০৯:৩৭ এম
সপ্তাহের প্রতিটি দিনই আল্লাহর সৃষ্টি; কিন্তু কিছু নির্দিষ্ট দিন এবং সময় আল্লাহ বিশেষ মর্যাদা দিয়েছেন। তাই মুমিনের সৌভাগ্য হলো—সে শুধুমাত্র ফরজ ইবাদতেই সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং সে নিজেদের প্রিয় নবীজি (সা.)-এর সুন্নাহ অনুসরণ করে নফল ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করে।
এই গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহগুলোর মধ্যে একটি হলো সোমবার নফল রোজা রাখা। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে মুমিনরা! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন তোমাদের পূর্ববর্তীদের ওপর ফরজ করা হয়েছিল, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পারো।’ (সুরা : বাকারা, আয়াত : ১৮৩)
আয়াতটি মূলত রমজানের ফরজ রোজা সম্পর্কেই ব্যবহার করা হলেও এতে রোজার মহান উদ্দেশ্য—তাকওয়া অর্জন—এর বিষয়টি পরিস্কারভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। আর নফল রোজা বান্দাকে আত্মসংযম, আল্লাহভীতি এবং নেক আমলের প্রতি আগ্রহী করে তোলে।
আরও পড়ুন: নববী শিক্ষার মাধ্যমে সুশৃঙ্খল পৃথিবী গড়ার গুরুত্ব
সোমবারের রোজার সঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবনের একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা জড়িয়ে রয়েছে। যখন তাঁকে সোমবার রোজা রাখার কারণ সম্পর্কে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তিনি সেসময় নিজের জন্মদিন এবং ওহি নাজিল হওয়ার দিন হিসেবে সোমবারের কথা তুলে ধরেছেন। আবু কাতাদা আনসারি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে যখন সোমবারের রোজা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়, তখন তিনি বলেন, ‘এ দিন আমি জন্মগ্রহণ করেছি এবং এ দিন আমার ওপর ওহি নাজিল হয়েছে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১১৬২)
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজের জন্মদিন উদযাপন করেছেন কোনো উৎসবের মাধ্যমে নয়; বরং তিনি আল্লাহর শুকরিয়া আদায়ের উদ্দেশ্যে রোজা রেখেছেন।
তাহলে যদি আমরা তাঁর জন্মদিনের সঙ্গে সম্পর্কিত সুন্নাহ অনুসরণ করতে চাই, তাহলে সোমবারের নফল রোজা রাখা আমাদের জন্য একটি প্রমাণিত আমল বলে বিবেচিত হবে।
কিন্তু সোমবার কেন বিশেষ মর্যাদাপূর্ণ? এটি শুধু মহানবী (সা.)-এর জন্মদিন হওয়ার কারণে মর্যাদাপূর্ণ নয়; বরং এই দিনে আমাদের আমল আল্লাহর কাছে পেশ হওয়ার বিষয়টিও হাদিসে উল্লেখিত হয়েছে। আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘সোমবার ও বৃহস্পতিবার আমলসমূহ পেশ করা হয়। তাই আমি পছন্দ করি, আমার আমল যেন আমি রোজাদার থাকা অবস্থায় পেশ করি।’ (জামে তিরমিজি, হাদিস : ৭৪৭)
আরও পড়ুন: ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি, ২১ অক্টোবর ২০২৬
কী চমৎকার শিক্ষা! একজন মুমিন চায়—যেদিন তাঁর আমল আল্লাহর দরবারে পেশ হবে, সেদিন যেন তার আমলনামায় রোজার মতো একটি মহান ইবাদতও লেখা থাকে।
এটি উল্লেখযোগ্য যে সোমবারের রোজা নফল; ফরজ নয়। তাই যদি কেউ না রাখে, তাহলে সে গুনাহগার হবে না। তবে যদি কারো সামর্থ্য থাকে, তাহলে নিয়মিত এই সুন্নাহ পালনের চেষ্টা করা একটি অত্যন্ত সুন্দর আমল হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আর যদি কেউ বৃহস্পতিবারও রোজা রাখেন, তাহলে তিনি উভয় দিনের নফল রোজার সুন্নাহ আমল করার সুযোগ লাভ করবেন।
বর্তমান সময়ে জন্মদিন কেন্দ্র করে নানা ধরনের অনুষ্ঠান ও সংস্কৃতি প্রচলিত রয়েছে। কিন্তু একজন মুসলমানের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জীবন থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা। তিনি যখন তাঁর জন্মের দিনের কথা উল্লেখ করেছেন, তখন আমাদের সামনে ইবাদতের একটি পথ তুলে ধরেছেন। তাই তাঁর জন্মের সঙ্গে সম্পর্কিত প্রমাণিত আমল হলো সোমবারের নফল রোজা রাখা। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘বলুন, তোমরা যদি আল্লাহকে ভালোবাস, তবে আমার অনুসরণ করো; আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন।’ (সুরা : আলে ইমরান, আয়াত : ৩১)
আমরা আসুন, সম্ভব হলে প্রতি সোমবার রোজা রাখার অভ্যাস গড়ে তুলি। ক্ষুধা-তৃষ্ণার মাধ্যমে শুধুমাত্র শরীরকে নয়, বরং নফসকে প্রশিক্ষিত করি, অন্তরকে পরিশুদ্ধ করি এবং সুন্নাহর আলোয় আমাদের জীবন সাজাই। আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে সোমবারসহ অন্যান্য নফল রোজা পালনের তাওফিক দান করুন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহকে ভালোবাসার সঙ্গে অনুসরণ করার তাওফিক দিন এবং আমাদের আমলনামাকে নেক আমলে সমৃদ্ধ করুন। আমিন।
আরও পড়ুন: সৌদি আরবে ওমরাহ যাত্রীদের জন্য নতুন ডিজিটাল সেবা চালু
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন