০৮:৩২ এম
হরমুজ প্রণালি এলাকায় চলাচলকারী একটি জাহাজে ইরানের হামলার পর যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী দেশটির বিভিন্ন স্থানে নতুনভাবে বিমান হামলা চালিয়েছে।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) তথ্য অনুযায়ী, একটি জাহাজ নিজেদের অবস্থান শনাক্তকরণের ব্যবস্থা বন্ধ করে সামুদ্রিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত করেছিল এবং সেখানেই হামলা চালিয়ে সেটিকে থামানো হয়।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, বেশ কয়েকটি জাহাজ ‘অননুমোদিত পথ’ দিয়ে হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করে এবং সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে।
আরও পড়ুন: এমিরেটস গ্রুপের নিট মুনাফা ৬৬ শতাংশ হ্রাস
আইআরজিসি জানিয়েছে, ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত’ এবং ‘এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের অবসান না হওয়া পর্যন্ত’ হরমুজ প্রণালি অঙ্গীকারবদ্ধভাবে বন্ধ থাকবে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) বলেছে, আইআরজিসি বাহিনী সাইপ্রাসের পতাকাবাহী বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা করার পর ইরানে নতুন হামলা চালানোর কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
এতদিনে, চলতি সপ্তাহে তিনটি বাণিজ্যিক তেলবাহী জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছিল, যার ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হয়।
সেন্টকমের দাবী, হামলায় জাহাজটির ইঞ্জিন কক্ষ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং জাহাজটি এখন আর যাত্রা চালিয়ে যেতে পারছে না। এ ছাড়া, জাহাজের এক বেসামরিক নাবিক নিখোঁজ রয়েছেন বলেও জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী মুহিত পেলেন আরও দুই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব
এক্সে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সেন্টকম বলেছে, ‘বাণিজ্যিক জাহাজে আগের হামলার জন্য জবাবদিহির পরও সমঝোতা স্মারক মেনে চলার আরেকটি সুযোগ ইরানকে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা আবারও তা করতে ব্যর্থ হয়েছে।’
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ওই বিবৃতি শেয়ার করে মন্তব্য করেছেন, ‘ইরান ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন তার মূল্য দিতে হবে।’ রোববার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, অনুমোদিত নৌপথের বাইরে চলাচলের চেষ্টা করা একটি জাহাজের দিকে নৌবাহিনীর ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
আইআরজিসির বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বারবার সতর্কবার্তা উপেক্ষা করায়, জাহাজটিকে সতর্কতামূলক গুলি করে থামানো হয়েছে। আইআরজিসি স্থানীয়ভাবে সতর্ক করে দিয়েছে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো প্রকার ‘আগ্রাসন’ চালাতে চেষ্টা করে, তবে তার ‘কঠোর জবাব’ দেয়া হবে এবং এ অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সামরিক ঘাঁটিগুলোও লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল একযোগে ইরানে বিমান হামলা শুরু করার পর থেকে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। এই সংঘাত বৈশ্বিক জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। যুদ্ধের অবসান করার লক্ষ্যে বেশ কিছু দেশের পাশাপাশি ওমানও মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে।
আরও পড়ুন: রিজভী: হাসিনার রেখে যাওয়া সন্ত্রাসীরা গার্মেন্টসে আগুন দিচ্ছেন
যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে বিশ্বের মোট তেল সরবরাহের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। তবে, এই নৌপথে ইরানের অবরোধের কারণে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতি চাপ বাড়িয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন গতকাল (১১ জুলাই) জানায়, হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওমান একটি খসড়া প্রস্তাব দিয়েছে। এই প্রস্তাবে ওমানের জলসীমার দক্ষিণ করিডর দিয়ে অবাধ নৌচলাচলের বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, ইরানের জলসীমার উত্তর করিডর দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোকে আগে থেকে ইরানের অনুমোদন নিতে হবে, কিন্তু এ জন্য কোনো টোল দিতে হবে না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন