ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বিশ্বকাপে নতুন ইতিহাস গড়ে বেলিংহামের রেকর্ড


বিশ্বকাপে নতুন ইতিহাস গড়ে বেলিংহামের রেকর্ড

দুই দলের মধ্যে মোট গোল হলো দশটি। ইংলিশ মিডফিল্ডার জুড বেলিংহামের পা থেকে এলো একটি গোল। যখন ফ্রান্সের প্রত্যাবর্তনের শেষ আশা জাগছিল, তখন শেষ মুহূর্তে ফ্রান্সের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন তিনি। এই গোলের মাধ্যমেই বেলিংহাম বিশ্বকাপে ইংলিশ ফুটবলারদের মধ্যে নতুন রেকর্ড গড়লেন।

ফ্রান্সের বিরুদ্ধে মাঠে নামার আগে বেলিংহামের গোল সংখ্যা ছিল ৬টি। ফ্রান্সের বিপক্ষে গোল করে বিশ্বকাপের এক আসরে ইংল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ড নিজের নামে করে নিলেন ২৩ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার। গ্যারি লিনেকার ও হ্যারি কেইনের ৬ গোলের রেকর্ড ভেঙে তিনি ৭ গোল করে এখন এককভাবে এই কীর্তির মালিক।

শনিবার (১৮ জুলাই) বাংলাদেশ সময় রাত ৩টায় মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ড ফ্রান্সকে ৬–৪ গোলে হারিয়েছে। বেলিংহাম দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে মাঠে নামেন।

আরও পড়ুন: ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন সময়সীমা ১ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়াল ইসি

ফ্রান্সের বিপক্ষে করা গোলটি ছিল চলতি বিশ্বকাপে বেলিংহামের সপ্তম গোল। এর মধ্য দিয়ে তিনি বিশ্বকাপের এক আসরে ইংল্যান্ডের কোন ফুটবলারের সর্বোচ্চ গোলের নতুন রেকর্ড স্থাপন করলেন। এতদিন এই কীর্তির মালিক ছিলেন ইংল্যান্ডের দুই কিংবদন্তি গ্যারি লিনেকার ও হ্যারি কেইন। ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপে লিনেকার করেছিলেন ৬ গোল। চলতি ২০২৬ বিশ্বকাপে ৬টি গোল করে সেই রেকর্ডে ভাগ বসান কেইন ও বেলিংহাম।

ফ্রান্সের বিপক্ষে শেষ ম্যাচে কোচ টমাস টুখেল কেইনকে মাঠে নামাননি। তাই তিনি আর গোলের দেখা পাননি। কিন্তু বেলিংহাম মাঠে নেমেই নতুন ইতিহাস গড়লেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চার মাস ধরে কার্যক্রমহীন দুর্নীতি দমন কমিশন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:৩০ এম


চার মাস ধরে কার্যক্রমহীন দুর্নীতি দমন কমিশন

দেশের একমাত্র দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কার্যত বর্তমানে অচল হয়ে গেছে। নতুন চেয়ারম্যান এবং কমিশনার নিয়োগ না হওয়ায় মামলা দায়ের এবং আদালতে চার্জশিট দাখিল, সম্পত্তি জব্দ, বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা, আসামি গ্রেপ্তারের মতো গুরুত্বপূর্ণ আইনি কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে।

কমিশনের বিকল্প হিসেবে দুদক সচিবের ক্ষমতা সাময়িকভাবে বাড়ানোর একটি প্রস্তাব সরকারকে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি। কমিশনের অনুমোদন না পাওয়ায় চার মাসে ৮ হাজারের বেশি অভিযোগের নথি বর্তমানে ফাইলবন্দি অবস্থায় রয়েছে।

৩ মার্চ, ২০২৪ তারিখে ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেনের নেতৃত্বাধীন কমিশনের সকল সদস্য পদত্যাগ করেছেন। চার মাসের বেশি হলেও নতুন চেয়ারম্যান এবং কমিশনার নিয়োগ দেওয়া হয়নি। তবে এর মধ্যেই সার্চ কমিটির আহ্বানে চেয়ারম্যান এবং কমিশনার পদে নিয়োগের জন্য ৩২৭ জন আগ্রহ প্রকাশ করে আবেদন করেছেন। সোমবার ছিল আবেদনপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময়।

দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০টি নতুন দুর্নীতির অভিযোগ কমিশনে জমা পড়ছে। কমিশন না থাকা কারণে নতুন কোনো অনুসন্ধানের কাজ চালানো সম্ভব হচ্ছে না। মামলা দায়ের এবং চার্জশিট অনুমোদনের কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে গেছে। তবে রুটিন কার্যক্রমগুলো চলমান রয়েছে।’

দুদক সূত্র জানিয়েছে, কমিশনের পদত্যাগের আগে যেসব অনুসন্ধান এবং তদন্ত শুরু করা হয়েছিল, সেগুলোর অনেকগুলো কাজ এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। বিভাগীয় পরিচালক এবং মহাপরিচালক পর্যায়ে ফাইল প্রস্তুত হলেও কমিশনের অনুমোদন না থাকা কারণে সেগুলো এগোচ্ছে না। ফলে ৮ হাজারের বেশি নথি এবং মামলাসংক্রান্ত বিভিন্ন ফাইল অনুমোদনের অপেক্ষায় ঝুলে আছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর আবদুল মোমেনকে দুদকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। কমিশনের অন্য দুই সদস্য ছিলেন সাবেক জেলা জজ মির্জা মুহাম্মদ আলী আকবর আজিজী এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহসান ফরিদ।

যদিও পাঁচ বছরের জন্য নিয়োগ পেয়ে থাকলেও তারা দায়িত্ব পালন করেছেন এক বছর দুই মাস। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘চার মাস দুদকের কমিশনারহীন অবস্থা দুর্নীতি প্রতিরোধে সরকারের উদাসীনতা এবং আগ্রহহীনতার পরিচায়ক। এটিই ক্ষমতাসীন দলের ৩১ দফা সংস্কার এজেন্ডা, নির্বাচনি ইশতেহার এবং জুলাই সনদের বিপরীতমুখী। যা বাস্তবে দুর্নীতির সহায়ক।’

তিনি আরও বলেন, ‘সরকার যে আস্থাহীনতার মুখোমুখি, সে নিয়ে বিলম্বে হলেও সার্চ কমিটি গঠিত হওয়ায় দেশের মানুষ আশা করে যে, দলীয় বিবেচনার ঊর্ধ্বে থেকে যোগ্য ব্যক্তিদের কমিশনে নিয়োগ দেওয়া হবে। যারা রাজনৈতিক ও আমলাতন্ত্রের প্রভাবমুক্ত থেকে সৎসাহস এবং দৃঢ়তার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।’

জানা গেছে, দুদক আইন, ২০০৪ অনুযায়ী কমিশনের অনুমোদন ছাড়া নতুন অনুসন্ধান, তদন্ত কিংবা গুরুত্বপূর্ণ আইনি সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই। যদিও আইনে কমিশনের পদত্যাগের ৩০ দিনের মধ্যে নতুন কমিশন গঠনের কথা বলা রয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা না হলে কী হবে, সে বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট বিধান নেই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের সংশোধিত ধারাগুলো বহাল থাকবে যতক্ষণ না সংসদ নতুন আইন করে সেগুলো পরিবর্তন বা বাতিল করবে। সরকার নতুন কমিশন গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। আইন অনুযায়ী চেয়ারম্যান এবং কমিশনার নিয়োগের আগে পাঁচ সদস্যের একটি সার্চ কমিটি গঠন করেছে।

২ জুন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ আপিল এবং হাই কোর্ট বিভাগের একজন করে বিচারক মনোনয়নের জন্য প্রধান বিচারপতির কাছে চিঠি পাঠায়। সার্চ কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করে। ২ জুলাই দুদকের চেয়ারম্যান এবং কমিশনার পদে নিয়োগের জন্য সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী যোগ্য এবং আগ্রহী ব্যক্তিদের কাছ থেকে জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) আহ্বান করে সার্চ কমিটি। আবেদনপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল সোমবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত।

দুদকের সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) মঈদুল ইসলাম বলেন, ‘কমিশন না থাকলে দুর্নীতিবাজদের সুবিধা বেশি। দীর্ঘসূত্রতার ফলে অনেক সময় মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামতও নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এতে তদন্ত দুর্বল হয়ে যায় এবং আসামিরা সুবিধা পান।'

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পরীক্ষাবিহীন ১৪৩ আউটসোর্সিং কর্মী নিয়োগে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:৩৮ এম


পরীক্ষাবিহীন ১৪৩ আউটসোর্সিং কর্মী নিয়োগে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ

কোনও প্রকারের পরীক্ষা ছাড়াই রাজশাহী আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে ১৪৩ জন আউটসোর্সিং কর্মী নিয়োগের ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। চাকরি নিতে প্রতিষ্ঠানটিকে জনপ্রতি ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি রাজশাহী আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ের অধীন বিভিন্ন পদে আউটসোর্সিং কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী কোনো লিখিত বা মৌখিক পরীক্ষা ছাড়াই প্রার্থী নির্বাচন বাস্তবায়িত হয়েছে। এতে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহির ব্যাপারে প্রশ্ন উঠেছে।

তথ্য অনুসারে, নিয়োগপ্রাপ্ত অধিকাংশ কর্মীই এর আগে নির্বাচন অফিসে দৈনিক মজুরি বা অস্থায়ী ভিত্তিতে কর্মরত ছিলেন। পরে ঘুষের বিনিময়ে তাদের পূর্বের কর্মস্থলে আউটসোর্সিং কর্মী হিসেবে নতুন চুক্তির আওতায় নিয়োগ দেওয়া হয়। এই নিয়োগের জন্য কোনো উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হয়নি। বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলসের ডিরেক্ট প্রকিউরমেন্ট মেথড (ডিপিএম) পদ্ধতিতে কাজ দেওয়া হয়েছে কেএসএফ ট্রেডার্স লিমিটেডকে।

সরকারি ক্রয়ব্যবস্থায় ডিপিএম আসলে একটি ব্যতিক্রমধর্মী পদ্ধতি। বিশেষ পরিস্থিতিতে কিংবা জরুরি প্রয়োজন হলেই সাধারণত এই পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়। কিন্তু এখানে ১৪৩ জন আউটসোর্সিং কর্মী নিয়োগে মূলত কী জরুরি পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, তা সংশ্লিষ্টদের কাছে ব্যাখ্যা করা হয়নি। পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। ফলে সাধারণ চাকরিপ্রত্যাশীরা আবেদন করার সুযোগই পাননি।

রুমা সিকিউরিটি সার্ভিসেস (প্রা.) লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি চলাকালে প্রাথমিকভাবে ৫ জন গাড়িচালক, ৬৯ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও ৪৩ জন নিরাপত্তাপ্রহরীসহ মোট ১১৭ জনকে নিয়োগ দেওয়ার সম্ভাবনা ছিল। পরে তালিকায় ২৬ জন নিরাপত্তাপ্রহরী যুক্ত হলে মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ১৪৩।

নথি অনুযায়ী, রাজশাহী নির্বাচন অফিসের অস্থায়ী কর্মীদের বেশিরভাগের চুক্তির মেয়াদ ছিল গত ৩০ জুন পর্যন্ত। এর আগে ১৪ জুন নির্বাচন কমিশন সচিবালয় একটি নির্দেশনা প্রেরণ করে। সেখানে বলা হয়, চলমান চুক্তির মেয়াদ শেষে নতুন করে সেবা নিতে হবে। সেক্ষেত্রে আউটসোর্সিং নীতিমালা ২০২৫, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন ২০০৬ এবং প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০২৫ অনুসরণ করে কাজ করা হবে। নির্দেশনার পর ডিপিএম পদ্ধতিতে কেএসএফ ট্রেডার্স লিমিটেডকে কাজ দেওয়া হয়।

তবে চাকরি পাওয়া ব্যক্তিদের অভিযোগ, চাকরি স্থায়ী থাকবে এবং ভবিষ্যতে বাদ দেওয়া হবে না-এমন আশ্বাসে জনপ্রতি ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণ করা হয়। যদি জনপ্রতি গড়ে ৭৫ হাজার টাকা হিসাব করা যায়, তাহলে ১৪৩ জনের কাছ থেকে নেওয়া টাকার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১ কোটি ৭ লাখ ২৫ হাজার টাকা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নিয়োগের জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন কেএসএফের নিয়োগ বাণিজ্যের কথা। একজন জানিয়েছেন, 'চাকরি স্থায়ী থাকবে এবং ভবিষ্যতে বাদ দেওয়া হবে না-এমন আশ্বাসে আমাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে। রাজশাহীর আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানালে তিনি উলটো কোপানির লোকজনের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। পরে বাধ্য হয়ে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা দিয়ে চাকরি নিতে হয়েছে।'

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আর এক কর্মী জানিয়েছেন, 'পুরো সিস্টেম ছিল সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে। নির্বাচন কর্মকর্তারা সরাসরি টাকা না নিলেও কোম্পানির সঙ্গে তাদের যোগসাজশ ছিল বলেই আমাদের ধারণা। কারণ যারা টাকা দেয়নি, তাদের অনেকের চাকরি হয়নি।'

১৪৩ জন আাউটসোর্সিং তালিকাভুক্ত চাকরিপ্রত্যাশীদের গত ৬ জুলাই নিয়োগপত্র নিতে ডাকা হয়েছিল কেএসএফ ট্রেডার্স লিমিটেডের শ্যামলী কার্যালয়ে। সেখানে গেলে নিয়োগপত্রের বিনিময়ে ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা চাওয়া হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে চাকরিপ্রত্যাশীরা অফিসের সামনে সড়ক অবরোধ করেন। একপর্যায়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

রাজশাহী আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা আনিছুর রহমানের দাবি, নিয়োগের ক্ষেত্রে লেনদেনের বিষয়ে তিনি অবগতি রাখেননি। নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'সরকারি ক্রয় ব্যবস্থায় ডিপিএম একটি ব্যতিক্রমধর্মী পদ্ধতি। সাধারণত বিশেষ পরিস্থিতি, জরুরি প্রয়োজন কিংবা আইনে নির্ধারিত শর্ত পূরণ হলে এ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। আমরাও সেটিই করেছি। জনবল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কেএসএফ ট্রেডার্স লিমিটেড আমাদের তিনটি অঞ্চলে কাজ করছে। সবকিছু বিবেচনা করে তাদের কাজ দেওয়া হয়েছে।'

এ বিষয়ে কেএসএফ ট্রেডার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শামীম হোসেন বলেছেন, 'আমাদের প্রতিষ্ঠানের আগের টেন্ডারের মেয়াদ গত ৩০ জুন শেষ হয়েছে। পুনরায় ই-টেন্ডার প্রক্রিয়ায় গেলে নিয়োগ সম্পন্ন করতে দুই থেকে তিন মাস সময় লাগতো। এতে নির্বাচন অফিসের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ার আশঙ্কা ছিল এবং কর্মরত শ্রমিকদের কয়েক মাস বেতনহীন থাকার সম্ভাবনা ছিল। তাই অফিসের গতিশীলতা বজায় রাখার জন্য এবং শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনে সরাসরি নিয়োগ পদ্ধতি অনুসরণ করে বিদ্যমান কর্মীদের বহাল রাখা হয়েছে। এখানে আমাদের হাতে কিছু নেই। নির্বাচন কমিশন জনবল চেয়েছে, আমরা দিয়েছি।'

ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে মো. শামীম হোসেন বলেছেন, 'নিয়োগপ্রাপ্তদের তালিকা আমরা তৈরি করিনি। রাজশাহী আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা আনিসুর রহমান স্যার ৩০ জুন আমাদের একটি তালিকা দিয়েছেন। সেই অনুযায়ী চুক্তি হয়েছে। যেহেতু কোনও নতুন লোক নিয়োগ দেওয়া হয়নি এবং পুরনো কর্মীরাই তাদের পদে বহাল আছেন, তাই টাকা নেওয়ার সুযোগ বা কারণ নেই। তবে প্রতিষ্ঠানের অগোচরে ব্যক্তিগতভাবে কেউ টাকা নিয়ে থাকলে তার দায় প্রতিষ্ঠানের নয়।'

ঢাকায় শ্যামলীতে কেএসএফের কার্যালয়ের সামনে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভের বিষয়ে শামীম হোসেন বলেন, 'একদিনে সব নিয়োগপত্র দেওয়া সম্ভব ছিল না। কিছু প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগ থাকার কারণে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। এছাড়া রাজশাহীর স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতা তাদের পছন্দের ২০-৩০ জনকে ওই তালিকায় ঢোকানোর জন্য অনৈতিক চাপ দিচ্ছিলেন। তবে নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত তালিকার বাইরে নতুন কাউকে নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ না থাকার কারণে হট্টগোল সৃষ্টি হয়েছে।'

নিয়োগে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা না থাকার বিষয়টা, ডিপিএম পদ্ধতি ব্যবহারের যৌক্তিকতা এবং ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগের তদন্ত হওয়া উচিত বলেও মনে করেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, 'এটি ইতিবাচকভাবে দেখার সুযোগ নেই। যেহেতু দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। কারণ, নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক ও স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। তাই এই প্রতিষ্ঠানে কোনও ধরনের অনিয়ম হলে দোষীদের অবশ্যই আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আজকের বাজারে স্বর্ণ ও রুপার বিক্রিমূল্য কত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:৫৩ এম


আজকের বাজারে স্বর্ণ ও রুপার বিক্রিমূল্য কত

সবশেষ সমন্বয়ের মাধ্যমে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আবারও কমানো হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের অনুসরণে, আজ রোববার (১৯ জুলাই) দেশের বাজারে স্বর্ণের নতুন দাম অনুযায়ী মূল্যবান এই ধাতুর বিক্রি হচ্ছে।

শেষ সমন্বয়ের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) স্বর্ণের দাম কমানোর তথ্য জানিয়েছে। সেদিন উল্লেখযোগ্যভাবে ভরিতে স্বর্ণের দাম ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য কমে যাওয়ার ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ১০ টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম এখন ২ লাখ ১৯ হাজার ৮০৮ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৯ হাজার ৮৯৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮০ হাজার ২৬৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩১৬ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।

বাজুস জানিয়েছে, যতক্ষণ না পরবর্তী কোনো সিদ্ধান্ত আসে, সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দাম কার্যকর থাকবে। তবে অলঙ্কারের ডিজাইন অনু্যায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে। স্বর্ণালঙ্কার এবং রৌপলঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায়, গ্রাহকদের কাছে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। এছাড়া সুনির্দিষ্ট ভ্যাট, মজুরি ও পাথর বাদ দিয়ে অলঙ্কার এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে বাজুসের পূর্বের নিয়ম বহাল থাকবে।

এদিকে, চলতি বছরে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম মোট ৯১ বার সমন্বয় করা হয়েছে। যার মধ্যে ৪৪ দফা দাম বাড়ানো এবং ৪৬ দফা দাম কমানো হয়েছে। গত ২০২৫ সালে স্বর্ণের দাম ৯৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর ২৯ বার কমানো হয়েছিল।

স্বর্ণের দাম কমানোর পরও দেশের বাজারে রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৬০৭ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৭৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ২ হাজার ৮৫৮ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।

এই বছরের এখনও পর্যন্ত দেশের বাজারে রুপার দাম ৫৬ দফা সমন্বয় করা হয়েছে, এর মধ্যে দাম ২৮ দফা বাড়ানো এবং বাকি ২৮ দফা কমানো হয়েছে। ২০২৫ সালে রুপার দাম মোট ১৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল; যার মধ্যে বেড়েছিল ১০ বার এবং কমেছিল মাত্র ৩ বার।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্থগিত করল তেহরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:৫৪ এম


যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্থগিত করল তেহরান

যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক সমঝোতার সব শর্ত ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করার অভিযোগ তুলে ইরান ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ স্থগিত রাখার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি উল্লেখ করেছেন, ওয়াশিংটনের ধারাবাহিক সামরিক হামলার ফলেই তেহরান এই সমঝোতার প্রতি নিজের সমস্ত দায়বদ্ধতা ও প্রতিশ্রুতি স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে।

ইরানের সংবাদমাধ্যম ফার্সের প্রতিবেদনে আল জাজিরার এক খবরে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি বলেছেন, ‘ইসলামাবাদ সমঝোতার আওতায় দেয়ার জন্য নিজেদের সব প্রতিশ্রুতি ও আন্তর্জাতিক নিয়ম লঙ্ঘন করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তারা কার্যত এই সমঝোতাটিকে আগেই স্থগিত করে দিয়েছিল।’

তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা ও যুদ্ধংদেহী আচরণের জবাবে এখন থেকে ইরান নিজেদের সমস্ত প্রতিশ্রুতি ও সমঝোতা বাস্তবায়ন পুরোপুরি স্থগিত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের কারণে সমঝোতার মূল কাঠামো আর কার্যকর নেই বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। তেহরান এখন আর ওই সমঝোতার কোনো ধারা বাস্তবায়ন করবে না এবং দেশ এখন সম্পূর্ণভাবে নিজেদের প্রতিরক্ষায় নিয়োজিত রয়েছে।

এর আগে, বিভিন্ন সময়ে ইরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা বারবার যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইসলামাবাদ সমঝোতা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছিলেন। তবে এটি প্রথমবারের মতো ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ও আন্তর্জাতিকভাবে জানানো হলো যে এই দ্বিপক্ষীয় সমঝোতাটি আর কার্যকর নেই এবং সব ধরনের প্রতিশ্রুতি স্থগিত করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%