১০:৫৫ এম
গবাদিপশুর রোগবালাই সুরক্ষায় যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে সরকার একটি বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। করোনা পরিস্থিতির পর, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ইতোমধ্যে লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি) এবং ফুট অ্যান্ড মাউথ ডিজিস (এফএমডি) রোগের জন্য প্রায় ২ (দুই) কোটি করে মোট ৪ (চার) কোটি ডোজ ভ্যাকসিন আমদানির উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
বেসরকারিভাবে আমদানিকৃত এই ভ্যাকসিনগুলোর পাশাপাশি, দেশের অভ্যন্তরীণ উৎপাদনও বাড়ানো হচ্ছে। গত বছর এ ভ্যাকসিনের উৎপাদন ছিল ৫ লাখ ডোজ, কিন্তু এবারে তা বাড়িয়ে ২০ লাখ ডোজ করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান বলেছেন, মূলত ফুট অ্যান্ড মাউথ ডিজিস (এফএমডি) ও এলএসডি রোগ নির্মূলের লক্ষ্যে তারা বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছেন। এর অংশ হিসেবে বেসরকারিভাবে প্রায় দুই কোটি ডোজ এলএসডি ভ্যাকসিন এবং দুই কোটি ডোজ এফএমডি ভ্যাকসিন আমদানির উদ্যোগ নিয়েছে। উৎপাদন আরও বাড়ানোরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রামের জেএম সেন হল পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী
তবে দেশে উৎপাদন পর্যাপ্ত না হওয়ার কারণে, বেসরকারি কোম্পানিগুলোকে এই ভ্যাকসিন আমদানির অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। তারা চাহিদার অনুপাতে ভ্যাকসিন আমদানি করবে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, দেশে সরবরাহকৃত ভ্যাকসিনের পরিমাণ যথেষ্ট না থাকায় ২ কোটি ডোজ ট্রাইভ্যালিন এফএমডি ভ্যাকসিন এবং ২ কোটি ডোজ এলএসডি ভ্যাকসিন আমদানির উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
এছাড়া বাণিজ্যিক মুরগীর ক্ষেত্রে একটি প্রাণঘাতী রোগ দেখা দিয়েছে, যা তেলোপ্যাথোজনিক। এই রোগের কারণে খামারিদের ব্যাপক অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে। তাই, বাণিজ্যিক মুরগীতে লোপ্যাথোজনিক প্রতিরোধে এইচ৯এন২ এর বিভিন্ন কম্বিনেশন ভ্যাকসিন আমদানি করার পরিকল্পনা রয়েছে। বাজারে এই ভ্যাকসিনের অভাব থাকার কারণে, মোট ৫০ কোটি ডোজ এইচ৯এন২ এবং এর বিভিন্ন কম্বিনেশন ভ্যাকসিন আমদানি করার অনুমোদনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলেছেন, জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলস্বরূপ দুনিয়াজুড়ে তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে মশা, মাছি ও এঁটুলির বংশবৃদ্ধি বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং গবাদি পশুর লাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি) ও ক্ষুরারোগ (এফএমডি) এর মতো ভাইরাসজনিত রোগের সংক্রমণ ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এসব সংক্রামক রোগের হাত থেকে দেশের প্রাণিসম্পদ ও পোলট্রি খাতকে রক্ষা করতে চলতি বছরে ব্যাপক পরিসরে ভ্যাকসিন আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. তারেক হোসেন জানিয়েছেন, গরমের কারণে সারাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গবাদিপশুর ভাইরাসজনিত ‘লাম্পি স্কিন ডিজিজ’ (এলএসডি) উদ্বেগজনক হারে ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে গ্রীষ্মকাল এবং অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে এই রোগের প্রকোপ বেড়ে যাচ্ছে। এফএমডি (ক্ষুরারোগ) এবং এলএসডি গবাদিপশুর জন্য গুরুত্বপূর্ণ রোগ। এই রোগের কারণে খামারিদের অর্থনৈতিক ক্ষতি অনেকাংশে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
আরও পড়ুন: মানবসেবাই আসল ধর্ম: ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীর মন্তব্য
তিনি এলএসডি ও এফএমডি রোগ সম্পর্কে জানাচ্ছেন যে, এলএসডি একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা মূলত গরু, মহিষ ও ছাগলকে আক্রান্ত করে। মশা-মাছি, মুখের লালা ও খামারে অব্যবস্থাপনার কারণে এ রোগ দ্রুত ছড়ায়। এর প্রাথমিক লক্ষণগুলো হলো, আক্রান্ত গরুর শরীরের তাপমাত্রা ১০৩-১০৫ ডিগ্রিতে বেড়ে যায়। গরু সাধারণত খাওয়াদাওয়া বন্ধ করে দেয় এবং শরীরে খুবই ব্যথা অনুভব করে। দুই দিনের মধ্যে গরুর শরীরে বসন্তের মতো গুটি গুটি চাকা দেখা দেয়, পরে সেখান থেকে পুঁজ জমে ফেটে মাংস খসে যায়। এর ফলে গরুর প্রজনন কমে যায় এবং এটির ওজন ও দুধ উৎপাদনও কমে যায়।
তারেক হোসেন আরো বলেন, জুন, জুলাই ও আগস্ট এ তিন মাস এলএসডির জন্য পিক টাইম। এই রোগে গবাদিপশুর মৃতের হার ১০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। যদি সময়মত চিকিৎসা না করা হয়, তাহলে পশু দুর্বল হয়ে পড়ে এবং উৎপাদনশীলতা হ্রাস পায়।
প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ১৯২৯ সালে আফ্রিকার জাম্বিয়ায় প্রথম এ রোগ শনাক্ত হয়েছিল। ধীরে ধীরে এই রোগটি আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো ২০১৯ সালের চট্টগ্রাম অঞ্চলে লাম্পি স্কিন ডিজিজ শনাক্ত হয়। এর পর দেশে বিভিন্ন জেলায় এই রোগটির বিস্তার ঘটে। বর্তমানে এটি গবাদিপশু খাতের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
আরও পড়ুন: সৌরবিদ্যুতের যন্ত্রাংশ চুরি করলে ৩ বছরের কারাদণ্ড
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন