মুহাম্মদ কাইসার হামিদ, কুলিয়ারচর কিশোরগঞ্জ
০২:২০ পি.এম
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে মাদক নির্মূল ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অসাধারণ সাফল্য প্রদর্শন করেছে থানা পুলিশ। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানগুলোতে একদিনে সাঁড়াশি চিরুনি অভিযান পরিচালনা করে মাদক কারবারি, মাদকসেবী এবং ওয়ারেন্টভুক্ত চোরসহ ৬ জন অপরাধীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদক, ছিনতাই, চুরি, ডাকাতি ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে পূর্বের মোট ২৯টি মামলা রয়েছে। সফল এই অভিযানের নেতৃত্ব দিয়ে সর্বস্তরের মানুষের প্রশংসায় ভূষিত হচ্ছেন কুলিয়ারচর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুজন বিশ্বাস।
গত ১৭ জুন বুধবার সকালে, কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দীনের দিক-নির্দেশনায় এই বিশেষ অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। অভিযানে এসআই সুজন বিশ্বাসের সাথে রয়েছেন এসআই গোলাম কবির বিশ্বাস, এএসআই আব্দুল লতিফ এবং এএসআই লুৎফর রহমানসহ পুলিশের একটি চৌকস দল।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন কুলিয়ারচর পৌর এলাকার পূর্ব গাইলকাটা গ্রামের মৃত খুরশিদ মিয়ার ছেলে মাদক কারবারি মো. মঞ্জিল মিয়া (৬৫), একই গ্রামের মো. জয়নাল আবেদীনের ছেলে মো. আনোয়ার হোসেন (৪৮), ছয়সূতী ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের এমাদ উদ্দিনের ছেলে কুখ্যাত মাদক কারবারি কালাম (৪৫), পৌর এলাকার চারারবন মহল্লার হারিছ মিয়ার ছেলে রাসেল মিয়া ওরফে লেবা (৩৫), এছাড়া চুরি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি পশ্চিম আব্দুল্লাহপুর গ্রামের মৃত মোন্তাজ উদ্দিনের ছেলে রইচ উদ্দিন (৪০) এবং ফাইজ উদ্দিনের ছেলে সজিব (২৫)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায় যে, অভিযান চলাকালে কুলিয়ারচর পৌরসভার মোড় পাকা রাস্তার উপরে ৩০০ গ্রাম গাঁজাসহ মঞ্জিল মিয়া ও আনোয়ার হোসেনকে আটক করা হয়। উদ্ধারকৃত গাঁজার আনুমানিক বাজার মূল্য ৯ হাজার টাকা। জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় তারা জানান যে, বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে মাদক রাখছিলেন। তাই তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় কুলিয়ারচর থানায় একটি মামলা রুজু করা হয়। উল্লেখ্য, মঞ্জিল মিয়ার বিরুদ্ধে পূর্বে ৫টি মাদক ও ১টি বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলা রয়েছে এবং আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে চুরি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে ২টি মামলা রয়েছে।
মাদক সেবনের সময় নিজ এলাকা থেকে কুখ্যাত মাদক কারবারি কালামকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে, ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শবনম বুবলি তাকে ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। কালামের বিরুদ্ধে পূর্বে মাদক, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মোট ১৩টি মামলা রয়েছে। অন্যদিকে, মাদক সেবনের সময় নিজ এলাকা থেকে কুখ্যাত মাদক কারবারি রাসেল মিয়া ওরফে লেবাকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে, তাকে ৩ মাসের সাজা প্রদান করে। রাসেলের বিরুদ্ধেও পূর্বে ৬টি মাদক মামলা রয়েছে।
একই অভিযানে গ্রেফতারকৃত রইচ উদ্দিন এবং সজিব ছিলেন চুরি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি। পরে গ্রেফতারকৃত সকল আসামিকে একই দিনে কিশোরগঞ্জ জেলা বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, কুলিয়ারচর থানায় যোগদানের পর থেকে বিগত ২০ মাসে প্রায় অর্ধশত মাদকবিরোধী সফল অভিযান পরিচালনা করেছেন এসআই সুজন বিশ্বাস। এসব অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধারসহ শতাধিক মাদক ব্যবসায়ীকে আইনের আওতায় এনেছেন। গড়ে প্রতি মাসে ৫ থেকে ৬টি সফল অভিযান চালাচ্ছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। এলাকার সচেতন মহলের মতে, এসআই সুজন বিশ্বাসের মতো থানার প্রতিটি অফিসার যদি মাদকের বিরুদ্ধে এমন কঠোর অবস্থান রাখেন, তাহলে দ্রুতই কুলিয়ারচর মাদক ও অপরাধমুক্ত হয়ে যাবে।
অভিযানের বিষয়ে কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দীন মন্তব্য করেন, "কুলিয়ারচরকে অপরাধমুক্ত রাখতে আমাদের এই ধরনের সাঁড়াশি অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। অপরাধী যেই হোক না কেন, তাকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সাতক্ষীরা জেলা পরিষদের নবনিযুক্ত প্রশাসক ও সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মো. হাবিবুল ইসলাম হাবিব-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন বিডিএফ (ধুলিহর, ব্রহ্মরাজপুর ও ফিংড়ি) প্রেস ক্লাবের নেতৃবৃন্দ।
বুধবার (১৭ জুন) দুপুর ১২টায় সাতক্ষীরা জেলা পরিষদ কার্যালয়ে প্রশাসকের দপ্তরে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও ফুলেল শুভেচ্ছা বিনিময় করা হয়। এ সময় সাংবাদিকরা নবনিযুক্ত প্রশাসককে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে তাঁর সফলতা কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিডিএফ প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক দৃষ্টিপাত পত্রিকার সাংবাদিক শাহাদাৎ হোসেন বাবু, সহ-সভাপতি ও দৈনিক পত্রদূতের সাংবাদিক জিএম আমিনুল হক, সাবেক সভাপতি এম. এ. হাকিম, সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম রেজা, এস এম শরীফুল ইসলাম রানা, মেহেদী হাসান শিমুলসহ বিডিএফ প্রেসক্লাবের সকল সদস্য ও কর্মকর্তাবৃন্দ।
মতবিনিময় ও শুভেচ্ছা বিনিময় কালে সংবর্ধিত প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিব বলেন-বিডিএফ প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের মধ্যে যে ঐক্যের মেলবন্ধন তা জেলার অন্যান্য সাংবাদিক সংগঠন গুলোর নিকট দৃষ্টান্ত হতে পারে। এসময় তিনি প্রেসক্লাবের সদস্যদের সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশে সাহসী ভুমিকার ভূয়সী প্রশংসা করে আগামীতে আরও দ্বায়িত্বশীল হয়ে দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করার আহবান জানান। এসময় বিডিএফ প্রেসক্লাবের সকল কার্যক্রম সম্পর্কে ভূয়সী প্রশংসা করে বক্তব্য রাখেন ধুলিহর ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী তাকদীর আহসান রুবেল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
একসময় নদী, খাল আর বিলে দেশীয় মাছের প্রাচুর্যে মুখর থাকত মাদারীপুরের ডাসার ও কালকিনি উপজেলার বিস্তীর্ণ জলাভূমি। বর্ষা এলেই জেলেদের জালে ধরা পড়ত নানা প্রজাতির দেশীয় মাছ। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই চিত্র বদলে যাচ্ছে। অবৈধ ‘চায়না দুয়ারি’ জালের নির্বিচার ব্যবহারে ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে বসেছে দেশীয় মাছের প্রাকৃতিক প্রজনন ব্যবস্থা। এতে উদ্বেগ বাড়ছে স্থানীয় বাসিন্দা, জেলে সম্প্রদায় এবং মৎস্য সংশ্লিষ্টদের মধ্যে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নদী, খাল ও বিলে স্থাপন করা হচ্ছে সূক্ষ্ম ফাঁসের চায়না দুয়ারি জাল। এসব জালে শুধু বড় মাছ নয়, মাছের রেণু, পোনা ও ডিম বহনকারী মা মাছও আটকা পড়ে। ফলে মাছ বড় হওয়ার আগেই নিধন হচ্ছে, যা দেশীয় মৎস্যসম্পদের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ডাসার উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে দেখা যায়, খাল ও জলাশয়ের বিভিন্ন স্থানে গোপনে বসানো হয়েছে চায়না দুয়ারি জাল। স্থানীয়রা জানান, রাতের আঁধারে এসব জাল ব্যবহার করে অসাধু ব্যক্তিরা অল্প সময়ে বেশি মাছ ধরার চেষ্টা করেন। কিন্তু এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ছে পুরো জলজ পরিবেশের ওপর।
স্থানীয় প্রবীণ জেলে আব্দুল করিম বলেন, “আগে বর্ষা মৌসুমে জালে অনেক দেশীয় মাছ পাওয়া যেত। এখন মাছের সংখ্যা অনেক কমে গেছে। চায়না দুয়ারি জাল ছোট মাছ পর্যন্ত ছাড়ে না। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে দেশীয় মাছ শুধু গল্পেই শুনতে হবে।”
মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, চায়না দুয়ারি জালের সূক্ষ্ম ফাঁস জলজ প্রাণীর স্বাভাবিক জীবনচক্রকে ব্যাহত করে। মাছের পোনা ও প্রজননক্ষম মাছ নির্বিচারে ধরা পড়ায় মাছের বংশবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হয়। এর ফলে জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্যও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
এদিকে প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগ অবৈধ জালের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে অভিযান পরিচালনা করছে। অভিযানে বিপুল পরিমাণ চায়না দুয়ারি জাল জব্দ করে ধ্বংস করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, অবৈধ জালের ব্যবহার বন্ধে নিয়মিত নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
তবে স্থানীয়দের দাবি, বিচ্ছিন্ন অভিযান নয়, প্রয়োজন নিয়মিত তদারকি এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি। তারা বলেন, কিছু অসাধু ব্যক্তির স্বল্পমেয়াদি লাভের কারণে দেশের মূল্যবান মৎস্যসম্পদ ধ্বংস হতে দেওয়া যায় না।
মাদারীপুরের নদী-খাল-বিল শুধু জীবিকার উৎস নয়, এটি এ অঞ্চলের মানুষের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অংশ। দেশীয় মাছের অস্তিত্ব রক্ষায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হয়তো শিং, মাগুর, টেংরা, কৈ কিংবা পুঁটি মাছের প্রাচুর্যের গল্প শুধু বইয়ের পাতায় খুঁজে পাবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশীয় মৎস্যসম্পদ রক্ষায় অবৈধ চায়না দুয়ারি জালের ব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধ করা এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের কোনো বিকল্প নেই। দেশের জলজ সম্পদ রক্ষায় প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ ও স্থানীয় জনগণের সমন্বিত উদ্যোগই হতে পারে টেকসই সমাধান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সংযুক্ত আরব আমিরাতে আটকে পড়া বিদেশি নাগরিকদের জন্য একটি বড় স্বস্তির খবর দিয়েছে দেশটির ফেডারেল অথরিটি ফর আইডেন্টিটি, সিটিজেনশিপ, কাস্টমস অ্যান্ড পোর্টস সিকিউরিটি (আইসিপ)।
আঞ্চলিক ফ্লাইট বিপর্যয়ের কারণে যারা নির্দিষ্ট সময়ে দেশ ছাড়তে পারেননি, তাদের আর্থিক বোঝা কমাতে ৩০ দিনের একটি বিশেষ গ্রেস পিরিয়ড বা সময়সীমা ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। বিশেষ সুযোগটি গত ১০ জুন থেকে শুরু হয়ে আগামী ৯ জুলাই পর্যন্ত চলবে। এই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ভুক্তভোগী প্রবাসীরা কোনো ধরনের ওভারস্টে ফাইন বা জরিমানা ছাড়াই আমিরাত ত্যাগ করতে পারবেন অথবা নতুন ভিসায় নিজেদের স্ট্যাটাস বৈধ করে সেখানে বসবাস ও কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চলতি বছরের মার্চ মাসে আইসিপ একটি মানবিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক পরিস্থিতির কারণে ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় যারা আটকে পড়েছিলেন, তাদের জরিমানা মওকুফ করা হয়েছিল। বর্তমানে অঞ্চলে স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে এবং বিমান চলাচল সম্পূর্ণ স্বাভাবিক। ফলে জরিমানা মওকুফের পূর্ববর্তী কারণটি আর বিদ্যমান না থাকায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য স্ট্যাটাস বৈধ করার বা দেশ ছাড়ার এটাই চূড়ান্ত সুযোগ বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে আইসিপি।
এই মানবিক সুবিধা পাওয়ার জন্য প্রবাসীদের আলাদা কোনো বাড়তি আবেদন বা জটিল প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে না। যারা আমিরাত ছাড়তে চান তারা সরাসরি বিমানবন্দরে চলে যেতে পারবেন, আর যারা থেকে যেতে চান তারা স্বাভাবিক নিয়মে স্ট্যাটাস পরিবর্তন করতে পারবেন। আইসিপি সংশ্লিষ্ট সকলকে যেকোনো হালনাগাদ তথ্য বা আইনি পদ্ধতির জন্য কোনো বিভ্রান্তিকর তথ্যে কান না দিয়ে শুধুমাত্র তাদের অফিশিয়াল যোগাযোগমাধ্যম ও ওয়েবসাইট অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়ে দিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ