প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জুলাই এসেছে বৈষম্যমুক্ত ও ন্যায়-ইনসাফের সমাজ প্রতিষ্ঠা, খুন, গুম, হত্যা, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও আয়নাঘর থেকে মুক্তির জন্য।
তিনি বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর মিরপুর-১০ এলাকায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর মিরপুর জোন আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন। সভায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার দাবির বিষয়েও তিনি কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদ রাষ্ট্র ও জাতির ঘাড়ে জগদ্দল পাথরের মতো চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ৭ জানুয়ারি নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার পর অনেকের মধ্যে হতাশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু আল্লাহ তা’য়ালা হতাশ হতে নিষেধ করেছেন, এরপরই জুলাই দেশে এবং জাতির মুক্তির পয়গাম নিয়ে আসেন। তিনি বলেন, জুলাই এসেছে ঘূর্ণিঝড় হয়ে, যা ফ্যাসিবাদকে তাসের ঘরের মতো উড়িয়ে দিয়েছে।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশ ছেড়ে যাওয়ার পর তিনি চিন্তায় ছিলেন ‘এই আসলাম’ বলেই ফিরেছেন। এভাবে ১৩ বার ফেল করেছন। শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, যুব সমাজ অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে এবং তারা ফাঁসির রশি নিয়ে প্রস্তুত আছে। তিনি প্রশাসনকে আহ্বান জানান যে, জুলাই গণহত্যার বিচারের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।
বর্তমান সরকার ও সংসদ নিজেদেরকে জুলাই বিপ্লবের ফসল হিসেবে উল্লেখ করে, ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকারের প্রতি জুলাই বিপ্লবের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে হবে। তবে তিনি শুধুমাত্র বিচার নয় বরং জুলাই যোদ্ধাদের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মানে ভূষিত করতে হবে। আহত এবং পঙ্গুত্ববরণকারী যোদ্ধাদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যও সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, জুলাই শহীদদের জাতীয় বীরের মর্যাদা দিতে হবে। তাদের পরিবারের সদস্যদের জন্যও যথাযথ রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শন করতে হবে। তিনি দাবি করেন, সরকারের কাছে যে, জুলাই যোদ্ধাদের নামে মিরপুরসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থান ও সড়কের নামকরণ করতে হবে, যাতে তাদের পরিবার গর্ববোধ করতে পারে।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমানের পরিচালনায় ছিল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাসেম আরমান এমপি, কর্নেল (অব.) আব্দুল বাতেন এমপি, শহীদ মাহফুজুর রহমানের পিতা আব্দুল মান্নান, শহীদ সাংবাদিক হাসান মেহেদীর পিতা মোশাররফ হোসেন, সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অধ্যাপক হারুন অর রশীদ খান এবং উত্তরের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মূসা প্রমুখ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন