মোঃ শরীফ উদ্দিন : ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
০৯:০১ পি.এম
ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোণা জেলাকে সিলেট বিভাগের সঙ্গে যুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছেন সিলেটের কয়েকজন বাসিন্দা। একই সঙ্গে ভৌগোলিক অবস্থান ও প্রশাসনিক সুবিধা বিবেচনায় হবিগঞ্জকে সিলেট বিভাগের সদর দপ্তর করার প্রস্তাবও তুলেছেন তাঁরা।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন পোস্টের মাধ্যমে এসব প্রস্তাব তুলে ধরছেন সিলেটের কয়েকজন বাসিন্দা। ব্রাহ্মণবাড়িয়াকে কেন্দ্র করে নতুন বিভাগ গঠনের দাবি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যেই বিকল্প এ প্রস্তাব সামনে এসেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টগুলোতে বলা হচ্ছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ ও নেত্রকোণা জেলাকে সিলেট বিভাগের সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। তাঁদের মতে, এতে সিলেট বিভাগের আয়তন ও জেলা সংখ্যা বাড়ার পাশাপাশি প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্বিন্যাসের সুযোগ তৈরি হবে।
পাশাপাশি বিভাগের সব জেলার ভৌগোলিক অবস্থান ও যোগাযোগব্যবস্থা বিবেচনায় হবিগঞ্জকে বিভাগীয় সদর দপ্তর করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবকারীদের দাবি, এতে বিভাগের বিভিন্ন জেলার মানুষের প্রশাসনিক ও নাগরিক সেবা গ্রহণ সহজ হতে পারে।
তাঁদের যুক্তি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কিশোরগঞ্জের কিছু এলাকার মানুষের জন্য বিভিন্ন প্রয়োজনে হবিগঞ্জ তুলনামূলক কাছের ও সুবিধাজনক গন্তব্য হতে পারে। তাই বিভাগীয় সদর দপ্তর নির্ধারণের ক্ষেত্রে আঞ্চলিক আবেগের পাশাপাশি ভৌগোলিক অবস্থান, যোগাযোগব্যবস্থা ও জনসাধারণের সুবিধাকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, এর আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ ও হবিগঞ্জ জেলা নিয়ে ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিভাগ’ গঠনের দাবি জানিয়েছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপির সদস্য কবির আহমেদ ভূঁইয়া। তাঁর এ প্রস্তাব ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
এরই মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ তিন জেলাকে সিলেট বিভাগের সঙ্গে যুক্ত করার পাশাপাশি হবিগঞ্জকে বিভাগীয় সদর দপ্তর করার বিকল্প প্রস্তাব সামনে এসেছে। তবে এসব প্রস্তাব এখন পর্যন্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নাগরিকদের মতামত হিসেবেই উঠে এসেছে; কোনো সরকারি সিদ্ধান্ত বা আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব হিসেবে নিশ্চিত নয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২ নভেম্বর, ২০২৬ : ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় ব্যাটারিচালিত তিন চাকার স্বল্পগতির রিকশা (ই-রিকশা) চলাচলে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
নিবন্ধনের আবেদন ফরম আগামীকাল ৩ নভেম্বর থেকে বিতরণ শুরু হবে, যার মূল্য হবে ১০০ টাকা। একজন ব্যক্তি একটি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্যবহার করে সর্বাধিক পাঁচটি আবেদন ফরম সংগ্রহ করতে পারবেন নিবন্ধনের জন্য।
আজ সোমবার নগর ভবনে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম এ তথ্য তুলে ধরেন।
তিনি উল্লেখ করেন, ই-রিকশা চলাচলে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং নগরবাসীর নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে নতুন বিধিমালা অনুসারে এই কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। তবে, আবেদন ফরম সংগ্রহ করলেই নিবন্ধন নিশ্চিত হবে না। নির্ধারিত শর্ত পূরণ, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কারিগরি মানদণ্ড অনুসরণ এবং প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাইয়ের পর কেবল যোগ্য যানবাহনকে নিবন্ধন সনদ প্রদান করা হবে।
আবেদন ফরম ডিএসসিসির নগর ভবন এবং সব আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে সংগ্রহ করা যাবে। স্থানীয় সরকার বিভাগ কর্তৃক জারিকৃত ‘সিটি কর্পোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) চলাচল বিধিমালা, ২০২৬’ অনুসারে এই নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
নিবন্ধনের জন্য আবেদনকারীকে অবশ্যই বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। আবেদনপত্রের সঙ্গে জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত অনুলিপি, সদ্য তোলা দুই কপি পাসপোর্ট আকারের ছবি, ফি জমার মূল রসিদ এবং নির্ধারিত ফরমে ফিটনেস সার্টিফিকেট জমা দিতে হবে।
আবেদন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাইয়ের পাশাপাশি বুয়েটের নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মানদণ্ড ও নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী ই-রিকশার উপযুক্ততা পরীক্ষা এবং কারিগরি ছাড়পত্র গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আবেদন ফরম সংগ্রহ বা জমা দিলেই নিবন্ধন নিশ্চিত হবে না। সব নির্ধারিত মানদণ্ডে উত্তীর্ণ যানবাহনকেই নিবন্ধন সনদ দেওয়া হবে।
ডিএসসিসি এলাকার ই-রিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণের জন্য পুরো এলাকাকে চারটি জোনে ভাগ করে রুট নির্ধারণ ও যানবাহনের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। ট্রাফিক পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে জোন ভিত্তিক এ ব্যবস্থাপনা কার্যকর করা হবে।
নতুন বিধিমালা বাস্তবায়নের মাধ্যমে সড়কে অননুমোদিত ও অনুপযুক্ত ই-রিকশার সংখ্যা কমিয়ে যানজট হ্রাস এবং নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও জনবান্ধব নগর পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার আশা প্রকাশ করেছে ডিএসসিসি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ২ নভেম্বর, ২০২৬ : চলতি বছরের ডিসেম্বরে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি নবায়নের বিষয়ে বাংলাদেশ আশাবাদী। দেশের পানির ন্যায্য চাহিদা এবং দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকার আলোচনা শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
আজ বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম মন্তব্য করেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি এবং আশাবাদী, চলতি বছর মেয়াদ শেষ হতে যাওয়া চুক্তিটি নবায়ন হবে। ভারতও এ বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নেবে বলে আমরা আশাবাদী।’
প্রতিমন্ত্রী জানান, পানি বণ্টন চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে ভারতের সঙ্গে আলোচনা করার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে একটি কমিটি গঠন করেছেন। চুক্তিটির মেয়াদ আগামী ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
তিনি বলেন, পানিসম্পদমন্ত্রী এবং সরকারের অর্থ উপদেষ্টা এ প্রক্রিয়ায় নেতৃত্ব দিচ্ছেন। এছাড়া, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিও কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, ভারতের সঙ্গে বিভিন্ন পর্যায়ে ইতোমধ্যে আলোচনা চলছে। অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিক আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি উল্লেখ করেন, ‘ভারতের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা হবে। চুক্তি নিয়ে বিভিন্ন পর্যায়ে তাদের সঙ্গে ইতোমধ্যে আলোচনা চলছে।’
আসন্ন এই আলোচনায় ইতিবাচক ফল আসবে এবং গঙ্গার পানি বণ্টনে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে সাহায্য করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বিদ্যমান চুক্তিটি সরাসরি নবায়ন করা হবে, নাকি সংশোধিত শর্ত যুক্ত করে নতুন চুক্তি করা হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গঠিত কমিটির পর্যালোচনার মাধ্যমে সরকার তার আলোচনার অবস্থান নির্ধারণ করবে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশ তার ন্যায্য দাবি আদায়ে সচেষ্ট থাকবে এবং দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ পানির চাহিদাকে অগ্রাধিকার দেবে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের ন্যায্য দাবি এবং বাংলাদেশ ও এ দেশের মানুষের প্রয়োজনকে ভিত্তি করেই আলোচনা এগিয়ে নেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ভবিষ্যৎ স্বার্থের জন্য সবচেয়ে ভালো হয় এবং পানিসংকট সমাধানে সহায়ক হয়—এমনভাবেই আমরা সিদ্ধান্ত নেব।’
উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্বাক্ষরিত ৩০ বছর মেয়াদি গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ এ বছরের ডিসেম্বরে শেষ হতে যাচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জাপানের আয়াসোফিয়া মসজিদে আজান প্রদান করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ানের পুত্র নেকমেত্তিন বিলাল এরদোয়ান। সম্প্রতি তিনি জাপান সফরের সময় দেশটির আইচি প্রিফেকচারের সুশিমা শহরে অবস্থিত ঐ মসজিদে আজান দিতে দেখা গেছেন।
নেকমেত্তিন বিলাল এরদোয়ান বর্তমানে তুরস্কের ইলিম ইয়ায়মা ফাউন্ডেশনের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
জাপানের সুশিমা আয়াসোফিয়া মসজিদটি দেশটির অন্যতম বৃহৎ ও দৃষ্টিনন্দন মসজিদ হিসেবে পরিচিত। এটি তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অবস্থিত ঐতিহাসিক আয়া সোফিয়া গ্র্যান্ড মসজিদের নামানুসারে নামকরণ করা হয়েছে। ২০২২ সালের নভেম্বর মাসে আনুষ্ঠানিকভাবে মসজিদটি উদ্বোধন করা হয়।
মসজিদটির স্থাপত্যশৈলীতে ঐতিহ্যবাহী অটোমান ও তুর্কি স্থাপত্যের প্রভাব সুস্পষ্ট। এর দৃষ্টিনন্দন মিনার, গম্বুজ এবং অভ্যন্তরীণ কারুকাজ দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে।
মধ্য জাপানের অন্যতম বৃহৎ ইসলামিক কমপ্লেক্স হিসেবে পরিচিত এই মসজিদটি রাজধানী টোকিও থেকে প্রায় ৩৫০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত।
মসজিদটি মুসলমানদের নামাজ আদায়ের স্থান হিসেবেই নয়, বরং জাপানে বসবাসরত তুর্কি ও স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মিলনকেন্দ্র হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। পাশাপাশি, এটি বিভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সংলাপের ক্ষেত্র তৈরিতেও অবদান রাখছে।
এআরবি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জোর করে বাসে যাত্রী তোলা, রোগীবাহী যান আটকে দেওয়ার অভিযোগ; ক্ষোভে দুই দিন ধরে বন্ধ বাস চলাচল
বরিশালের চরকাউয়া রুটে দীর্ঘ প্রায় দুই দশক ধরে বাস মালিক সমিতির একচ্ছত্র আধিপত্য, খামখেয়ালিপনা ও কথিত পরিবহন সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ যাত্রী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। নিজেদের বাস ছাড়া অন্য কোনো যানবাহনে যাত্রী পরিবহনে বাধা দেওয়া, অটোরিকশা কিংবা রিকশা থেকে জোরপূর্বক যাত্রী নামিয়ে বাসে তুলতে বাধ্য করা এবং জরুরি প্রয়োজনে অসুস্থ রোগী বহনকারী যানবাহন আটকে দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে চরকাউয়া বাস মালিক সমিতির সদস্য ও সংশ্লিষ্ট বাস শ্রমিকদের বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে এই রুটে পরিবহন ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে রেখেছে। সাধারণ মানুষ কোথায় যাবেন, কোন যানবাহনে যাতায়াত করবেন, এমনকি জরুরি প্রয়োজনে কীভাবে রোগী নিয়ে হাসপাতালে পৌঁছাবেন, সেসব ক্ষেত্রেও বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। ফলে জনসাধারণের স্বাভাবিক চলাচলের অধিকার নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, চরকাউয়া রুটে বাস মালিক সমিতির সদস্যরা নিজেদের বাস ছাড়া অটোরিকশা, মাহিন্দ্রা, রিকশা ও ভ্যানসহ অন্যান্য যানবাহনে যাত্রী পরিবহনে বাধা দেন। কোনো যাত্রী নিজস্ব প্রয়োজন, সুবিধা কিংবা সময় বাঁচানোর জন্য এসব যানবাহনে উঠলে তাকে জোরপূর্বক নামিয়ে বাসে উঠতে বাধ্য করা হয়।
এমন পরিস্থিতিতে যাত্রীরা চাইলেও নিজেদের পছন্দ ও প্রয়োজন অনুযায়ী যানবাহন নির্বাচন করতে পারছেন না। বিশেষ করে স্বল্প দূরত্বের যাত্রী, নারী, শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং অসুস্থ মানুষকে নিয়ে চলাচলকারীদের বাড়তি ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, একটি নির্দিষ্ট রুটে বাস চলাচলের ব্যবস্থা থাকলেই কি অন্য বৈধ যানবাহনে যাত্রী পরিবহনের পথ বন্ধ করে দেওয়া যায়? পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা বজায় রাখার দায়িত্ব কোনো সমিতিকে দেওয়া হলেও সেই ক্ষমতার অপব্যবহার করে সাধারণ মানুষের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করার অধিকার তাদের কে দিয়েছে?
*রোগীবাহী যানবাহন আটকে দেওয়ার অভিযোগ, মানবিকতা নিয়েও প্রশ্ন*
সবচেয়ে উদ্বেগজনক অভিযোগ উঠেছে অসুস্থ রোগী পরিবহন নিয়ে। ভুক্তভোগীদের দাবি, জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে রোগীকে হাসপাতালে নেওয়ার জন্য ভাড়া করা ভ্যান, রিকশা কিংবা অটোরিকশাকেও চরকাউয়া খেয়াঘাট পর্যন্ত যেতে বাধা দেওয়া হয়।
একজন অসুস্থ মানুষকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন হলেও যদি যানবাহন আটকে দেওয়া হয়, তাহলে তা শুধু পরিবহনসংক্রান্ত বিরোধের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং জনস্বাস্থ্য ও মানবিক দায়িত্ববোধের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়।
স্থানীয়দের মতে, রোগীর জীবন রক্ষার প্রয়োজনীয়তা কোনো পরিবহন সমিতির স্বার্থের চেয়ে বড়। সেখানে রোগীবাহী যানবাহন আটকে দেওয়ার অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহির আওতায় আনা জরুরি।
*প্রতিবাদ করলেই অপমান-অপদস্থ ও মারধরের অভিযোগ*
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, দীর্ঘদিনের এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করতে গেলেই অটোরিকশাচালক ও সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়। কখনো রাস্তায় আটকে অপমান-অপদস্থ করা হয়, আবার কখনো শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধরের ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চরকাউয়া বাস স্টাফদের কথিত সিন্ডিকেটের প্রভাব এতটাই বিস্তৃত যে তাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে কথা বলতেও অনেকে ভয় পান। কেউ অন্যায়ের প্রতিবাদ করলে তাকে বিভিন্নভাবে হেনস্তার শিকার হতে হয় বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।
এমন অভিযোগ সত্য হলে তা শুধু পরিবহন শ্রমিকদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের বিরোধ নয়, বরং সড়কে আইন প্রয়োগ, নাগরিক অধিকার এবং জননিরাপত্তার বিষয়েও গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করে।
একটি পরিবহন সমিতি কিংবা তার সংশ্লিষ্ট শ্রমিকদের কোনোভাবেই সাধারণ মানুষের চলাচলের অধিকার নিজেদের ইচ্ছামতো নিয়ন্ত্রণ করার সুযোগ থাকার কথা নয়। অথচ দীর্ঘদিন ধরে এমন পরিস্থিতি চলার অভিযোগ স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ বাড়িয়ে তুলছে।
দীর্ঘদিনের ক্ষোভ, পরিবহনসংক্রান্ত বিরোধ এবং কথিত সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যের প্রতিবাদে গত দুই দিন ধরে চরকাউয়া থেকে বিভিন্ন রুটে বাস চলাচল বন্ধ করে দিয়েছেন অটোরিকশা শ্রমিক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা বিভিন্ন স্থানে গাছ ফেলে সড়ক অবরোধ করে বাস চলাচল বন্ধ করে দেন। এতে সংশ্লিষ্ট রুটে বাস চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে।
দীর্ঘদিন ধরে জমে থাকা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে এই অবরোধের ঘটনা সামনে এসেছে। তবে বাস চলাচল বন্ধ থাকায় সাধারণ যাত্রীরাও নতুন করে দুর্ভোগে পড়েছেন। কর্মজীবী মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ীসহ প্রতিদিন যাতায়াতকারী বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে বিকল্প পরিবহনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
পরিবহন ব্যবস্থার এমন অচলাবস্থায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। একদিকে বাস চলাচল বন্ধ, অন্যদিকে বিকল্প যানবাহন চলাচল নিয়েও দীর্ঘদিনের অভিযোগ। সব মিলিয়ে চরকাউয়া রুটে স্বাভাবিক যাতায়াত ব্যবস্থা কার্যত সংকটের মুখে পড়েছে।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, প্রায় দুই দশক ধরে যদি একটি রুটে পরিবহন নিয়ন্ত্রণ, যাত্রী হয়রানি, অন্য যানবাহনে বাধা এবং রোগীবাহী যান আটকে দেওয়ার মতো অভিযোগ চলতে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি কোথায়?
পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সড়কে বৈধ যানবাহনের চলাচল নির্বিঘ্ন রাখার দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও কর্তৃপক্ষের। কোনো সমিতি বা গোষ্ঠীর প্রভাবের কারণে সাধারণ মানুষ যেন তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত না হন, সেটি নিশ্চিত করা জরুরি।
বিশেষ করে রোগীবাহী যানবাহন চলাচলে বাধা দেওয়ার অভিযোগকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা প্রয়োজন। পাশাপাশি যাত্রীদের জোরপূর্বক বাসে উঠতে বাধ্য করা, অটোরিকশাচালকদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং মারধরের অভিযোগগুলোও নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা দরকার।
চরকাউয়া রুটের ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ ও স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘদিনের কথিত পরিবহন সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, কোনো নির্দিষ্ট সমিতি বা গোষ্ঠীর একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং আইন ও বিধিবিধান অনুযায়ী সব বৈধ যানবাহনের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে হবে।
একই সঙ্গে রোগীবাহী যানবাহন আটকে দেওয়া, যাত্রীদের জোরপূর্বক বাসে উঠতে বাধ্য করা, অটোরিকশাচালকদের হেনস্তা ও মারধরের অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
ভুক্তভোগীদের প্রত্যাশা, প্রশাসন দ্রুত সরেজমিনে তদন্ত করে চরকাউয়া রুটের প্রকৃত পরিস্থিতি উদ্ঘাটন করবে এবং দীর্ঘদিনের এই পরিবহন সংকটের স্থায়ী সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।
সাধারণ মানুষের চলাচলের অধিকার কোনো ব্যক্তি, গোষ্ঠী কিংবা পরিবহন সমিতির ব্যক্তিগত নিয়ন্ত্রণাধীন হতে পারে না। জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে চরকাউয়া রুটে আইনসম্মত, নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি এখন স্থানীয়দের।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ