০৮:০৮ এম
তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এই মুহূর্তে জোসেফ বিজয় চন্দ্রশেখর এক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক পরীক্ষার সম্মুখীন। প্রতিবেশী রাজ্য কর্ণাটকের সাথে তামিলনাড়ুর দীর্ঘদিনের কাবেরি জলবণ্টন সমস্যা নিয়ে এখন রাজ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছে।
এই ইস্যুর প্রেক্ষাপটে আলোচনা করার লক্ষ্যে অবিলম্বে একটি সর্বদলীয় বৈঠক আয়োজনের জন্য মুখ্যমন্ত্রী বিজয় এবং তার দল ‘তামিলগা ভেট্রি কাজাগাম’ (টিভিকে) সরকারের ওপর বিরোধী দলগুলো চাপ দিয়ে যাচ্ছে। যদিও ক্ষমতাসীন টিভিকে সরকার বিরোধী দলের এই দাবি স্পষ্ট ভাষায় প্রত্যাখ্যান করেছে।
সরকারের অভিযোগ এ যে, বিরোধীদের উদ্দেশ্য হচ্ছে রাজ্যের স্বার্থরক্ষা নয়, বরং নতুন মুখ্যমন্ত্রীর জন্য রাজনৈতিক অস্বস্তি ও সমস্যা তৈরি করা। উপকূলীয় এবং কৃষিপ্রধান অঞ্চলগুলোতে বিরোধী দল ডিএমকে প্রশ্ন উত্থাপন করেছে—মুখ্যমন্ত্রী কেন সর্বদলীয় বৈঠক ডাকতে এত ভয় পাচ্ছেন?
আরও পড়ুন: ক্যালিফোর্নিয়ায় দাবানল, ৬ হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরানো হচ্ছে
মেকেদাতু বাঁধ ইস্যু তুলে ধরার মাধ্যমে বিরোধী নেতারা উল্লেখ করেছে যে, কর্ণাটক সরকার ইতিমধ্যেই এ বিষয়ে একটি সর্বদলীয় বৈঠক করে ফেলেছে। এই অবস্থায় তামিলনাড়ু সরকারেরও একই পথে হাঁটার দাবি তাদের। তবে তাদের এই দাবি উড়িয়ে দিয়েছেন পক্ষে জ্যেষ্ঠ টিভিকে নেতা সি টি আর নির্মল কুমার। তিনি জানান যে, বিষয়টি নিয়ে আগেই তামিলনাড়ু বিধানসভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
নির্মল কুমার বলেন, ‘সব রাজনৈতিক দলের সর্বসম্মত সমর্থনেই বিধানসভায় এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব গৃহীত হয়েছিল। এর পর আবার নতুন করে সর্বদলীয় বৈঠক ডাকার কী প্রয়োজন? ডিএমকে তামিলনাড়ুর কৃষকদের কল্যাণের চেয়ে আমাদের মুখ্যমন্ত্রীর জন্য সমস্যা তৈরি করতেই বেশি আগ্রহী।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ডিএমকে-র শীর্ষ পরিবারের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অতীতে কাবেরি বিরোধের সকল বড় মোড়ে ডিএমকে বা এআইডিএমকে—উভয় সরকারই সর্বদলীয় বৈঠক ডেকে রাজ্যের রাজনৈতিক ঐক্য প্রদর্শন করত। কিন্তু বিজয়ের টিভিকে সরকার এবার একেবারেই ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে।
জানা গেছে, সমস্যার সমাধানে মুখ্যমন্ত্রী বিজয় নিজে বেঙ্গালুরু গিয়ে কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু কর্ণাটকে তৈরি পরিস্থিতির কারণে শেষ পর্যন্ত সেই সফর স্থগিত করা হয়।
আরও পড়ুন: কলকাতায় পূজামণ্ডপ ভেঙে প্রাণহানি, শোক জানালেন মোদি ও মমতা
সব সমালোচনা সত্ত্বেও টিভিকে সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, তারা কৌশলগতভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রস্তুত এবং কোনো অবস্থাতেই কাবেরি নদী থেকে তামিলনাড়ুর ন্যায্য অধিকার ক্ষুণ্ন হতে দেওয়া হবে না।
এদিকে এই ইস্যুতে চাপ আরও বাড়াতে বিরোধী দলগুলো সক্রিয় হয়ে উঠেছে। কাবেরি এবং কৃষক সমস্যা নিয়ে টিভিকে সরকারের ভূমিকার তীব্র নিন্দা জানিয়ে ৩ আগস্ট তাঞ্জাবুরে একটি বিশাল প্রতিবাদ সমাবেশের ডাক দিয়েছে ডিএমকে।
সূত্র: এনডিটিভি
আরও পড়ুন: শ্রীলঙ্কায় দেশব্যাপী বিদ্যুৎ বিপর্যয়, জাতীয় গ্রিডে ত্রুটি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন