ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় উচ্চস্বরে গান বাজানো নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ৩০


ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় উচ্চস্বরে গান বাজানো নিয়ে সংঘর্ষ, আহত ৩০

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ লাইন্সে অনুষ্ঠিত একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে উচ্চস্বরে গান বাজানোর কারণে পুলিশ ও স্থানীয় মাদরাসা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন, তাদের মধ্যে পুলিশ সদস্য এবং মাদরাসার শিক্ষার্থীরা রয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাত সাড়ে ১১টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পশ্চিম মেড্ডা এলাকায় পুলিশ লাইন্সে এই ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ, মাদরাসা শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় সূত্র জানায়, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আব্দুল কুদ্দুসের ব্রাহ্মণবাড়িয়া সফরের উপলক্ষে পুলিশ লাইন্সের ভেতরে জেলা পুলিশের উদ্যোগে একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠান শেষে ডিআইজি যাত্ৰা করার পরেও সেখানে মাইকে উচ্চস্বরে গান বাজানো অব্যাহত থাকে।

আরও পড়ুন: ইনানীতে ৪২ ঘণ্টা ধরে জ্বলছে আগুন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি

পুলিশ লাইন্সের পাশে অবস্থিত দারুল আরকাম ইসলামিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বুধবার পরীক্ষা থাকায় উচ্চস্বরে গান বাজানোর ফলে তাদের পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটছে। এই কারণে কয়েকজন শিক্ষার্থী পুলিশ লাইন্সে গিয়ে শব্দ কমানোর জন্য পুলিশকে অনুরোধ জানান।

কথা কাটাকাটি ও তর্কবিতর্কের কারণে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। এক পর্যায়ে শতাধিক শিক্ষার্থী পুলিশ লাইন্সে প্রবেশ করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য পুলিশ লাঠিচার্জ শুরু করলে শিক্ষার্থীরাও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ও ঢিল ছোড়েন। এই সময়ে ত্রিমুখী ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হন।

দারুল আরকাম ইসলামিয়া মাদরাসার কিছু শিক্ষার্থী জানান, পরীক্ষার পূর্বরাতে উচ্চস্বরে গান বাজানোর কারণে তাদের পড়াশোনায় সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছিল। তারা শান্তিপূর্ণভাবে শব্দ কমানোর অনুরোধ জানাতে গিয়েছিলেন কিন্তু অভিযোগ করেন পুলিশ তাদের ওপর লাঠিচার্জ শুরু করে।

শিক্ষার্থীরা এই ঘটনার সুষ্ঠু এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেন, অন্যদিকে ঘটনার বিচার না হলে তারা কঠোর আন্দোলনের হুমকি দিয়েছেন।

আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে ৯ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা প্রত্যাহার, নতুন কর্মকর্তাদের নিয়োগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শাহ মোহাম্মদ আব্দুর রউফের সঙ্গে বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কলকাতার নিউ মার্কেটের পাশের হোটেলে ভয়াবহ আগুন, নিহত ৯

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:০১ এম


কলকাতার নিউ মার্কেটের পাশের হোটেলে ভয়াবহ আগুন, নিহত ৯

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের রাজধানী কলকাতার নিউ মার্কেটের পার্শ্ববর্তী মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।

এ ঘটনায় কমপক্ষে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ছয়জন পুরুষ, দুজন নারী এবং একটি শিশু রয়েছে। এছাড়া মৃতদের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিক থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মির্জা গালিব স্ট্রিট একেবারে কলকাতা নিউ মার্কেটের পাশেই অবস্থিত। নিউ মার্কেটের পেছনের অংশ এবং এর আশেপাশের বেশ কিছু প্রধান গলি সরাসরি মির্জা গালিব স্ট্রিটের (সাবেক ফ্রি স্কুল স্ট্রিট) সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, হোটেলটির চারতলায় আগুন লাগে। বুধবার (১৯ আগস্ট) ভোর ৩টার দিকে আগুন লাগার খবর পায় পুলিশ ও দমকল বাহিনী। প্রায় দুই ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

তবে এরই মধ্যে হোটেলের একটি অংশ পুড়ে যায় এবং ৯ জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের পরিচয় এখনও জানা যায়নি। মৃতদের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিক থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে। আগুনে আহত কয়েকজনকে কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হোটেলের একটি এসি থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে আগুন লাগার প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত চলছে। ঘটনাস্থলে রয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের দমকলমন্ত্রী এবং কলকাতা পুলিশের কমিশনার।

সংবাদমাধ্যম বলছে, আগুন লাগার সময় হোটেলের বিভিন্ন কক্ষে অনেকেই ঘুমিয়ে ছিলেন। বাইরে থেকে আগুনের শিখা দেখা যাচ্ছিল না বলে দাবি করেছেন স্থানীয়রা। তারা শুধু কালো ধোঁয়া বের হতে দেখেছেন।

আগুন লাগার খবর ছড়িয়ে পড়তেই হোটেলের ভেতর থেকে বহু মানুষ বাইরে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করেন। অভিযোগ রয়েছে, হোটেলের প্রবেশ-বেরোনোর পথ খুবই সংকীর্ণ। এতে করে হুড়োহুড়ির সৃষ্টি হয়। এখন পর্যন্ত ৬০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে তাদের মধ্যে অনেকেই অচেতন হয়ে পড়েন এবং তাদের হাসপাতালে পাঠানো হয়।

এদিকে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, হোটেলে আটকা থাকায় অবস্থাতেই অন্তত ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের শরীরে পোড়ার চিহ্ন রয়েছে। চিকিৎসকদের প্রাথমিক অনুমান, শ্বাসরোধ হয়ে মৃত্যু হয়েছে তাদের। তবে ময়নাতদন্তের পরেই মৃত্যুর আসল কারণ স্পষ্ট হবে। কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কোচ হয়ে জন্মভূমি সেনেগালে ফিরলেন প্যাট্রিক ভিয়েইরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ১৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:০৪ এম


কোচ হয়ে জন্মভূমি সেনেগালে ফিরলেন প্যাট্রিক ভিয়েইরা

জন্মভূমির টানে এবার সেনেগালের ফুটবলে ফিরে আসলেন প্যাট্রিক ভিয়েইরা। ফ্রান্সের হয়ে ১৯৯৮ সালে বিশ্বকাপ জেতা এই তারকাকে জাতীয় দলের নতুন প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সেনেগাল ফুটবল ফেডারেশন। গর্বের সঙ্গে গতকাল রাতে এই বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

সেনেগাল ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছে, ভিয়েইরার আনুষ্ঠানিক উপস্থাপনের তারিখ এবং তার দায়িত্ব গ্রহণের বিস্তারিত পরিকল্পনা পরে জানানো হবে। ফেডারেশনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'প্যাট্রিক ভিয়েইরা সেনেগালের জাতীয় সিনিয়র দলের নতুন কোচ। তার আনুষ্ঠানিক পরিচয় পর্বের তারিখ এবং দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়টি পরবর্তী সময়ে জানানো হবে।'

৫০ বছর বয়সী ভিয়েইরা সেনেগালের রাজধানী ডাকারে ১৯৭৬ সালে জন্মগ্রহণ করেন। কিন্তু, মাত্র ৮ বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে ফ্রান্সে চলে যান। পরে ফ্রান্সের হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজের প্রতিভা ও দক্ষতা প্রতিষ্ঠিত করেন। ১৯৯৮ সালে ঘরের মাঠে ফ্রান্সের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ে তার ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

২০০০ সালে ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপও জিতেছিলেন কিংবদন্তি এই মিডফিল্ডার। ফ্রান্সের হয়ে ভিয়েইরা খেলার সুযোগ পেয়েছেন ১০৭ ম্যাচ। তবে তার ক্লাব ক্যারিয়ারের সবচেয়ে সফল ও উজ্জ্বল অধ্যায় ছিল আর্সেনালে। সেখানে তিনি ৪০০টির বেশি ম্যাচ খেলেছেন এবং তিনবার ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের শিরোপা জিতেছেন। ২০০৩-০৪ মৌসুমে সেই ‘ইনভিন্সিবল’ আর্সেনালের অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।

খেলোয়াড়ি জীবন শেষে কোচিংয়ের ক্ষেত্রেও তার দীর্ঘ একটি পথ অতিক্রম হয়েছে। কোচ হিসেবে তিনি নিউইয়র্ক সিটি এফসি, নিস, ক্রিস্টাল প্যালেস, স্ট্রাসবুর্গ ও জেনোয়ার মতো ক্লাবে কাজ করেছেন। ইতালিয়ান ক্লাব জেনোয়ায় ভিয়েইরার সর্বশেষ কোচিং অধ্যায় শেষ হয় ২০২৫ সালের নভেম্বরে। সেনেগালের দায়িত্ব নেওয়ার মাধ্যমে এবারই প্রথম তিনি কোনো জাতীয় দলের প্রধান কোচ হলেন।

সেনেগালের ফুটবলের সঙ্গে ভিয়েইরার সম্পর্ক অতীতের। ২০০৩ সালে আফ্রিকার দেশটির তরুণ ফুটবলারদের গড়ে তোলার লক্ষ্যে দিয়ামবার্স একাডেমি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগে যুক্ত ছিলেন তিনি। ফলে সেনেগালের ফুটবল সংস্কৃতি ও দেশের প্রতিভাবান তরুণদের সম্পর্কে তার একটি স্বচ্ছ ধারণা রয়েছে।

ভিয়েইরা সেনেগালের দায়িত্ব নিচ্ছেন পাপে থিয়াওয়ের উত্তরসূরি হিসেবে। ২০২৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় বেলজিয়ামের কাছে ৩-২ গোলে হেরে বিদায় নেওয়ার পর থিয়াও সরে দাঁড়ান। তার জায়গায় এবার জন্মভূমির জাতীয় দলের প্রধান কোচ হিসেবে নিয়োগ পেলেন ভিয়েইরা।

নতুন অধ্যায়ে ভিয়েইরার প্রথম বড় পরীক্ষা হবে আফ্রিকান কাপ অব নেশনস ২০২৭-এর বাছাইপর্ব। আগামী সেপ্টেম্বর থেকেই এই বাছাই শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। তার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে সেনেগালকে আরো শক্তিশালী করে ২০৩০ বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
ফেসবুক-ইনস্টাগ্রামে শিশুদের আসক্ত করার অভিযোগ

মেটার বিরুদ্ধে মার্কিন আদালতে শুনানি শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ১৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:০৬ এম


মেটার বিরুদ্ধে মার্কিন আদালতে শুনানি শুরু

যুক্তরাষ্ট্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানি মেটার বিরুদ্ধে শিশু-কিশোরদের ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে আসক্ত করে তোলার অভিযোগে একটি বড় ধরনের আইনি লড়াই শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার ক্যালিফোর্নিয়ার অকল্যান্ডে এ মামলার শুনানি শুরু হয়।

আগামী ছয় সপ্তাহ ধরে একটি জুরি দুই পক্ষের যুক্তি ও প্রমাণ শুনবে।

মামলায় যুক্তরাষ্ট্রের ২৯টি অঙ্গরাজ্য মেটার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে। তাদের দাবি হচ্ছে, মেটা জানতো ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রাম শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। এরপরও তরুণদের এসব প্ল্যাটফর্মে ধরে রাখতে কোম্পানিটি বিভিন্ন ব্যবস্থা চালু রেখেছে।

মঙ্গলবার শুনানির শুরুতেই দুই পক্ষের আইনজীবীরা একে অপরের বক্তব্য ও তথ্যের বিরোধিতা করতে থাকেন। ক্যালিফোর্নিয়ার আইনজীবীরা জানান, মেটা জানতে পেরেছিল যে ১১ ও ১২ বছর বয়সী লাখ লাখ শিশু ইনস্টাগ্রাম ব্যবহার করছে। তবে কোম্পানিটি তাদের ব্যবহার ঠেকাতে যথেষ্ট ব্যবস্থা নেয়নি। তবে মেটার আইনজীবীরা এই দাবি অস্বীকার করেন।

তাদের ভাষ্যে, এমন বয়সী ব্যবহারকারীর সংখ্যা এক লাখের কিছু বেশি ছিল। মেটার পক্ষ আরো দাবি করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে 'আসক্তি' বলে কোনো স্বীকৃত বিষয় নেই।

অঙ্গরাজ্যগুলোর আইনজীবীরা বলেন, মেটা নিজেরাই জানত যে তাদের প্ল্যাটফর্ম কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করতে পারে। তবে মেটার আইনজীবীরা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের কারণে অনেক কিশোরের ভালো অভিজ্ঞতা হয়েছে- এই বিষয়টি অঙ্গরাজ্যগুলো গুরুত্ব দিচ্ছে না। ২০২৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ২৯টি অঙ্গরাজ্য মেটার বিরুদ্ধে মামলা করে।

এসব অঙ্গরাজ্যের মধ্যে ক্যালিফোর্নিয়া ও নিউইয়র্কও রয়েছে। ওই মামলার ভিত্তিতেই বর্তমান বিচার চলছে। অঙ্গরাজ্যগুলোর অভিযোগ, শিশুদের সুরক্ষা ও গোপনীয়তা–সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় এবং অঙ্গরাজ্যের আইন মেটা বহুবার লঙ্ঘন করেছে। তারা মেটার কাছ থেকে শত শত কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ চায়। পাশাপাশি ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে বেশ কিছু পরিবর্তন আনার দাবিও করেছে অঙ্গরাজ্যগুলো। এর মধ্যে রয়েছে পোস্টে 'লাইক' সংখ্যা দেখানো বন্ধ করা এবং ব্যবহারকারীদের একের পর এক কনটেন্ট দেখানোর 'ইনফিনিট স্ক্রল' ব্যবস্থা বন্ধ করা।

মঙ্গলবার শুনানিতে মেটার অভ্যন্তরীণ গবেষণা ও নথি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়। ক্যালিফোর্নিয়ার প্রধান আইনজীবীদের একজন মেগান ও’নিল অঙ্গরাজ্যগুলোর প্রাথমিক বক্তব্যে মেটার একটি অভ্যন্তরীণ গবেষণা প্রতিবেদন তুলে ধরেন। ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রতি পাঁচজন কিশোরের মধ্যে একজন জানিয়েছে, ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারের ফলে তাদের আরো খারাপ লাগে। মেটার প্রধান আইনজীবীদের একজন পল শ্মিট এই তথ্যের অন্য দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, একই গবেষণায় ৪১ শতাংশ কিশোর জানিয়েছিল, ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারের পর তাদের ভালো লাগে। আরও ৪১ শতাংশ বলেছিল, এতে তাদের ওপর কোনো প্রভাব পড়ে না। শ্মিট বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের কারণে মানুষ সমস্যায় পড়তে পারে- এটি মেটা অস্বীকার করছে না। তবে তিনি দাবি করেন, এটিকে 'আসক্তি' বলা ঠিক নয়।

শ্মিট বলেন, মেটা স্বীকার করে যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের কারণে কিছু মানুষ সমস্যায় পড়তে পারে। এ সমস্যা কমাতে কোম্পানিটি বিভিন্ন ব্যবস্থাও নিয়েছে। তবে মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ এবং ইনস্টাগ্রামের প্রধান অ্যাডাম মোসেরির আগের বক্তব্যও তিনি তুলে ধরেন। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামকে মানুষকে আসক্ত করার জন্য তৈরি করা হয়নি। মেটার পক্ষ আরো দাবি করা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসক্তি সম্ভব- এমন ধারণার পক্ষে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় এখনো যথেষ্ট প্রমাণ নেই। শ্মিট আরো বলেন, শিশুদের বয়স যাচাইয়ের ক্ষেত্রেও মেটার কিছু আইনি সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তার যুক্তি, যেসব গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে মেটার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে, সেসব আইনই অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের শনাক্ত করতে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করে।

অন্যদিকে অঙ্গরাজ্যগুলোর আইনজীবী মেগান ও’নিল মেটার বিপুলসংখ্যক অভ্যন্তরীণ নথির ওপর জোর দেন। এসব নথির মধ্যে কোম্পানির অভ্যন্তরীণ গবেষণা, কর্মীদের ই-মেইল ও বিভিন্ন কথোপকথনের তথ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কিছু নথিতে মার্ক জাকারবার্গের সঙ্গে সম্পর্কিত তথ্যও রয়েছে। ও’নিল জুরিদের সামনে একটি অভ্যন্তরীণ গবেষণার তথ্য তুলে ধরেন। সেখানে তরুণদের ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারের বিষয়ে বলা হয়েছিল, কিশোরদের ব্যবহার নিয়ে দেওয়া বক্তব্য অনেকটা আসক্ত ব্যক্তির বক্তব্যের মতো। আরেকটি অভ্যন্তরীণ নথিতে মেটা বলেছিল, ব্যবহারকারীদের প্ল্যাটফর্মে বেশি সময় ধরে রাখার জন্য তৈরি কিছু সুবিধা তাদের ভালো থাকার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে। এসব সুবিধা মানুষের জীবনে গুরুত্বপূর্ণ কাজে মনোযোগ দেওয়ার ক্ষমতাও কমিয়ে দিতে পারে। ও’নিলের অভিযোগ, মেটা এসব সম্ভাব্য ক্ষতির বিষয়ে জানতো। তারপরও তারা শিশু-কিশোরদের ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের ব্যবহারকারী হিসেবে টার্গেট করেছে। একই সঙ্গে শিশুদের জন্য তাদের প্ল্যাটফর্ম নিরাপদ- এমন ধারণা তৈরি করতে জনসমক্ষে নানা বক্তব্য দিয়েছে।

ও’নিল বলেন, মেটার ব্যবসায়িক কৌশল ছিল ব্যবহারকারীদের আকৃষ্ট করা, যত বেশি সময় সম্ভব প্ল্যাটফর্মে ধরে রাখা এবং তাদের তথ্য সংগ্রহ করা। তার অভিযোগ, কোম্পানিটি এসব বিষয় সম্পর্কে জনসমক্ষে পুরো সত্য প্রকাশ করেনি। তিনি বলেন, পুরো বিচার চলার সময় মেটা প্রকাশ্যে যা বলেছে এবং তাদের অভ্যন্তরীণ গবেষণা ও নথিতে যা উঠে এসেছে, তার মধ্যে বড় পার্থক্য দেখা যাবে। ও’নিলের দাবি, মেটা সবসময় বলেছে ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তাকে তারা মুনাফার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়। তবে অঙ্গরাজ্যগুলোর অভিযোগ, বাস্তবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় বারবার মুনাফাকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছে কোম্পানিটি। আগামী ছয় সপ্তাহের শুনানিতে দুই পক্ষ তাদের নথি, গবেষণা ও অন্যান্য প্রমাণ উপস্থাপন করবে। এরপর জুরি মেটার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ক্রিকেট অপারেশন্সের সদস্য সচিবের দায়িত্ব পেলেন শাহরিয়ার হোসেন বিদ্যুৎ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ১৯ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:০৭ এম


ক্রিকেট অপারেশন্সের সদস্য সচিবের দায়িত্ব পেলেন শাহরিয়ার হোসেন বিদ্যুৎ

বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ক্রিকেট পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিবের দায়িত্ব পেয়েছেন জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার এবং এক সময়ের তারকা ওপেনার শাহরিয়ার হোসেন বিদ্যুৎ।

গত ৭ জুন বিসিবির নতুন পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। পরিচালকদের ভোটে তামিম ইকবাল বোর্ড সভাপতি নির্বাচিত হন। নতুন পরিচালনা পর্ষদের প্রথম সভার পর বিভিন্ন স্ট্যান্ডিং কমিটির দায়িত্ব বণ্টন করা হলেও কয়েকটি বিভাগের দায়িত্ব তখন এখনও চূড়ান্ত করা হয়নি। এর মধ্যে অন্যতম ছিল ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগ।

নতুন করে বিসিবি সেই বিভাগটির জন্য সদস্য সচিব নিয়োগ দিয়েছে। দায়িত্ব পাওয়ার পর শাহরিয়ার হোসেন বিদ্যুৎ ইতোমধ্যে অফিস শুরু করেছেন। মঙ্গলবার তিনি সংশ্লিষ্ট বৈঠকেও অংশ নিয়েছেন, এমনটি জানা গেছে।

বিসিবির একটি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

এদিকে, হাই-পারফরম্যান্স বিভাগের যুগ্ম সদস্য সচিবের দায়িত্ব পেয়েছেন জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার রুবেল হোসেন।

বিসিবির নতুন পরিচালনা পর্ষদ দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন বিভাগে দায়িত্ব বণ্টনের প্রক্রিয়া চলছে। ক্রিকেট পরিচালনা এবং হাই-পারফরম্যান্স বিভাগের নতুন দায়িত্বপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে বোর্ডের সাংগঠনিক কার্যক্রমের আরও গতি আসবে, এমন ধারণা করা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%