প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চীনে বসবাসকারী এবং ভ্রমণরত বিদেশি নাগরিকদের ওপর কীভাবে চীন সরকার সর্বব্যাপী নজরদারি চালাচ্ছে, তা নিয়ে একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে। মার্ক হোফার নামের একজন সাইবার নিরাপত্তা গবেষক এবং সাবেক বিদেশি সাংবাদিক ভুলবশত ইন্টারনেটে অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে থাকা একটি গোপন ডেটাবেস আবিষ্কার করেছেন। এই খবর এনডিটিভি প্রকাশ করেছে।
‘ডাইনামিক কন্ট্রোল প্ল্যাটফর্ম ফর ওভারসিজ পার্সোনেল’ নামক ওই প্ল্যাটফর্মটিতে ৭০০ জনেরও বেশি বিদেশি নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্যসহ প্রায় ১২,০০০ এন্ট্রি সংরক্ষিত ছিল। এতে বিদেশি সাংবাদিকদের পাশাপাশি পর্যটক, শিক্ষার্থী এবং কূটনীতিকদের দৈনন্দিন চলাফেরার বিস্তারিত রেকর্ড ছিল।
দ্য নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, শীতকালীন অলিম্পিক সহ-আয়োজক শহর ঝাংজিয়াকৌয়ের কেন্দ্রিক এই নজরদারি সিস্টেমে বিদেশি নাগরিকদের পাসপোর্ট নম্বর, মোবাইল নম্বর, হাসপাতালের চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য, রান্নার গ্যাসের বিল, বিমান ও ট্রেনের টিকিট (আসন নম্বরসহ) এবং স্কি রিসোর্ট পরিদর্শনের বিস্তারিত বিবরণ সংরক্ষিত ছিল। এমনকি বিভিন্ন স্থানে বসানো ফেস-রিকগনিশন ক্যামেরার মাধ্যমে কারো কখন এবং কোথায় উপস্থিতি ঘটেছে, তার সুনির্দিষ্ট সময়ও রেকর্ড করা হতো।
অন্যদিকে, তদন্তে জানা গেছে, বেইজিংভিত্তিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও নজরদারি সরঞ্জাম প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ‘অরিজিন ডাইনামিক’ এই প্ল্যাটফর্মটি তৈরি করেছে। এই প্রতিষ্ঠানটির আংশিক মালিকানায় চীনা স্থানীয় সরকার রয়েছে। উক্ত ডেটাবেসটি এতটাই অরক্ষিত ছিল যে লগইন পেজে আগে থেকেই ইউজারনেম ও পাসওয়ার্ড টাইপ করা ছিল, ফলে যে কেউ সহজেই এই সংবেদনশীল তথ্যে প্রবেশ করতে পারত। আবিষ্কারের পরপরই কিছুদিন পরে সাইটটি ইন্টারনেট থেকে সম্পূর্ণরূপে সরিয়ে নেওয়া হয়।
এই সিস্টেমের মাধ্যমে বিদেশিদের বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করে নজরদারি চালানো হতো। যেমন -
ফাইভ আইজ অ্যালায়েন্স: যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের নাগরিকদের বিশেষ নজরদারি গ্রুপে রাখা হয়েছিল।
গুরুত্বপূর্ণ দেশ: ইরান, পাকিস্তান, ইসরাইল, মিশর, মরক্কো ও সুদান থেকে আসা ব্যক্তিদের আলাদাভাবে চিহ্নিত করা হতো।
সংবেদনশীল অঞ্চল ও ব্যক্তিবর্গ: হংকং ও তাইওয়ানের অধিবাসী, বিদেশি সাংবাদিক (প্রায় ৩০০ জন) এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের (বিশেষ করে ভারত ও পাকিস্তানের) ওপর ক্যামেরা ও ফেস-স্ক্যানারের মাধ্যমে নজরদারি চলতো।
বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তি এবং নজরদারি ক্যামেরার বিশাল জালের মাধ্যমে চীনে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের ব্যক্তিগত জীবনের ওপর বেইজিং কতখানি গভীর নজরদারি বজায় রাখছে, এটি তার একটি বৃহত্তম প্রমাণ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন