১১:০৯ এম
দুর্নীতিবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধি ও সামাজিক প্রতিরোধ জোরদারের জন্য এবার ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রসারিত হচ্ছে দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি (দুপ্রক)। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কার্যক্রমে নতুন এ কর্মসূচিটি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশে মহানগর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন অর্থবছর থেকে এ কার্যক্রম ইউনিয়ন পর্যায়েও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। দেশে প্রান্তিক পর্যায়ে দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি গঠিত হলে দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রম আরো বিস্তৃত হবে, এদিকে আশা করা হচ্ছে।
দুদক এবং দুর্নীতিবিরোধী সংগঠনের নেতারা মনে করছেন যে, ইউনিয়ন পর্যায়ে দুর্নীতিবিরোধী কমিটি গঠন হলে স্থানীয় জনগণের এতে অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনসচেতনতা এবং সামাজিক প্রতিরোধ আরও শক্তিশালী হবে। এই উদ্যোগ সততা, নৈতিকতা ও সুশাসনের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
আরও পড়ুন: হায় সেলুকাস, আমাদের এই বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলার অবনতি
এ বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বাসসকে বলেন, ইউনিয়ন পর্যায়ে দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি গঠনের এই উদ্যোগ অবশ্যই ইতিবাচক। এইভাবে মানুষের মধ্যে দুর্নীতিবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধি সম্ভব।
অতীতে এ ধরনের কমিটির কার্যক্রম পরিচালনার যে অভিজ্ঞতা রয়েছে, সেটি নিরপেক্ষভাবে মূল্যায়ন করে কমিটি গঠনের পরামর্শ দেন তিনি। টিআইবির নির্বাহী পরিচালক উল্লেখ করেন, ‘অতীতের দুর্বলতা থেকে শিক্ষা নিয়ে যদি নতুন কাঠামো তৈরি করা যায়, তাহলে উদ্যোগটি সফল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।'
দুদকের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, ইউনিয়ন পর্যায়ের দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি সাত সদস্যবিশিষ্ট হবে। এতে একজন সভাপতি, প্রয়োজনীয় সংখ্যক দায়িত্বশীল সদস্য এবং অন্তত এক-তৃতীয়াংশ নারী সদস্য রাখার বিধান করা হয়েছে। সমাজের সৎ, সচেতন ও স্বেচ্ছাসেবী ব্যক্তিদের মধ্য থেকে সদস্য মনোনয়ন করা হবে।
বিদেশি নাগরিক, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, প্রজাতন্ত্রের বেতনভুক্ত কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক দলের সক্রিয় সদস্য, আদালতের অপ্রকৃতস্থ ঘোষিত ব্যক্তি, দেউলিয়া, ঋণখেলাপি, ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত বা দণ্ডিত ব্যক্তি কমিটির সদস্য হওয়ার যোগ্য হিসাবে বিবেচিত হয় না বলে দুদকের গঠনতন্ত্রে উল্লেখ রয়েছে।
আরও পড়ুন: বর্ণাঢ্য আয়োজনে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত
দুদক সচিব মোহাম্মদ খালেদ রহীম জানান, দুর্নীতি দমনে শুধু শাস্তিমূলক ব্যবস্থা যথেষ্ট নয়। তাই ইউনিয়ন পর্যায়ে প্রতিরোধ কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে তৃণমূল জনগণের মধ্যে দুর্নীতিবিরোধী সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে আমাদের প্রচেষ্টা। আইনের প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা গড়ে তুলতে পারলে দুর্নীতি প্রতিরোধ অধিক কার্যকর হবে।
দুদকের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের সর্বশেষ তথ্যমতে, বর্তমানে জেলা ও মহানগর পর্যায়ে সর্বোচ্চ ১৩ সদস্য এবং উপজেলা পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৯ সদস্যের দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি রয়েছে। এসব কমিটির মাধ্যমে নিয়মিত আলোচনা সভা, রচনা ও বিতর্ক প্রতিযোগিতা, র্যালি, মানববন্ধন, সেমিনার, নাটক এবং বিভিন্ন জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি চালানো হচ্ছে।
২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, দেশে মহানগর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পাঁচ শতাধিক দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। এসব কমিটির উদ্যোগে এক বছরে দেড় হাজারের বেশি আলোচনা সভা, এক হাজারের বেশি বিতর্ক প্রতিযোগিতা এবং শত শত র্যালি, মানববন্ধন ও অন্যান্য সচেতনতামূলক কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ইউনিয়ন পর্যায়ে দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি কার্যকর ভূমিকা পালন করলে সাধারণ মানুষ সর্বাধিক উপকৃত হবে বলে জানিয়েছেন ইফতেখারুজ্জামান।
আরও পড়ুন: দুর্গাপূজা এখন সার্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে: জোনায়েদ সাকি
তিনি বলেন, বিশেষত বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, কৃষি উপকরণ বিতরণসহ স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি সেবায় যে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ থাকে, সেগুলো কমিয়ে আনতে এসব কমিটি কার্যকরভাবে ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন