মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
১০:৪০ এম
নকশা অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুরের আয়ুষ্কাল ৬০ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে, এই সময়ের হিসাব এখানেই শেষ হচ্ছে না। বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ বাড়ানোর যে নতুন প্রবণতা দেখা দিয়েছে, তার আলোকে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক পরিকল্পনা ও সতর্ক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে ৬০ বছরের পরিবর্তে ৮০ থেকে ১০০ বছর পর্যন্ত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পাওয়া সম্ভব।
বর্তমানে বিশ্বজুড়ে বিদ্যমান পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যাহত রাখতে কেন্দ্রগুলোর মেয়াদ বাড়ানোর কৌশল গ্রহণ করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিশাল অঙ্কের নতুন বিনিয়োগ ছাড়াই পুরোনো অবকাঠামোকে কাজে লাগিয়ে আরও কয়েক দশক অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব। ফলে, এটি সময় ও অর্থ—দুদিক থেকেই অত্যন্ত সাশ্রয়ী ও যুক্তিযুক্ত সমাধান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ সফলভাবে বাড়ানোর উজ্জ্বল উদাহরণ হিসেবে রাশিয়ার অন্যতম প্রধান বিদ্যুৎকেন্দ্র ‘কালিনিন নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট’ উল্লেখযোগ্য। মস্কো ও সেন্ট পিটার্সবার্গের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী এই কেন্দ্রে ১৯৮৪ সালে প্রথম ইউনিট এবং ১৯৮৬ সালে দ্বিতীয় ইউনিট চালু করা হয়েছিল। এরপর ২০০৪ ও ২০১১ সালে উৎপাদনে আসে তৃতীয় ও চতুর্থ ইউনিট।
বিদ্যুৎকেন্দ্রটির বিশেষত্ব হলো, নির্ধারিত ৩০ বছরের প্রাথমিক মেয়াদ শেষ হওয়ার পর চুল্লির প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা, নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং আধুনিকায়নের মাধ্যমে প্রথম দুই ইউনিটের আয়ুষ্কাল বাড়ানো হয়েছে। প্রথম ইউনিট ২০৪৪ সাল এবং দ্বিতীয় ইউনিট ২০৩৮ সাল পর্যন্ত চালুর পূর্ণ অনুমোদন পেয়েছে।
কালিনিন বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্যেষ্ঠ প্রধান শিফট কর্মকর্তা আলেকজান্ডার ইয়াকোভলেভিচ জানান, “পুরোনো ইউনিটের মেয়াদ বাড়াতে আমরা মডিউলার কন্ট্রোল প্যানেল পুরোপুরি বদলে ফেলে নতুন কন্ট্রোল সিস্টেম চালু করেছি। কেব্ল ও পাম্পিং ইকুইপমেন্ট প্রতিস্থাপনসহ কারিগরি নানা সংস্কারের পর রাশিয়ার পরমাণু নিয়ন্ত্রক সংস্থা মেয়াদ আরও ৩০ বছর বাড়ানোর অনুমোদন দেয়।”
বাংলাদেশের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ‘থ্রি প্লাস জেনারেশন’ (VVER-1200) প্রযুক্তিতে নির্মিত হচ্ছে, যা পৃথিবীর অন্যতম সেরা ও আধুনিক প্রযুক্তি হিসেবে পরিচিত। এই প্রযুক্তির মূল কাঠামো অত্যন্ত টেকসইভাবে নকশা করা হয়েছে। ৬০ বছরের নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার পর এই কেন্দ্রের আয়ুষ্কাল আরও ২০ থেকে ৪০ বছর পর্যন্ত বাড়ানো কারিগরিভাবে সম্ভব।
তবে, এই সেঞ্চুরি স্পর্শ করতে হলে রূপপুরকে কিছু জরুরি শর্ত ও বৈজ্ঞানিক ধাপ অতিক্রম করতে হবে:
নিয়মিত ও নিবিড় পরিচর্যা: পারমাণবিক চুল্লির বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি ও স্পর্শকাতর যন্ত্রাংশকে শতভাগ কার্যকর রাখতে প্রথম দিন থেকেই সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে।
প্রযুক্তির ক্রমাগত আধুনিকায়ন: সময়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কন্ট্রোল প্যানেল, কেব্লিং ও পাম্পিং সিস্টেমের মতো যন্ত্রাংশগুলো নিয়মিত বিরতিতে হালনাগাদ ও প্রতিস্থাপন করতে হবে।
কঠোর নিরাপত্তা ছাড়পত্র: নির্দিষ্ট সময় পরপর আন্তর্জাতিক ও জাতীয় পরমাণু নিয়ন্ত্রক সংস্থার কঠোর পরিদর্শন এবং ছাড়পত্র নিশ্চিত করতে হবে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলাম এ বিষয়ে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, “পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মেয়াদ বাড়াতে যে উদ্যোগগুলো প্রয়োজন, তার মধ্যে অন্যতম হলো প্রধান প্রধান কম্পোনেন্টকে দীর্ঘ মেয়াদে সচল রাখা। এর জন্য এখন থেকেই নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও নিবিড় পরিচর্যার প্রস্তুতি নিতে হবে। আগে থেকে প্রস্তুতি না নিলে মেয়াদ বাড়ানোর এই সুফল আমরা পাব না।”
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভূতপূর্ব এই সুফল পুরোপুরি ঘরে তুলতে হলে কারিগরি দক্ষতার পাশাপাশি দরকার উচ্চমানের ব্যবস্থাপনাগত দক্ষতা। রাশিয়ার কালিনিন মডেলের অভিজ্ঞতা এবং এখন থেকেই সঠিক রক্ষণাবেক্ষণ ও বাড়তি সতর্কতা নিশ্চিত করা গেলে, রূপপুরের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে আগামী এক শতাব্দীজুড়ে বাংলাদেশ পাবে পরিচ্ছন্ন ও নিরবচ্ছিন্ন আলো।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মঞ্চে সংগীত পরিবেশন করার সময় ইসরায়েলের পতাকা পায়ে মাড়িয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন কলম্বিয়ার র্যাপার চেলো হপ। ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে তাঁর প্রতিবাদী আচরণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাঁকে নিয়ে শুরু হয়েছে বিভিন্ন আলোচনা। অনেকেই তাঁর এই পদক্ষেপের প্রশংসা করছেন।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, চেলো হপ মঞ্চে গান গাইছেন। এ সময় এক দর্শক মঞ্চে উঠে তাঁর দিকে ইসরায়েলের পতাকা এগিয়ে দেন। পতাকাটি হাতে নেওয়ার পর গায়িকা ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখান। তিনি সেটি মাটিতে ফেলে পা দিয়ে মাড়ান এবং পরে লাথি মেরে সরিয়ে দেন।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর অনেকেই জানতে চান, কে এই গায়িকা এবং ঘটনাটি কোথায় ঘটেছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চেলো হপ কলম্বিয়ার একজন র্যাপার। গত ২৪ অক্টোবর কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোটার সিমন বলিভার মেট্রোপলিটন পার্কে অনুষ্ঠিত ‘হিপ হপ আল পারকে’ উৎসবে এই ঘটনা ঘটে।
অনুষ্ঠানে চেলো হপ ‘পালেস্তিনা লিব্রে’ স্লোগানও দেন। স্প্যানিশ ভাষায় এই কথাটির অর্থ ‘মুক্ত হোক ফিলিস্তিন’। গাজায় ইসরায়েলি হামলা ও ফিলিস্তিনিদের ওপর নিপীড়নের প্রতিবাদ হিসেবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনেক ব্যবহারকারী তাঁর এই আচরণকে সমর্থন জানাচ্ছেন। এ কারণে ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর গায়িকার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন অনেকে।
চেলো হপ কেবল সংগীত পরিবেশনেই সীমাবদ্ধ নন, তাঁর গানে রাজনৈতিক বক্তব্য, সামাজিক আন্দোলন এবং প্রতিরোধের বিষয়ও উঠে আসে। উৎসবে তিনি ‘অ্যানাতোমিয়া’ শিরোনামের একটি গানও পরিবেশন করেন। এদিকে, ঘটনাটিকে ঘিরে কলম্বিয়ায় নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত নিন্দা জানিয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রয়্যা নিউজ ও ফ্রি প্রেসের প্রতিবেদন অবলম্বনে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপকূলে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বাণিজ্যিক বিক্রির অভিযোগে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বৃদ্ধি পাচ্ছে। উপকূলরক্ষা বেড়িবাঁধের নিকটবর্তী এলাকা থেকে ড্রেজার ব্যবহার করে বালু তোলার ঘটনা ঘটছে। সৈয়দপুর থেকে ফৌজদারহাট পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে এবং সোনাইছড়ির বকতারপাড়ায় মাবিয়া শিপইয়ার্ডসংলগ্ন এলাকায় ব্যাপকভাবে বালু তোলার অভিযোগ স্থানীয়দের। তাঁরা আশঙ্কা করছেন, উপকূলের সংবেদনশীল এলাকায় এ ধরনের কার্যক্রম চলতে থাকলে বেড়িবাঁধ, বসতভিটা ও কৃষিজমি যেকোনো সময় ভাঙনে বিলীন হতে পারে।
জেলা প্রশাসন স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, সীতাকুণ্ড উপকূলে বালু উত্তোলনের জন্য কোনো অনুমতি প্রদান করা হয়নি। অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে দ্রুত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
গত শুক্রবার বাঁশবাড়িয়া সমুদ্রসৈকতসংলগ্ন আকিলপুর এলাকায় ‘আকিলপুরের সর্বস্তরের সর্বসাধারণ’-এর ব্যানারে স্থানীয় বাসিন্দারা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। মানববন্ধনে তাঁরা বালু উত্তোলনের বৈধতা যাচাই, বেড়িবাঁধের অবস্থা সরেজমিনে পরিদর্শন এবং অনিয়ম বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
বাসিন্দাদের বক্তব্য হলো, উপকূলরক্ষা অবকাঠামোর নিকট থেকে বালু উত্তোলনের ক্ষতিকর প্রভাব যাচাই না করে এ পরিস্থিতি উপেক্ষা করা উচিত নয়। এজন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) মাধ্যমে বেড়িবাঁধের বর্তমান অবস্থা পরীক্ষা এবং বালু উত্তোলনের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিরূপণে কারিগরি মূল্যায়নের দাবি উঠেছে।
যোগাযোগ করা হলে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সাখাওয়াত জামিল বলেন, ‘সীতাকুণ্ড উপকূলে বালু উত্তোলনের কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। অনুমতি রয়েছে বলে যাঁরা দাবি করছেন, তাঁদের তথ্য সঠিক নয়। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে শিগগিরই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তিনি আরও জানান, সীতাকুণ্ডের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফজলে রাব্বিকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা দেওয়া হবে।
সোনাইছড়ি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বকতারপাড়ার মাবিয়া শিপইয়ার্ডের পরিচালক এজাহার মিয়া জানান, ‘শিপইয়ার্ডটি শ্রমিক দলের নেতা রবিউলের কাছে ভাড়া দেওয়া হয়েছে।’ তাঁর দাবি, ভাড়াটিয়ারাই বালু উত্তোলন করে বিক্রি করছেন এবং এই কাজে সরকারি অনুমতি রয়েছে। সমুদ্রে পলি জমে নাব্যতা কমে যাওয়ায় জাহাজ বিচিঙে (তীরে ভেড়ানো) সমস্যা হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন। তবে জেলা প্রশাসন বালু উত্তোলনের অনুমতির কথা পরিষ্কারভাবে অস্বীকার করেছে। রবিউলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন কেটে দেন, ফলে তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় নির্ভরযোগ্য সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বর্গফুট বালু উত্তোলনে খরচ হয় প্রায় ৩ টাকা ৫০ পয়সা এবং বিক্রিমূল্য ৭ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ৮ টাকা। তবে এই হিসাবের ভিত্তি, উত্তোলিত বালুর প্রকৃত পরিমাণ কিংবা মোট আর্থিক লেনদেনের তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে প্রতিদিন ঠিক কী পরিমাণ বালু উত্তোলন হচ্ছে এবং কত টাকার লেনদেন হচ্ছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এটি উল্লেখ্য যে, সীতাকুণ্ড উপকূলে বালু উত্তোলন বন্ধে এর আগে প্রশাসনিক অভিযান পরিচালিত হয়েছে। ২০২৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি সৈয়দপুর, কুমিরা, বাঁশবাড়িয়া, বারআউলিয়া ও গুলিয়াখালিসহ কয়েকটি এলাকায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ ও উপজেলা প্রশাসনের যৌথ অভিযানে ড্রেজার জব্দ করা হয় এবং ১৩ জনকে আটক করা হয়েছিল।
অভিযোগের বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক জমির উদ্দিন এবং সীতাকুণ্ডের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফজলে রাব্বির সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দারা জোর দাবি করেছেন, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সমন্বয়ে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের মাধ্যমে উপকূলে অনুমোদনের নামে চলা বালু বাণিজ্য অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। সেই সঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কারিগরি মূল্যায়নের মাধ্যমে উপকূলরক্ষা বেড়িবাঁধ, বসতভিটা ও কৃষিজমির দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
এমএইচ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভারতে অবস্থান নিয়ে আইনি অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন বলিউড অভিনেতা ইমরান খান। আগামীকাল ২৮ অক্টোবরের মধ্যে ভারত ত্যাগের নির্দেশ পেয়েছেন তিনি। এই নির্দেশের বিরুদ্ধে করা তাঁর আবেদনের শুনানি আজ মঙ্গলবার বম্বে হাই কোর্টে অনুষ্ঠিত হবে। ফলে, দেশ ছাড়ার নির্ধারিত সময়সীমার ঠিক আগের দিন আদালতের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করছেন অভিনেতা।
মার্কিন নাগরিক হলেও, ইমরান খান দীর্ঘ সময় ধরে ভারতে বসবাস করছেন। তাঁর কাছে ভারতের ওভারসিজ সিটিজেন অব ইন্ডিয়া (ওসিআই) কার্ডও রয়েছে। গত ১০ অক্টোবর, মুম্বাইয়ের অগাস্ট ক্রান্তি ময়দানের কাছে একটি রাজনৈতিক প্রতিবাদ কর্মসূচির সময় তাঁকে পুলিশ কর্তৃক সাময়িকভাবে আটক করা হয়। ওই কর্মসূচিতে ভারতের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি জানানো হয়েছিল।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার প্রেক্ষিতে ওই প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। ঘটনার পর, ইমরানকে ২৮ অক্টোবরের মধ্যে ভারত ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে, অভিনেতার দাবি, তিনি ওই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেননি। এমনকি কর্মসূচির আয়োজকদের সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পর্ক নেই বলেও আদালতে জানিয়েছেন তিনি।
ভারত ছাড়ার নির্দেশের বিরুদ্ধে করা আবেদনে ইমরান অভিযোগ করেছেন যে, তাঁকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই এই নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি, কোন আইনি বিধান লঙ্ঘনের অভিযোগে তাঁকে দেশ ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে নির্দেশনায় স্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই বলেও দাবি করেছেন তাঁর আইনজীবীরা।
এদিকে, ইমরানের ওসিআই নিবন্ধন বাতিল করা হবে কি না, তা জানতে চেয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাঁকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিনেতা আদালতের কাছে দেশ থেকে বহিষ্কারসহ তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া থেকে সাময়িক সুরক্ষাও চেয়েছেন।
গত সোমবার, ২৬ অক্টোবর মামলাটির শুনানি হওয়ার কথা ছিল, তবে তা পিছিয়ে আজ মঙ্গলবার নির্ধারণ করা হয়। আজকের শুনানিতে আদালত কী সিদ্ধান্ত দেন, তার ওপর নির্ভর করছে ইমরানের আইনি লড়াইয়ের পরবর্তী পরিস্থিতি। তবে, এই মুহূর্তে তাঁর আবেদন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত নয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন আবারও এফবিআইয়ের সাবেক পরিচালক জেমস কোমির বিরুদ্ধে ফৌজদারি অভিযোগ তুলেছে। জাতীয় প্রতিরক্ষাসংক্রান্ত তথ্য বেআইনিভাবে প্রকাশের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। কোমি, যিনি ট্রাম্পের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিত, তার বিরুদ্ধে এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন। তবে নতুন মামলায় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়নি। কোমি তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
সোমবার প্রকাশ্যে আসা আদালতের সিলমোহরযুক্ত নথিতে নতুন অভিযোগের বিষয়টি জানা যায়। গত অক্টোবর মাসে আদালতে জমা দেওয়া এক নথিতে কৌঁসুলিরা অভিযোগ করেন, সংবাদমাধ্যমে তথ্য ফাঁস করতে এফবিআইয়ের সহকর্মীদের নির্দেশ দিয়েছিলেন কোমি। আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, কোমি এক বা একাধিক সহযোগীর মাধ্যমে একজন ব্যক্তিকে একটি জাতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদকের কাছে জাতীয় প্রতিরক্ষাসংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছিলেন।
অনলাইন প্ল্যাটফর্ম সাবস্ট্যাকে প্রকাশিত এক ভিডিওতে কোমি নতুন অভিযোগের জবাব দিয়েছেন। তিনি ট্রাম্প প্রশাসনের এই উদ্যোগকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ বলে উল্লেখ করেছেন। কোমি বলেন, ‘তারা আবার ফিরে এসেছে। বিচার বিভাগের এমন ভয়াবহ অপব্যবহার না হলে বিষয়টি প্রায় হাস্যকর মনে হতো। কিন্তু এর সঙ্গে আমাদের কখনোই অভ্যস্ত হয়ে যাওয়া চলবে না।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমার কিছুই বদলায়নি। আমি এখনো নির্দোষ এবং এসব লোককে এখনো ভয় পাই না। আমি এখনো বিশ্বাস করি, ফেডারেল বিচারব্যবস্থা স্বাধীন।’ ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের এখনো অর্ধেক সময় বাকি রয়েছে উল্লেখ করে কোমি ইঙ্গিত দিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ আনা হতে পারে। তিনি বলেন, ‘আগামী কয়েক বছর আমাদের সবার জন্য কঠিন হবে। আমাদের দৃঢ় থাকতে হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আস্থা ধরে রাখতে হবে।’
নতুন অভিযোগের সূত্র ২০১৬ সালের ৫ অক্টোবর প্রকাশিত নিউইয়র্ক টাইমস-এর একটি প্রতিবেদন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইয়াহুর ইমেইল প্ল্যাটফর্মে একটি নির্দিষ্ট কম্পিউটার-সংকেতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তথ্য খুঁজতে ওই সাইটের তথ্যপ্রবাহ স্ক্যান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। ওই সংকেতের সঙ্গে একটি ‘সন্ত্রাসী’ সংগঠনের যোগসূত্র থাকার অভিযোগ ছিল। প্রতিবেদনের সাংবাদিক চার্লি স্যাভেজের কাছে স্পর্শকাতর তথ্য প্রকাশের নির্দেশ কোমি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন কৌঁসুলিরা।
কোমির আইনজীবী প্যাট ফিটজেরাল্ড সংবাদমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে নতুন অভিযোগকে দুর্বল বলে অভিহিত করেছেন। তার ভাষ্য, সরকার এর আগে একই ঘটনা দুবার তদন্ত করেছে। কিন্তু দুইবারই কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ না আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ফিটজেরাল্ড বলেন, এবারও কৌঁসুলিরা গ্র্যান্ড জুরির কাছে অভিযোগ উপস্থাপন করে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিলের চেষ্টা করেননি। এর বদলে তারা ‘ক্রিমিনাল ইনফরমেশন’ নামের একটি আইনি প্রক্রিয়ায় অভিযোগ আনার উদ্যোগ নিয়েছেন। এ পদ্ধতিতে গ্র্যান্ড জুরির অনুমোদন ছাড়াই কৌঁসুলিরা অভিযোগ দাখিল করতে পারেন।
আইনজীবী বলেন, ‘প্রতিবেদনটি প্রকাশের ১০ বছর পর সরকার কোমির বিরুদ্ধে একটি “ইনফরমেশন” দাখিল করেছে। এটি কোনো বিচারকের অনুমোদন পায়নি, গ্র্যান্ড জুরিও জারি করেনি। এতে এমন অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছে, যা কোমি করেননি।’ যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসির ফেডারেল আদালতের বিচারক ট্রেভর ম্যাকফ্যাডেন মামলাটি তদারক করছেন। তাকে বিচারক হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন ট্রাম্প।
ট্রাম্পের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বিরোধ
ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ২০১৭ সালে এফবিআইয়ের পরিচালকের পদ থেকে কোমিকে বরখাস্ত করেন তিনি। এর আগে ২০১৩ সাল থেকে এফবিআইয়ের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন কোমি। কোমিকে বরখাস্ত করার সময় এফবিআই ট্রাম্পের ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারশিবিরের সঙ্গে রাশিয়ার যোগসাজশ ছিল কি না, তা তদন্ত করছিল। ট্রাম্প বারবার ওই তদন্তকে ‘প্রতারণা’ বলে নিন্দা জানিয়েছেন।
২০২৫ সালে দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর ট্রাম্প প্রশাসন তার সমালোচকদের বিরুদ্ধে একাধিকবার ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। তাদের মধ্যে কোমিও রয়েছেন। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ট্রাম্প তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডিকে কোমি ও তার অন্য রাজনৈতিক প্রতিপক্ষদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলেছিলেন বলে অভিযোগ ওঠে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বন্ডিকে উদ্দেশ করে ট্রাম্প লিখেছিলেন, ‘কোমি, অ্যাডাম “শিফটি” শিফ, লেটিসিয়ার কী হলো? তারা সবাই ভয়াবহ অপরাধে দোষী, অথচ কিছুই করা হচ্ছে না।’ এখানে তিনি সাবেক এফবিআই পরিচালক কোমি, ডেমোক্রেটিক সিনেটর অ্যাডাম শিফ এবং নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমসের কথা উল্লেখ করেন। পোস্টে ট্রাম্প বন্ডিকে আর দেরি না করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি লেখেন, ‘এখনই ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।’
এর পাঁচ দিন পর, ২০২৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর কোমির বিরুদ্ধে কংগ্রেসে মিথ্যা বলা এবং আইনসভা-সংক্রান্ত কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়। তবে মামলার দায়িত্বে থাকা কৌঁসুলি লিন্ডসে হ্যালিগানকে বেআইনিভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল—এই যুক্তিতে পরে মামলাটি খারিজ হয়ে যায়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট ঘিরে দ্বিতীয় মামলা
এরপর ২৮ এপ্রিল কোমির বিরুদ্ধে দ্বিতীয় দফায় অভিযোগ আনে ট্রাম্প প্রশাসন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঝিনুকের খোলস দিয়ে ‘৮৬ ৪৭’ বার্তা সাজিয়ে একটি ছবি প্রকাশ করেছিলেন কোমি। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রেসিডেন্টকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয় তার বিরুদ্ধে। এখানে ‘৪৭’ বলতে যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে বোঝানো হয়েছে। আর ‘৮৬’ শব্দটি ইংরেজিতে ‘নাকচ করা’ বা ‘বাদ দেওয়া’ অর্থে ব্যবহৃত হয়। খাবার পরিবেশন খাতে কোনো খাবার বা গ্রাহককে সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ বোঝাতেও শব্দটি ব্যবহার করা হয়। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, ‘৮৬’ শব্দটি সহিংসতার ইঙ্গিত দেয়। দ্বিতীয় মামলাটি এখনো চলমান।
কোমির মেয়ের চাকরিচ্যুতি বেআইনি ঘোষণা
সোমবার কোমির বিরুদ্ধে তৃতীয় দফা অভিযোগের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার আগেই পৃথক একটি মামলায় তার মেয়ে মরিন কোমিকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত বেআইনি ঘোষণা করেন এক ফেডারেল বিচারক। মরিন কোমি সাবেক সহকারী মার্কিন অ্যাটর্নি। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে গত বছর তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। তিনি দাবি করে আসছেন, তার বাবার বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থানের কারণে তাকে প্রতিশোধমূলকভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। আদালত তাকে আগের পদে পুনর্বহাল এবং বকেয়া বেতন দেওয়ার অধিকারী বলে রায় দিয়েছেন।
জেমস কোমি তার বিরুদ্ধে আনা সব ফৌজদারি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। সর্বশেষ অভিযোগগুলো খারিজ করার জন্যও তার আইনজীবীরা আইনি পদক্ষেপ নিয়েছেন।
এএম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ