০২:৩৫ পি.এম
হোয়াইট হাউসের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা সাধারনত ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর অন্যতম বড় কূটনৈতিক লক্ষ্য হয়ে থাকে। কিন্তু দায়িত্ব নেওয়ার পর যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহ্যাম ভিন্ন এক বার্তা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, দেশের স্বার্থে প্রয়োজন হলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরোধিতা করতেও তিনি পিছপা হবেন না। তাহলে কি দুই মিত্র দেশের মধ্যে নতুন সমীকরণ তৈরি হচ্ছে?
দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম বড় সাক্ষাৎকারে বার্নহ্যাম পরিষ্কার করে বলেন, দেশের স্বার্থের প্রশ্নে তিনি আপস করতে রাজি নন। প্রয়োজনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি বা সিদ্ধান্তের প্রকাশ্যে বিরোধিতা করবেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ পেয়েছে।
বিবিসিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বার্নহ্যাম বলেন, ট্রাম্পের সঙ্গে তার প্রথম বৈঠক ইতিবাচক ছিল। তিনি মনে করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার কাছে আন্তরিক ছিলেন।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ: জেন-জি আন্দোলনের মডেল হিসেবে আন্তর্জাতিক যুব আন্দোলনে প্রভাব
তবে, ট্রাম্পের প্রতি তার ভরসা কতটা, এমন প্রশ্ন দুবার করা হলেও, তিনি সরাসরি উত্তর দেননি। বার্নহ্যাম বলেন, বিশ্ব দ্রুত বদলে যাচ্ছে। তাই প্রতিটি পরিস্থিতি সামনে আসলে তখনকার বাস্তবতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সাক্ষাৎকারে ইরান প্রসঙ্গে ট্রাম্পের নীতির কথাও এসেছে এবং বার্নহ্যাম জানান, ইরানকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতমুখী অবস্থান তাকে উদ্বেগে রেখেছে।
একই সঙ্গে নতুন প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, তিনি নিজের কাছে যা সঠিক মনে করবেন, তা বলতে কখনো দ্বিধা করবেন না। যখন দেশের স্বার্থের প্রয়োজন হবে, তখন ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করবেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তার উত্তর ছিল এক কথায়, 'অবশ্যই।'
বার্নহ্যাম আরও জানান, যেকোনো কিছুর আগে একজন প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিজের দেশের জাতীয় স্বার্থ রক্ষা করা। সেই দায়িত্ব পালন করতে তাকে ভিন্ন অবস্থান নিতে হতে পারে, সেটি তিনি করবেন। তিনি তার রাজনৈতিক দর্শনকেও উল্লেখ করেন, যেখানে সাধারণ মানুষের কাছে থাকা তার সবচেয়ে বড় শক্তি। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পরও তিনি সেই অভ্যাস পরিবর্তন করবেন না।
প্রতিরক্ষা ব্যয় নিয়েও তিনি সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। জিডিপির ৩ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয়ের বিষয়ে তিনি কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা দিতে রাজি হননি এবং বলেন, প্রথমে অর্থের জোগান নিশ্চিত করতে হবে। এরপর বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: জাতিসংঘে যুক্তরাষ্ট্র ও কিউবার মধ্যে তীব্র বাগবিতণ্ডা
এদিকে, বার্নহ্যাম ২০২৯ সালের আগে আগাম নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন। তার মতে, এ মুহূর্তে দেশের জনগণ আরেকটি নির্বাচন চান না। বরং সরকারের উচিত দেশের অর্থনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনাকে কাঙ্ক্ষিত অবস্থায় ফিরিয়ে আনার দিকে মনোযোগ দেওয়া।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন