বৃহস্পতিবার, ২৩শে জুলাই, ২০২৬ ইং
১০:৫২ পি.এম
জামালপুর সদর উপজেলায় জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির জুলাই পদযাত্রা ও পথসভা পাঁচ দফা দাবিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে। গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন এবং সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ সহ আরও বেশ কয়েকটি দাবির সাথে এই অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়।
পথসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, “গণঅভ্যুত্থানে আমরা পরিবর্তন চেয়েছিলাম। দেশে কোনো পরিবর্তন হয়নি। মাদক কারবারি, চাঁদাবাজি, দলীয়করণ এবং জমি দখল অব্যাহত রয়েছে।”
নাহিদ ইসলাম এরপর বলেন, “যদি আপনার জমি দখল হয়ে যায়, তাহলে আপনি কোথায় যাবেন? মিডিয়া, পুলিশ, আদালত — সব জায়গায় দলীয়করণ ঘটে গেলে কোথাও ন্যায়বিচার পাবেন না। এই সরকার কোনো পরিবর্তনের সরকার নয়। রাজনৈতিক সংস্কার বাস্তবায়ন করতে হলে এনসিপিকে ক্ষমতায় আনতে হবে। আমাদের পার্লামেন্টে মাত্র আটজন সদস্য রয়েছেন। এই আটজন জনগণের জন্য একশো জনের ভূমিকা পালন করছে। এনসিপি প্রধান বিরোধী দল হলে, জনগণের পক্ষে আরও বেশি ভূমিকা রাখতে পারত। আগামীতে আমাদের সমর্থন দিন, এনসিপি চাঁদাবাজি ও মাদক নির্মূল করবে।”
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, “এতদিন পর রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ করার বিষয়টি ভাবা হচ্ছে। বিএনপি পাঁচ মাসে আওয়ামী লীগের রাষ্ট্রপতি পরিবর্তন করতে পারেনি। যদি তারা রাষ্ট্রপতি পরিবর্তন করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে তারা কীভাবে রাষ্ট্র পরিবর্তন করবে? পদত্যাগের সঙ্গে সঙ্গে তাকে গ্রেপ্তার করাও প্রয়োজন। যোগ্য ও নিরপেক্ষ একজনকে রাষ্ট্রপতি হওয়ার জন্য নির্বাচন করতে হবে, কিন্তু বিএনপি তা করতে চায় না।”
নাহিদ ইসলাম বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্ররা অগ্রসর ছিল। পেছন থেকে সর্বস্তরের জনতা সহযোগিতা করেছিল। জামালপুরে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে সম্প্রতি অগ্নিসংযোগের ঘটনাটি আমরা নিন্দা জানাই। এই ঘটনায় কতজন গ্রেপ্তার হয়েছে পুলিশ প্রশাসনের কাছে আমরা জানতে চাই। ফ্যাসিস্টরা তাণ্ডব চালালে তার দায় পুলিশ প্রশাসন এবং সরকারকেই নিতে হবে।”
পথসভায় এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক পারছিস আলম, যুগ্ম সদস্যসচিব লুতফুর রহমান, জাতীয় ছাত্রশক্তির সভাপতি জাহিদ আহসান সহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুষ্টিয়ার খোকসায় আন্তঃনগর বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রা বাতিলের প্রতিবাদে (স্টপেজ স্থগিত) মানববন্ধন কর্মসূচি ও রেল লাইন অবরোধ পালিত হয়। সাড়ে তিন ঘণ্টা পরে জেলা প্রশাসন ও রেল কর্মকর্তাদের আশ্বাসের পর অবরোধ কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হয়।
বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে তিনটা থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত খোকসা ষ্টেশন ঘিরে এই কর্মসূচি পালিত হয়। যেখানে হাজার হাজার জনতা ব্যানার ফেষ্টুন নিয়ে অংশগ্রহণ করেন।
কর্মসূচি চলাকালে রাজবাড়ীর পাংশায় রাজধানী থেকে রাজশাহী গামী আন্তঃনগর মধুমতি এক্সপ্রেস ট্রেন এবং কুমারখালী স্টেশনে রাজধানীর কমলাপুর গামী বেলাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনসহ মোট তিনটি ট্রেন আটকা পড়ে। ফলে কয়েকশ যাত্রী ভোগান্তিতে পড়ে। এ সময় আন্দোলনকারীরা অভিযোগ জানান যে, জামায়াতের এমপি আফজাল হোসেন কুষ্টিয়া ৪ আসনের বেনাপোল ট্রেনের যাত্রা বিরতি বাতিলের জন্য ডিও লেটার দিয়েছেন এবং স্লোগান দিতে থাকেন।
বিকাল পৌনে পাঁচটার দিকে কুষ্টিয়া ৪ আসনের জামায়াতের সংসদ সদস্য আফজাল হোসেন ও খোকসা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহম্মদ আলাউদ্দিন আন্দোলনকারীদের শান্ত করা চেষ্টা করেন। সংসদ সদস্য দুই দফায় প্রায় ২০ মিনিট বক্তব্য দেন এবং নিজেকে নির্দোষ প্রমানের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন। এসময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং আন্দোলনকারীরা 'ভুয়া ভুয়া' বলে স্লোগান দিতে থাকেন।
সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জাকির হোসেন এবং রাজবাড়ীর সহকারী নির্বাহী প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তারা রেলওয়ের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেন। রেলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আশ্বাস দেন যে, আগামী সোমবারের মধ্যে বেনাপোল এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রাবিরতির চিঠি (আদেশ) বাতিল করে নতুন চিঠি জারি করা হবে। পরে আন্দোলনকারীরা তাদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করেন।
রেল লাইন অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে বক্তব্য রাখেন খোকসা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনিস উজ জামান স্বপন, উপজেলা জামায়াতের আমির নজরুল ইসলাম, মনিরুজ জামান কাজল, আরিফুল আলম তসর, সেলিম রেজা, সুনাম মোরশেদ, শরিফুল ইসলাম শরিফ এবং খোকন হোসেন প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জুলাই এসেছে বৈষম্যমুক্ত ও ন্যায়-ইনসাফের সমাজ প্রতিষ্ঠা, খুন, গুম, হত্যা, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও আয়নাঘর থেকে মুক্তির জন্য।
তিনি বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর মিরপুর-১০ এলাকায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর মিরপুর জোন আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন। সভায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার দাবির বিষয়েও তিনি কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদ রাষ্ট্র ও জাতির ঘাড়ে জগদ্দল পাথরের মতো চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ৭ জানুয়ারি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার পর অনেকের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু আল্লাহ তা’য়ালা হতাশ হতে নিষেধ করেছেন, এরপরই জুলাই দেশে এবং জাতির মুক্তির পয়গাম নিয়ে আসেন। তিনি বলেন, জুলাই এসেছে ঘূর্ণিঝড় হয়ে, যা ফ্যাসিবাদকে তাসের ঘরের মতো উড়িয়ে দিয়েছে।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশ ছেড়ে যাওয়ার পর তিনি চিন্তায় ছিলেন ‘এই আসলাম’ বলেই ফিরেছেন। এভাবে ১৩ বার ফেল করেছন। শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যুব সমাজ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে এবং তারা ফাঁসির রশি নিয়ে প্রস্তুত আছে। তিনি প্রশাসনকে আহ্বান জানান যে, জুলাই গণহত্যার বিচারের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।
বর্তমান সরকার ও সংসদ নিজেদেরকে জুলাই বিপ্লবের ফসল হিসেবে উল্লেখ করে, ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকারের প্রতি জুলাই বিপ্লবের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে হবে। তবে তিনি শুধুমাত্র বিচার নয় বরং জুলাই যোদ্ধাদের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মানে ভূষিত করতে হবে। আহত এবং পঙ্গুত্ববরণকারী যোদ্ধাদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যও সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, জুলাই শহীদদের জাতীয় বীরের মর্যাদা দিতে হবে। তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্যও যথাযথ রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শন করতে হবে। তিনি দাবি করেন, সরকারের কাছে যে, জুলাই যোদ্ধাদের নামে মিরপুরসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থান ও সড়কের নামকরণ করতে হবে, যাতে তাদের পরিবার গর্ববোধ করতে পারে।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমানের পরিচালনায় ছিল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাসেম আরমান এমপি, কর্নেল (অব.) আব্দুল বাতেন এমপি, শহীদ মাহফুজুর রহমানের পিতা আব্দুল মান্নান, শহীদ সাংবাদিক হাসান মেহেদীর পিতা মোশাররফ হোসেন, সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক হারুন অর রশীদ খান এবং উত্তরের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মূসা প্রমুখ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
খান বাহাদুর আহ্ছানউল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স সেল’র উদ্যোগে 'সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও মূল্যায়ন' শীর্ষক একটি সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে সেমিনারের মুখ্য আলোচক হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ডেজিগনেট) প্রফেসর ড. আনিছুর রহমান পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও মূল্যায়নের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উপস্থাপন করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের গুণগত মান নিশ্চিত করতে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও মানসম্মত পরীক্ষা ব্যবস্থা অপরিহার্য। আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন উচ্চশিক্ষা নিশ্চিত করতে ফলাফলভিত্তিক শিক্ষা এবং বিজ্ঞানসম্মত মূল্যায়ন পদ্ধতির কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও উত্তরপত্র মূল্যায়নের ক্ষেত্রে ন্যায্যতা, বস্তুনিষ্ঠতা, নির্ভুলতা এবং শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মেধা যাচাইয়ের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।
এ প্রসঙ্গে তিনি পরীক্ষকের দায়িত্বকে বিচারকের দায়িত্বের সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি বলেন, উত্তরপত্র মূল্যায়নের সময় ব্যক্তিগত পক্ষপাত বা আবেগ নয়, বরং নিরপেক্ষতা, ন্যায়বিচার এবং পেশাদারিত্বই হওয়া উচিত একজন পরীক্ষকের প্রধান বিবেচ্য বিষয়।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন আইকিউএসি-এর পরিচালক প্রফেসর ড. আনোয়ারুল হক জোয়ারদার। তিনি বলেন, মানসম্মত উচ্চশিক্ষা নিশ্চিতকরণে একটি কার্যকর পরীক্ষা ও মূল্যায়ন ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও মানসম্মত মূল্যায়নের মাধ্যমেই শিক্ষার্থীদের প্রকৃত জ্ঞান, দক্ষতা এবং সক্ষমতা যথাযথভাবে নিরূপণ করা সম্ভব।
সেমিনারে প্রশ্নপত্র প্রণয়নের মৌলিক নীতিমালা, প্রশ্নের মান ও ভারসাম্য রক্ষা, ব্লুমস ট্যাক্সোনমি অনুসরণ, ফলাফলভিত্তিক শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও মূল্যায়ন পদ্ধতি, উত্তরপত্র মূল্যায়নে নিরপেক্ষতা, অভিন্ন মূল্যায়ন মানদণ্ড অনুসরণ এবং পরীক্ষার গুণগত মান নিশ্চিতকরণের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
এ সময় অংশগ্রহণকারী শিক্ষকবৃন্দ বিষয়ভিত্তিক বিভিন্ন মতামত, অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ উপস্থাপন করেন এবং প্রাণবন্ত আলোচনা ও প্রশ্নোত্তর পর্বে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।
সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার এস এম আতিয়ার রহমান, ইংরেজি বিভাগের অ্যাডভাইজর প্রফেসর ড. গাজী আবদুল্লাহেল বাকী, আইকিউএসি-এর অতিরিক্ত পরিচালক ড. মো. মঈন উদ্দিন ও মো. মুস্তাফিজুর রহমান, বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষকবৃন্দ এবং অ্যাডজাঙ্কট ফ্যাকাল্টিসহ ৪০ জন শিক্ষক অংশগ্রহণ করেন।
সেমিনারটি অংশগ্রহণকারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, প্রাণবন্ত আলোচনা ও মতবিনিময়ের মধ্য দিয়ে সফলভাবে সম্পন্ন হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ছবি এইআই নির্মিত।
ভারতের নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে যে বিক্ষোভ চলছে, সেটিতে এবার একটি অভিনব ইন্টারনেট ট্রেন্ড যুক্ত হয়েছে। এই বিক্ষোভে জেন-জি আন্দোলনকারীরা বিখ্যাত নরওয়েজিয়ান ফুটবলার আর্লিং হালান্ডকে প্রতিবাদের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছেন।
কিছু সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী এবং কৌতুকশিল্পী মজা করে বলছেন, যে বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্রের ভাগ্য এখন নাকি নির্ভর করছে নরওয়ের ফুটবলার আর্লিং হালান্ডের ওপর।
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে আলোচনায় থাকা ২৫ বছর বয়সী এই তারকা স্ট্রাইকার গত দুই সপ্তাহে ইন্টারনেটে মজার ছলে ‘পিপলস প্রিন্সেস’ উপাধি পেয়েছেন। আর সেই মিম সংস্কৃতিতে তাকে এখন ভারতের শিক্ষা সংকটের ‘সমাধানকারী’ হিসেবে তুলে ধরা হচ্ছে।
সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে নরেন্দ্র মোদির নাম ব্যবহার করে একটি অ্যাকাউন্ট থেকে মজা করে পোস্ট করা হয়, ‘আমার নাম নরেন্দ্র মোদি। হালান্ড যদি এই পোস্টে রিপ্লাই দেয়, তবে আমি ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করব।’
পোস্টটিতে দ্রুত হাজার হাজার মন্তব্য জমা পড়ে। একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘একটা দেশকে সাহায্য করো।’ আরেকজন মজা করে বলেছেন, ‘সত্যি বলতে, হালান্ডের কমেন্ট করার সম্ভাবনা প্রধানের পদত্যাগ করার চেয়ে ১০০ গুণ বেশি।’
কৌতুকশিল্পী অনির্বাণ দাশগুপ্তও যোগ দেন এই মিমে। তিনি লেখেন, ‘আর্লিং, এটাকে হেড করে গোল করো—এটাই হবে মৌসুমের সেরা গোল।’ সোশ্যাল মিডিয়ার এই ট্রেন্ড রাস্তায় চলমান বিক্ষোভেও প্রভাব ফেলেছে। মুম্বাইয়ের বিক্ষোভে শিক্ষার্থীরা হালান্ডের বিখ্যাত ‘ভাইকিং রো’ মেডিটেশন সেলিব্রেশন অনুকরণ করেন।
মূলত, রাজনৈতিক নেতা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় তরুণ প্রজন্ম তাদের হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশের জন্য মিম এবং ইন্টারনেট সংস্কৃতিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। এই ঘটনাটি প্রমাণ করে, ভারতের এই ‘প্রথম বড় জেন-ജി আন্দোলন’ স্লোগান ও বক্তব্যের পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ার ভাইরাল কনটেন্ট দিয়েও সমানভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
সূত্র: টেলিগ্রাফ ইন্ডিয়া।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ