০৯:৩৬ এম
আজও, অর্থাৎ মঙ্গলবার, ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) সংসদ ভবনের দিকে পদযাত্রা করবে। এটি টানা দ্বিতীয় দিনের মতো হচ্ছে। এই ঘোষণা, গত সোমবার গভীর রাতে, দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে করেছেন।
অভিজিৎ দিপকে বলেন, "আন্দোলন চলবে এবং বিক্ষোভকারীরা যন্তর মন্তরের অবস্থান কর্মসূচি থেকে সরে যাবেন না।"
সোমবার, দিনভর দিল্লির যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকায় বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এ সময় ইন্ডিয়া টুডে ডিজিটাল-এর সঙ্গে কথা বলেন অভিজিৎ দিপকে। মঙ্গলবার সংসদ অভিমুখে পদযাত্রা হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "আমরা আবার পদযাত্রা করব। আমরা এই বিক্ষোভস্থল ছেড়ে যাচ্ছি না।"
আরও পড়ুন: জাতিসংঘে মানবাধিকারভিত্তিক অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণের আহ্বান বাংলাদেশ
সোমবার, সকালে দিল্লি পুলিশ যন্তর মন্তরে বিক্ষোভকারীদের আগের মঞ্চ সরিয়ে দেয়। পরে সিজেপির কর্মী-সমর্থকেরা পুনরায় সেখানে জড়ো হন। তারা নতুন করে একটি তাঁবু এবং অস্থায়ী মঞ্চ তৈরি করে আন্দোলন শুরু করেন। গত ৬ জুন থেকে সিজেপির নেতাকর্মীরা যন্তর মন্তরে অবস্থান করছেন। তাদের প্রধান দাবি, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হবে। এর আগে, একই দাবিতে শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করেছিলেন। পরে, পুলিশ তাকে আটক করে সফদরজং হাসপাতালে নিয়ে যায়। সোমবার বৃষ্টির মধ্যে, আন্দোলন চালিয়ে যান বিক্ষোভকারীরা। বৃষ্টিতে ভিজে, অভিজিৎ দিপকে অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে মানবশৃঙ্খলের সামনে দাঁড়িয়ে স্লোগান দেন।
বিক্ষোভস্থলে থাকা সিজেপির নেতারা জানান, ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। তারা বলেন, পরবর্তী কর্মসূচি নিয়ে দলের মধ্যে আলোচনা চলছে। খুব শিগগিরই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে।
এদিকে, সিজেপি এবং সোনম ওয়াংচুক সংসদ ভবনের দিকে 'সংসদ চলো' কর্মসূচির ডাক দিয়েছিলেন। সোমবার ছিল সংসদের বর্ষাকালীন অধিবেশনের প্রথম দিন। এ কর্মসূচিতে হাজারো মানুষ অংশ নেন। তারা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে সংসদের দিকে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। এ সময়, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হয়। পুলিশের দাবি, বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ পাথর ছোড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে এবং লাঠিচার্জ চালায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুলিশি লাঠিচার্জে আহত বিক্ষোভকারীদের ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। তবে দিল্লি পুলিশের দাবি, সংঘর্ষে তাদের ১১৮ জনের বেশি সদস্য আহত হয়েছেন। দিনভর সংঘর্ষ ও বৃষ্টির পরও সোমবার রাত পর্যন্ত যন্তর মন্তরের পরিবেশ ছিল উত্তেজনাপূর্ণ। সেখানে অন্তত এক হাজার বিক্ষোভকারী এবং কয়েক শ পুলিশ সদস্য অবস্থান করছিলেন। মঙ্গলবার আবার পদযাত্রার চেষ্টা হলে পুলিশ কী ব্যবস্থা নেবে, এমন প্রশ্নের জবাবে দিল্লি পুলিশের এক উপপরিদর্শক (এসআই) বলেন, আগের মতোই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। প্রয়োজন হলে, আবারও ব্যারিকেড বসানো হবে।
এদিকে, ইন্ডিয়া টুডে টিভি জানিয়েছে, সোমবারের সংঘর্ষের ঘটনায় দিল্লি পুলিশ একাধিক প্রথম তথ্য প্রতিবেদন (এফআইআর) নথিভুক্ত করা শুরু করেছে। ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ এবং মোবাইল ফোনে ধারণ করা ভিডিও পরীক্ষা করা হচ্ছে। সহিংসতা পূর্বপরিকল্পিত ছিল কি না, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সোমবার সংসদ ভবনের কাছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে নিরাপত্তা বাহিনী লাঠি, ব্যাটন ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওই এলাকার কিছু অংশে ইন্টারনেট সেবাও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। সোমবার গভীর রাতেও যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকায় ইন্টারনেট সংযোগ ব্যাহত ছিল বলে ইন্ডিয়া টুডে ডিজিটাল জানিয়েছে। সংঘর্ষের মধ্যেই, সরকার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেয়। ইন্ডিয়া টুডে টিভি সূত্রের বরাতে জানায়, সোমবার সিজেপির প্রতিনিধিরা দুই দফায় কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডার সঙ্গে বৈঠক করেন। প্রথম বৈঠক হয় সকাল প্রায় ১১টা ৫০ মিনিটে। তখন জেপি নাড্ডা আন্দোলনকারীদের লিখিতভাবে দাবি জমা দিতে বলেন। পরে বিকেল ৪টার দিকে তারা আবার তার সঙ্গে দেখা করেন এবং তিন দফা দাবি সম্বলিত একটি লিখিত স্মারকলিপি তার হাতে তুলে দেন।
আরও পড়ুন: বিশ্ববাজারে আবারও বাড়ল তেলের দাম
বহু বছর পর, দিল্লিতে এত বড় মাত্রার সড়ক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটল। এর মধ্যেই, আবিজিৎ দিপকে মঙ্গলবার আবার সংসদ অভিমুখে পদযাত্রার ঘোষণা দিয়েছেন। পাশাপাশি, যন্তর মন্তরে অবস্থান কর্মসূচিও চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন। ফলে মঙ্গলবার পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, সেদিকে নজর রয়েছে প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহলের।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন