ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

পরীক্ষাবিহীন ১৪৩ আউটসোর্সিং কর্মী নিয়োগে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ


পরীক্ষাবিহীন ১৪৩ আউটসোর্সিং কর্মী নিয়োগে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ

কোনও প্রকারের পরীক্ষা ছাড়াই রাজশাহী আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে ১৪৩ জন আউটসোর্সিং কর্মী নিয়োগের ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। চাকরি নিতে প্রতিষ্ঠানটিকে জনপ্রতি ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি রাজশাহী আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ের অধীন বিভিন্ন পদে আউটসোর্সিং কর্মী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী কোনো লিখিত বা মৌখিক পরীক্ষা ছাড়াই প্রার্থী নির্বাচন বাস্তবায়িত হয়েছে। এতে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহির ব্যাপারে প্রশ্ন উঠেছে।

তথ্য অনুসারে, নিয়োগপ্রাপ্ত অধিকাংশ কর্মীই এর আগে নির্বাচন অফিসে দৈনিক মজুরি বা অস্থায়ী ভিত্তিতে কর্মরত ছিলেন। পরে ঘুষের বিনিময়ে তাদের পূর্বের কর্মস্থলে আউটসোর্সিং কর্মী হিসেবে নতুন চুক্তির আওতায় নিয়োগ দেওয়া হয়। এই নিয়োগের জন্য কোনো উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হয়নি। বাংলাদেশ পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলসের ডিরেক্ট প্রকিউরমেন্ট মেথড (ডিপিএম) পদ্ধতিতে কাজ দেওয়া হয়েছে কেএসএফ ট্রেডার্স লিমিটেডকে।

আরও পড়ুন: গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই: জুনায়েদ

সরকারি ক্রয়ব্যবস্থায় ডিপিএম আসলে একটি ব্যতিক্রমধর্মী পদ্ধতি। বিশেষ পরিস্থিতিতে কিংবা জরুরি প্রয়োজন হলেই সাধারণত এই পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়। কিন্তু এখানে ১৪৩ জন আউটসোর্সিং কর্মী নিয়োগে মূলত কী জরুরি পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, তা সংশ্লিষ্টদের কাছে ব্যাখ্যা করা হয়নি। পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোনো বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। ফলে সাধারণ চাকরিপ্রত্যাশীরা আবেদন করার সুযোগই পাননি।

রুমা সিকিউরিটি সার্ভিসেস (প্রা.) লিমিটেডের সঙ্গে চুক্তি চলাকালে প্রাথমিকভাবে ৫ জন গাড়িচালক, ৬৯ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও ৪৩ জন নিরাপত্তাপ্রহরীসহ মোট ১১৭ জনকে নিয়োগ দেওয়ার সম্ভাবনা ছিল। পরে তালিকায় ২৬ জন নিরাপত্তাপ্রহরী যুক্ত হলে মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ১৪৩।

নথি অনুযায়ী, রাজশাহী নির্বাচন অফিসের অস্থায়ী কর্মীদের বেশিরভাগের চুক্তির মেয়াদ ছিল গত ৩০ জুন পর্যন্ত। এর আগে ১৪ জুন নির্বাচন কমিশন সচিবালয় একটি নির্দেশনা প্রেরণ করে। সেখানে বলা হয়, চলমান চুক্তির মেয়াদ শেষে নতুন করে সেবা নিতে হবে। সেক্ষেত্রে আউটসোর্সিং নীতিমালা ২০২৫, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন ২০০৬ এবং প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০২৫ অনুসরণ করে কাজ করা হবে। নির্দেশনার পর ডিপিএম পদ্ধতিতে কেএসএফ ট্রেডার্স লিমিটেডকে কাজ দেওয়া হয়।

তবে চাকরি পাওয়া ব্যক্তিদের অভিযোগ, চাকরি স্থায়ী থাকবে এবং ভবিষ্যতে বাদ দেওয়া হবে না-এমন আশ্বাসে জনপ্রতি ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা ঘুষ গ্রহণ করা হয়। যদি জনপ্রতি গড়ে ৭৫ হাজার টাকা হিসাব করা যায়, তাহলে ১৪৩ জনের কাছ থেকে নেওয়া টাকার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১ কোটি ৭ লাখ ২৫ হাজার টাকা।

আরও পড়ুন: বিয়ের ১৫ দিনের মাথায় সড়কে প্রাণ গেল ইতালি প্রবাসী তানভীরের

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নিয়োগের জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন কেএসএফের নিয়োগ বাণিজ্যের কথা। একজন জানিয়েছেন, 'চাকরি স্থায়ী থাকবে এবং ভবিষ্যতে বাদ দেওয়া হবে না-এমন আশ্বাসে আমাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে। রাজশাহীর আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানালে তিনি উলটো কোপানির লোকজনের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। পরে বাধ্য হয়ে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা দিয়ে চাকরি নিতে হয়েছে।'

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আর এক কর্মী জানিয়েছেন, 'পুরো সিস্টেম ছিল সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে। নির্বাচন কর্মকর্তারা সরাসরি টাকা না নিলেও কোম্পানির সঙ্গে তাদের যোগসাজশ ছিল বলেই আমাদের ধারণা। কারণ যারা টাকা দেয়নি, তাদের অনেকের চাকরি হয়নি।'

১৪৩ জন আাউটসোর্সিং তালিকাভুক্ত চাকরিপ্রত্যাশীদের গত ৬ জুলাই নিয়োগপত্র নিতে ডাকা হয়েছিল কেএসএফ ট্রেডার্স লিমিটেডের শ্যামলী কার্যালয়ে। সেখানে গেলে নিয়োগপত্রের বিনিময়ে ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা চাওয়া হয়। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে চাকরিপ্রত্যাশীরা অফিসের সামনে সড়ক অবরোধ করেন। একপর্যায়ে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

রাজশাহী আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা আনিছুর রহমানের দাবি, নিয়োগের ক্ষেত্রে লেনদেনের বিষয়ে তিনি অবগতি রাখেননি। নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'সরকারি ক্রয় ব্যবস্থায় ডিপিএম একটি ব্যতিক্রমধর্মী পদ্ধতি। সাধারণত বিশেষ পরিস্থিতি, জরুরি প্রয়োজন কিংবা আইনে নির্ধারিত শর্ত পূরণ হলে এ পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। আমরাও সেটিই করেছি। জনবল সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কেএসএফ ট্রেডার্স লিমিটেড আমাদের তিনটি অঞ্চলে কাজ করছে। সবকিছু বিবেচনা করে তাদের কাজ দেওয়া হয়েছে।'

আরও পড়ুন: হাসিনার পতনের আগে ইউনূসকে দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান করেন শফিকুল আলম

এ বিষয়ে কেএসএফ ট্রেডার্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শামীম হোসেন বলেছেন, 'আমাদের প্রতিষ্ঠানের আগের টেন্ডারের মেয়াদ গত ৩০ জুন শেষ হয়েছে। পুনরায় ই-টেন্ডার প্রক্রিয়ায় গেলে নিয়োগ সম্পন্ন করতে দুই থেকে তিন মাস সময় লাগতো। এতে নির্বাচন অফিসের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়ার আশঙ্কা ছিল এবং কর্মরত শ্রমিকদের কয়েক মাস বেতনহীন থাকার সম্ভাবনা ছিল। তাই অফিসের গতিশীলতা বজায় রাখার জন্য এবং শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনে সরাসরি নিয়োগ পদ্ধতি অনুসরণ করে বিদ্যমান কর্মীদের বহাল রাখা হয়েছে। এখানে আমাদের হাতে কিছু নেই। নির্বাচন কমিশন জনবল চেয়েছে, আমরা দিয়েছি।'

ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে মো. শামীম হোসেন বলেছেন, 'নিয়োগপ্রাপ্তদের তালিকা আমরা তৈরি করিনি। রাজশাহী আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা আনিসুর রহমান স্যার ৩০ জুন আমাদের একটি তালিকা দিয়েছেন। সেই অনুযায়ী চুক্তি হয়েছে। যেহেতু কোনও নতুন লোক নিয়োগ দেওয়া হয়নি এবং পুরনো কর্মীরাই তাদের পদে বহাল আছেন, তাই টাকা নেওয়ার সুযোগ বা কারণ নেই। তবে প্রতিষ্ঠানের অগোচরে ব্যক্তিগতভাবে কেউ টাকা নিয়ে থাকলে তার দায় প্রতিষ্ঠানের নয়।'

ঢাকায় শ্যামলীতে কেএসএফের কার্যালয়ের সামনে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভের বিষয়ে শামীম হোসেন বলেন, 'একদিনে সব নিয়োগপত্র দেওয়া সম্ভব ছিল না। কিছু প্রার্থীর বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট অভিযোগ থাকার কারণে জটিলতা তৈরি হয়েছিল। এছাড়া রাজশাহীর স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতা তাদের পছন্দের ২০-৩০ জনকে ওই তালিকায় ঢোকানোর জন্য অনৈতিক চাপ দিচ্ছিলেন। তবে নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত তালিকার বাইরে নতুন কাউকে নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ না থাকার কারণে হট্টগোল সৃষ্টি হয়েছে।'

নিয়োগে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা না থাকার বিষয়টা, ডিপিএম পদ্ধতি ব্যবহারের যৌক্তিকতা এবং ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগের তদন্ত হওয়া উচিত বলেও মনে করেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, 'এটি ইতিবাচকভাবে দেখার সুযোগ নেই। যেহেতু দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। কারণ, নির্বাচন কমিশন একটি সাংবিধানিক ও স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। তাই এই প্রতিষ্ঠানে কোনও ধরনের অনিয়ম হলে দোষীদের অবশ্যই আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

আরও পড়ুন: ভোটার এলাকা পরিবর্তনের আবেদন সময়সীমা ১ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়াল ইসি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আজকের বাজারে স্বর্ণ ও রুপার বিক্রিমূল্য কত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ১৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:৫৩ এম


আজকের বাজারে স্বর্ণ ও রুপার বিক্রিমূল্য কত

সবশেষ সমন্বয়ের মাধ্যমে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আবারও কমানো হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের অনুসরণে, আজ রোববার (১৯ জুলাই) দেশের বাজারে স্বর্ণের নতুন দাম অনুযায়ী মূল্যবান এই ধাতুর বিক্রি হচ্ছে।

শেষ সমন্বয়ের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকালে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) স্বর্ণের দাম কমানোর তথ্য জানিয়েছে। সেদিন উল্লেখযোগ্যভাবে ভরিতে স্বর্ণের দাম ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য কমে যাওয়ার ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ১০ টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম এখন ২ লাখ ১৯ হাজার ৮০৮ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৯ হাজার ৮৯৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮০ হাজার ২৬৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩১৬ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।

বাজুস জানিয়েছে, যতক্ষণ না পরবর্তী কোনো সিদ্ধান্ত আসে, সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দাম কার্যকর থাকবে। তবে অলঙ্কারের ডিজাইন অনু্যায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে। স্বর্ণালঙ্কার এবং রৌপলঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায়, গ্রাহকদের কাছে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। এছাড়া সুনির্দিষ্ট ভ্যাট, মজুরি ও পাথর বাদ দিয়ে অলঙ্কার এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে বাজুসের পূর্বের নিয়ম বহাল থাকবে।

এদিকে, চলতি বছরে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম মোট ৯১ বার সমন্বয় করা হয়েছে। যার মধ্যে ৪৪ দফা দাম বাড়ানো এবং ৪৬ দফা দাম কমানো হয়েছে। গত ২০২৫ সালে স্বর্ণের দাম ৯৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর ২৯ বার কমানো হয়েছিল।

স্বর্ণের দাম কমানোর পরও দেশের বাজারে রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৬০৭ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৭৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ২ হাজার ৮৫৮ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।

এই বছরের এখনও পর্যন্ত দেশের বাজারে রুপার দাম ৫৬ দফা সমন্বয় করা হয়েছে, এর মধ্যে দাম ২৮ দফা বাড়ানো এবং বাকি ২৮ দফা কমানো হয়েছে। ২০২৫ সালে রুপার দাম মোট ১৩ বার সমন্বয় করা হয়েছিল; যার মধ্যে বেড়েছিল ১০ বার এবং কমেছিল মাত্র ৩ বার।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্থগিত করল তেহরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:৫৪ এম


যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্থগিত করল তেহরান

যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক সমঝোতার সব শর্ত ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করার অভিযোগ তুলে ইরান ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক’ স্থগিত রাখার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি উল্লেখ করেছেন, ওয়াশিংটনের ধারাবাহিক সামরিক হামলার ফলেই তেহরান এই সমঝোতার প্রতি নিজের সমস্ত দায়বদ্ধতা ও প্রতিশ্রুতি স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছে।

ইরানের সংবাদমাধ্যম ফার্সের প্রতিবেদনে আল জাজিরার এক খবরে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদি বলেছেন, ‘ইসলামাবাদ সমঝোতার আওতায় দেয়ার জন্য নিজেদের সব প্রতিশ্রুতি ও আন্তর্জাতিক নিয়ম লঙ্ঘন করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তারা কার্যত এই সমঝোতাটিকে আগেই স্থগিত করে দিয়েছিল।’

তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা ও যুদ্ধংদেহী আচরণের জবাবে এখন থেকে ইরান নিজেদের সমস্ত প্রতিশ্রুতি ও সমঝোতা বাস্তবায়ন পুরোপুরি স্থগিত করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডের কারণে সমঝোতার মূল কাঠামো আর কার্যকর নেই বলে তিনি উল্লেখ করেছেন। তেহরান এখন আর ওই সমঝোতার কোনো ধারা বাস্তবায়ন করবে না এবং দেশ এখন সম্পূর্ণভাবে নিজেদের প্রতিরক্ষায় নিয়োজিত রয়েছে।

এর আগে, বিভিন্ন সময়ে ইরানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা বারবার যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইসলামাবাদ সমঝোতা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছিলেন। তবে এটি প্রথমবারের মতো ইরানের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ও আন্তর্জাতিকভাবে জানানো হলো যে এই দ্বিপক্ষীয় সমঝোতাটি আর কার্যকর নেই এবং সব ধরনের প্রতিশ্রুতি স্থগিত করা হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পদত্যাগে সম্মতি জানালেন হাঙ্গেরির রাষ্ট্রপতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ১৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৮:৫৯ এম


পদত্যাগে সম্মতি জানালেন হাঙ্গেরির রাষ্ট্রপতি

হাঙ্গেরির প্রেসিডেন্ট তামাস সুলিওক পার্লামেন্টে পাস হওয়া সাংবিধানিক সংশোধনীতে স্বাক্ষর করে পদত্যাগে সম্মতি দিয়েছেন। এর ফলস্বরূপ, রোববার মধ্যরাত থেকে তার প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হবে।

প্রধানমন্ত্রী পেতের মাগইয়ার নেতৃত্বাধীন তিসা পার্টি দ্রুত এই সাংবিধানিক সংশোধনী পার্লামেন্টে পাস করে। দলটির দাবির ভিত্তিতে বলা হয়েছে যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত সুলিওক প্রেসিডেন্ট পদে থেকে পূর্ববর্তী সরকারের প্রভাব বজায় রাখছিলেন। গত এপ্রিলে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ১৬ বছর ক্ষমতায় থাকার পর অরবানের সরকার পরাজিত হয়।

সংবিধান অনুযায়ী, সংশোধনীতে স্বাক্ষরের জন্য সুলিওকের হাতে পাঁচ দিন সময় ছিল। নির্ধারিত সময়সীমা শেষ হওয়ার আগে তিনি শনিবার সন্ধ্যায় সংশোধনীতে স্বাক্ষর করেন। তবে এক বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করেন যে, বর্তমান সরকার আইনের শাসন লঙ্ঘন করেছে।

সুলিওক বলেন, এই সংশোধনী হাঙ্গেরির সাংবিধানিক গণতন্ত্রের জন্য একটি 'টার্নিং পয়েন্ট' এবং রাজনৈতিক ক্ষমতার স্বার্থে একটি মুক্ত সমাজের মৌলিক মূল্যবোধ পদদলিত হয়েছে।

ক্ষমতায় আসার পর থেকেই তিসা সরকার সুলিওকের পদত্যাগ দাবি করে আসছিল। নতুন সরকার ইতোমধ্যে সংবিধানে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে এবং রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে।

অন্যদিকে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ভিক্টর অরবান এই সাংবিধানিক সংশোধনীকে "স্বৈরাচারী পদক্ষেপ" হিসেবে উল্লেখ করে এর বিরুদ্ধে জনসাধারণকে প্রতিবাদের আহ্বান জানান।

এপ্রিলের নির্বাচনে বড় পরাজয়ের পর অরবানের দল ফিদেস রাজনৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। অরবান নিজেও দীর্ঘদিন জনসমক্ষে খুব কম দেখা দিয়েছেন এবং পার্লামেন্টে নিজের আসনও গ্রহণ করেননি।

২০১০ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকা ফিদেস সরকার রাষ্ট্রের বিভিন্ন সাংবিধানিক ও স্বাধীন প্রতিষ্ঠান নিজেদের অনুগত ব্যক্তিদের মাধ্যমে পরিচালিত করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সোমবার পার্লামেন্টে সাংবিধানিক সংশোধনী পাস হওয়ার পর তিসা পার্টির ১৪১ জন সংসদ সদস্য দাঁড়িয়ে করতালির মাধ্যমে সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান।

এদিকে, হাঙ্গেরির সাবেক সুপ্রিম কোর্টের প্রধান আন্দ্রাস বাকা বিবিসিকে বলেন, প্রেসিডেন্টকে অপসারণের সিদ্ধান্তের সঙ্গে তিনি একমত। তার ভাষায়, ১৯৮৯ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত হাঙ্গেরিতে আইনের শাসন কার্যকর ছিল। তবে এরপর ফিদেস ধীরে ধীরে রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে একটি কর্তৃত্ববাদী ব্যবস্থা গড়ে তোলে।

বাকা আরও বলেন, নির্বাচনে পরাজয়ের পরও টিকে থাকার জন্য যে সুসংগঠিত কর্তৃত্ববাদী কাঠামো তৈরি করা হয়েছিল, সেটি ভেঙে ফেলা এখন অত্যন্ত কঠিন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাপলেজায় ত্রাণের চাল চুরির ঘটনায় তোলপাড়: বিএনপি নেতা নাসির ও হাবিবের নাম আসতেই মুখ বন্ধ করলেন দোকানদার!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

​নিজস্ব প্রতিবেদক বরিশাল

রবিবার, ১৯ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:০১ এম


সাপলেজায় ত্রাণের চাল চুরির ঘটনায় তোলপাড়: বিএনপি নেতা নাসির ও হাবিবের নাম আসতেই মুখ বন্ধ করলেন দোকানদার!

পিরোজপুরের মঠবাড়ীয়া উপজেলার ১১ নম্বর সাপলেজা ইউনিয়নে অতিবর্ষণ ও জলোচ্ছ্বাসে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় মানুষের জন্য আসা প্রধানমন্ত্রীর উপহারের চাল চুরির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ইউনিয়ন পরিষদ থেকে বিতরণের সময় ৬ বস্তা চাল পাচার করে স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর দোকানে লুকিয়ে রাখার ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এই চাল চুরির ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাসির খান, সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান আকন এবং ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান মাহবুব আলমের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গোয়েন্দা সংস্থার তৎপরতায় চাল জব্দ করা হলেও প্রধান অভিযুক্তদের ভূমিকা নিয়ে পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

সরকারি ত্রাণ বিতরণ ও চাল গায়েবের নেপথ্যে

স্থানীয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণ ও জলোচ্ছ্বাসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার ৫০০ জন দুস্থ ও প্রকৃত সুবিধাভোগীদের মাঝে পরিবার প্রতি ১০ কেজি করে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের চাল বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সাপলেজা ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বরত প্রশাসক ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) শফিকুল ইসলাম নিজে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে উপস্থিত থেকে এই চাল বিতরণ কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন করেন।

তবে চাল বিতরণ প্রক্রিয়া চলাকালীন বা তার পরপরই একটি চক্র অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত ত্রাণের ৬ বস্তা চাল কালোবাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে কৌশলে সরিয়ে ফেলে। স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও নির্ভরযোগ্য সূত্র নিশ্চিত করেছে—বিএনপি নেতা নাসির খান, হাবিবুর রহমান আকন এবং প্যানেল চেয়ারম্যান মাহবুব আলম মিলে সরকারি এই ত্রাণের চাল পাচার করেন। পরে তা সাপলেজা বাজারের ব্যবসায়ী খলিলের দোকানে এনে গোপনে মজুত করে রাখা হয়।

গোয়েন্দা অভিযান ও চাল জব্দ

প্রধানমন্ত্রীর উপহারের চাল পাচার ও চুরির গোপন সংবাদ পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) স্থানীয় কর্মকর্তা মামুন। তিনি সাপলেজা বাজারের খলিলের দোকানে অভিযান চালিয়ে অবৈধভাবে মজুত করা সরকারি চালের বস্তাগুলো হাতেনাতে আটক ও জব্দ করেন।

অভিযানের বিষয়ে ডিজিএফআই কর্মকর্তা মামুন তালাশ বিডিকে জানান, "আমরা নির্ভরযোগ্য গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাপলেজা বাজারের খলিলের দোকানে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে সরকারি ত্রাণের ৬ বস্তা চাল আটক করি। তবে দোকানদার খলিল আমাদের কাছে দাবি করেছেন, বৃষ্টির কারণে ভিজে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে চালগুলো সাময়িকভাবে তার দোকানে এনে রাখা হয়েছিল। তবে দোকানদারের এই বক্তব্যের পেছনে অন্য কোনো রহস্য রয়েছে কি না, কিংবা কোনো প্রভাবশালী মহলের ভয়ভীতি ও চাপের মুখে তিনি এই কথা বলছেন কি না—তা আমরা গভীরভাবে খতিয়ে দেখছি।"

সরকারি ত্রাণের চাল চুরির মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে নাম জড়িয়ে পড়ায় বিএনপি নেতা নাসির খান ও প্যানেল চেয়ারম্যান মাহবুব আলমের ভূমিকা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক গুঞ্জন ও সমালোচনার ঝড় বইছে। এদিকে অভিযোগের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট বক্তব্য জানতে ঘটনার অন্যতম মূল অভিযুক্ত হাবিবুর রহমান আকনের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। যোগাযোগের চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ায় এবং তার এই রহস্যজনক নীরবতার কারণে চাল চুরির অভিযোগের সত্যতা নিয়ে স্থানীয়দের মনে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়েছে।

দুস্থ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের হকের চাল যারা এভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে চুরি বা পাচার করতে পারে, তাদের রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয় বিবেচনা না করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সাপলেজা ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সরকারি চাল আত্মসাৎ বা অপব্যবহারের এই ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%