ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানাতে যাচ্ছে ইরান


যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জানাতে যাচ্ছে ইরান

বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণসংক্রান্ত বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে ফিফার কাছে অভিযোগ জানাবেন ইরান। ম্যাচ শুরুর দুই দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি চেয়ে দ্বিতীয় দফায় প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর ইরানের ফুটবল ফেডারেশন এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।

ইরানের ফুটবল ফেডারেশন অভিযোগের ব্যাপারে একটি বিবৃতিতে জানিয়েছে। সব কটি ম্যাচ যুক্তরাষ্ট্রে হলেও সাম্প্রতিক যুদ্ধের কারণে তাদের থাকতে হচ্ছে মেক্সিকোতে। ২১ জুন বেলজিয়াম ম্যাচের দুই দিন আগে তারা ক্যালিফোর্নিয়ায় যেতে চেয়েছিল।

এক বিবৃতিতে ইরানের ফুটবল ফেডারেশন জানায়, ‘আমাদের ওপর আরোপিত ভ্রমণসংক্রান্ত বিধিনিষেধ অংশগ্রহণকারী সব দলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার নীতির সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ এবং এটি দলগুলোর প্রস্তুতি প্রক্রিয়াকে নেতিবাচকভাবে প্রভাবিত করতে পারে। ফলে ফেডারেশন আনুষ্ঠানিকভাবে অসন্তোষ প্রকাশ করবে এবং যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থার কাছে অভিযোগ দায়ের করবে।’

আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ইরান ২-২ গোলে ড্র করার পর দেশটির কোচ আমির গালেনোয়ি বলেছিলেন, ‘আমরাই এই বিশ্বকাপের সবচেয়ে নিপীড়িত দল।’ ওই ম্যাচের আগেও ইরান দুই দিন আগে ভেন্যুতে পৌঁছতে চেয়েছিল।

হোয়াইট হাউসের বিশ্বকাপ কর্মদলের নির্বাহী পরিচালক অ্যান্ড্রু জুলিয়ানি বলেছেন, বিশ্বকাপে অংশ নেওয়ার আগে থেকেই ইরান এই শর্তগুলো সম্পর্কে অবগত ছিল। তিনি বলেন, ‘দলটি ম্যাচের এক দিন আগে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে পারবে। ম্যাচ শেষ হওয়ার দিন সন্ধ্যাতেই তাদের চলে যেতে হবে। লস অ্যাঞ্জেলেসেও একই নিয়ম কার্যকর থাকবে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৭১-এর বিরোধিতাকারীরা কখনোই বাংলাদেশের মঙ্গল চায় না: ডিএসসিসি প্রশাসক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৯ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৩৭ পি.এম


৭১-এর বিরোধিতাকারীরা কখনোই বাংলাদেশের মঙ্গল চায় না: ডিএসসিসি প্রশাসক

যারা বিভিন্ন আন্দোলন করে বিএনপিকে পতনের ভয় দেখানোর চেষ্টা করছে, তাদেরকে আগে বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস জানার পরামর্শ দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আবদুস সালাম। তিনি বলেন, কার কত ভোট বা জনপ্রিয়তা রয়েছে, তা আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনেই পরিষ্কার হয়ে যাবে।

শুক্রবার (১৯ জুন) রাজধানীর রায়েরবাজারে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।

আবদুস সালাম আরও বলেন, দেশের প্রতিটি দুঃসময়ে এবং সংকটে জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে। বিএনপি দেশের মানুষের পক্ষে কথা বলেছে বলেই জনগণ বারবার ভোট দিয়ে তাদের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এনেছে।

বক্তৃতায় জামায়াতে ইসলামীর তীব্র সমালোচনা করে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, জামায়াত বিভিন্ন কারচুপি ও টাকার বিনিময়ে ভোট কিনেছে। আর্থিক দিক থেকে তারা বাংলাদেশের সবচেয়ে ধনী দল। অথচ ১৯৭১ সালে যারা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরোধিতা করেছিল, তারা কখনোই বাংলাদেশের ভালো চায় না।

বর্তমান সরকারের সাফল্য তুলে ধরে তিনি বলেন, মাত্র তিন মাসের মধ্যে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে ফেলেছে। এই সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা রয়েছে। ভবিষ্যতে অনুষ্ঠিতব্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনেই প্রমাণ হবে জনগণের প্রকৃত সমর্থন কোন দলের প্রতি রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা ইরানের ‘লাল রেখা’র মধ্যেই থাকবে: কালিবাফ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১৯ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৩৮ পি.এম


যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা ইরানের ‘লাল রেখা’র মধ্যেই থাকবে: কালিবাফ

ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ বলেছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভবিষ্যৎ আলোচনা terahan-এর নির্ধারিত ‘লাল রেখা’ বা অবিচল নীতিগত অবস্থানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

সরকারি বার্তা সংস্থা আইআরএনএ শুক্রবার তার বক্তব্য প্রকাশ করেছে।

তেহরান থেকে এএফপি জানায়, কালিবাফ বলেন, ‘আলোচনার পূর্ববর্তী পথচলায় আমরা যেমন দেখিয়েছি, তেমনি নির্ধারিত শর্ত ও লাল রেখা মেনে চলতে এবং ইরানি জাতির স্বার্থ রক্ষায় আমরা অবিচল।’

তিনি আরও বলেন, ‘শত্রুপক্ষ যদি অতিরিক্ত কিছু চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে তবে আমরা ইতোমধ্যে প্রমাণ করেছি যে আমাদের আঙুল ট্রিগারের ওপর রয়েছে এবং শত্রুকে বিধ্বংসী জবাব দিতে আমাদের কোনো দ্বিধা হবে না।’

গত ফেব্রুয়ারিতে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া আঞ্চলিক যুদ্ধের অবসানে চলতি সপ্তাহে তেহরান ও ওয়াশিংটন একটি সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেছে।

কালিবাফের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে যখন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি জানিয়েছেন যে এ বিষয়ে তার ‘ভিন্ন মত’ থাকলেও তিনি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির অনুমোদন দিয়েছেন। তবে তিনি তার ভিন্নমতের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বার্তায় খামেনি বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা মানেই শত্রুপক্ষের দৃষ্টিভঙ্গি মেনে নেওয়া নয়।’

খামেনির বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেছেন, ইরানের পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ‘দেশের সর্বোচ্চ স্বার্থ নিশ্চিত করতে’ এবং ‘মর্যাদাবান ইরানি জাতির অধিকার রক্ষায়’ কাজ করবে।

চুক্তিতে ইরানের পক্ষে স্বাক্ষরকারী প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানও একই ধরনের বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইরান তার লাল রেখা মেনে চলবে এবং দেশের ‘মর্যাদা, সম্মান ও কর্তৃত্ব’ রক্ষায় অটল থাকবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন। এর মাধ্যমে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার নিয়ে ৬০ দিনের বিস্তারিত আলোচনার ভিত্তি তৈরি হয়েছে।

তবে চূড়ান্ত সমঝোতার লক্ষ্যে আলোচনা কবে শুরু হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকা প্রথম বৈঠকটি স্থগিত করা হয়েছে।

চুক্তি অনুযায়ী, লেবাননসহ মধ্যপ্রাচ্যের সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ হবে, ইরানি বন্দরগুলোর ওপর দুই মাস ধরে চলা মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে এবং তেহরান ৬০ দিনের জন্য ‘কোনো ধরনের ফি ছাড়া’ হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করবে।

এতে ইরান প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে, তারা পারমাণবিক অস্ত্র সংগ্রহ বা উন্নয়ন করবে না। যদিও তেহরান দীর্ঘদিন ধরেই দাবি করে আসছে যে তারা কখনোই পারমাণবিক বোমা তৈরির চেষ্টা করেনি।

যাহোক, ইরানের রক্ষণশীল মহলের মধ্যে চুক্তি এবং যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য নিয়ে গভীর সংশয় দেখা দিয়েছে। তাদের কেউ কেউ আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত হওয়ার আগেই তেহরান হয়তো গুরুত্বপূর্ণ দর-কষাকষির উপায়গুলো হারাতে পারে।

অতিউগ্র রক্ষণশীল দৈনিক কায়হান-এর সম্পাদক হোসেইন শারিয়তমাদারি বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মন্তব্য করেন, ‘আমেরিকানরা কোনো প্রতিশ্রুতিই রক্ষা করে না। তারা কোনো চুক্তির প্রতিই বিশ্বস্ত ছিল না এবং ভবিষ্যতেও থাকবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘হরমুজ প্রণালীই ক্ষতিপূরণ আদায়ের পথ।’

এদিকে, জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোতে সম্ভাব্য পরিদর্শনের খবরেও আপত্তি জানিয়েছেন পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা কমিশনের মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজায়ি।

এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি সরকার এ খবর অস্বীকার করবে। কিন্তু যদি এ দাবি সত্য হয়, তাহলে সংসদ এ ধরনের আইনভঙ্গ ও অবাধ্যতার বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১৯ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৪০ পি.এম


রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ টিকিয়ে রাখার লড়াইয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমার

২০২৪ সালের জুলাইয়ে, দীর্ঘকালীন রাজনৈতিক অস্থিরতার অবসান ঘটানোর প্রতিশ্রুতি নিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পর, একের পর এক নীতিগত অবস্থান পরিবর্তন ও বিভিন্ন বিতর্কে জড়িয়ে, তিনি ভোটারদের ক্ষোভের মুখে পড়েছেন।

লন্ডন থেকে এএফপি জানাচ্ছে, স্টারমার বর্তমানে জনপ্রিয় দলীয় নেতা অ্যান্ডি বার্নহ্যামের সম্ভাব্য নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। গ্রেটার ম্যানচেস্টরের মেয়র বার্নহ্যাম এর আগে উত্তর-পশ্চিম ইংল্যান্ডের একটি উপনির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পাওয়ার পর, তার নেতৃত্বে চ্যালেঞ্জ আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

২০২৪ সালের ৫ জুলাই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম ভাষণে, স্টারমার ‘সেবামূলক’ সরকারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন যে, ১৪ বছরের রক্ষণশীল শাসন, ব্রেক্সিট এবং দলীয় কোন্দলে জর্জরিত রাজনীতির পর, তার সরকার মানুষের জীবনে ‘কম হস্তক্ষেপকারী’ হবে।

সাবেক রক্ষণশীল প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন ও লিজ ট্রাসের আদর্শিক ও আক্রমণাত্মক রাজনীতির বিপরীতে, তিনি নিজেকে বাস্তববাদী ও প্রশাসনিক দক্ষতায় সমন্বিত নেতা হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেছিলেন।

সাংবাদিক প্যাট্রিক ম্যাগুয়ের এবং গ্যাব্রিয়েল প্রোগরুন্ডের লেখা গেট ইন বইয়ে উল্লেখ করা হয়েছে, স্টারমার একবার বলেছেন, 'স্টারমারবাদ বলে কিছু নেই, ভবিষ্যতেও থাকবে না।'

কিন্তু ডাউনিং স্ট্রিটে প্রবেশ করার পর, তিনি যে স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য নেতৃত্বের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তা ধরে রাখতে তিনি হিমশিম খেতে শুরু করেন। পাশাপাশি, সুস্পষ্ট আদর্শিক অবস্থান ও ব্যক্তিগত আকর্ষণের অভাবের কারণে, জনগণকে তিনি জানাতে পারেননি, তিনি দেশকে কোথায় নিয়ে যেতে চান।

শুক্রবার তিনি বলেন, 'এখনো অনেক কাজ বাকি রয়েছে এবং আমি সেদিকেই মনোযোগ দিচ্ছি।' এদিকে লেবার পার্টির প্রায় ৪০০ এমপির একটি অংশ তাকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে বার্নহ্যাম কিংবা অন্য কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে একটি তিক্ত নেতৃত্ব প্রতিযোগিতা এড়ানো যায়।

রাজনীতিতে প্রবেশের আগে সফল পেশাজীবন কাটানো স্টারমার ১৯৬২ সালের ২ সেপ্টেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তিনি লন্ডনের উপকণ্ঠের একটি ছোট সেমি-ডিট্যাচড বাড়িতে বেড়ে ওঠেন। তার মা দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন এবং তার বাবা আবেগগতভাবে ছিলেন খুবই দূরে, তবুও তিনি ছিলেন প্রাণীপ্রেমী; গাধা উদ্ধার করতেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করার পর, তিনি মানবাধিকার আইনজীবী হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেন, পরে প্রধান সরকারি কৌঁসুলি হিসেবে সফলতা অর্জন করেন। তার এ অবদানের জন্য তৎকালীন রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ তাকে ‘নাইট’ উপাধিতে ভূষিত করেন।

বংশীবাদনপ্রেমী ও আর্সেনাল ফুটবল ক্লাবের সমর্থক স্টারমার ২০১৫ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০২০ সালে তিনি বামপন্থী নেতা জেরেমি করবিনের স্থলাভিষিক্ত হয়ে লেবার পার্টির নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে দলটি ১৯৩৫ সালের পর সবচেয়ে খারাপ নির্বাচনী পরাজয়ের মুখে পড়েছিল।

দলের স্বার্থে তিনি ইহুদিবিদ্বেষের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেন, করবিনকে কার্যত দল থেকে সরিয়ে দেন এবং লেবারকে মধ্যপন্থায় ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে, দুই দশক ধরে চলা দলের জন্য সবচেয়ে বড় নির্বাচনী জয় এনে দেন।

প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর স্টারমার অর্থনৈতিক স্থবিরতা, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং রক্ষণশীল সরকারের কৃচ্ছ্রসাধন নীতির কারণে দুর্বল হয়ে পড়া জনসেবামূলক খাতগুলো সংস্কারের অঙ্গীকার করেছিলেন। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়েছিলেন যে, পুনরুদ্ধারের পথ হবে ‘দীর্ঘ ও কঠিন’।

স্টারমারের শাসনের শুরু থেকেই তার সরকার লাখো প্রবীণ নাগরিকের শীতকালীন জ্বালানি ভাতা বন্ধের ঘোষণা দেয়, যা ছিল না লেবারের নির্বাচনী ইশতেহারে। ব্যাপক সমালোচনার মুখে পরে সরকার এ সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে।

তাছাড়া কল্যাণ ভাতা সংস্কার, কৃষকদের উত্তরাধিকার কর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ওপর বেতনভিত্তিক কর এবং ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধি নিয়েও তিনি পিছু হটতে বাধ্য হন।

ক্ষমতার প্রথম কয়েক মাসে 'বিনামূল্যে উপহার' গ্রহণসংক্রান্ত বিতর্কেও তিনি সমালোচিত হন। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে সম্পত্তি কর কম দেওয়ার অভিযোগে উপপ্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেইনার পদত্যাগ করেন।

একই মাসে মার্কিন যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের অভিযোগে ওয়াশিংটনের যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রদূত পিটার ম্যান্ডেলসনকে বরখাস্ত করেন স্টারমার।

এ নিয়োগের জন্য পরে তাকে ক্ষমা চাইতে হয়। ঘটনাটি তার দুই ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উচ্চ পর্যায়ের এক কর্মকর্তার বিদায়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

স্টারমার নিজে পদত্যাগের আবেদন অস্বীকার করেছেন। তবে এ কেলেঙ্কারি এবং গত মে মাসের স্থানীয় নির্বাচনের হতাশাজনক ফলাফল তার ওপর চাপ আরও বাড়িয়েছে।

বার্নহ্যামের চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে, ইরান যুদ্ধের বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরোধিতা ও ইউক্রেনের পক্ষে ইউরোপীয় সমর্থন ধরে রাখা সম্পর্কে প্রশংসিত হলেও, দেশে বামপন্থী গ্রিন পার্টি এবং কট্টর ডানপন্থী সংস্কারবাদী দল রিফর্ম ইউকের উত্থান ঠেকাতে স্টারমার ব্যর্থ হন।

নাইজেল ফারাজের নেতৃত্বাধীন রিফর্ম ইউকের প্রার্থীর বিরুদ্ধে উত্তর ইংল্যান্ডে উপনির্বাচনে বড় জয় পাওয়ার পর, জনপ্রিয় লেবার নেতা অ্যান্ডি বার্নহ্যাম নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জনমত জরিপ সংস্থা ইউগভের সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, স্টারমারের জনপ্রিয়তার হার মাত্র ১৯ শতাংশ, যা ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর ইতিহাসে সর্বনিম্ন হারগুলোর একটি।

শুক্রবার তিনি বলেন, নেতা হিসেবে তিনি 'পালিয়ে যাবেন না' এবং নেতৃত্বের লড়াই হলে তাতে অংশ নেবেন। তবে তিনি মনে করেন, এমন প্রতিযোগিতা দেশকে 'বিশৃঙ্খলার' দিকে ঠেলে দেবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাষ্ট্রপতির জীবনী নিয়ে তথ্যচিত্র নির্মাণ করছেন আমির খান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৯ই জুন, ২০২৬ ইং

০৭:৪০ পি.এম


রাষ্ট্রপতির জীবনী নিয়ে তথ্যচিত্র নির্মাণ করছেন আমির খান

আমির খান প্রোডাকশনস ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর জীবন ও সংগ্রাম নিয়ে একটি তথ্যচিত্র নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছে। চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করবেন নির্মাতা ও লেখক স্বাতি চক্রবর্তী ভাটকাল।

ইন্ডিয়া টুডের এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, তথ্যচিত্রটিতে ওডিশার একটি প্রত্যন্ত গ্রামের সাধারণ জীবন থেকে ভারতের প্রথম আদিবাসী রাষ্ট্রপতি এবং দ্বিতীয় নারী রাষ্ট্রপতি হয়ে ওঠার একটি অনন্য যাত্রা উঠে ধরা হবে।

চলচ্চিত্রে দ্রৌপদী মুর্মুর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলো স্থান পাবে। রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভিন্ন উপাদান, ব্যক্তিগত জীবনের নানা ট্র্যাজেডি, প্রতিকূলতা ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে কিভাবে তিনি জনজীবনে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন এবং শেষ পর্যন্ত দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন, সেই গল্পটিও এখানে তুলে ধরা হবে।

এছাড়া, জনসেবামূলক কর্মকাণ্ড ও নেতৃত্বের পেছনের দৃঢ়তা এবং অধ্যবসায়ের দিকটিও ফুটিয়ে তোলা হবে।

জানা গেছে, দ্রৌপদী মুর্মুর শৈশবের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলো ফুটিয়ে তুলতে ওডিশার তার নিজ গ্রামেই তথ্যচিত্রের কিছু অংশের শুটিং করা হয়েছে। স্থানীয় শিল্পীদের দিয়ে তার জীবনের বিভিন্ন পর্যায় পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। বাস্তব লোকেশন, আর্কাইভ ফুটেজ এবং নাট্যরূপ—সবই মিলিয়ে রাষ্ট্রপতি ভবন পর্যন্ত তার যাত্রার একটি পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরার পরিকল্পনা রয়েছে নির্মাতাদের।

শুধু ব্যক্তিগত জীবনের গল্পই নয়, তথ্যচিত্রে দ্রৌপদী মুর্মুর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার সামাজিক এবং রাজনৈতিক গুরুত্ব বিশ্লেষণ করা হবে।

তার এই উত্থানকে ভারতের আদিবাসী জনগোষ্ঠী, নারীদের ক্ষমতায়ন এবং দীর্ঘদিন ধরে প্রতিনিধিত্ববঞ্চিত মানুষের জন্য একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

এই প্রজেক্টের মাধ্যমে আবারও স্বাতি চক্রবর্তী ভাটকালের সঙ্গে কাজ করছে আমির খান প্রোডাকশনস। এর আগে ২০১৯ সালে আমির খান এবং কিরণ রাও প্রযোজিত তথ্যচিত্র অ্যান্থলজি ‘রুবারু রোশনি’ পরিচালনা করেছিলেন স্বাতি। আমির খানের বর্ণনায় নির্মিত সেই কাজটি সহিংসতা, শোক, ক্ষমা ও পুনর্মিলনের বাস্তব গল্প তুলে ধরে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে রাষ্ট্রপতি ভবনে নিজের সিনেমা ‘সিতারে জমিন পার’-এর একটি বিশেষ প্রদর্শনীর আয়োজন করেছিলেন আমির খান। ছবিটি ২০০৭ সালের বহুল প্রশংসিত ‘সিতারে জমিন পার’–এর ভাবগত উত্তরসূরি হিসেবে নির্মিত হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%