বৃহস্পতিবার, ১৩ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৮:২০ এম
এতদিন দেশের গ্রাম বা মফস্বল এলাকার উপর ঘণ্টার পর ঘণ্টা লোডশেডিংয়ের খবর পাওয়া যাচ্ছিল। কিন্তু এখন সেই চিরচেনা লোডশেডিং সমস্যা ঢাকায়ও আক্রমণ করেছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) দিবাগত রাতে, ঢাকার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পারা গেছে, আজ কয়েকবার বিদ্যুৎ বিভ্রাট হয়েছে।
কিছু স্থানে একটানা এক ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছিল না, আবার কিছু কিছু এলাকায় একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে করে তীব্র গরমের মধ্যে নগরবাসী গুরুতর ভোগান্তিতে পড়েন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ভুক্তভোগীদের স্ট্যাটাসে এই যন্ত্রণার চিত্র পরিষ্কারভাবে ফুটে উঠেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাবরিনা আফরিন নামে এক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন, "গ্রাম ছেড়ে লোডশেডিং এখন ঢাকায়।"
আশিক খান নামের একজন লিখেছেন, "রাত ৩টা বাজে, সারাদিনের ক্লান্ত শরীরগুলো ঘুমাচ্ছে, বিদ্যুৎ বন্ধ করে দিসে। গভীর রাতে ঘুম থেকে উঠে পাঙ্খা দিয়া বাতাস করতাছি আর ভাবতাছি এ কোন পাপের ফল? এ কোন সোনার বাংলায় জন্ম নিলাম যেখানে নাগরিক ঘুমাইয়াও শান্তি পায় না।"
সিফাত আরিয়ান লিখেছেন, "সকালে বেরিয়ে সারাদিন দৌড়ঝাঁপ করে রাত সোয়া ১১ টায় আমি যখন বাসায় আসলাম, তখন বিদ্যুৎ চলে গেল।"
এদিকে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির তথ্য অনুযায়ী, ১২ আগস্ট রাত ৯টায় (সন্ধ্যা পিক) বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে ১৬ হাজার ৯৩ মেগাওয়াট। আর দুপুর ১২টায় (ডে পিক) বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে ১৪ হাজার ৬৩৫ মেগাওয়াট।
যাহোক, ডে পিকে আদানি থেকে ৯৩১ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ এলেও সন্ধ্যা পিকে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২৩০ মেগাওয়াটে। সামগ্রিকভাবে সারাদেশে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৮ হাজার মেগাওয়াটের বেশি। সেই হিসাবে রাতেও ২ হাজার মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ লোডশেডিং দিতে হয়েছে।
এতদিন গ্রাম ও মফস্বল এলাকায় লোডশেডিংয়ের মাত্রা বেশি থাকলেও এবার রাজধানীতেও এর বিস্তৃতি নগরবাসীর মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তীব্র গরমের মধ্যে ঢাকায়ও ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় জনজীবনে দুর্ভোগ বেড়েছে।
তবে ঢাকার DESCO ও DPDC এলাকায় জাতীয় ঘাটতির প্রভাব তুলনামূলক কম হলেও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বুধবার থেকে দীর্ঘ লোডশেডিংয়ের খবর পাওয়া যাচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
খাগড়াছড়ি শহরের চেঙ্গী স্কয়ার এলাকা থেকে পাঁচবস্তা গুইসাপসহ প্রেমরাছো মারমা (৪৭) নামে এক নারীকে আটক করা হয়েছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) রাত সাড়ে ৯টার সময় শহরের চেঙ্গী স্কয়ার এলাকায় তাকে আটক করা হয়।
আটক প্রেমরাছো মারমা খাগড়াছড়ির পানছড়ি উপজেলার কুরাদিয়াছড়া গ্রামের অংগিও মারমার স্ত্রী।
আটক নারী জানিয়েছেন, তিনি চট্টগ্রামের বারইয়ারহাট থেকে ২২ হাজার টাকা দিয়ে গুইসাপগুলো কিনেছিলেন এবং সেগুলো বিক্রির জন্য খাগড়াছড়িতে নিয়ে এসেছিলেন। স্থানীয় বাজারে বিক্রির উদ্দেশ্যে এগুলো আনা হয়েছিল। প্রতি কেজি গুইসাপের দাম প্রায় ৪০০ টাকা বলে তিনি জানান।
খাগড়াছড়ি বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. ফরিদ মিঞা জানিয়েছেন, পাঁচ বস্তায় মোট ২৪টি গুইসাপ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১০টি জীবিত এবং ১৪টি মৃত্যুতে প্রকৃতে ছিল। জীবিত গুঁইসাপগুলো আলুটিলার প্রাকৃতিক বনে অবমুক্ত করা হয়েছে। মৃত গুঁইসাপগুলোকে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে।
বন বিভাগের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বন্যপ্রাণী ধরা, পরিবহন ও বিক্রির মতো কর্মকাণ্ড জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
দুর্জয় গোস্বামী জানিয়েছেন, আটক প্রেমরাছো মারমাকে খাগড়াছড়ি সদর থানায় পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বর্তমানে অপারেশনাল কাজে অনুপযুক্ত র্যাবের ডগ স্কোয়াডের প্রশিক্ষিত আটটি কুকুর নিলামে বিক্রি করা হয়েছে। এই নিলামে একটি কুকুরের সর্বোচ্চ দাম উঠেছে ২৬ হাজার টাকা।
বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে মিরপুর-১৪ পুলিশ লাইন্সে অনুষ্ঠিত উন্মুক্ত নিলামে এসব কুকুরের সর্বনিম্ন দাম উঠেছে ৫ হাজার টাকা, আর সর্বোচ্চ দাম উঠেছে ২৬ হাজার টাকা।
বিক্রি হওয়া আটটি কুকুরের মধ্যে পাঁচটি ল্যাবরেডর ও তিনটি জার্মান শেফার্ড জাতের। যার মধ্যে পাঁচটি পুরুষ কুকুর ও তিনটি মেয়ে কুকুর রয়েছে।
র্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী জানিয়েছেন, এক একটি কুকুরের সর্বনিম্ন ৫ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ ২৬ হাজার টাকা পর্যন্ত বিড ছিল। সঙ্গে বিক্রয় মূল্যের ওপর শতকরা ১০ ভাগ আয়কর এবং ১৫ ভাগ ভ্যাট যুক্ত হবে। এ হিসাব অনুযায়ী, ৫ হাজার টাকার বিড ওঠা কুকুরের দাম হবে ৬ হাজার ২৫০ টাকা এবং ২৬ হাজার টাকা বিড ওঠা কুকুরের জন্য ক্রেতাকে দিতে হবে ৩২ হাজার ৫০০ টাকা।
তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে আটটি কুকুর নিলামের মাধ্যমে বিক্রি হয়ে গেছে। কুকুরগুলোর বয়সজনিত কারণে তাদের অনুসন্ধান সক্ষমতা হ্রাস পাওয়ায় এবং র্যাবের ডগ স্কোয়াডের অভিজাতিক সক্ষমতা অক্ষুণ্ন রাখার জন্যই এই নিলামের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, নিলামে বিক্রি হয়ে যাওয়া প্রতিটি কুকুরের নাম রয়েছে। ল্যাবরেডর জাতের তিনটি পুরুষ কুকুরের নাম ডিলন, ডিগবি, ইভান; একই জাতের দুটি মেয়ে কুকুরের নাম ডন এবং হেইডি জুনিয়র। জার্মান শেফার্ড জাতের দুটি পুরুষ কুকুরের নাম উইংক এবং নেরো; একই জাতের একমাত্র মেয়ে কুকুরটির নাম এলমা। জার্মান শেফার্ড উইংক এই আটটি কুকুরের মধ্যে সবচেয়ে ছোট, তার বয়স ৬ বছর ৭ মাস ১১ দিন। অন্যদিকে, এই দলের সবচেয়ে বয়স্ক কুকুর ল্যাবরেডর ডিলন, যার বয়স ৮ বছর ৩ মাস ২৭ দিন।
এসব কুকুরের ক্রেতা কারা ছিলেন, সে বিষয়ে র্যাবের পক্ষ থেকে কোনো তথ্য প্রদান করা হয়নি। তবে নিলামে বিক্রি শেষ হলেও ক্রেতাদের আগামী তিনদিনের মধ্যে আয়কর এবং ভ্যাট পরিশোধ করে কুকুরগুলো নিয়ে যেতে বলা হয়েছে, এ তথ্য প্রদান করেছেন ইন্তেখাব চৌধুরী।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কারাগারে ফেরার পথে প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগের রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন মণ্ডল। তিনি একই সঙ্গে দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়ে ভবিষ্যতে নিজেকে ইসলামি আদর্শে গড়ে তোলার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন।
বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেলে গাজীপুর জেলা গারদখানা থেকে প্রিজন ভ্যানে করে তাকে কারাগারের দিকে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। এ সময় তিনি হাতকড়া পরা অবস্থায় পুলিশ সদস্যদের পাহারায় থেকে উপস্থিত লোকজনের সামনে দাঁড়িয়ে এ কথা বলেন। তার ওই বক্তব্যের ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, "আমি দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চাই। আজ থেকে আওয়ামী লীগের সব পদ-পদবি থেকে আমি অব্যাহতি নিয়েছি। আমি আর কোনোদিন আওয়ামী লীগ করব না। আমি ইসলামিকভাবে নিজেকে গড়ে তুলতে চাই। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন।"
এর আগে বুধবার সকালে মামুন মণ্ডলকে আদালতে হাজির করা হয়েছিল। আদালতের কার্যক্রম শেষে বিকেলে তিনি গাজীপুর জেলা গারদখানা থেকে আবার কারাগারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। এই সময় তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা দেন।
জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৭ জানুয়ারি ঢাকার উত্তরার রূপায়ণ সিটি এলাকা থেকে আব্দুল্লাহ আল মামুন মণ্ডলকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন-সংক্রান্ত হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে।
ছাত্রজীবন থেকেই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন আব্দুল্লাহ আল মামুন মণ্ডল। ভাওয়াল বদরে আলম সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাত্র সংসদ নির্বাচনে তিনি ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরবর্তী সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন।
রাজনীতির পাশাপাশি তিনি গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ৩৫ নম্বর ওয়ার্ড থেকে পরপর দুইবার কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশবিষয়ক উপকমিটির সদস্য হিসাবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।
দলীয় রাজনীতিতে দীর্ঘ সময় সক্রিয় থাকার পর এবার সেই দলের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিলেন মামুন মণ্ডল। কারাগারে ফেরার ঠিক আগে প্রকাশ্যে উপস্থিত লোকজনের সামনে তিনি এ ঘোষণা দিলেন। তিনি দলের পদ-পদবি ছাড়ার বিষয়টিসহ অতীতের জন্য দেশবাসীর কাছে ক্ষমা চেয়ে ভবিষ্যৎ জীবন ইসলামি আদর্শ অনুযায়ী পরিচালনার কথাও জানান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য মনোনয়নপত্র জমাদান আজ (১৩ আগস্ট) সকাল ১০টায় শুরু হয়ে চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। ক্ষমতাসীন বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থীর নাম ঘোষণা না করলেও, দলীয় সূত্রমতে, তাদের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হচ্ছেন দলের মহাসচিব এবং বর্তমান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
প্রার্থী চূড়ান্ত করতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক আজ দুপুরে ডেকেছেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ওই বৈঠকে রাষ্ট্রপতি পদে দলের প্রার্থী চূড়ান্ত করার কথা রয়েছে। বৈঠকের পর আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপির প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে। এরপর দলটির পক্ষ থেকে বেলা ২টার দিকে তার মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।
অপরদিকে, বিরোধী দল জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য রাষ্ট্রপতি পদে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রমের জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে। আজ বেলা ১১টায় তাকে মনোনয়নপত্র জমা দিতে হবে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, ১৬ আগস্ট সকাল ১০টায় মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৮ আগস্ট বিকেল ৪টা পর্যন্ত। আর ভোট গ্রহণ হবে ২০ আগস্ট, এদিন বেলা ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণের কথা রয়েছে।
১৯৯০ সালে এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯১ সালে দেশে সংসদীয় পদ্ধতির সরকার গঠিত হয়। ওই বছরের ৮ অক্টোবর রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এ নির্বাচনে ভোটদানে বিরত ছিলেন জাতীয় পার্টি ও জামায়াতের সংসদ সদস্যরা।
১৯৯১ সালে পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে জিতে বিএনপি সরকার গঠন করে, বিরোধী দলে হয়েছিল আওয়ামী লীগ। সেবার রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দুই দলের প্রার্থী থাকায় প্রথমবারের মতো সংসদে ভোট হয়। বিএনপি প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন, অন্যদিকে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সাবেক প্রধান বিচারপতি বদরুল হায়দার চৌধুরী ৯২ ভোট পেয়েছিলেন।
এছাড়া, পঞ্চম সংসদে বিএনপি ১৪০, আওয়ামী লীগ ৮৮, জাতীয় পার্টি ৩৫, জামায়াত ১৮, বাকশাল পাঁচ, সিপিবি পাঁচ, ইসলামী ঐক্যজোট এক, ন্যাপ (মোজাফফর) এক, গণতন্ত্রী পার্টি এক, এনডিপি এক, জাসদ (শাজাহান সিরাজ) এক ও ওয়ার্কার্স পার্টি একটি আসন পেয়েছিল। সে বছর ৩০০ সাধারণ আসনের পাশাপাশি সংরক্ষিত আসনের সংখ্যা ছিল ৩০টি, সব মিলিয়ে (নির্বাচিত ও সংরক্ষিত) ৩৩০ জনের মধ্যে জাতীয় পার্টি, জামায়াতসহ ৬৬ জন সংসদ সদস্য ভোটদানে বিরত ছিলেন।
১৯৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে পোলিং কর্মকর্তার দায়িত্বে ছিলেন যুগ্ম সচিব হিসেবে অবসরে যাওয়া ইসির কর্মকর্তা মিহির সারওয়ার মোর্শেদ।
তিনি ৩৫ বছর আগের সেই অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে বলেন, সেবারই প্রথম প্রকাশ্য ভোট হয় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে। ভোটাররা প্রকাশ্যে ভোট দেন এবং ভোটের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা দূর থেকে তা প্রত্যক্ষ করেন। দুই প্রার্থীর পোলিং এজেন্টও দেখেন কে কাকে ভোট দিচ্ছেন। কে কে ভোট দিলেন তা নোটও নেন নিজ নিজ দলের এজেন্টরা।
ভোটের পরদিন ৯ অক্টোবর গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, জাতীয় পার্টি, জামায়াত, সিপিবি, ওয়ার্কার্স পার্টি ভোট দেয়নি। আবদুর রহমান বিশ্বাস প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ৯১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিএনপির সব সংসদ সদস্য ভোট দিতে আসেন এবং তাদের দলের প্রার্থীকে ভোট দেন। স্বতন্ত্র সদস্য নূরুল ইসলাম মনি ও মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদও তাকে ভোট দেন। গণতন্ত্রী পার্টির সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত ভোট দেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদরুল হায়দার চৌধুরীকে। তবে আওয়ামী লীগের আখতারুজ্জামান বাবু ভোট দিতে সংসদে যাননি। জাতীয় পার্টি নির্বাচন বর্জন করে, জামায়াত ও সিপিবি সদস্যরা ভোটদানে বিরত ছিলেন। ন্যাপের আবদুল হাফিজ, ওয়ার্কার্স পার্টির রাশেদ খান মেনন, এনডিপির সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরী, জাসদের শাজাহান সিরাজ ও ইসলামী ঐক্যজোটের মাওলানা ওবায়দুল্লাহ ভোটদানে বিরত ছিলেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার বিচারপতি আবদুর রউফ সেদিন সংসদে উপস্থিত থেকে নির্বাচন পরিচালনা করেন। সংসদকক্ষে চারটি কক্ষে একযোগে ভোট শুরু হয় বেলা ২টায় এবং বিরতি ছাড়াই ভোট চলে ৫টা পর্যন্ত।
বিএনপির চেয়ারপার্সন ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ২টায় ভোট দেন। ভোট দিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রী আসনে বসেন এবং দলীয় সদস্যদের ভোটদান প্রত্যক্ষ করেন। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা ভোট দেন ৩টা ৩৪ মিনিটে। বিকেল ৫টা বাজার সাথে সাথে ভোটদানের সময় শেষ ঘোষণা করেন সিইসি এবং ৫টা ৫ মিনিটে গণনা শুরু হয়। পৌনে ৬টায় গণনা শেষে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। ওই দিনই ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আবদুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ আর বদরুল হায়দার চৌধুরী ৯২ ভোট পেয়েছেন।
এদিকে, ৩৫ বছর পর রাষ্ট্রপতি পদে আবারও ভোট গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জাতীয় সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে মনোনীত রাষ্ট্রপতি প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত হলেও বিরোধী দল জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্য রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দিয়েছে।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এবারে সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে একটিতে প্রার্থিতা বাতিল রয়েছে। সংরক্ষিত আসনে এমপি আছেন ৫০ জন। সব মিলিয়ে ত্রয়োদশ সংসদে এবার ৩৪৯ জন এমপি রয়েছেন, যারা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন। এর মধ্যে সংরক্ষিত আসন মিলিয়ে বিএনপির সদস্য ২৪৭, জামায়াতের ৭৭ জন, স্বতন্ত্র আট, এনসিপির আট, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের তিন, ইসলামী আন্দোলনের এক, বিজেপির এক, গণসংহতি আন্দোলনের এক, গণপরিষদের এক, খেলাফত মজলিসের এক এবং জাগপার একজন সংসদ সদস্য রয়েছেন।
এদিকে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচন কমিশন (ইসি) সব ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানিয়েছেন, ১৯৯১ সালের পর দীর্ঘ বিরতির পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট গ্রহণ হচ্ছে ২০ আগস্ট। শুরুতে ভোটাভুটি সরাসরি সম্প্রচার (লাইভ টেলিকাস্ট) হবে এবং সাংবাদিকদের বসার ব্যবস্থা থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ