নিয়ে অন্য শিক্ষকদের সঙ্গে পরামর্শ করা হচ্ছে কীভাবে সমাধানে পৌঁছানো যায়। পরিচালকের এমন বক্তব্যে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ আরো বৃদ্ধি পেয়েছে।
আরও পড়ুন: মধুপুরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম
নান্দাইল থানার ওসি জানান, ঘটনাটি তারা অবগত হয়েছেন। ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলেই দ্রুত কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন