প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দেশের একমাত্র দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কার্যত বর্তমানে অচল হয়ে গেছে। নতুন চেয়ারম্যান এবং কমিশনার নিয়োগ না হওয়ায় মামলা দায়ের এবং আদালতে চার্জশিট দাখিল, সম্পত্তি জব্দ, বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা, আসামি গ্রেপ্তারের মতো গুরুত্বপূর্ণ আইনি কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে।
কমিশনের বিকল্প হিসেবে দুদক সচিবের ক্ষমতা সাময়িকভাবে বাড়ানোর একটি প্রস্তাব সরকারকে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়নি। কমিশনের অনুমোদন না পাওয়ায় চার মাসে ৮ হাজারের বেশি অভিযোগের নথি বর্তমানে ফাইলবন্দি অবস্থায় রয়েছে।
৩ মার্চ, ২০২৪ তারিখে ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেনের নেতৃত্বাধীন কমিশনের সকল সদস্য পদত্যাগ করেছেন। চার মাসের বেশি হলেও নতুন চেয়ারম্যান এবং কমিশনার নিয়োগ দেওয়া হয়নি। তবে এর মধ্যেই সার্চ কমিটির আহ্বানে চেয়ারম্যান এবং কমিশনার পদে নিয়োগের জন্য ৩২৭ জন আগ্রহ প্রকাশ করে আবেদন করেছেন। সোমবার ছিল আবেদনপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময়।
দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০টি নতুন দুর্নীতির অভিযোগ কমিশনে জমা পড়ছে। কমিশন না থাকা কারণে নতুন কোনো অনুসন্ধানের কাজ চালানো সম্ভব হচ্ছে না। মামলা দায়ের এবং চার্জশিট অনুমোদনের কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে গেছে। তবে রুটিন কার্যক্রমগুলো চলমান রয়েছে।’
দুদক সূত্র জানিয়েছে, কমিশনের পদত্যাগের আগে যেসব অনুসন্ধান এবং তদন্ত শুরু করা হয়েছিল, সেগুলোর অনেকগুলো কাজ এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। বিভাগীয় পরিচালক এবং মহাপরিচালক পর্যায়ে ফাইল প্রস্তুত হলেও কমিশনের অনুমোদন না থাকা কারণে সেগুলো এগোচ্ছে না। ফলে ৮ হাজারের বেশি নথি এবং মামলাসংক্রান্ত বিভিন্ন ফাইল অনুমোদনের অপেক্ষায় ঝুলে আছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর আবদুল মোমেনকে দুদকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। কমিশনের অন্য দুই সদস্য ছিলেন সাবেক জেলা জজ মির্জা মুহাম্মদ আলী আকবর আজিজী এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাফিজ আহসান ফরিদ।
যদিও পাঁচ বছরের জন্য নিয়োগ পেয়ে থাকলেও তারা দায়িত্ব পালন করেছেন এক বছর দুই মাস। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘চার মাস দুদকের কমিশনারহীন অবস্থা দুর্নীতি প্রতিরোধে সরকারের উদাসীনতা এবং আগ্রহহীনতার পরিচায়ক। এটিই ক্ষমতাসীন দলের ৩১ দফা সংস্কার এজেন্ডা, নির্বাচনি ইশতেহার এবং জুলাই সনদের বিপরীতমুখী। যা বাস্তবে দুর্নীতির সহায়ক।’
তিনি আরও বলেন, ‘সরকার যে আস্থাহীনতার মুখোমুখি, সে নিয়ে বিলম্বে হলেও সার্চ কমিটি গঠিত হওয়ায় দেশের মানুষ আশা করে যে, দলীয় বিবেচনার ঊর্ধ্বে থেকে যোগ্য ব্যক্তিদের কমিশনে নিয়োগ দেওয়া হবে। যারা রাজনৈতিক ও আমলাতন্ত্রের প্রভাবমুক্ত থেকে সৎসাহস এবং দৃঢ়তার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন।’
জানা গেছে, দুদক আইন, ২০০৪ অনুযায়ী কমিশনের অনুমোদন ছাড়া নতুন অনুসন্ধান, তদন্ত কিংবা গুরুত্বপূর্ণ আইনি সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ নেই। যদিও আইনে কমিশনের পদত্যাগের ৩০ দিনের মধ্যে নতুন কমিশন গঠনের কথা বলা রয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা না হলে কী হবে, সে বিষয়ে কোনো সুস্পষ্ট বিধান নেই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের সংশোধিত ধারাগুলো বহাল থাকবে যতক্ষণ না সংসদ নতুন আইন করে সেগুলো পরিবর্তন বা বাতিল করবে। সরকার নতুন কমিশন গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। আইন অনুযায়ী চেয়ারম্যান এবং কমিশনার নিয়োগের আগে পাঁচ সদস্যের একটি সার্চ কমিটি গঠন করেছে।
২ জুন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ আপিল এবং হাই কোর্ট বিভাগের একজন করে বিচারক মনোনয়নের জন্য প্রধান বিচারপতির কাছে চিঠি পাঠায়। সার্চ কমিটি আনুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করে। ২ জুলাই দুদকের চেয়ারম্যান এবং কমিশনার পদে নিয়োগের জন্য সংশ্লিষ্ট আইন অনুযায়ী যোগ্য এবং আগ্রহী ব্যক্তিদের কাছ থেকে জীবনবৃত্তান্ত (সিভি) আহ্বান করে সার্চ কমিটি। আবেদনপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ছিল সোমবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত।
দুদকের সাবেক মহাপরিচালক (ডিজি) মঈদুল ইসলাম বলেন, ‘কমিশন না থাকলে দুর্নীতিবাজদের সুবিধা বেশি। দীর্ঘসূত্রতার ফলে অনেক সময় মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামতও নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এতে তদন্ত দুর্বল হয়ে যায় এবং আসামিরা সুবিধা পান।'
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন