০৬:১৫ পি.এম
দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিদ্যমান শিক্ষাক্রম (কারিকুলাম) সংস্কার করে আসন্ন ২০২৮ সাল থেকে এতে আমূল পরিবর্তন আনা হচ্ছে। শিক্ষাব্যবস্থাকে একটি মূল্যবোধভিত্তিক (Value-Based) কাঠামোর ওপর পুনর্গঠন করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রবিবার (২১ জুন) রাজধানীর মিরপুরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে (ডিপিই) আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এই সংস্কার যাত্রার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
‘Primary Curriculum Development: Guiding Principles for Textbook, Teacher Guide, Remedial Guide, and Video Lesson Design’ শীর্ষক এই সভায় সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো এই শিক্ষাক্রম সংস্কারের কাজ।
আরও পড়ুন: পিরোজপুরে লাশ দাফনে বাধা, নাহিদ ইসলামের নিন্দা ও ইনসাফের আহ্বান
মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধের ওপর দাঁড়িয়ে পুনর্গঠন করা হবে। নতুন শিক্ষাক্রমে পারিবারিক মূল্যবোধ, নৈতিক শিক্ষা, নাগরিক দায়িত্ববোধ এবং ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক চেতনাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
একই সঙ্গে দেশের প্রাথমিক শিক্ষায় মৌলিক সাক্ষরতা ও সংখ্যাজ্ঞান (Foundational Literacy and Numeracy-FLN) নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, নতুন শিক্ষাক্রম প্রণয়নের ক্ষেত্রে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের বাস্তব শেখার সক্ষমতা, পাঠদক্ষতা, গণিত দক্ষতা এবং জীবনঘনিষ্ঠ শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। লক্ষ্যটি ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘দ্বিতীয় বা তৃতীয় শ্রেণির একজন শিক্ষার্থীকে কোনো বই পড়তে দিলে সে যেন তা সহজে বুঝে পড়তে পারে, নিজের ভাষায় তা প্রকাশ করতে পারে এবং তার মধ্যে যেন শেখার প্রতি এক ধরনের সহজাত আগ্রহ তৈরি হয়—আমরা সেই লক্ষ্য নিয়েই কাজ করছি।’
ববি হাজ্জাজ আরও বলেন, নতুন শিক্ষাক্রমে প্রতিটি শ্রেণির জন্য স্পষ্ট ‘লার্নিং আউটকাম’ (শিখনফল) এবং পঞ্চম শ্রেণি শেষে শিক্ষার্থীদের অর্জনযোগ্য দক্ষতার একটি নির্দিষ্ট ‘এক্সিট প্রোফাইল’ নির্ধারণ করা হবে।
আরও পড়ুন: বিদেশি ঋণ শোধে চাপ বাড়ছে, সহায়তার অর্থছাড় কমেছে
এর ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী সময়ে পাঠ্যপুস্তক, শিক্ষক নির্দেশিকা, মূল্যায়ন পদ্ধতি ও অন্যান্য শিক্ষাসামগ্রী তৈরি করা হবে।
ডিজিটাল শিক্ষার প্রসারে সরকারের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নতুন শিক্ষাক্রমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য ভিডিও লেসন, ডিজিটাল কনটেন্ট এবং সহায়তাকারী শিক্ষাসামগ্রী তৈরি করা হবে। বিশেষ করে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা সম্পূর্ণভাবে খেলাধুলা ও আনন্দভিত্তিক শিক্ষণ পদ্ধতির ওপর পরিচালিত হবে।
অবকাঠামোগত উন্নয়নের ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, আগামী ১ বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘ইন্টারেক্টিভ ফ্ল্যাট প্যানেল’ (IFP) প্রদান করা হবে এবং আগামী ৩ বছরের মধ্যে প্রত্যেকটি শ্রেণিকক্ষকে এই প্রযুক্তির আওতায় আনা হবে।
মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর, জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ), ব্র্যাক শিক্ষা কর্মসূচি, গণসাক্ষরতা অভিযান (ক্যাম্পে) এবং প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
আরও পড়ুন: চকরিয়ায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা আকিত হোসেন সজিব গ্রেফতার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন