০৬:২৮ পি.এম
পাবনার ফরিদপুর উপজেলার পুঙ্গলি ইউনিয়ন পরিষদের পাশের পাকারাস্তা থেকে কবরস্থানের আধা কিলোমিটার রাস্তার কাজে অনিয়মের খবর উঠে এসেছে। পাবনার ফরিদপুর উপজেলার পুঙ্গলি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসক ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুজিত কুমার মুন্সির বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম ও চরম কর্তব্যে অবহেলার অভিযোগ এসেছে। স্থানীয় ইউনিয়নবাসীর মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধন, নাগরিক সনদসহ বিভিন্ন জরুরি সেবা পেতে সাধারণ মানুষ দিনের পর দিন ইউনিয়ন পরিষদে ঘুরলেও কোনো সমাধান পাচ্ছেন না। অভিযোগ রয়েছে যে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অধিকাংশ সময় নিজ কার্যালয়ে অনুপস্থিত থাকেন এবং স্থানীয়দের দুর্ভোগের বিষয়ে কোনো আলাদা গুরুত্ব দেন না।
স্থানীয়রা জোর দাবি জানিয়েছেন যে এই মৎস্য কর্মকর্তাকে সরিয়ে উপজেলা প্রশাসনের অন্য কোনো দক্ষ কর্মকর্তাকে এই ইউনিয়নের প্রশাসকের দায়িত্বে নিযুক্ত করা উচিত। এদিকে ভুক্তভোগী এলাকাবাসীরা পাবনা জেলা প্রশাসকের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামে অপহরণ ও ডাকাতির মামলায় পুলিশ কনস্টেবলসহ গ্রেপ্তার ৪, উদ্ধার ৩ মোটরসাইকেল
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, মৎস্য কর্মকর্তা সুজিত কুমার মুন্সি দায়িত্বে আসার পর থেকেই নাগরিক সেবা পাওয়া চরমভাবে ব্যাহত হয়েছে। তারা নানাভাবে নাজেহালের শিকার হচ্ছেন। সরজমিনে পুঙ্গলি ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে দেখা যায় ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে অবর্ণনীয় দুর্ভোগের চিত্র দেখা যাচ্ছে।
বিল চন্দন এলাকার শাহানাজ পারভীন নামের একজন নারী ওয়ারিশ সার্টিফিকেট নিতে গিয়ে মারাত্মক হয়রানির শিকার হয়েছেন। তিনি বলেন, ‘অনেক হয়রানির পর শেষ পর্যন্ত ২০০ টাকা দেওয়ার পর আমার কাজ করা হয়েছে।’ শাহাদাত হোসেন নামের আরেক স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে মন্তব্য করেন, ‘আগের প্রশাসক থাকাকালীন ছোটখাটো কাজের জন্য কোনো টাকা লাগত না। কিন্তু এখন ছোটখাটো কাজ করতে গেলে ১০০ থেকে ২০০ টাকা দিতে হয়। তাছাড়া জন্মনিবন্ধন ও ওয়ারিশ সার্টিফিকেট পেতে অতিরিক্ত টাকা দিতে হচ্ছে।’
পাছ পুঙ্গলি এলাকার বাদশা সরদার বলেন, ‘দিনের পর দিন বসে থেকেও একটা স্বাক্ষর পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। আজ সকালে এসে দুপুর পর্যন্ত বসে আছি, অথচ কোনো কাজ করে নিতে পারছি না।’ জাকিরুল ইসলাম নামের এক ভুক্তভোগী জানান, ‘এখানে এসে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। প্রশাসকের একটা স্বাক্ষর নিতে এক সপ্তাহ লেগে যায়। তিনি সপ্তাহে একদিনও ইউনিয়ন পরিষদে আসেন কিনা, আমরা তো কোনোদিন দেখতে পাই না।’
সরেজমিনে ইউনিয়ন পরিষদের ভিতরে গিয়ে দেখা যায় একটি অভিনব চিত্র। প্রশাসক সুজিত কুমার মুন্সীর মূল স্বাক্ষর ছাড়াই জন্মনিবন্ধন সার্টিফিকেট, ওয়ারিসনামা, চারিত্রিক সনদ, ট্রেড লাইসেন্সসহ যাবতীয় কাগজপত্রে কম্পিউটার থেকে স্ক্যানিং করা স্বাক্ষর বসিয়ে প্রিন্ট করা হচ্ছে। সেখানে দায়িত্বরত গ্রাম পুলিশরা ওই ডিজিটাল স্বাক্ষরের নিচে বর্তমান তারিখ বসিয়ে গ্রাহকদের হাতে তুলে দিচ্ছেন।
আরও পড়ুন: টেকনাফে বিজিবির পৃথক অভিযানে সাড়ে ৪ লাখ ইয়াবা উদ্ধার
যখন এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়, তখন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পরিষদের কর্মচারীরা জানান, প্রশাসক স্যার সপ্তাহে একদিন আসেন আবার নাও আসেন। নিয়মিত কার্যালয়ে না আসায় জনভোগান্তি এড়াতে বাধ্য হয়ে তারা এ পদ্ধতিতে কাজ করে দেন।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসীরা জানান, বর্তমান প্রশাসকের উদাসীনতার কারণে ইউনিয়নের সামগ্রিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষ সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অন্যদিকে, ইউনিয়ন পরিষদের চলমান উন্নয়ন কাজে ব্যাপক অনিয়ম ও কাজের নিম্নমান নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগের শেষ নেই। বিশেষ করে মাটি ভরাট ও ইটের রাস্তার 'কাবিটা-কাবিখা' প্রকল্পের কাজে ব্যাপক অসঙ্গতি দেখা গেছে। ইউনিয়ন পরিষদের পাশের আট পুঙ্গলী পাকারাস্তা থেকে কবরস্থানের আধা কিলোমিটার রাস্তার কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রকল্পের নিয়ম ভেঙে সেখানে শুধু বাঁশ দিয়ে দুর্বল পাইলিং করা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, বর্তমানে যে ধরনের কাজ করা হয়েছে, রাস্তাটি আগের অবস্থার চেয়ে অনেক ভালো ছিল। এছাড়া প্রকল্প অনুযায়ী বাইরে থেকে মাটি কিনে আনার নিয়ম থাকলেও স্থানীয় মানুষের জায়গা থেকে জোরপূর্বক মাটি কাটা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি এলাকার আরো একটি জলঢালাই রাস্তার কাজেও কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা করা হচ্ছে বলে জানান ভুক্তভোগীরা।
এসব অনিয়ম, কর্মস্থলে অনুপস্থিতি ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মৎস্য কর্মকর্তা ও পুঙ্গলি ইউনিয়ন প্রশাসক সুজিত কুমার মুন্সি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। তিনি বলেন, ‘এসব বিষয়ে তিনি বলেন কোন অভিযোগ থাকলে সেটা তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন আমার বিরুদ্ধে কেউ কোথায় অভিযোগ দিয়েছে আমি জানি না।
আরও পড়ুন: ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার’-আলফাডাঙ্গা সদর ইউনিয়নে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও আর্থিক সহায়তা প্রদান কামরুল ইসলাম দাউদের
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন