০৬:৩৯ পি.এম
সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা শেষ হওয়ার পর, মঙ্গলবার তেহরান গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার ইচ্ছার কথা জানায়।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ওই আলোচনা সম্পর্কে বলেন, এটি সংঘাত অবসানের চূড়ান্ত চুক্তির জন্য ‘খুব ভালো ভিত্তি’। তিনি সোমবার জানিয়ে ছিলেন, ওয়াশিংটন ইরানের তেলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা স্থগিত করেছে।
এ খবর সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টক থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়।
আরও পড়ুন: কাতারের শান্তি প্রস্তাব নাকচ, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন হামলার শঙ্কা
তবে, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে প্রাথমিক সমঝোতা হয়েছে, কিন্তু ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও বিশ্বের তেল সরবরাহের অন্যতম প্রধান পথ হরমুজ প্রণালী নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর এখনও সমাধান আসেনি।
মঙ্গলবার ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, উচ্চপর্যায়ের আলোচনার পর সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা শেষ হয়েছে, এবং পারমাণবিক ইস্যু ও নিষেধাজ্ঞা নিয়ে পৃথক কর্মী দল গঠন করা হবে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী নিঃশর্তভাবে আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের জন্য খুলে দেওয়ার দাবি জানান। তবে, ইরান আবারও এর কড়া বিরোধিতা করেছে।
ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফের উদ্ধৃতি দিয়ে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, ‘হরমুজ প্রণালী কখনোই যুদ্ধপূর্ব অবস্থায় ফিরে যাবে না এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এটি ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে।’
আরও পড়ুন: গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই: জুনায়েদ
গত সপ্তাহে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সমঝোতার পর হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়া হয়। তবে, ইসরাইলি হামলার জবাবে শনিবার ফের প্রণালীটি বন্ধ করার ঘোষণা দেয় তেহরান।
কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীরা জানান, বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে এবং ‘ঘটনা ও ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে’ হরমুজ প্রণালীর বিষয়ে একটি যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সম্মত হয়েছে তেহরান ও ওয়াশিংটন।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, চুক্তির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ১ হাজার ২০০ কোটি ডলারের জব্দ সম্পদ ছাড় দিতে সম্মত হয়েছে এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্রটির তেলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, আগামী ২১ আগস্ট পর্যন্ত ইরানকে অপরিশোধিত তেল ও সংশ্লিষ্ট পণ্য উৎপাদন, বিক্রি ও সরবরাহের সুযোগ দিতে নিষেধাজ্ঞা সাময়িকভাবে তুলে নেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: বিয়ের ১৫ দিনের মাথায় সড়কে প্রাণ গেল ইতালি প্রবাসী তানভীরের
তবে ভ্যান্স বলেন, চুক্তির অংশ হিসেবে এখনো ইরানের কোনো সম্পদ অবমুক্ত করা হয়নি। ভবিষ্যতে তা করা হলে, সেই অর্থ সয়াবিনের মতো মার্কিন পণ্য কেনার কাজে ব্যবহার করা হবে, সন্ত্রাসবাদে অর্থায়নে নয়।
১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির পতন ঘটার পর থেকেই ইরান বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা ও সম্পদ জব্দের মুখে রয়েছে।
সুইজারল্যান্ডে সপ্তাহের শেষে শুরু হওয়া এসব আলোচনা দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের আশা জাগিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমিয়েছে।
পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় চলা এই আলোচনার লক্ষ্য হলো নবায়নযোগ্য ৬০ দিনের সময়সীমার মধ্যে একটি চূড়ান্ত দলিল প্রস্তুত করা।
আরও পড়ুন: ক্ষমতা হারালেই কি গ্রেফতার হবেন নেতানিয়াহু?
চুক্তিটিকে ঘিরে কূটনৈতিক তৎপরতা মঙ্গলবারও অব্যাহত ছিল। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানায়, সুইজারল্যান্ডের আলোচনা শেষে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান পাকিস্তান সফরে যাবেন।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও বাহরাইন সফর শুরু করারও পরিকল্পনা রয়েছে। তার মুখপাত্র টমি পিগট জানান, সফরে তিনি চুক্তি এবং ‘হরমুজ প্রণালীতে পূর্ণ, অবাধ ও নিরাপদ নৌ-চলাচল নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা’ নিয়ে আলোচনা করবেন।
এর আগে, মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান ও কাতার জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচকরা ‘৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছানোর রোডম্যাপ’-এ সম্মত হয়েছেন। মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো জানায়, ‘উৎসাহব্যঞ্জক অগ্রগতি’ হয়েছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালীতে ‘ঘটনা ও ভুল বোঝাবুঝি এড়াতে’ একটি যোগাযোগ চ্যানেলও চালু করা হয়েছে।
ভ্যান্স বলেন, ইরান জাতিসংঘের পরমাণু পরিদর্শকদের দেশে প্রবেশ করতে দেবে। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই বলেন, ‘পারমাণবিক ইস্যু নিয়ে খুব সংক্ষিপ্ত আলোচনা হয়েছে, কিন্তু বিস্তারিত কোনো আলোচনা হয়নি।’ ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির আওতায় এসব পরিদর্শন শুরু হয়েছিল। পরে ট্রাম্প ২০১৮ সালে ওই চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ান। ২০২৫ সালের জুনে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলার পর ইরান এসব পরিদর্শন স্থগিত করে।
আরও পড়ুন: হাসিনার পতনের আগে ইউনূসকে দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান করেন শফিকুল আলম
এরপর থেকে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শকরা হামলার শিকার স্থাপনাগুলো পরিদর্শন করতে পারেননি। ফলে, ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে, যা ওয়াশিংটনের সঙ্গে বিরোধের অন্যতম প্রধান বিষয়।
তেহরান বরাবরই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের চেষ্টা করার অভিযোগ অস্বীকার করে এসেছে। তবে তারা শান্তিপূর্ণ বেসামরিক পারমাণবিক জ্বালানি কর্মসূচি পরিচালনার অধিকার নিয়ে অনড় অবস্থানে রয়েছে।
লেবানন প্রসঙ্গেও, যা আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে তেহরান জোর দিয়েছে, ইসরাইল ও ইরানপন্থী হিজবুল্লাহর মধ্যে সংঘাত বন্ধে একটি সংঘাত-ব্যবস্থাপনা সেল গঠন করা হবে। মার্চের শুরুতে ওই সংঘাত লেবাননকে যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলে।
সোমবার লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন বলেন, যুদ্ধবিরতি সুসংহত কাজ করা, ইসরাইলি সামরিক অভিযান বন্ধ করা এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ, যার মধ্যে একটি বিশেষ সেল গঠনের সম্ভাবনাও রয়েছে, তা নিয়ে ভ্যান্স তার সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন।
আরও পড়ুন: ডিজেল রপ্তানি বাড়াতে চায় ভারত, শোধনাগারগুলো সক্ষমতা বাড়াচ্ছে
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, হিজবুল্লাহর হামলা ঠেকানোর লক্ষ্য নিয়ে পরিচালিত ইসরাইলি অভিযানে লেবাননে ৪ হাজার ১০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১০ লক্ষাধিক মানুষ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন