ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

গবাদিপশু সুরক্ষায় ৪ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন আমদানির উদ্যোগ


গবাদিপশু সুরক্ষায় ৪ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন আমদানির উদ্যোগ

গবাদিপশুর রোগবালাই সুরক্ষায় যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে সরকার একটি বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। করোনা পরিস্থিতির পর, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ইতোমধ্যে লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি) এবং ফুট অ্যান্ড মাউথ ডিজিস (এফএমডি) রোগের জন্য প্রায় ২ (দুই) কোটি করে মোট ৪ (চার) কোটি ডোজ ভ্যাকসিন আমদানির উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

বেসরকারিভাবে আমদানিকৃত এই ভ্যাকসিনগুলোর পাশাপাশি, দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদনও বাড়ানো হচ্ছে। গত বছর এ ভ্যাকসিনের উৎপাদন ছিল ৫ লাখ ডোজ, কিন্তু এবারে তা বাড়িয়ে ২০ লাখ ডোজ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান বলেছেন, মূলত ফুট অ্যান্ড মাউথ ডিজিস (এফএমডি) ও এলএসডি রোগ নির্মূলের লক্ষ্যে তারা বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন। এর অংশ হিসেবে বেসরকারিভাবে প্রায় দুই কোটি ডোজ এলএসডি ভ্যাকসিন এবং দুই কোটি ডোজ এফএমডি ভ্যাকসিন আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে। উৎপাদন আরও বাড়ানোরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: চট্টগ্রামের জেএম সেন হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী

তবে দেশে উৎপাদন পর্যাপ্ত না হওয়ার কারণে, বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে এই ভ্যাকসিন আমদানির অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। তারা চাহিদার অনুপাতে ভ্যাকসিন আমদানি করবে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, দেশে সরবরাহকৃত ভ্যাকসিনের পরিমাণ যথেষ্ট না থাকায় ২ কোটি ডোজ ট্রাইভ্যালিন এফএমডি ভ্যাকসিন এবং ২ কোটি ডোজ এলএসডি ভ্যাকসিন আমদানির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

এছাড়া বাণিজ্যিক মুরগীর ক্ষেত্রে একটি প্রাণঘাতী রোগ দেখা দিয়েছে, যা তেলোপ্যাথোজনিক। এই রোগের কারণে খামারিদের ব্যাপক অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে। তাই, বাণিজ্যিক মুরগীতে লোপ্যাথোজনিক প্রতিরোধে এইচ৯এন২ এর বিভিন্ন কম্বিনেশন ভ্যাকসিন আমদানি করার পরিকল্পনা রয়েছে। বাজারে এই ভ্যাকসিনের অভাব থাকার কারণে, মোট ৫০ কোটি ডোজ এইচ৯এন২ এবং এর বিভিন্ন কম্বিনেশন ভ্যাকসিন আমদানি করার অনুমোদনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলেছেন, জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলস্বরূপ দুনিয়াজুড়ে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে মশা, মাছি ও এঁটুলির বংশবৃদ্ধি বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং গবাদি পশুর লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি) ও ক্ষুরারোগ (এফএমডি) এর মতো ভাইরাসজনিত রোগের সংক্রমণ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এসব সংক্রামক রোগের হাত থেকে দেশের প্রাণিসম্পদ ও পোলট্রি খাতকে রক্ষা করতে চলতি বছরে ব্যাপক পরিসরে ভ্যাকসিন আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. তারেক হোসেন জানিয়েছেন, গরমের কারণে সারাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গবাদিপশুর ভাইরাসজনিত ‘লাম্পি স্কিন ডিজিজ’ (এলএসডি) উদ্বেগজনক হারে ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে গ্রীষ্মকাল এবং অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে এই রোগের প্রকোপ বেড়ে যাচ্ছে। এফএমডি (ক্ষুরারোগ) এবং এলএসডি গবাদিপশুর জন্য গুরুত্বপূর্ণ রোগ। এই রোগের কারণে খামারিদের অর্থনৈতিক ক্ষতি অনেকাংশে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

আরও পড়ুন: মানবসেবাই আসল ধর্ম: ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীর মন্তব্য

তিনি এলএসডি ও এফএমডি রোগ সম্পর্কে জানাচ্ছেন যে, এলএসডি একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা মূলত গরু, মহিষ ও ছাগলকে আক্রান্ত করে। মশা-মাছি, মুখের লালা ও খামারে অব্যবস্থাপনার কারণে এ রোগ দ্রুত ছড়ায়। এর প্রাথমিক লক্ষণগুলো হলো, আক্রান্ত গরুর শরীরের তাপমাত্রা ১০৩-১০৫ ডিগ্রিতে বেড়ে যায়। গরু সাধারণত খাওয়াদাওয়া বন্ধ করে দেয় এবং শরীরে খুবই ব্যথা অনুভব করে। দুই দিনের মধ্যে গরুর শরীরে বসন্তের মতো গুটি গুটি চাকা দেখা দেয়, পরে সেখান থেকে পুঁজ জমে ফেটে মাংস খসে যায়। এর ফলে গরুর প্রজনন কমে যায় এবং এটির ওজন ও দুধ উৎপাদনও কমে যায়।

তারেক হোসেন আরো বলেন, জুন, জুলাই ও আগস্ট এ তিন মাস এলএসডির জন্য পিক টাইম। এই রোগে গবাদিপশুর মৃতের হার ১০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। যদি সময়মত চিকিৎসা না করা হয়, তাহলে পশু দুর্বল হয়ে পড়ে এবং উৎপাদনশীলতা হ্রাস পায়।

প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ১৯২৯ সালে আফ্রিকার জাম্বিয়ায় প্রথম এ রোগ শনাক্ত হয়েছিল। ধীরে ধীরে এই রোগটি আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ২০১৯ সালের চট্টগ্রাম অঞ্চলে লাম্পি স্কিন ডিজিজ শনাক্ত হয়। এর পর দেশে বিভিন্ন জেলায় এই রোগটির বিস্তার ঘটে। বর্তমানে এটি গবাদিপশু খাতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।

আরও পড়ুন: সৌরবিদ্যুতের যন্ত্রাংশ চুরি করলে ৩ বছরের কারাদণ্ড

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কারাগারে হঠাৎ অসুস্থ সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২৯শে জুন, ২০২৬ ইং

১১:০০ এম


কারাগারে হঠাৎ অসুস্থ সাবেক মন্ত্রী দীপু মনি

মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েছেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি (৬১)। পরে তাকে ঢাকার মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সোমবার (২৯ জুন) সকাল ৬টার সময় তিনি কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে কারা কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সকাল সোয়া ৮টার সময় হাসপাতালে পৌঁছানোর পর তাকে নতুন ভবনের মেডিসিন বিভাগে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন আছেন।

দীপু মনিকে হাসপাতালে নিয়ে আসা পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মো. ফজলু বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুপুরের আগে মুন্সীগঞ্জ জেলা কারাগারে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লেন সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। এরপর কারা কর্তৃপক্ষের নির্দেশে তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে আনা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর বর্তমানে হাসপাতালের নতুন ভবনের মেডিসিন বিভাগে তার চিকিৎসা চলছে।

তার অসুস্থতার কারণ বা বর্তমান শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে, চিকিৎসকরা তাকে পর্যবেক্ষণে রেখে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিচ্ছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পে স্কেলের গেজেট কবে প্রকাশ হবে? জানা গেল সর্বশেষ তথ্য

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২৯শে জুন, ২০২৬ ইং

১১:০৪ এম


পে স্কেলের গেজেট কবে প্রকাশ হবে? জানা গেল সর্বশেষ তথ্য

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন করতে সরকার দুই ধাপে ব্যবস্থা নিতে পারে। আসন্ন জুলাই থেকেই নতুন পে স্কেলে সম্পূর্ণ মূল বেতন কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট উৎস।

চলতি সপ্তাহের মধ্যে পে কমিশনের সুপারিশ মূল্যায়ন ও বাস্তবায়নের রোডম্যাপ অর্থ মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়ার কথা রয়েছে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন কমিটির। সরকারি বেসামরিক প্রশাসন, বিচার বিভাগ ও সশস্ত্র বাহিনীর তিনটি পৃথক পে কমিশনের প্রতিবেদনের পর পর্যালোচনা করে কমিটি তাদের সুপারিশ চূড়ান্ত করেছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। খবরের মাধ্যমে জানা গেছে সোমবার (২৯ জুন) দ্য ডেইলি স্টারের এক প্রতিবেদনে।

প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের পর, জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময়ে এ সংক্রান্ত গেজেট অর্থ মন্ত্রণালয় প্রকাশ করতে পারে। প্রথম অবস্থায় নবম পে স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে সরকার তিন বছর ও দুই বছর মেয়াদি—দুটি বিকল্পের কথা চিন্তা করেছিল।

তিন বছরের পরিকল্পনার অনুযায়ী, আগামী দুই অর্থবছরে ধাপে ধাপে মূল বেতনের ৫০ শতাংশ কার্যকর করার ব্যবস্থা হতে পারে এবং তৃতীয় বছরে ভাতা কার্যকর হবে। কিন্তু অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, দুই ধাপে মূল বেতন বাস্তবায়ন হলে সরকারের ইন্টিগ্রেটেড বাজেট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টিং সিস্টেমে (আইবিএএসপ্লাসপ্লাস) কিছু কারিগরি জটিলতা দেখা দিতে পারে।

এ জন্য তারা একবারেই মূল বেতন পুরোটা কার্যকর করার সুপারিশ করেছে। তবে সামগ্রিকভাবে কমিটি দুই ধাপে পে স্কেল বাস্তবায়নের পরিকল্পনায় এগোচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, 'চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনের ওপর নির্ভর করছে। আমরা আশা করছি, জুলাইয়ের মাঝামাঝি বা তার পরের সপ্তাহে গেজেট প্রকাশ করা হবে।'

বর্তমান ২০টি গ্রেডের মধ্যে, ১ থেকে ১০ নম্বর গ্রেডে ১০০ শতাংশ বা তার কিছুটা কম এবং ১১ থেকে ২০ নম্বর গ্রেডে গড়ে ১৩০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করে কমিটি।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নের জন্য ৪৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাজেট বক্তৃতায় ১ জুলাই থেকে নতুন পে স্কেল কার্যকর হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন, তবে এটি কীভাবে বাস্তবায়ন হবে সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, 'আমরা ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ধাপে ধাপে সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের ঘোষণা করছি। গত ১১ বছর ধরে সরকারি কর্মচারীরা একই কাঠামোর আওতায় বেতন-ভাতা পাচ্ছেন, অথচ মূল্যস্ফীতির কারণে জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।'

পে স্কেল সংশোধনের আগের উদাহরণগুলোর মতো এবার বাজেট নথিতে বেতন-ভাতা খাতে আলাদা করে কোনো বৃদ্ধি উল্লেখ করা হয়নি।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বরাদ্দটি নেট পাবলিক সার্ভিস খাতে রাখা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বরাদ্দের তুলনায় এ খাতে ব্যয় ৫৪ হাজার ৫৭২ কোটি টাকা বেড়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৪৪ কোটি টাকা।

কর্মকর্তাদের মতে, বাস্তবায়নের অগ্রগতির ওপর নির্ভর করে ৪৪ হাজার কোটি টাকার এ বরাদ্দ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, পেনশনভোগী এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন সমন্বয়ে ব্যয় করা হবে। এবার মূল বেতনে ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির পাশাপাশি অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানোর সুপারিশ করেছে নবম পে কমিশন।

২০১৫ সালে দুই ধাপে অষ্টম জাতীয় পে স্কেল বাস্তবায়ন করা হয়েছিল। ওই বছর সংশোধিত মূল বেতন এবং পরের বছর সংশোধিত ভাতা কার্যকর হয়েছিল। বর্তমান সরকার তার ১৪ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ৯ লক্ষ পেনশনভোগীর জন্য বছরে প্রায় ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মহাকাশে আরও ২৪টি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করল স্পেসএক্স

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২৯শে জুন, ২০২৬ ইং

১১:০৭ এম


মহাকাশে আরও ২৪টি স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করল স্পেসএক্স

মহাকাশে সফলভাবে ২৪টি স্টারলিংক স্যাটেলাইট পাঠিয়েছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স। বৈশ্বিক ইন্টারনেট নেটওয়ার্ককে আরো শক্তিশালী করতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ক্যালিফোর্নিয়ার ভ্যানডেনবার্গ স্পেস ফোর্স বেস থেকে একটি ফ্যালকন ৯ রকেটের সাহায্যে এই স্যাটেলাইটগুলোর উৎক্ষেপণ করা হয়।

স্পেসএক্স জানিয়েছে, সফল উৎক্ষেপণ শেষে রকেটটির প্রথম পর্যায়ের বুস্টারটি প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থানরত একটি ড্রোনশিপে (স্বয়ংক্রিয় জাহাজ) নিরাপদে অবতরণ করেছে। এভাবে রকেটের যন্ত্রাংশ পুনঃব্যবহার করার কর্মসূচি সফলভাবে অব্যাহত রইলো।

বিশেষ মিশনের মূল লক্ষ্য হলো বিশ্বজুড়ে স্টারলিংক স্যাটেলাইট নেটওয়ার্কের পরিধি আরো বৃদ্ধি করা। এর ফলে বিশ্বের প্রত্যন্ত ও দুর্গম অঞ্চলে উচ্চ-গতির (হাই-স্পিড) ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

এই সম্প্রসারণের মাধ্যমে ভবিষ্যতে বিশেষ ব্যবহারকারী টার্মিনাল বা আলাদা ডিভাইসের প্রয়োজন ছাড়াই সাধারণ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে সরাসরি স্যাটেলাইটের সাথে সেলুলার সংযোগ চালু করার প্রক্রিয়া সহজ হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইউনিয়ন পর্যায়েও গঠিত হচ্ছে দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ২৯শে জুন, ২০২৬ ইং

১১:০৯ এম


ইউনিয়ন পর্যায়েও গঠিত হচ্ছে দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি

দুর্নীতিবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধি ও সামাজিক প্রতিরোধ জোরদারের জন্য এবার ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রসারিত হচ্ছে দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি (দুপ্রক)। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কার্যক্রমে নতুন এ কর্মসূচিটি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশে মহানগর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন অর্থবছর থেকে এ কার্যক্রম ইউনিয়ন পর্যায়েও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। দেশে প্রান্তিক পর্যায়ে দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি গঠিত হলে দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম আরো বিস্তৃত হবে, এদিকে আশা করা হচ্ছে।

দুদক এবং দুর্নীতিবিরোধী সংগঠনের নেতারা মনে করছেন যে, ইউনিয়ন পর্যায়ে দুর্নীতিবিরোধী কমিটি গঠন হলে স্থানীয় জনগণের এতে অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনসচেতনতা এবং সামাজিক প্রতিরোধ আরও শক্তিশালী হবে। এই উদ্যোগ সততা, নৈতিকতা ও সুশাসনের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

এ বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বাসসকে বলেন, ইউনিয়ন পর্যায়ে দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি গঠনের এই উদ্যোগ অবশ্যই ইতিবাচক। এইভাবে মানুষের মধ্যে দুর্নীতিবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধি সম্ভব।

অতীতে এ ধরনের কমিটির কার্যক্রম পরিচালনার যে অভিজ্ঞতা রয়েছে, সেটি নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন করে কমিটি গঠনের পরামর্শ দেন তিনি। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক উল্লেখ করেন, ‘অতীতের দুর্বলতা থেকে শিক্ষা নিয়ে যদি নতুন কাঠামো তৈরি করা যায়, তাহলে উদ্যোগটি সফল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।'

দুদকের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, ইউনিয়ন পর্যায়ের দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি সাত সদস্যবিশিষ্ট হবে। এতে একজন সভাপতি, প্রয়োজনীয় সংখ্যক দায়িত্বশীল সদস্য এবং অন্তত এক-তৃতীয়াংশ নারী সদস্য রাখার বিধান করা হয়েছে। সমাজের সৎ, সচেতন ও স্বেচ্ছাসেবী ব্যক্তিদের মধ্য থেকে সদস্য মনোনয়ন করা হবে।

বিদেশি নাগরিক, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, প্রজাতন্ত্রের বেতনভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক দলের সক্রিয় সদস্য, আদালতের অপ্রকৃতস্থ ঘোষিত ব্যক্তি, দেউলিয়া, ঋণখেলাপি, ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত বা দণ্ডিত ব্যক্তি কমিটির সদস্য হওয়ার যোগ্য হিসাবে বিবেচিত হয় না বলে দুদকের গঠনতন্ত্রে উল্লেখ রয়েছে।

দুদক সচিব মোহাম্মদ খালেদ রহীম জানান, দুর্নীতি দমনে শুধু শাস্তিমূলক ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। তাই ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রতিরোধ কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে তৃণমূল জনগণের মধ্যে দুর্নীতিবিরোধী সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে আমাদের প্রচেষ্টা। আইনের প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা গড়ে তুলতে পারলে দুর্নীতি প্রতিরোধ অধিক কার্যকর হবে।

দুদকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের সর্বশেষ তথ্যমতে, বর্তমানে জেলা ও মহানগর পর্যায়ে সর্বোচ্চ ১৩ সদস্য এবং উপজেলা পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৯ সদস্যের দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি রয়েছে। এসব কমিটির মাধ্যমে নিয়মিত আলোচনা সভা, রচনা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা, র‌্যালি, মানববন্ধন, সেমিনার, নাটক এবং বিভিন্ন জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি চালানো হচ্ছে।

২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, দেশে মহানগর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পাঁচ শতাধিক দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। এসব কমিটির উদ্যোগে এক বছরে দেড় হাজারের বেশি আলোচনা সভা, এক হাজারের বেশি বিতর্ক প্রতিযোগিতা এবং শত শত র‌্যালি, মানববন্ধন ও অন্যান্য সচেতনতামূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।

ইউনিয়ন পর্যায়ে দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি কার্যকর ভূমিকা পালন করলে সাধারণ মানুষ সর্বাধিক উপকৃত হবে বলে জানিয়েছেন ইফতেখারুজ্জামান।

তিনি বলেন, বিশেষত বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, কৃষি উপকরণ বিতরণসহ স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি সেবায় যে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ থাকে, সেগুলো কমিয়ে আনতে এসব কমিটি কার্যকরভাবে ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%