ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

প্রি-কেস মেডিয়েশনে সুনামগঞ্জে বিরোধ নিষ্পত্তিতে এসেছে গতি


প্রি-কেস মেডিয়েশনে সুনামগঞ্জে বিরোধ নিষ্পত্তিতে এসেছে গতি

বাধ্যতামূলক প্রি-কেস মেডিয়েশন (মামলা পূর্ব বিরোধ মীমাংসা) চালুর ফলে সুনামগঞ্জে আইনি সেবা প্রাপ্তি এবং বিরোধ নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে একটি অভূতপূর্ব ও ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা দিয়েছে। গত এক বছরের মধ্যে লিগ্যাল এইড অফিসে প্রি-কেস আবেদনের সংখ্যা বেড়ে শতকরা ৯৮১ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সাথে, আপোষে আর্থিক আদায়ের পরিমাণ প্রায় ১৩ গুণ বেড়ে ২৬ লাখ ৫৯ হাজার ৮০০ টাকায় পৌঁছেছে।

জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার এবং সিভিল জজ মোহাম্মদ জুনাইদ জানান, আইনগত সহায়তা প্রদান (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫ অনুযায়ী গত ১৮ সেপ্টেম্বর বাধ্যতামূলক প্রি-কেস মেডিয়েশন চালু হয়। এই পদক্ষেপের ফলে বিরোধ নিষ্পত্তিতে ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটেছে।

গত এক বছরের (জানুয়ারি-জুন ২০২৫ থেকে জানুয়ারি-জুন ২০২৬) প্রি-কেস আবেদন সংখ্যা বেড়ে ১৭১ থেকে ১ হাজার ৮৪৯ হয়েছে, যা প্রবৃদ্ধি ৯৮১%। প্রি-কেস মীমাংসা ৭৯টি থেকে বেড়ে ২৬৬টিতে পৌঁছেছে, এতে প্রবৃদ্ধি ২৩৬% হয়েছে। আপোষে আর্থিক আদায় ২ লাখ ৯০০ টাকা থেকে বেড়ে ২৬ লাখ ৫৯ হাজার ৮০০ টাকায় পৌঁছেছে, প্রবৃদ্ধি ১২২৩%। সরকারি আইনি সহায়তা গ্রহণকারীর সংখ্যা ১৫৭ জন থেকে বেড়ে ৭৪৬ জন হয়েছে, যা প্রবৃদ্ধি ৩৭৫%। আইনগত পরামর্শ গ্রহণকারীর সংখ্যা ৬২০ জন থেকে বেড়ে ৭৫৭ জন হয়েছে, প্রবৃদ্ধি ২২%।

আরও পড়ুন: হাসিনাসহ ১১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি আজ টেকনাফে

সচেতনতা বৃদ্ধি করার জন্য অনুষ্ঠান সংখ্যা ৩টি থেকে বেড়ে ৪৬টি হয়েছে, প্রবৃদ্ধি ১৪৩৩%। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী সংখ্যা ৭৭ জন থেকে বেড়ে ১৯৯৫ জনে পৌঁছেছে, প্রবৃদ্ধি ২৪৯০%। মোট উপকারভোগীর সংখ্যা ৬৩৯ জন থেকে বেড়ে ২,৫১৩ জন হয়েছে, প্রবৃদ্ধি ২৯৩%। মোট নিষ্পত্তি সংখ্যা ১৮৫টি থেকে বেড়ে ১, ৮৩২টিতে পৌঁছেছে, প্রবৃদ্ধি ৮৯০%।

জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার মোহাম্মদ জুনাইদ আরও বলেন, অনেক মানুষ মনে করে, লিগ্যাল এইড অফিসের আপোষনামা সম্ভবত একটি অনানুষ্ঠানিক বোঝাপড়া। তবে প্রকৃত অর্থে, আইনগত সহায়তা প্রদান আইনের অনুসারে এই আপোষনামা আদালতের ডিক্রির সমপর্যায় লাভ করে। এটি আইনগতভাবে বলবৎযোগ্য একটি দলিল। কোনো পক্ষ যদি আপোষনামা অমান্য করে, তবে অপরপক্ষ আইনি প্রতিকার পেতে পারে।

তিনি জানান, যদি মীমাংসার সময়ে কোন পক্ষের স্বার্থ বা সম্পত্তির ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে, তবে প্রয়োজনীয় অন্তর্র্বতীকালীন আদেশ দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার সুরেষা বেগম বাসসের সাথে আলাপকালে বলেন, ‘আমাদের স্বামী স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ ছিল। সরকারের লিগ্যাল এইডের সাহায্যে আমাদের দুই পক্ষের আলোচনায় মীমাংসা হয়েছে। এতে আমরা দুইজনই ন্যায্য বিচার পেয়েছি।’

আরও পড়ুন: রূপপুরে কড়া নিরাপত্তায় পৌঁছেছে নতুন ইউরেনিয়াম চালান

দোয়ারাবাজার উপজেলার মো. দেলোয়ার হোসেন বলেছেন, ‘আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে ভাইয়েরা মধ্যে বিরোধ ছিল। সরকারের আইন সহায়তা নিয়ে নিষ্পত্তি হয়েছে। এজন্য আমাদের দীর্ঘদিন ধরে আদালতের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরতে হয়নি।’

লিগ্যাল এইড কর্মকর্তা এবং সুবিধাভোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আলোচনা মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির সুযোগ পাওয়ায় নাগরিকরা নানাবিধ সুফল পাচ্ছেন। এতে একদিকে যেমন সময় ও অর্থের সাশ্রয় হচ্ছে, তেমনি পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্ক অটুট থাকছে।

তারা বলেন, প্রি-কেস মেডিয়েশন শুরু হওয়ার কারণে আদালতে নতুন মামলার চাপ কমছে। আইনগত বাধ্যবাধকতাসহ দ্রুত ও কার্যকর প্রতিকার নিশ্চিত হচ্ছে। ফলে সামাজিক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক আস্থা সুদৃঢ় হচ্ছে।

সিভিল জজ মোহাম্মদ জুনাইদ বলেন, আমাদের লক্ষ্য কেবল মামলার সংখ্যা কমানো নয়, বরং মানুষের দরজায় দ্রুত, সহজ ও কার্যকর ন্যায়বিচার প্রদান করা।

আরও পড়ুন: ফৌজদারি অপরাধ: এফবিআইয়ের সাবেক পরিচালক কোমির বিরুদ্ধে আবারও অভিযোগ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাটারিংয়ে বাঁশ ব্যবহার, ৯ বিদ্যালয়ের নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:৩৫ পি.এম


সাটারিংয়ে বাঁশ ব্যবহার, ৯ বিদ্যালয়ের নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে বিদ্যালয় ভবনের অতিরিক্ত কক্ষ নির্মাণের কাজে সাটারিংয়ে স্টিলের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহার করা হচ্ছে। সম্প্রতি উপজেলার চরকাদিরা কে এম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে ৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভবনের অতিরিক্তি কক্ষ ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ এসেছে। উপজেলা স্থানীয় প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)-এর প্রকৌশলী আবদুল কাদের মোজাহিদের বিরুদ্ধে ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশ করে প্রাক্কালন বহির্ভূত কাজ করিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলেছেন সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও স্থানীয়রা।

এলজিইডি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে একটি প্রকল্পের আওতায় উপজেলার ৯টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের কক্ষ, অতিরিক্ত শ্রেণিকক্ষ ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণের জন্য দুই কোটি ৪৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। প্রাক্কালন অনুযায়ী, ভবনের কলাম, টাইবিম, লিন্টেল ও ছাদের ঢালাই কাজে আধুনিক স্টিল সাটারিংয়ের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

নির্মাণের গুণগত মান ও স্থায়িত্ব নিশ্চিত করতে নির্ধারিত মানের ১৬ বিডাব্লিউজি এমএস শিট ও নির্দিষ্ট মাপের অ্যাঙ্গেল ব্যবহারেরও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ৯টি বিদ্যালয়ের অতিরিক্ত কক্ষ ও সীমানা প্রাচীর নির্মাণের কাজের মেয়াদ রয়েছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত কাজের মাত্র ২৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। অর্থাৎ, প্রকৌশলী চূড়ান্ত বিল পরিশোধ করেছেন।

এক্ষেত্রে প্রত্যেক বিদ্যালয়ে শুধুমাত্র স্টিল শাটারিং বাবদ বরাদ্দ ধরা হয়েছে সাড়ে তিন লাখ থেকে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত। কিন্তু সরকারের এ নির্দেশনা ও অনুমোদিত নকশা উপেক্ষা করে সাটারিংয়ে স্টিলের পরিবর্তে নিম্নমানের পুরনো বাঁশ, কাঠ ও জরাজীর্ণ উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, এই কাজের জন্য সরকারী অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ উঠেছে, উপজেলা প্রকৌশলীর প্রত্যক্ষ মদদেই ঠিকাদাররা এভাবে কাজ করছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুইজন প্রধান শিক্ষক উল্লেখ করেন যে, সরকার একটি প্রকল্পের মাধ্যমে ২.৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দিলেও ওই উদ্যোগ প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।

বিষয়টি সম্পর্কে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান গোফরান ট্রেডার্স ও ফয়সাল ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. গোফরান জানিয়েছেন, প্রাক্কালন অনুযায়ী কাজ করা হচ্ছে এবং সবকিছু উপজেলা প্রকৌশলীর নির্দেশনা অনুযায়ী চলছে। এ ব্যাপারে কমলনগর উপজেলা প্রকৌশলী আবদুল কাদের মোজাহিদ জানান, তিনি কিছু অনিয়ম পেয়েছেন এবং ঠিকাদারকে নোটিশও দিয়েছেন।

এলজিইডির লক্ষ্মীপুর জেলা নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জ্বল চৌধুরী বলেছেন, তিনি অনিয়মের ঘটনাটি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। এছাড়া স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডির) নোয়াখালী অঞ্চলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. মহসিন বলেছেন, এই ঘটনা অনুসন্ধান করতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইউক্রেন স্থলযুদ্ধের নতুন রূপ দিচ্ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:৩৭ পি.এম


ইউক্রেন স্থলযুদ্ধের নতুন রূপ দিচ্ছে

স্থলযুদ্ধের নতুন রূপ দিচ্ছে ইউক্রেন। 

শুরুতে আকাশে উড়ন্ত ড্রোন বিশ্বজুড়ে যুদ্ধের ধরণ বদলে দিয়েছিল ইউক্রেন। তবে এখন মাটির ওপর নীরবে আরেকটি প্রযুক্তিগত বিপ্লব ঘটছে।

যাকে সামরিক ভাষায় বলা হয় ‘আনম্যান্ড গ্রাউন্ড ভেহিকেল’ বা ইউজিভি। ঘটনাটি মাটির ওপর যুদ্ধে সম্মুখসমরের বিপজ্জনক কাজগুলো রোবট বা চালকবিহীন যান দিয়ে প্রতিস্থাপন করছে। এর ফলে এখন রসদ পরিবহন, গোলাবারুদ বহন, আহত সেনাদের উদ্ধার, মাইন পাতা, এমনকি শত্রুর ট্রেঞ্চ দখলের মতো ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানে নতুন মাত্রা যোগ করেছে দেশটির সামরিক বাহিনী।

ইউক্রেনের সেনারা বলছেন, যুদ্ধে এসব রোবট বর্তমানে অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। কারণ রাশিয়ার ড্রোন হামলার কারণে সামনের সারির সেনাদের দীর্ঘ সময় মাটির নিচের বাঙ্কারে অবস্থান করতে হয়। ফলে বিপজ্জনক এলাকায় মানুষের পরিবর্তে রোবট পাঠানোই নিরাপদ বিকল্প হয়ে উঠেছে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি গত এপ্রিলে দাবি করেন, দেশটির বাহিনী কেবল আকাশ ও স্থল ড্রোন ব্যবহার করেই একটি রুশ অবস্থান দখল করেছে। ওই অভিযানে ইউক্রেনের কোনো সেনাকে সরাসরি ঝুঁকির মুখে যেতে হয়নি।

দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস বলছে, স্থল রোবট প্রযুক্তির উন্নয়নে ইউক্রেন বর্তমানে বিশ্বের অনেক উন্নত সামরিক শক্তিকেও ছাড়িয়ে গেছে। তবে বড় আশ্চর্যের বিষয় হলো- এই প্রযুক্তিগত অগ্রযাত্রার নেতৃত্ব দিচ্ছেন বড় সফটওয়্যার প্রকৌশলীরা নয়; বরং যুদ্ধক্ষেত্রে কাজ করা মেকানিক, ওয়েল্ডার এবং পদাতিক সেনারা, যারা নিজেদের অভিজ্ঞতা দিয়ে বাস্তব প্রয়োজন অনুযায়ী এসব রোবট তৈরি করছেন।

প্রাণ বাঁচানোর নতুন হাতিয়ার। রাশিয়ার তুলনায় ইউক্রেনের সেনাসংখ্যা কম হওয়ায় প্রতিটি সেনার জীবন রক্ষা দেশটির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই স্থল ড্রোনের কারণে যুদ্ধক্ষেত্রে ‘কিল জোন’ বা প্রাণঘাতী এলাকা অনেক বিস্তৃত হয়েছে। ফলে এমন কিছু গোপন জায়গা তৈরি হয়েছে যে, যেখান থেকে সামনের অবস্থানে পৌঁছানোই সেখানে অবস্থান করার চেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।

এ কারণে ইউক্রেনের বিভিন্ন ব্রিগেডে শত শত স্থল রোবট মোতায়েন করা হয়েছে। কে-২ ব্রিগেডের একটি স্থল রোবট ইউনিটের কমান্ডার মেজর ওলেক্সান্দর জানিয়েছেন, তাদের ইউনিটে ৬০০-এর বেশি রোবট রয়েছে এবং প্রতিদিন পাঁচ থেকে ছয়টি অভিযান পরিচালনা করা হয়।

তিনি বলেন, সৈন্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারলে শুধু রসদ পরিবহনের জন্য চালক সংকট দেখা দিত। স্থল রোবট সেই সমস্যার সমাধান করেছে। এগুলো ছোট হওয়ায় সহজে শনাক্ত করা যায় না এবং ধ্বংস হলেও কোনো সেনার প্রাণহানি ঘটে না।

৩৬তম ব্রিগেডের সার্জেন্ট দিমিত্রো ইভানভ জানান, পর্যাপ্ত রোবট পাওয়ার পর তাদের ইউনিটে রসদ পরিবহন ও সরবরাহের প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ মানুষ ছাড়াই সম্পন্ন হচ্ছে।

মেকানিক থেকে কমান্ডার। ৯৩তম মেকানাইজড ব্রিগেডের ক্যাপ্টেন ওলেক্সান্দর খারকোভেৎস যুদ্ধের আগে একটি অটোমোটিভ ইলেকট্রনিক্স কর্মশালা পরিচালনা করছিলেন। ২০২৩ সালে ইউক্রেনের দোনেৎস্ক অঞ্চলে বাখমুতের ধ্বংসস্তূপে বাড়ি বাড়ি যুদ্ধের সময় তিনি উপলব্ধি করেন যে, মানুষের পরিবর্তে এসব ঝুঁকিপূর্ণ কাজ যন্ত্রের মাধ্যমেই করা সম্ভব।

পরে তিনি একটি রিমোট কন্ট্রোল গাড়িতে হুক ও মেশিনগান সংযুক্ত করেন, যাতে নিহত বা আহত সেনাদের উদ্ধার করার পাশাপাশি প্রয়োজনে পাল্টা গুলিও চালানো যায়। ওই বছরের শেষদিকে এই রোবটের মাধ্যমে এমন একটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়, যা এক সপ্তাহ ধরে বিশেষ বাহিনীও উদ্ধার করতে পারেনি।

সীমাবদ্ধতা কোথায়? তবে স্থল রোবট এখনও সব পরিস্থিতিতে কার্যকর নয়। খোলা সমতল এলাকায় এগুলো সহজেই শত্রুর লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। মানুষের মতো গাছে ওঠা, ট্রেঞ্চে লাফ দেওয়া বা পরিস্থিতি অনুযায়ী তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও নেই।

এসব সীমাবদ্ধতা কাটাতে প্রকৌশলীরা রোবটে ক্ষুদ্র আকারের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সংযোজন এবং বন্ধু-শত্রু শনাক্তের প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করছেন।

যুদ্ধক্ষেত্রে এতো এতো সীমাবদ্ধতার পরেও ইউক্রেনের কর্মকর্তারা বলছেন, ভবিষ্যতের সেনাবাহিনী স্থল রোবট ছাড়া কল্পনাই করা যায় না। ২০২৬ সালে দেশটি ৫০ হাজার স্থল রোবট উৎপাদনের পরিকল্পনা নিয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি।

এদিকে রাশিয়াও স্থল রোবট ব্যবহার করছে, তবে ইউক্রেনের তুলনায় অনেক কম। ইউক্রেনের গ্রাউন্ড রোবট সিস্টেম নির্মাতাদের সংগঠনের প্রধান মাকসিম ভাসিলচেঙ্কো বলেন, একটি সাঁজোয়া পদাতিক যান কেনার জন্য একটি ব্রিগেড ৭৭টি স্থল রোবট কিনতে পারে। অর্থাৎ, মানুষের জীবন ঝুঁকিতে না ফেলেই ৭৭ বার অভিযান পরিচালনার সুযোগ তৈরি হয়।

রোবট যুদ্ধ। শুরুতে এসব রোবট মূলত রসদ পরিবহনে ব্যবহৃত হলেও এখন সরাসরি যুদ্ধেও অংশ নিচ্ছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ইউক্রেনের খারতিয়া কর্পস ইতিহাসের প্রথম সম্পূর্ণ রোবটনির্ভর স্থল হামলা পরিচালনা করে।

মেশিনগান, ফ্লেমথ্রোয়ার ও বিস্ফোরক বহনকারী স্থল রোবট এবং আকাশের ড্রোন একসঙ্গে অভিযান চালিয়ে রুশ অবস্থানে হামলা চালায় রোবট।

বর্তমানে কিছু রোবট শুধু হামলাই নয়, আত্মসমর্পণকারী রুশ সেনাদের নিরাপদে ইউক্রেনীয় অবস্থানে নিয়ে আসার কাজও করছে। তৃতীয় অ্যাসল্ট ব্রিগেডের জুনিয়র লেফটেন্যান্ট মাইকোলা জিনকেভিচ নিউ ইয়র্ক টাইমসকে জানান, তাদের একটি ভারী মেশিনগান-সজ্জিত স্থল রোবট টানা ৪৫ দিন একটি গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান পাহারা দিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রধানমন্ত্রীর বহরে ইট নিক্ষেপ নয়, চাকা থেকে ছিটকে আসা টুকরো: পুলিশ সুপার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:৪০ পি.এম


প্রধানমন্ত্রীর বহরে ইট নিক্ষেপ নয়, চাকা থেকে ছিটকে আসা টুকরো: পুলিশ সুপার

বরিশাল যাওয়ার পথে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা গাড়িবহরে ইট নিক্ষেপের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ। মাদারীপুরের পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান জানিয়েছেন, ভিডিওতে দেখা ইটের টুকরোটি সামনের একটি গাড়ির চাকা থেকে দুর্ঘটনাবশত ছিটকে এসেছিল।

সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মাদারীপুর সদর উপজেলার সাধুরব্রিজ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়।

ভাইরাল হওয়া ১ মিনিট ৪৯ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গাড়িবহর বরিশালের দিকে যাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বাসের ভেতর থেকে রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উদ্দেশে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করছিলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর বাসের পেছনে থাকা নিরাপত্তারক্ষীদের তৃতীয় গাড়িটির সামনে হঠাৎ একটি ইটের টুকরো এসে পড়ে। ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকে একে ‘ইট নিক্ষেপ’ বা ‘পরিকল্পিত হামলা’ বলে দাবি করতে থাকেন।

এ বিষয়ে মাদারীপুরের পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, বিষয়টি নজরে আসার পরপরই পুলিশ, র‍্যাব ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা বিষয়টি গুরুত্বের সাথে তদন্ত শুরু করেন। তদন্ত শেষে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, এটি কোনো ইট নিক্ষেপের ঘটনা ছিল না। মূলত রাস্তার ওপর পড়ে থাকা একটি ইটের টুকরো দ্রুতগামী গাড়ির চাকার চাপে ছিটকে গিয়ে ওই গাড়ির সামনে পড়েছিল।

তিনি আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা অত্যন্ত নিশ্ছিদ্র ছিল এবং পথে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্ত হওয়ার কোনো অবকাশ নেই। এ বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তর থেকেও বিস্তারিত ব্রিফ করা হতে পারে।”

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

অবসরে গেলেন আপিল বিভাগের বিচারপতি আশফাকুল ইসলাম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ১৪ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:৪৩ পি.এম


অবসরে গেলেন আপিল বিভাগের বিচারপতি আশফাকুল ইসলাম

অবসরে গেছেন আপিল বিভাগের বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম।

সংবিধান অনুযায়ী তার বয়স ৬৭ বছর পূর্ণ হওয়ায় তিনি অবসরে গেছেন।

মঙ্গলবার তার শেষ কর্মদিবস সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে পালন করার পর তিনি অবসরে যান।

এদিন প্রথা অনুযায়ী বিচারপতিকে বিদায় সম্বর্ধনা জানানো হয়। অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের পক্ষ থেকে বিচারপতিকে বিদায় সম্বর্ধনা জানান অ্যাটর্নি জেনারেল ব‍্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে তাকে বিদায় জানান সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন।

এ সময় প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীসহ আপিল বিভাগের অন্যান্য বিচারপতি ও আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, আশফাকুল ইসলাম ১৫ জুলাই ১৯৫৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা এ কে এম নুরুল ইসলাম ছিলেন বাংলাদেশের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট। আর মা জাহানারা আরজু একুশে পদকপ্রাপ্ত কবি ও সাহিত্যিক ছিলেন।

বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএল.বি. (সম্মান) ও এলএল.এম. ডিগ্রি এবং ভারত থেকে এফ.আই.সি.পি.এস. ডিগ্রি অর্জন করেন।

তিনি ১৯৮৩ সালে জেলা আদালত এবং ১৯৮৫ সালে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ২০০৩ সালের ২৭ আগস্ট হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক এবং ২০০৫ সালের ২৭ আগস্ট একই বিভাগের বিচারক হিসেবে নিযুক্ত হন।

বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম ২০২২ সালের ৮ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে উন্নীত হন।

তিনি ২০১১ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত বিচারিক উন্নয়ন বিষয়ক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২৩
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৩
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%