প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে মাদক নির্মূল ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় অসাধারণ সাফল্য প্রদর্শন করেছে থানা পুলিশ। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে উপজেলার বিভিন্ন স্থানগুলোতে একদিনে সাঁড়াশি চিরুনি অভিযান পরিচালনা করে মাদক কারবারি, মাদকসেবী এবং ওয়ারেন্টভুক্ত চোরসহ ৬ জন অপরাধীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদক, ছিনতাই, চুরি, ডাকাতি ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে পূর্বের মোট ২৯টি মামলা রয়েছে। সফল এই অভিযানের নেতৃত্ব দিয়ে সর্বস্তরের মানুষের প্রশংসায় ভূষিত হচ্ছেন কুলিয়ারচর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সুজন বিশ্বাস।
গত ১৭ জুন বুধবার সকালে, কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দীনের দিক-নির্দেশনায় এই বিশেষ অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। অভিযানে এসআই সুজন বিশ্বাসের সাথে রয়েছেন এসআই গোলাম কবির বিশ্বাস, এএসআই আব্দুল লতিফ এবং এএসআই লুৎফর রহমানসহ পুলিশের একটি চৌকস দল।
গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন কুলিয়ারচর পৌর এলাকার পূর্ব গাইলকাটা গ্রামের মৃত খুরশিদ মিয়ার ছেলে মাদক কারবারি মো. মঞ্জিল মিয়া (৬৫), একই গ্রামের মো. জয়নাল আবেদীনের ছেলে মো. আনোয়ার হোসেন (৪৮), ছয়সূতী ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের এমাদ উদ্দিনের ছেলে কুখ্যাত মাদক কারবারি কালাম (৪৫), পৌর এলাকার চারারবন মহল্লার হারিছ মিয়ার ছেলে রাসেল মিয়া ওরফে লেবা (৩৫), এছাড়া চুরি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি পশ্চিম আব্দুল্লাহপুর গ্রামের মৃত মোন্তাজ উদ্দিনের ছেলে রইচ উদ্দিন (৪০) এবং ফাইজ উদ্দিনের ছেলে সজিব (২৫)।
পুলিশ সূত্রে জানা যায় যে, অভিযান চলাকালে কুলিয়ারচর পৌরসভার মোড় পাকা রাস্তার উপরে ৩০০ গ্রাম গাঁজাসহ মঞ্জিল মিয়া ও আনোয়ার হোসেনকে আটক করা হয়। উদ্ধারকৃত গাঁজার আনুমানিক বাজার মূল্য ৯ হাজার টাকা। জিজ্ঞাসাবাদ করার সময় তারা জানান যে, বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে মাদক রাখছিলেন। তাই তাদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় কুলিয়ারচর থানায় একটি মামলা রুজু করা হয়। উল্লেখ্য, মঞ্জিল মিয়ার বিরুদ্ধে পূর্বে ৫টি মাদক ও ১টি বিশেষ ক্ষমতা আইনের মামলা রয়েছে এবং আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে চুরি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে ২টি মামলা রয়েছে।
মাদক সেবনের সময় নিজ এলাকা থেকে কুখ্যাত মাদক কারবারি কালামকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে, ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শবনম বুবলি তাকে ১ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেন। কালামের বিরুদ্ধে পূর্বে মাদক, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মোট ১৩টি মামলা রয়েছে। অন্যদিকে, মাদক সেবনের সময় নিজ এলাকা থেকে কুখ্যাত মাদক কারবারি রাসেল মিয়া ওরফে লেবাকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হলে, তাকে ৩ মাসের সাজা প্রদান করে। রাসেলের বিরুদ্ধেও পূর্বে ৬টি মাদক মামলা রয়েছে।
একই অভিযানে গ্রেফতারকৃত রইচ উদ্দিন এবং সজিব ছিলেন চুরি মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি। পরে গ্রেফতারকৃত সকল আসামিকে একই দিনে কিশোরগঞ্জ জেলা বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, কুলিয়ারচর থানায় যোগদানের পর থেকে বিগত ২০ মাসে প্রায় অর্ধশত মাদকবিরোধী সফল অভিযান পরিচালনা করেছেন এসআই সুজন বিশ্বাস। এসব অভিযানে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধারসহ শতাধিক মাদক ব্যবসায়ীকে আইনের আওতায় এনেছেন। গড়ে প্রতি মাসে ৫ থেকে ৬টি সফল অভিযান চালাচ্ছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। এলাকার সচেতন মহলের মতে, এসআই সুজন বিশ্বাসের মতো থানার প্রতিটি অফিসার যদি মাদকের বিরুদ্ধে এমন কঠোর অবস্থান রাখেন, তাহলে দ্রুতই কুলিয়ারচর মাদক ও অপরাধমুক্ত হয়ে যাবে।
অভিযানের বিষয়ে কুলিয়ারচর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কাজী আরিফ উদ্দীন মন্তব্য করেন, "কুলিয়ারচরকে অপরাধমুক্ত রাখতে আমাদের এই ধরনের সাঁড়াশি অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। অপরাধী যেই হোক না কেন, তাকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।"
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন