নেছারাবাদ (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
০৮:৩৩ পি.এম
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পূর্ব ইউরোপ এবং সিআইএসভুক্ত (কমনওয়েলথ অব ইন্ডিপেনডেন্ট স্টেটস) দেশের সঙ্গে, যা সম্ভাবনাময় কিন্তু এখনও অনাবিষ্কৃত অঞ্চলের আওতায় রয়েছে, বাণিজ্যিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে সরকার কাজ করছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এই তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রীর কার্যালয়ে কমনওয়েলথ অব ইন্ডিপেনডেন্ট স্টেটস-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (সিআইএস-বিসিসিআই)-এর পরিচালনা পর্ষদের একটি প্রতিনিধিদল তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে গেলে এ আলোচনা হয়।
বৈঠকের সময়, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বাণিজ্যের বহুমুখীকরণ ও বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি করার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, রাশিয়া, বেলারুশ, কাজাখস্তান, উজবেকিস্তান, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, কিরগিজস্তান, মলদোভা, তাজিকিস্তান এবং তুর্কমেনিস্তানের মতো সিআইএস অঞ্চলের দেশগুলো বাংলাদেশের বহুমুখী রপ্তানি পণ্যের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময় বাজার হতে পারে।
তিনি উভয় দেশের ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের পারস্পরিক সফর বাড়াতে ব্যবসায়ik সুযোগ-সুবিধা খুঁজতে আহ্বান জানান। একইসাথে, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠানভিত্তিক (বিটুবি) সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার গুরুত্বও উল্লিখিত হয়।
বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি, ওষুধ, পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়া, সিরামিক, চিংড়ি, গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ফল এবং তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) ক্ষেত্রে পণ্য রপ্তানি বৃদ্ধি করার প্রতি তিনি ব্যবসায়ীদের আহ্বান জানান।
বৈঠকে সিআইএস অঞ্চলের দেশে বাংলাদেশের পণ্যের ব্র্যান্ডিং, সরাসরি বিমান যোগাযোগের অভাব, অনেক দেশে আবাসিক কূটনৈতিক মিশনের (দূতাবাস) অভাব এবং ব্যাংকিং খাতের লেনদেনের জটিলতার মতো বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের বিষয়গুলো উঠে আসে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ব্যবসায়ীদের এই সমস্ত সমস্যা সমাধানে এবং সিআইএস অঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বরিশাল: বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) পুলিশ কমিশনার মো. আশিক সাঈদ মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৩টায় বিএমপির কাউনিয়া থানা আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শনকালে তিনি থানার সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ দমনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রদান করেন।
পরিদর্শনের শুরুতে কাউনিয়া থানার পক্ষ থেকে পুলিশ কমিশনারকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।
এ সময় তিনি থানার প্রশাসনিক কার্যক্রম, অফিসার ও ফোর্সের শৃঙ্খলা, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রেজিস্টার এবং নথিপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করেন। পাশাপাশি থানার কার্যক্রম আরও গতিশীল ও জনবান্ধব করতে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
পুলিশ কমিশনার বিশেষভাবে মাদক, জুয়া ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার, মামলা তদন্তের গতি বৃদ্ধি, ওয়ারেন্ট তামিল, সিডিএমএস ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন, চুরি ও দস্যুতা প্রতিরোধ, ইভটিজিং ও সাইবার অপরাধ দমন এবং কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
এ ছাড়া পলাশপুর বস্তি ও বিসিক শিল্প এলাকায় টহল কার্যক্রম আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পরিদর্শন শেষে তিনি থানার পরিদর্শন বইয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা লিপিবদ্ধ করেন।
পরিদর্শনের সমাপ্তিতে কাউনিয়া থানার পক্ষ থেকে পুলিশ কমিশনারের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেওয়া হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন উপ-পুলিশ কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ ইমদাদ হুসাইন, অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) বেলাল হোসাইন, পিপিএম, সহকারী পুলিশ কমিশনার (কাউনিয়া) পবিত্র কুমার হালদার, কাউনিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সনজিৎ চন্দ্র নাথসহ থানার অন্যান্য কর্মকর্তা ও সদস্যরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ এবং পাহাড়ি ঢলে উজান থেকে নেমে আসা পানির ফলে কাপ্তাই হ্রদে পানির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ কারণে কাপ্তাইয়ের কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে মোট ৪টি ইউনিটে বিদ্যুতের উৎপাদন বেড়ে ১২৫ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়ে গেছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, কেন্দ্রের ৫টি ইউনিটের মধ্যে বর্তমানে ৪টি ইউনিটে বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে ১২৫ মেগাওয়াট। এর মধ্যে ১নং ইউনিটে ৩৫ মেগাওয়াট, ২নং ইউনিটে ৩৪, ৪নং ইউনিটে ২৮ এবং ৫নং ইউনিটে ২৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে।
তিনি আরো জানান, গত এপ্রিল মাস থেকে হ্রদে পানি স্বল্পতা থাকার কারণে কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হতে শুরু করেছিল। তবে গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির কারণে হ্রদে পানির বৃদ্ধি ঘটেছে, যার ফলে উৎপাদন বেড়েছে। পানি সংকটের কারণে, দীর্ঘ ৩ মাস ধরে সচল থাকার পরও কেন্দ্রের ৫টি ইউনিট একসাথে চালু করা সম্ভব হয়নি। এ সময় রেশনিং পদ্ধতিতে কেন্দ্রের ইউনিটগুলো চালু রেখে বিদ্যুৎ উৎপাদন ধরে রাখা হয়েছিল। এ ফলস্বরূপ ২৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন কেন্দ্রে সর্বশেষ ৯৬ মেগাওয়াটে নেমে আসে। তবে যদি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকে এবং পানি বৃদ্ধি পায়, তাহলে কেন্দ্রের উৎপাদন আরও বাড়বে।
এদিকে, কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের কন্ট্রোল রুম সূত্র জানায়, গত কয়েকদিন ধরে রাঙামাটিসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় অতি ভারী বর্ষণ হচ্ছে। ভারী বৃষ্টিপাত এবং পাহাড়ি ঢলের ফলে রাঙামাটির কাপ্তাই হ্রদে পানির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পানির বৃদ্ধির কারণেই বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে।
কন্ট্রোল রুম সূত্র জানায়, এ সময়ে রুলকার্ভ অনুযায়ী হ্রদে পানির পরিমাণ ৮৪ দশমিক ৯৬ ফুট মীন সি লেভেল (এমএসএল) থাকার কথা। কিন্তু বর্তমানে হ্রদে পানির স্তর ৭৯ দশমিক ৯ ফুট এমএসএল। হ্রদে সর্বোচ্চ পানির ধারণ ক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল। উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সঞ্চালন করার তথ্যও তারা জানায়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ