ভাণ্ডারিয়া (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
০৬:৩৫ পি.এম
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলায় মেয়াদোত্তীর্ণ পশু চিকিৎসার ওষুধ বিক্রি ও ব্যবহারের দায়ে দুই ভেটেরিনারি ওষুধ ব্যবসায়ীকে মোট ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার লঞ্চঘাট এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করেন ভাণ্ডারিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উজ্জ্বল হালদার। এ সময় উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সুদেব সরকার উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, এক কৃষকের গরুকে আমেনা ঔষধালয়ের স্বত্বাধিকারী মিজানুর রহমান মেয়াদোত্তীর্ণ ইনজেকশন প্রয়োগ করেন। পরে গরুটি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে ওই কৃষক উপজেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত আমেনা ঔষধালয়ে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ জব্দ করে। এ ঘটনায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের ৫১ ধারায় মিজানুর রহমানকে ১৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
এ সময় পাশের ব্যবসায়ী মাসুদ সিকদারের দোকানেও অভিযান চালানো হয়। সেখানেও বিপুল পরিমাণ মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পাওয়া গেলে একই আইনের আওতায় তাকে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জব্দকৃত মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) উজ্জ্বল হালদার জানান, জনস্বার্থে ও পশুসম্পদের সুরক্ষায় মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি ও ব্যবহার রোধে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় তাদের জরিমানা করা হয়েছে এবং জব্দকৃত ওষুধ ধ্বংস করা হয়েছে। এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা শেষ হওয়ার পর, মঙ্গলবার তেহরান গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার ইচ্ছার কথা জানায়।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ওই আলোচনা সম্পর্কে বলেন, এটি সংঘাত অবসানের চূড়ান্ত চুক্তির জন্য ‘খুব ভালো ভিত্তি’। তিনি সোমবার জানিয়ে ছিলেন, ওয়াশিংটন ইরানের তেলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করেছে।
এ খবর সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টক থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়।
তবে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে প্রাথমিক সমঝোতা হয়েছে, কিন্তু ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও বিশ্বের তেল সরবরাহের অন্যতম প্রধান পথ হরমুজ প্রণালী নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর এখনও সমাধান আসেনি।
মঙ্গলবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, উচ্চপর্যায়ের আলোচনার পর সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা শেষ হয়েছে, এবং পারমাণবিক ইস্যু ও নিষেধাজ্ঞা নিয়ে পৃথক কর্মী দল গঠন করা হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী নিঃশর্তভাবে আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার দাবি জানান। তবে, ইরান আবারও এর কড়া বিরোধিতা করেছে।
ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফের উদ্ধৃতি দিয়ে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, ‘হরমুজ প্রণালী কখনোই যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরে যাবে না এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এটি ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে।’
গত সপ্তাহে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সমঝোতার পর হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া হয়। তবে, ইসরাইলি হামলার জবাবে শনিবার ফের প্রণালীটি বন্ধ করার ঘোষণা দেয় তেহরান।
কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীরা জানান, বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে এবং ‘ঘটনা ও ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে’ হরমুজ প্রণালীর বিষয়ে একটি যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে তেহরান ও ওয়াশিংটন।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, চুক্তির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ১ হাজার ২০০ কোটি ডলারের জব্দ সম্পদ ছাড় দিতে সম্মত হয়েছে এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্রটির তেলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, আগামী ২১ আগস্ট পর্যন্ত ইরানকে অপরিশোধিত তেল ও সংশ্লিষ্ট পণ্য উৎপাদন, বিক্রি ও সরবরাহের সুযোগ দিতে নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে তুলে নেওয়া হয়েছে।
তবে ভ্যান্স বলেন, চুক্তির অংশ হিসেবে এখনো ইরানের কোনো সম্পদ অবমুক্ত করা হয়নি। ভবিষ্যতে তা করা হলে, সেই অর্থ সয়াবিনের মতো মার্কিন পণ্য কেনার কাজে ব্যবহার করা হবে, সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নে নয়।
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির পতন ঘটার পর থেকেই ইরান বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা ও সম্পদ জব্দের মুখে রয়েছে।
সুইজারল্যান্ডে সপ্তাহের শেষে শুরু হওয়া এসব আলোচনা দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের আশা জাগিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমিয়েছে।
পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় চলা এই আলোচনার লক্ষ্য হলো নবায়নযোগ্য ৬০ দিনের সময়সীমার মধ্যে একটি চূড়ান্ত দলিল প্রস্তুত করা।
চুক্তিটিকে ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতা মঙ্গলবারও অব্যাহত ছিল। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, সুইজারল্যান্ডের আলোচনা শেষে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান পাকিস্তান সফরে যাবেন।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও বাহরাইন সফর শুরু করারও পরিকল্পনা রয়েছে। তার মুখপাত্র টমি পিগট জানান, সফরে তিনি চুক্তি এবং ‘হরমুজ প্রণালীতে পূর্ণ, অবাধ ও নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা’ নিয়ে আলোচনা করবেন।
এর আগে, মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান ও কাতার জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচকরা ‘৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর রোডম্যাপ’-এ সম্মত হয়েছেন। মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো জানায়, ‘উৎসাহব্যঞ্জক অগ্রগতি’ হয়েছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালীতে ‘ঘটনা ও ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে’ একটি যোগাযোগ চ্যানেলও চালু করা হয়েছে।
ভ্যান্স বলেন, ইরান জাতিসংঘের পরমাণু পরিদর্শকদের দেশে প্রবেশ করতে দেবে। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই বলেন, ‘পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে খুব সংক্ষিপ্ত আলোচনা হয়েছে, কিন্তু বিস্তারিত কোনো আলোচনা হয়নি।’ ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির আওতায় এসব পরিদর্শন শুরু হয়েছিল। পরে ট্রাম্প ২০১৮ সালে ওই চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ান। ২০২৫ সালের জুনে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলার পর ইরান এসব পরিদর্শন স্থগিত করে।
এরপর থেকে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শকরা হামলার শিকার স্থাপনাগুলো পরিদর্শন করতে পারেননি। ফলে, ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যা ওয়াশিংটনের সঙ্গে বিরোধের অন্যতম প্রধান বিষয়।
তেহরান বরাবরই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করার অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে। তবে তারা শান্তিপূর্ণ বেসামরিক পারমাণবিক জ্বালানি কর্মসূচি পরিচালনার অধিকার নিয়ে অনড় অবস্থানে রয়েছে।
লেবানন প্রসঙ্গেও, যা আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে তেহরান জোর দিয়েছে, ইসরাইল ও ইরানপন্থী হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘাত বন্ধে একটি সংঘাত-ব্যবস্থাপনা সেল গঠন করা হবে। মার্চের শুরুতে ওই সংঘাত লেবাননকে যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলে।
সোমবার লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন বলেন, যুদ্ধবিরতি সুসংহত কাজ করা, ইসরাইলি সামরিক অভিযান বন্ধ করা এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ, যার মধ্যে একটি বিশেষ সেল গঠনের সম্ভাবনাও রয়েছে, তা নিয়ে ভ্যান্স তার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন।
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, হিজবুল্লাহর হামলা ঠেকানোর লক্ষ্য নিয়ে পরিচালিত ইসরাইলি অভিযানে লেবাননে ৪ হাজার ১০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১০ লক্ষাধিক মানুষ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার দুটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন।
এটি কোয়ান্টাম কম্পিউটিং প্রযুক্তির উন্নয়ন ত্বরান্বিত করার উদ্যোগ গ্রহণের উদ্দেশ্যে করা হয়েছে।
এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ভবিষ্যতে বর্তমানের সুপারকম্পিউটারগুলোকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ওয়াশিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে।
হোয়াইট হাউসের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা মাইকেল ক্রাটসিওস জানিয়েছেন, কোয়ান্টাম কম্পিউটার তৈরিতে এগিয়ে থাকা মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে আইবিএম, মাইক্রোসফট ও গুগল রয়েছে।
এসব প্রতিষ্ঠান ২০২৯ সালের মধ্যে প্রথম বড় আকারের বাণিজ্যিক কোয়ান্টাম কম্পিউটার তৈরির লক্ষ্য নিয়েছে। সোমবারের আদেশ অনুযায়ী, মার্কিন সরকারি সংস্থাগুলো বেসরকারি খাতের সঙ্গে কাজ করে ২০২৮ সালের মধ্যে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় ব্যবহারযোগ্য একটি কোয়ান্টাম কম্পিউটার তৈরির উদ্যোগ নেবে।
সাধারণ কম্পিউটার তথ্য প্রক্রিয়াকরণের জন্য ‘বিট’ ব্যবহার করে।
এসব বিট ক্ষুদ্র সুইচের মতো কাজ করে, যা হয় বন্ধ (০) অথবা চালু (১) থাকে। কিন্তু কোয়ান্টাম কম্পিউটার ব্যবহার করে ‘কিউবিট’ ব্যবহৃত হয়, যা একই সময়ে ০ ও ১ উভয় অবস্থায় থাকতে পারে।
এর ফলে, কোয়ান্টাম কম্পিউটার একই সময়ে বিপুলসংখ্যক সম্ভাবনা বিশ্লেষণ করতে পারে। তাই এটি বর্তমানের যেকোনো প্রযুক্তির তুলনায় অনেক বেশি দ্রুত ও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রাখে।
তবে বর্তমানে কোয়ান্টাম কম্পিউটারে ত্রুটির পরিমাণ বেশি থাকায় গবেষণার বাইরে নির্ভরযোগ্যভাবে ব্যবহার করা যাচ্ছে না।
পরে হোয়াইট হাউসের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, মার্কিন সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে তৈরি করা কোয়ান্টাম কম্পিউটিং মডেলের সক্ষমতা বেসরকারি খাতের প্রতিশ্রুত প্রযুক্তির তুলনায় কম হবে।
তিনি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘বৈজ্ঞানিকভাবে কার্যকর কোয়ান্টাম কম্পিউটার তৈরির এই উদ্যোগকে ভবিষ্যতের আরও বড় ও সক্ষম প্রযুক্তির দিকে এগিয়ে যাওয়ার একটি ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।’
ট্রাম্পের স্বাক্ষর করা দ্বিতীয় নির্বাহী আদেশে সাইবার নিরাপত্তা ও পোস্ট-কোয়ান্টাম ক্রিপ্টোগ্রাফি বা এমন এক ধরণের এনক্রিপশন ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করার কথা বলা হয়েছে, যা কোয়ান্টাম কম্পিউটারের মাধ্যমে তথ্য উন্মোচনের চেষ্টা প্রতিরোধ করতে সক্ষম।
ক্রাটসিওস বলেন, এই আদেশের মাধ্যমে কোয়ান্টাম-প্রতিরোধী ক্রিপ্টোগ্রাফিতে রূপান্তরের প্রক্রিয়া ২০৩১ সালের মধ্যে সম্পন্ন করার উদ্যোগ ত্বরান্বিত হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ফিলিস্তিন পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। তিনি বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট নিয়ে আলোচনা করতে গেলে অধিকৃত পশ্চিম তীরের পরিস্থিতিকে উপেক্ষা করা যাবে না। সেখানে যে কোনো প্রচেষ্টাই বাদ রাখা হচ্ছে না তা নিশ্চিত করার জন্য যেন ভবিষ্যতে কোনো স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হতে না পারে।
আজ মঙ্গলবার (২৩ জুন) এক সংবাদ সম্মেলনে ল্যাভরভ বলেন, ‘আমাদের পশ্চিম তীরের ঘটনাগুলো ভুলে গেলে চলবে না, যেখানে নিশ্চিত করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে যেন সেখানে কখনো কোনো ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত না হয়।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, ফিলিস্তিন প্রশ্নের ন্যায্য সমাধান ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা সম্ভব নয়।
রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীর্ঘদিন ধরেই জাতিসংঘের প্রস্তাব অনুযায়ী স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছেন। সম্প্রতি তিনি সতর্ক করে বলেন, ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের পথ রুদ্ধ থাকলে অঞ্চলটি বহু বছর ধরে অস্থিতিশীলতা ও চরমপন্থার ঝুঁকিতে থাকবে।
ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় গত প্রায় তিন বছর ধরে সামরিক আগ্রাসন চালাচ্ছে ইসরাইল। এতে ভূমধ্যসাগরের তীরের এক চিলতে ভূখণ্ড কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে প্রতিদিন হামলা চালাচ্ছে ইসরাইলি বাহিনী।
এদিকে পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি সম্প্রসারণ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। চলতি মাসে ইসরাইল হেবরনের কেন্দ্রে একটি ইহুদি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সম্প্রসারণ পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে।
ইসরাইলের কট্টর ইহুদি ধর্মীয় নেতা ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সরকারের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ এটিকে ‘মাঠের বাস্তবতা সৃষ্টি’ এবং ইসরাইলি নিয়ন্ত্রণ জোরদারের অংশ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সমালোচকদের মতে, এসব পদক্ষেপ ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের সম্ভাবনাকে আরও দুর্বল করে দিচ্ছে।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ, আরব দেশগুলো এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো অভিযোগ করেছে যে পশ্চিম তীরে প্রশাসনিক ও ভূমি-সংক্রান্ত নতুন নীতিমালা কার্যত সংযুক্তিকরণ প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিচ্ছে। তাদের আশঙ্কা, এসব পদক্ষেপ দুই-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, গাজা যুদ্ধের পাশাপাশি পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ, ভূমি নিয়ন্ত্রণ বৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক পরিবর্তন এখন মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রশ্নকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে কূটনৈতিক চাপ ও বিতর্ক তীব্র হওয়ার সম্ভাবনাও দেখা দিয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বাস্তব জীবনে সিদ্ধার্থ মালহোত্রা ও কিয়ারা আদভানি বলিউডের অন্যতম আলোচিত তারকা দম্পতি। তবে এবার বড় পর্দায় তারা একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী হতে যাচ্ছেন।
আগামী ২৮ আগস্ট মুক্তির সূচিতে রয়েছে তাদের অভিনীত দুটি ভিন্নধর্মী সিনেমা। ফলে বক্স অফিসে জমে উঠতে পারে স্বামী-স্ত্রীর লড়াই।
সেদিনই মুক্তি পাওয়ার কথা সিদ্ধার্থ মালহোত্রা অভিনীত ‘ভ্যান : ফোর্স অব দ্য ফরেস্ট’ এবং দক্ষিণী সুপারস্টার ইয়াশ ও কিয়ারা আদভানি অভিনীত বহুল প্রতীক্ষিত ‘টক্সিক : আ ফেয়ারিটেল ফর গ্রোন-আপস’। দুটি বড় বাজেটের ছবির একসাথে মুক্তি ঘিরে ইতোমধ্যেই দর্শক ও চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
ভারতীয় গণমাধ্যমের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে আলোচিত বক্স অফিস লড়াইগুলোর একটি হতে পারে এই প্রতিযোগিতা। কারণ, দুই ছবিকেই ঘিরে দর্শকদের প্রত্যাশা অনেক বেশি।
লোককাহিনি, রহস্য ও অতিপ্রাকৃত উপাদানে নির্মিত ‘ভ্যান: ফোর্স অব দ্য ফরেস্ট’-এ সিদ্ধার্থ মালহোত্রার বিপরীতে অভিনয় করেছেন তামান্না ভাটিয়া। নির্মাতাদের দাবি, ছবিতে দর্শক সিদ্ধার্থকে সম্পূর্ণ নতুন এক রূপে দেখতে পাবেন। সিনেমার গল্পকে আরও শক্তিশালী করতে সম্প্রতি এর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দৃশ্য পুনরায় ধারণও করা হয়েছে।
অন্যদিকে ‘টক্সিক: আ ফেয়ারিটেল ফর গ্রোন-আপস’ কিয়ারা আদভানির ক্যারিয়ারের অন্যতম বড় প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত নির্মাতা গীতু মোহনদাস পরিচালিত ছবিটিতে তার সহশিল্পী হিসেবে রয়েছেন ‘কেজিএফ’খ্যাত অভিনেতা ইয়াশ। দীর্ঘদিন ধরেই ছবিটি নিয়ে দর্শকদের আগ্রহ তুঙ্গে।
বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে কিয়ারা জানিয়েছেন, এই চরিত্রের জন্য তাকে বিশেষ প্রস্তুতি নিতে হয়েছে এবং এটি তার অভিনয়জীবনের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং চরিত্রগুলোর একটি।
তবে ২৮ আগস্টের লড়াই শুধুমাত্র সিদ্ধার্থ ও কিয়ারার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না। একই দিনে মুক্তির তালিকায় রয়েছে শ্রদ্ধা কাপুর অভিনীত বড় বাজেটের সিনেমা ‘ঈথা’। ফলে বক্স অফিসে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
চলচ্চিত্র বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, একই দিনে একাধিক বড় বাজেটের ছবি মুক্তি পেলে হল বণ্টন ও দর্শক বিভাজনের কারণে আয়-ব্যয়ে প্রভাব পড়তে পারে। তাই শেষ মুহূর্তে কোনো একটি ছবির মুক্তির তারিখ পরিবর্তনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। যদিও এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কোনো প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান মুক্তির তারিখ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়নি।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘শেরশাহ’ সিনেমার শুটিংয়ে একসঙ্গে কাজ করতে গিয়ে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান সিদ্ধার্থ মালহোত্রা ও কিয়ারা আদভানি। পরে ২০২৩ সালে রাজস্থানের জয়সালমেরে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন তারা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ