ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

জাতীয় সিভিল এভিয়েশন মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের কার্যক্রম শুরু


জাতীয় সিভিল এভিয়েশন মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের কার্যক্রম শুরু

দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতের দীর্ঘমেয়াদি এবং পরিকল্পিত উন্নয়নের উদ্দেশ্যে প্রথমবারের মতো সমন্বিত সিভিল এভিয়েশন মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো।

আজ রোববার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘সিভিল এভিয়েশন মাস্টার প্ল্যানিং ওভারভিউ’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধনের মাধ্যমে এই মহাপরিকল্পনার প্রণয়নের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (আইসিএও)-এর দিকনির্দেশনায় এবং বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সার্বিক তত্ত্বাবধানে, আইসিএও গোল্ড সনদপ্রাপ্ত সিভিল এভিয়েশন একাডেমি, বাংলাদেশ এই কর্মশালার আয়োজন করে।

আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না

কর্মশালায় জানানো হয়, এই মহাপরিকল্পনা হবে দেশের বিমান চলাচল খাতের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় রোডম্যাপ। এই রোডম্যাপ আগামী ২০ থেকে ৩০ বছর অথবা তারও বেশি সময়ের জন্য উন্নয়ন লক্ষ্য, অগ্রাধিকার এবং কৌশল নির্ধারণ করবে। এর আওতায় থাকবে বিমানবন্দর অবকাঠামো উন্নয়ন, এয়ার নেভিগেশন সেবার আধুনিকায়ন, এয়ারলাইন্স খাতের সম্প্রসারণ, দক্ষ মানবসম্পদ গঠন, নিরাপত্তা ও সুরক্ষা জোরদার এবং পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিনির্ভর উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেন, "এ মহাপরিকল্পনা দেশের দ্রুত বিকাশমান বিমান চলাচল খাতের সমন্বিত ও ভবিষ্যতমুখী উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে।"

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতার।

কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বেবিচকের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক। স্বাগত বক্তব্য দেন বেবিচকের সদস্য (অপারেশনস অ্যান্ড প্ল্যানিং) এয়ার কমোডর আবু সাঈদ মেহবুব খান।

আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম

কর্মশালায় আইসিএওর বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ এল আমিরি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সিভিল এভিয়েশন মাস্টার প্ল্যানের সফল অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের বিমান খাতের সম্ভাবনা, চ্যালেঞ্জ এবং কার্যকর একটি জাতীয় রোডম্যাপ তৈরির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে বাংলাদেশের কোনো সমন্বিত জাতীয় সিভিল এভিয়েশন মাস্টারপ্ল্যান নেই। এই ঘাটতি পূরণে বেবিচক এই মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে, যা আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

তারা আরও জানান, মহাপরিকল্পনা প্রণয়নে আইসিএও প্রয়োজনীয় কারিগরি ও বিশেষজ্ঞ সহায়তা দিতে ইতোমধ্যে সম্মতি দিয়েছে।

কর্মশালায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী, নৌবাহিনী, বিমান চলাচল বিশেষজ্ঞ এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

আরও পড়ুন: শেরপুরে বাসের চাপায় সিএনজি যাত্রী নিহত, আহত ৪

কর্মকর্তারা এ উদ্যোগকে বাংলাদেশের বিমান চলাচল খাতের ইতিহাসে একটি মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন। তাদের মতে, এ কর্মশালা খাতটির জন্য সমন্বিত জাতীয় মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রয়াস।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে ১১ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সরকার : মন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২১শে জুন, ২০২৬ ইং

০৬:২৩ পি.এম


মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে ১১ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সরকার : মন্ত্রী

সরকার দেশের মৎস্যসম্পদের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে চলতি অর্থবছরে বিভিন্ন পরিকল্পনার আওতায় ১১টি উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

মন্ত্রী আজ সংসদে হবিগঞ্জ-৪ আসনের সরকারি দলের সদস্য এস. এম. ফয়সলের টেবিলে উপস্থাপিত এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান।

মন্ত্রী আরও জানান, মৎস্য খাতের উন্নয়ন, উৎপাদন বৃদ্ধি, জলজ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার লক্ষ্যে বিভিন্ন অঞ্চলে বিশেষায়িত প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

গৃহীত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে- রাজশাহী বিভাগে জলবায়ু সহনশীল মৎস্যসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প, ময়মনসিংহ বিভাগে টেকসই মৎস্যসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প, খরা-প্রবণ রংপুর বিভাগে টেকসই মৎস্যচাষ সম্প্রসারণ প্রকল্প, বাংলাদেশের মৎস্যসম্পদ জরিপ প্রকল্প, নির্বাচিত বাঁওর এলাকায় সমাজভিত্তিক মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রকল্প এবং বাংলাদেশের সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ জরিপ ও মজুদ নিরূপণ জোরদারকরণ প্রকল্প।

এছাড়া অভ্যন্তরীণ উন্মুক্ত জলাশয়ে দেশি পাঙ্গাস ও পোয়া মাছের স্থায়িত্বশীল ব্যবস্থাপনা প্রকল্প, চা-বাগান ও পার্শ্ববর্তী এলাকার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পুষ্টিমান উন্নয়নে মৎস্য সম্প্রসারণ প্রকল্প, বৃহত্তর কুমিল্লা ও নোয়াখালী জেলায় মৎস্য উন্নয়ন প্রকল্প, হাওর অঞ্চলে মৎস্যসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প এবং অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ে মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে জলাশয় সংস্কার ও আবাসস্থল উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ আরও জানান, মোট ১ হাজার ৮৭৫ কোটি ৩২ লাখ টাকা ব্যয়ে এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি জানান, হবিগঞ্জ জেলার জন্য পৃথক কোনো বরাদ্দ না থাকলেও 'হাওর অঞ্চলে মৎস্যসম্পদ উন্নয়ন প্রকল্প'-এর আওতায় জেলাটি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং প্রকল্পের সুবিধা পাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নকলার আলমগীর স্বেচ্ছাসেবক থেকে হতে চান জনপ্রতিনিধি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক

রবিবার, ২১শে জুন, ২০২৬ ইং

০৬:২৬ পি.এম


নকলার আলমগীর স্বেচ্ছাসেবক থেকে হতে চান জনপ্রতিনিধি

শেরপুরের নকলা উপজেলার ৯নং চন্দ্রকোনা ইউনিয়নের জানকিপুর গ্রামের ঐতিহ্যবাহী ডাক্তার বাড়ির মো. বেলায়েত হোসেনের ছেলে আলমগীর হোসেন স্বেচ্ছাসেবক থেকে হতে চান জনপ্রতিনিধি। সে চন্দ্রকোনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে লড়াই করার জন্য প্রার্থীতা ঘোষণা করেছেন। এরই মধ্যে সাধারণে ভোটারদের নজর কেড়েছেন তিনি।

ইউনিয়নবাসীর অনেকে জানান, আলমগীর হোসেনের মতো তরুণ শিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করলে ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য উপযুক্ত প্রার্থী পাবেন। সে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচিত হলে ইউনিয়নের সার্বিক উন্নয়নের পথ সুগম হবে বলে অনেকে মন্তব্য করেন।

তথ্য মতে, সম্ভাব্য ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী ৩৫ বছর বয়সী আলমগীর হোসেন ছোট কাল থেকেই বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সাথে জড়িত। কলেজ জীবনে পা দিয়েই স্বেচ্ছাসেবার পাশাপাশি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর সহযোগী বিভিন্ন সংগঠনের সাথে সরাসরি জড়িত হয়ে পড়েন। তার রাজনৈতিক কর্মক্ষতায় বর্তমানে সে জেলা জিয়া মঞ্চের সহ-সভাপতি, উপজেলা তারেক জিয়া প্রজন্ম দলের সদস্য, চন্দ্রকোনা ইউনিয়ন তারেক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক, ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া সাম্যধারা চন্দ্রকোনা ইউনিয়ন কমিটির আহবায়ক, চন্দ্রকোনা বাজার কমিটির (বণিক সমিতি) সদস্য, জানকিপুর সার্বজনীন গোরস্তান ও ঈদগাহ মাঠের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে নিষ্ঠার সহিত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এলাকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের সাথে নিজেকে জড়িত করে সবার হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন।

আলমগীরের দেয়া তথ্য মতে, সে স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা, শতবর্ষী মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এস.এস.সি, টেকনিক্যাল এন্ড বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজ থেকে এইচ.এস.সি, উপজেলা সদরের ডিগ্রী কলেজ থেকে বি.এস.এস এবং বৃহত্তর ময়মনসিংহের সর্ববৃহৎ ও পুরাতন ঐতিহ্যবাহী আনন্দ মোহন কলেজ থেকে সমাজ বিজ্ঞান বিষয়ে এম.এ ডিগ্রী অর্জন করেন। এরপরে কর্মজীবনে প্রবেশ করেন। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে আলমগীর হোসেন দ্বিতীয়। সে ব্যক্তি জীবনে বিবাহিত ও দুই মেয়ে সন্তানের জনক।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির উপর আস্থা-বিশ্বাস রেখে নির্বাচনী এলাকার জনগণের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে চলছেন। তিনি নির্বাচিত হলে, ইউনিয়নের মধ্যে বিরাজমান সকল বৈষম্য দূরীকরণে সকলকে সাথে কাজ করবেচন। এক অপরের হাতে হাত রেখে মিলেমিশে সমাজ ও ইউনিয়নের উন্নয়নে কাজ করবেন বলে জানান চন্দ্রকোনা ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী আলমগীর হোসেন। সবার কাছে দোয়া ও ইউনিয়নবাসীর সমর্থন কামনা করেছেন তিনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্পিকার মামুনুল হককে নিয়ে দেওয়া মন্তব্য এক্সপাঞ্চ করেছেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২১শে জুন, ২০২৬ ইং

০৬:২৮ পি.এম


স্পিকার মামুনুল হককে নিয়ে দেওয়া মন্তব্য এক্সপাঞ্চ করেছেন

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের আমির মাওলানা মামুনুল হককে কেন্দ্র করে জাতীয় সংসদে বিএনপির সংসদ সদস্য (এমপি) খোন্দকার আবু আশফাকের মন্তব্য এক্সপাঞ্চ করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। তিনি আরও বলেছেন, একজন রাজনৈতিক নেতার জীবনের অন্ধকার অংশ সংসদে আলোচিত হওয়া উচিত নয়, এ ধরনের বক্তব্যও কার্যবিবরণী থেকে বাদ দিয়েছেন তিনি।

রোববার (২১ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের ১১তম দিনে স্পিকার এই তথ্য জানান।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বাজেট আলোচনা চলাকালীন ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য খোন্দকার আবু আশফাক বলেছেন, মাওলানা মামুনুল হক অনেক বড় বড় কথা বলেন। বাজেট নিয়ে তিনি সরকারের পতন ঘটাবেন, অনেক কিছু ঘটাচ্ছেন। কিন্তু তিনি যে গাজীপুরে একটি নারীসহ ধরা পড়েছেন, মুতা বিয়ের নামে, সেটি আসলে কী ছিল? সেদিন সংসদে আলোচনা চলাকালীন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছিলেন, মাওলানা মামুনুল হকের এই বিষয়টি সংসদের কার্যবিবরণীতে আসার কোনো প্রয়োজন নেই। তার অবস্থান এখনও পরিষ্কার নয়। একজন রাজনৈতিক নেতার জীবনের অন্ধকার অংশ এখানে আলোচিত হওয়া উচিত নয়।

এরপর রোববার অধিবেশনে স্পিকার সংসদকে উদ্দেশ্য করে বলেন, গত বৃহস্পতিবার ঢাকা-১ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য খোন্দকার আবু আশফাক হেফাজতে ইসলামীর নেতা মাওলানা মামুনুল হক সম্পর্কে ‘কথিত পরকীয়া’ নিয়ে দুই-একটি মন্তব্য করেছেন, যা অনভিপ্রেত। বলা হয়েছে যার সম্পর্কে, তার সংসদে এসে আত্মপক্ষ সমর্থন করার সুযোগ নেই, তাই তার সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করা উচিত নয়। এই কারণে আবু আশফাকের বক্তব্য এক্সপাঞ্চ করা হয়েছে।

স্পিকার আরও বলেন, কোনো ব্যক্তির জীবনের অন্ধকার অধ্যয়ন সম্পর্কে তার নিজের মুখে যে কথাটি এসেছে সেটিও এক্সপাঞ্চ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে বাজেট বক্তব্যসহ অন্যান্য বক্তৃতায় সংসদ সদস্যদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানালেন তিনি। যিনি এখানে এসে নিজেকে ডিফেন্ড করা সম্ভব নয়, তার বিরুদ্ধে যেন বিরূপ মন্তব্য করা না হয়।

এদিকে পয়েন্ট অব অর্ডারে কিশোরগঞ্জ-২ আসনের এমপি মো. জালাল উদ্দীন একটি বিষয় উত্থাপন করেন। চলতি সংসদে গত ১৪ জুন নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল মুনতাকিম বাজেটের ওপর আলোচনা করতে গিয়ে নিজেকে শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান দাবি করেছেন, যা অসত্য, কারণ তার বাবা এখনও জীবিত। এ অসত্য বিবৃতিটি সংসদের কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্চ করার দাবি জানান তিনি।

জবাবে স্পিকার বলেন, এটি পয়েন্ট অব অর্ডার নয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য তার চেম্বারে এসে দেখা করেছেন এবং বলেছেন যে এটি ভুলক্রমে মুখ থেকে বেরিয়ে গেছে। ওই সংসদ সদস্য নিজের ভুলের জন্য দুঃখ প্রকাশ করায় এটিকে অনিচ্ছাকৃত ভুল বা ‘স্লিপ অব টাং’ হিসেবে বিবেচনা করে সংসদের কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্চ করা হবে।

এরপর আরেকটি পয়েন্ট অব অর্ডারে মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন অভিযোগ করেন, দুদিন আগে মুন্সিগঞ্জে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান ওই এলাকার মানুষকে কটাক্ষ করে চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বের অভিযোগ এনেছেন, যা মুন্সিগঞ্জের মানুষের ঐতিহ্যের ওপর আঘাত। বিরোধীদলীয় নেতা সংসদে থাকলে এর ভিত্তিতে কথা বলবেন।

তবে স্পিকার এ দাবি নাকচ করে বলেন, এটি কোনো পয়েন্ট অব অর্ডার হতে পারে না। দেশে বাকস্বাধীনতা রয়েছে এবং রাজনীতিবিদরা বাইরে অনেক কিছু বলেন। সংসদের বাইরের বিষয়গুলোর জবাব সংসদের বাইরেই ভালো। সংসদের ভেতরে যদি কোনো আপত্তিকর বক্তব্য দেওয়া হয় বা কারও নাম উল্লেখ করা হয়, তবে বিধিমোতাবেক জবাব দেওয়ার সুযোগ থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সার্বভৌমত্ব ও দেশমাতৃকায় সুরক্ষার শপথ নিয়েছেন নবীন নৌ কর্মকর্তারা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ২১শে জুন, ২০২৬ ইং

০৬:২৮ পি.এম


সার্বভৌমত্ব ও দেশমাতৃকায় সুরক্ষার শপথ নিয়েছেন নবীন নৌ কর্মকর্তারা

মাতৃভূমির সুরক্ষা, জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণ এবং সমুদ্রসীমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মহান ব্রত নিয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অগ্রযাত্রায় যুক্ত হয়েছেন ৬১ জন নবীন কর্মকর্তা।

আজ রবিবার ঐতিহ্যবাহী রীতি অনুযায়ী চট্টগ্রামে বাংলাদেশ নেভাল একাডেমিতে মিডশিপম্যান ২০২৩-বি এবং ডাইরেক্ট এন্ট্রি অফিসার ২০২৬-এ ব্যাচের গৌরবোজ্জ্বল, দৃষ্টিনন্দন ও বর্ণাঢ্য গ্রীষ্মকালীন রাষ্ট্রপতি কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়।

নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে মনোজ্ঞ কুচকাওয়াজ পরিদর্শন ও সালাম গ্রহণ করেন। এই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ২০২৩-বি ব্যাচের ৫৪ জন মিডশিপম্যান এবং ২০২৬-এ ব্যাচের সাত জন সরাসরি কমিশন্ড অফিসার-সহ মোট ৬১ জন নবীন কর্মকর্তা কমিশন লাভ করেন।

উল্লেখ্য, কমিশনপ্রাপ্ত নবীন কর্মকর্তাদের মধ্যে পাঁচ জন নারী এবং দুই জন বিদেশি কর্মকর্তা রয়েছেন।

বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ পরিদর্শন শেষে নৌবাহিনী প্রধান বিভিন্ন বিষয়ে কৃতি প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে গৌরবময় পদক তুলে দেন। সদ্য কমিশনপ্রাপ্ত নবীন কর্মকর্তাদের মধ্যে মিডশিপম্যান মো. ইনতিসার ইসলাম ইনান, (এক্স), বিএন সকল বিষয়ে সেরা চৌকশ মিডশিপম্যান হিসেবে ‘সোর্ড অব অনার’ লাভ করেন। মিডশিপম্যান সাদমান সাকিব পান্থ, (এক্স), বিএন প্রশিক্ষণে ২য় স্থান অর্জনকারী হিসেবে ‘নৌ প্রধান স্বর্ণপদক’ এবং সরাসরি কমিশন্ড অফিসার এ্যাক্টিং সাব লেফটেন্যান্ট মোঃ আবিদ শাহরিয়ার অনু, (শিক্ষা), বিএন, কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল অর্জনকারী হিসেবে ‘বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ রুহুল আমিন স্বর্ণপদক’ লাভ করেন।

এছাড়াও, মিডশিপম্যান জেহাদ এ.এম. সালাহ, (এক্স), পিএল সেরা চৌকশ বিদেশি মিডশিপম্যান হিসেবে ‘বিএনএ আন্তর্জাতিক স্বর্ণ পদক’ লাভ করেন। পরে সদ্য কমিশনপ্রাপ্ত নবীন কর্মকর্তাগণ দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার মহান ব্রত নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করেন।

কুচকাওয়াজ শেষে নৌবাহিনী প্রধান, আগত অতিথিবৃন্দ এবং প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারী মিডশিপম্যানদের অভিভাবকগণ নবীন কর্মকর্তাদের এ্যাপুলেট পরিয়ে দেন।

নৌবাহিনী প্রধান তাঁর বক্তব্যের শুরুতে মহান স্বাধীণতা যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সকল বীর মুক্তিযোদ্ধা ও নৌ কমান্ডোদের সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা শিল্পে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ নীতির আলোকে নৌবাহিনীর পরিচালিত শিপইয়ার্ড, ডকইয়ার্ড ও সিএনআরডি দেশীয় প্রযুক্তির বিকাশ এবং নিজস্ব সক্ষমতায় সামুদ্রিক প্ল্যাটফর্ম ও অবকাঠামো নির্মাণে কাজ করে যাচ্ছে। লার্জ পেট্রোলক্রাফট, এলসিটি, সার্ভে ভেসেল, আরপিভি, ডাইভিং বোট ও অন্যান্য নৌযান নির্মাণের পাশাপাশি বন্ধুপ্রতিম দেশ থেকে হেলিকপ্টার, আনম্যানড এয়ারক্রাফট, আধুনিক যুদ্ধজাহাজ এবং বিভিন্ন সক্ষমতার সামুদ্রিক প্ল্যাটফর্ম সংযোজন চলমান রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, নৌবাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির অংশ হিসেবে উপকূলীয় এলাকায় শোর-বেইজড সারফেস সার্ভেইলেন্স সিস্টেম, ইলেকট্রনিক ওয়্যারফেয়ার সেন্টার, অত্যাধুনিক এন্টি-ড্রোন সিস্টেম ও জ্যামার স্থাপনের কার্যক্রমও এগিয়ে চলছে।

নৌবাহিনী প্রধান বলেন, সমুদ্রসীমার সার্বভৌমত্ব রক্ষা, সামুদ্রিক সম্পদের সুরক্ষা, সমুদ্রপথে অপরাধ দমন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে মানবিক সহায়তা প্রদান, সংকটকালে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা এবং ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় দায়িত্ব পালন ছাড়াও বাংলাদেশ নৌবাহিনী আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করে চলেছে।

তিনি নবীন কর্মকর্তাদের সততা, নিষ্ঠা ও আত্মত্যাগের মন্ত্রে বলীয়ান হয়ে অন্যান্য বাহিনীর সদস্যদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং দেশের যে-কোনো প্রয়োজনে আত্মনিবেদনে সদা প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান। তিনি নবীন কর্মকর্তা ও তাঁদের অভিভাবকদের আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে মনোমুগ্ধকর কুচকাওয়াজ প্রদর্শনের জন্য সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তা, প্রশিক্ষক ও নৌসদস্যদের ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র, সংসদ সদস্য, সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর পদস্থ কর্মকর্তা, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, বিভিন্ন দেশের ডিফেন্স ও মিলিটারি অ্যাটাশে, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং সদ্য কমিশনপ্রাপ্ত নবীন কর্মকর্তাদের অভিভাবকগণ উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%