ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

গোলাবারুদ কমে যাওয়ার খবর প্রকাশে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প


গোলাবারুদ কমে যাওয়ার খবর প্রকাশে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধাস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ দ্রুত কমে যাওয়ার যে খবর প্রকাশিত হয়েছে তা শুনে ডোনাল্ড ট্রাম্প তীব্র অসন্তোষ এবং ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ ও কূটনৈতিক আলোচনার এই সংকটময় মুহূর্তে, এ ধরনের তথ্য প্রকাশ ওয়াশিংটনকে দুর্বল করে দিচ্ছে বলে ট্রাম্প মনে করেন। তিনি জানান, ফাঁস হওয়া এসব সংবেদনশীল তথ্য ওয়াশিংটনের প্রভাব ও অবস্থানকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং এর পেছনে যারা জড়িত রয়েছেন তাদের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

সম্প্রতি ক্যাম্প ডেভিডে অনুষ্ঠিত ক্যাবিনেট বৈঠকে এই ইস্যুটি নিয়ে জোর আলোচনা হয়েছে। বৈঠকে প্রেসিডেন্টের সাথে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ উপস্থিত ছিলেন। সেখানে ট্রাম্প মিডিয়ার এসব প্রতিবেদন নিয়ে প্রচণ্ড ক্ষোভ প্রকাশ করেন। যদিও প্রেসিডেন্ট বেশ কয়েক মাস ধরেই দেশের গোলাবারুদের ঘাটতি সম্পর্কে অবহিত ছিলেন, কিন্তু আলোচনার এই চূড়ান্ত পর্যায়ে এসে দেশের অস্ত্রাগারের সীমাবদ্ধতার খবর প্রকাশ্যে চলে আসায় তিনি চরম বিরক্ত হয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প অবশ্য দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রচুর অস্ত্র রয়েছে এবং দেশীয় প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো রাতদিন কাজ করে নতুন কারখানা চালু করছে।

কিন্তু পরবর্তীতে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন যে, কিছু উচ্চ প্রযুক্তির বিশেষ অস্ত্রের সরবরাহ বর্তমানে বেশ সংকটজনক পর্যায়ে রয়েছে। বিশেষ করে থাড এবং প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সরবরাহ প্রায় শেষ হতে চলেছে। খবর অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ট্রাম্প প্রশাসন তাদের থাড ইন্টারসেপার ক্ষেপণাস্ত্রের চার-পঞ্চমাংশ এবং প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপর ব্যবস্থার প্রায় অর্ধেক ব্যবহার করে ফেলেছে। মার্কিন সামরিক বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই ধরনের অত্যাধুনিক অস্ত্রের ঘাটতি তৈরি হওয়ায় শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, তাদের মিত্র মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় দেশগুলোও বেশ আশঙ্কায় পড়েছে, কারণ তারা ইরানের সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা প্রতিরোধে এসব মার্কিন ব্যবস্থার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল।

আরও পড়ুন: বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়া গাড়ির চালককে উদ্ধার করলেন সাংবাদিক উইল মারে

হোয়াইট হাউসের কর্মকর্তাদের ধারণা হলো, প্রশাসনের অভ্যন্তরে যুদ্ধবিরোধী কিছু গোষ্ঠী ইচ্ছাকৃতভাবে এই তথ্যগুলো গণমাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছে, যাতে প্রেসিডেন্টকে ইরানের সাথে নতুন সামরিক সংঘাত বাড়ানো থেকে বিরত রাখা যায়। ইতিমধ্যে জাতীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সুরক্ষায় ট্রাম্প ডিফেন্স প্রোডাকশন অ্যাক্ট জারি করেছেন। তিনি শীর্ষ প্রতিরক্ষা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সিইওদের সাথে জরুরি বৈঠক করে উৎপাদন বাড়াতে তাগিদ দিয়েছেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, অস্ত্র উৎপাদনের এই নতুন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ কার্যকর হতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে।

সূত্র: সিএনএন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করতে নতুন নির্বাহী আদেশ ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:২০ এম


জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করতে নতুন নির্বাহী আদেশ ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সুপ্রিম কোর্টে পূর্ববতী নির্বাহী আদেশ বাতিল হওয়ার পরে জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব সীমিত করার লক্ষ্যে নতুন দুটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন।

বৃহস্পতিবার ওভাল অফিসে আদেশে স্বাক্ষর করার সময় ট্রাম্প বলেন, ‘জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক ছিল। তাই আমরা নতুন করে কিছু সমন্বয় করছি।’

হোয়াইট হাউসের ডেপুটি চিফ অব স্টাফ স্টিফেন মিলার জানান, নতুন আদেশগুলোর মধ্যে একটি ‘বার্থ ট্যুরিজম’ নামক পদক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যার মাধ্যমে সন্তান জন্ম দিয়ে মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার জন্য বিদেশিদের যুক্তরাষ্ট্রে আসা ঠেকাতে চেষ্টা করা হচ্ছে।

অন্য আদেশে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অযোগ্য ব্যক্তিদের সংজ্ঞা আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। এর আওতায় বিদেশি সরকারের পক্ষে লবিং করা সম্ভাব্য বিদেশি নাগরিকদের সন্তানদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তবে এখনো হোয়াইট হাউস নির্বাহী আদেশ দুটি প্রকাশ করেনি সম্পূর্ণরূপে। মিলার বলেন, ‘বহু বছর ধরেই মানুষ এই বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করে আসছে।

অনেকেই পর্যটকের পরিচয়ে যুক্তরাষ্ট্রে আসে, তারা উল্লেখ করে যে ডিজনিল্যান্ড বা কোনো জাতীয় উদ্যান দর্শন করার উদ্দেশ্যে এসেছেন। কিন্তু প্রকৃত উদ্দেশ্য হলো এখানে সন্তান জন্ম দেওয়া, যাতে সেই সন্তান স্বয়ংক্রিয়ভাবে মার্কিন নাগরিকত্ব পেয়ে যায়।’

তার দাবি, এভাবে জন্ম নেওয়া মার্কিন নাগরিক সন্তানের মাধ্যমে পরিবার পরে বিভিন্ন সরকারি সুবিধা, এমনকি ভবিষ্যতে ভোটাধিকারসহ অন্যান্য নাগরিক সুবিধা ভোগের সুযোগ পেতে পারে।

এর আগে, ২০২৫ সালের প্রথম দিনেই ট্রাম্প জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব বাতিলে লক্ষ্য করে একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেছিলেন। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট ৬-৩ ভোটের মাধ্যমে সেটিকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করে।

মার্কিন সংবিধানের ১৪তম সংশোধনীতে উল্লেখ রয়েছে, যে সকল ব্যক্তি যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ বা নাগরিকত্ব লাভ করছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের এখতিয়ারাধীন আছেন তারা যুক্তরাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের নাগরিক।

দিনের পর দিন, ট্রাম্প জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের বিরুদ্ধে কথা বলে আসছেন। তার দাবি, ১৪তম সংশোধনী মূলত গৃহযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ের দাসপ্রথা থেকে মুক্ত হওয়া মানুষের শিশুর নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার জন‍্য তৈরি করা হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘এটি গৃহযুদ্ধের ঠিক পরপরই করা হয়েছিল। এটি ছিল দাসদের সন্তানের জন্য।’

বিশ্লেষকদের ধারণা, জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব নিয়ে ট্রাম্পের এই নতুন আদেশ যুক্তরাষ্ট্রে একটি রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক বিতর্ক পুনরায় উস্কে দিতে পারে। কারণ, এর আগে একই ধরনের আদেশের বিরুদ্ধে সারা আমেরিকাতে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় এবং মানবাধিকার ও নাগরিক অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো আইনি লড়াইয়ে নেমেছিল। একসঙ্গে রাজপথে নেমে এসেছিলেন শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণির পেশার মানুষরা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘রগ কেটে ইতিহাস তৈরি’ মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন গকসুর এজিএস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:২৩ এম


‘রগ কেটে ইতিহাস তৈরি’ মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিলেন গকসুর এজিএস

গণ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (গকসু) সহ-সাধারণ সম্পাদক (এজিএস) সামিউল হাসান শোভোন, ‘রগ কেটে ইতিহাস তৈরি’ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সৃষ্টি হওয়া বিতর্কের মধ্যে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন।

বুধবার (৫ আগস্ট) রাতে তিনি নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি পোস্ট শেয়ার করে দাবি করেছেন যে, তার আগের পোস্টটি বাস্তব সহিংসতার আহ্বান ছিল না। বরং, তা রাজনৈতিক প্রতিবাদ, ব্যঙ্গ ও রূপকের ভাষায় লেখা হয়েছিল।

সামিউল হাসান এ বিষয়ে বলেন, তার ৪ আগস্টের ফেসবুক পোস্টটি ‘বিকৃতভাবে উপস্থাপন’ করা হয়েছে। তার দাবি হল, ওই পোস্টটির মূল উদ্দেশ্য ছিল রাজনৈতিক দ্বৈত মানদণ্ড, বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং ক্যাম্পাসের রাজনীতিতে ক্রমবর্ধমান সহিংসতার সমালোচনা করা। এ জন্য তিনি ওই ভাষা ব্যবহার করেছিলেন যে, এটি জাতীয় সংসদ ও শিক্ষাঙ্গনের রাজনৈতিক বাস্তবতার বৈপরীত্য তুলে ধরছে।

রগ কাটার মন্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন যে, এটি কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে বাস্তব সহিংসতার আহ্বান বা হুমকি হিসেবে নেওয়া উচিত নয়। তিনি উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত একটি অভিযোগকে রূপক ও ব্যঙ্গাত্মক অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে। তার উদ্দেশ্য ছিল একতরফা হামলা, দমন-পীড়ন এবং বিচারহীনতার অভিযোগের মুখে রাজনৈতিক নীরবতা ও নিষ্ক্রিয়তার সমালোচনা করা।

সাম্প্রতিক সময়ে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রনেতাদের ওপর হামলার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন শোভোন। তিনি বলেন, জকসুর ভিপি, জিএসসহ সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগ তাকে গভীরভাবে মর্মাহত করেছে। একজন নির্বাচিত ছাত্রনেতাকে মারধর করে রক্তাক্ত অবস্থায় ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেওয়ার অভিযোগ দেশজুড়ে আলোচিত হয়েছে। এ ধরনের ঘটনা শুধুমাত্র কোনো ব্যক্তি বা নির্দিষ্ট সংগঠনের বিষয় নয়; বরং এটা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, শিক্ষাঙ্গনের নিরাপত্তা এবং গণতান্ত্রিক সহাবস্থানের প্রশ্ন।

তিনি সতর্ক করেন যে, ক্যাম্পাসে যদি সহিংসতা, ভয়ভীতি ও প্রতিশোধের রাজনীতি স্বাভাবিক হয়ে যায়, তবে বিচারহীনতার সংস্কৃতি আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ লাভ করবে।

তিনি বলেন, যেকোনো ছাত্রসংগঠনের সদস্যের ওপর হামলা হোক না কেন, সবার জন্য সমান গুরুত্বের সঙ্গে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের আইনের আওতায় আসা উচিত। যদি আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ না হয়, তাহলে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ, হতাশা এবং রাষ্ট্রের প্রতি অবিশ্বাস সৃষ্টি হওয়া অনিবার্য।

এছাড়া, তিনি দাবি করেন, তার আগের পোস্টে কোথাও ছাত্রদলের নাম উল্লেখ করা হয়নি। তিনি বলেন, যারা সহিংসতা, দখলদারিত্ব এবং ভয়ের রাজনীতির সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত মনে করেন, তারা যদি নিজেদের সেই বক্তব্যের সঙ্গে মিলিয়ে নেন, তবে সেই ব্যাখ্যা তার বক্তব্যের বিষয় নয়, বরং তা তাদের নিজের উপলব্ধির বিষয়।

সামিউল হাসান শোভোন সকলকে তার পোস্টটি রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটি ছিল রাজনৈতিক সহিংসতা, বিচারহীনতা ও দ্বৈত মানদণ্ডের বিরুদ্ধে একটি প্রতিবাদী বক্তব্য। গণতান্ত্রিক সমাজে মতভেদ ও বিতর্ক স্বাভাবিক হলেও, এর সমাধান হয় ন্যায়বিচার, জবাবদিহিতা এবং আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগের মাধ্যমে।

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সামিউল হাসান শোভোনের একটি ফেসবুক পোস্টে ‘রগ কেটে ইতিহাস তৈরি করুন’ মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনার মুখে গকসুর একাধিক প্রতিনিধি এবং সাধারণ শিক্ষার্থীরা দায়িত্বশীল বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দূষণের শীর্ষে কামপালা, ঢাকার পরিস্থিতি কী?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:২৭ এম


দূষণের শীর্ষে কামপালা, ঢাকার পরিস্থিতি কী?

বিশ্বের বিভিন্ন শহরের বায়ুদূষণের পরিমাণ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাও দীর্ঘ সময় ধরে বায়ুদূষণের প্রভাবের আওতায় রয়েছে। যদিও বৃষ্টির ফলে কিছুদিন ধরে শহরটির বাতাসে দূষণের মাত্রা কমে গেছে। ধূলিকণা বৃষ্টিতে ধুয়ে-মুছে যাওয়ায় বায়ুদূষণে প্রায়ই শীর্ষ দশে অবস্থান করা ঢাকার বাতাস এখন অনেকাংশে নির্মল ও সহনীয় হয়ে উঠেছে।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে আইকিউএয়ারের এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স অনুযায়ী, বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় বাংলাদেশের ঢাকার অবস্থান হলো ১৬তম। ঢাকা শহরের বায়ুমানের স্কোর ৯৫, যা ঢাকার বাসিন্দাদের জন্য সহনীয় বা মোটামুটি ভালো বিবেচনা করা হচ্ছে।

তালিকায় শীর্ষে রয়েছে উগান্ডার কামপালা। শহরটিতে বায়ুমানের স্কোর ১৭৯, যা অস্বাস্থ্যকর হিসেবে গণ্য করা হয়। এর পরের অবস্থানে থাকা বাহরাইনের মানামার বাতাসের দূষণের মাত্রা কিছুটা কম, কিন্তু এই বাতাসও শহরের বাসিন্দাদের জন্য অস্বাস্থ্যকর।

সংবেদনশীল গোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর এমন শহরের তালিকায় ১০টি শহর রয়েছে। এগুলোর মধ্যে কাতারের দোহার, মালয়েশিয়ার কুচিং, যুক্তরাষ্ট্রের সিয়েটল ও সল্ট লেক সিটি, দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানসবার্গ, কঙ্গোর কিনশাসা, ইসরাইলের জেরুজালেম ও তেল আবিব, আরব আমিরাতের দুবাই, দক্ষিণ কোরিয়ার ইনচেওন অন্তর্ভুক্ত।

আইকিউএয়ারের স্কোরের মধ্যে ০ থেকে ৫০ ভালো হিসেবে গণ্য করা হয়। ৫১ থেকে ১০০ মাঝারি মানের বলে মনে করা হয়, এবং ১০১ থেকে ১৫০ স্কোরের মধ্যে থাকা শহরগুলো সঙ্কটাপন্ন গোষ্ঠী অর্থাৎ সংবেদনশীলদের জন্য অস্বাস্থ্যকর বিবেচিত হয়। স্কোর ১৫১ থেকে ২০০ হলে সেটাকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ বায়ু বলে মনে করা যায়।

এছাড়া ২০১ থেকে ৩০০ স্কোর এমন খারাপ অবস্থায় চলে আসে, যা 'খুব অস্বাস্থ্যকর' বলা হয়। এই অবস্থায় শিশু, প্রবীণ ও অসুস্থ রোগীদের সুপারিশ করা হয় যে তারা বাড়ির ভেতরেই অবস্থান করুন, অন্যদের জন্যও বাড়ির বাইরের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। ৩০১ থেকে ৪০০ স্কোর হলে তা ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসাবেও বিবেচিত হয়, যা নগরের বাসিন্দাদের জন্য গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জুমার দিনে করণীয় ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ আমল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৩১ এম


জুমার দিনে করণীয় ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ আমল

সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ দিন হচ্ছে জুমার দিন। আল্লাহ তাআলা এই বিশেষ দিনটিকে অন্য দিনের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন।

সুতরাং জুমার দিনে মুমিনের হৃদয়ে মমতা ও হৃদ্যতার অপার্থিব একটি সুখ ফুটে ওঠে। পারস্পরিক সৌহার্দ-সম্প্রীতি ও ভালোবাসার দীপ্তি ছড়িয়ে পড়ে। এ দিনের কিছু নির্দিষ্ট ইবাদত ও আমল রয়েছে, যা মহানবী (সা.)-এর জীবনে প্রাপ্ত হয়েছে। নিম্নলিখিতভাবে সেগুলো নিয়ে আলোচনা করা হলো—

১. জুমাবারের ফজরের তিলাওয়াত করা: আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী (সা.) শুক্রবার ফজরের নামাজে সুরা আস-সিজদা এবং সুরা আল-ইনসান তিলাওয়াত করতেন।

(সহিহ বুখারি, হাদিস: ১০៦৮)

জুমার দিনে এই সুরা তিলাওয়াত করার একটি কারণ হলো এই সুরাতে আদম (আ.)-এর সৃষ্টির কথা, পুনরুত্থানের কথা এবং কিয়ামতের দিন সবাইকে সমবেত হওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। আর এসবই হবে জুমার দিনে। এই কারণে এই সুরা পাঠ করে উম্মতকে স্মৃতিযোগ করা হয়।

২. বেশি পরিমাণে দরুদ শরিফ পড়া: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, তোমরা জুমার দিনে আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো।

কেননা তোমাদের পাঠকৃত দরুদ আমার সামনে পেশ করা হয়। (আবু দাউদ, হাদিস: ১০৪৭)

৩. জুমার নামাজ আদায় করা: ইসলামের যেসব ফরজ বিধান আছে, এর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি হলো জুমার নামাজ। আরাফার দিবসের পর জুমার দিনে সবচেয়ে বেশি মানুষ একসঙ্গে সমবেত হয়। যারা জুমার নামাজকে অবহেলা করে কিংবা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে ছেড়ে দেয়, আল্লাহ তাআলা তাদের হৃদয়ে মোহর মেরে দেন।

৪. গোসল করা: এই দিনে বিশেষভাবে গোসল করার তাগিদ এসেছে। সালিম (রহ.) থেকে তাঁর পিতার সূত্রে বর্ণিত, তিনি নবী (সা.)-কে বলতে শুনেছেন, যে ব্যক্তি জুমার নামাজে আসে সে যেন গোসল করে আসে।

(তিরমিজি, হাদিস: ৪৯২)

৫. সুগন্ধি ব্যবহার করা: অন্যান্য দিনের তুলনায় এদিন বেশি সুগন্ধি ব্যবহার করা উত্তম। আবু সাইদ খুদরি (রা.) বলেন, আমি নিশ্চিত যে আল্লাহর রাসুল (সা.) বলেছেন, জুমার দিন সুগন্ধি পাওয়া গেলে তা ব্যবহার করা উচিত। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৮৮০)

৬. দ্রুত মসজিদে যাওয়া: জুমার দিনের ফজিলত লাভের জন্য এই আমল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই এদিকে বিশেষভাবে মনোযোগী হওয়া উচিত।

৭. ইবাদতে মশগুল থাকা: ইমাম জুমার নামাজে আসার পূর্ব পর্যন্ত নামাজ, জিকির ও তিলাওয়াত করা উচিত।

৮. খুতবার সময় সম্পূর্ণ নিশ্চুপ থাকা: আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণনা করা হয়েছে, নবী (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন ইমামের খুতবা দেওয়ার সময় তার সঙ্গীকে বলল, ‘চুপ থাকো’ সে এক অনর্থক কাজ করেছে। (সুনানে নাসায়ি, হাদিস: ১৪০১)

৯. সুরা কাহফ পড়া: আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বলা হয়েছে, নবী (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জুমার দিন সুরা কাহফ পাঠ করবে, তার জন্য দুই জুমার মধ্যবর্তী সময় আলোকিত হবে।’ (আত-তারগিব, হাদিস: ৭৩৫)

১০. জুমার নামাজের নির্ধারিত সুরা পাঠ করা: নুমান ইবনে বশির (রা.) থেকে জানা যায়, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) দুই ঈদের নামাজ এবং জুমার নামাজে ‘সাব্বিহিসমা রব্বিকাল আলা’ ও ‘হাল আতা-কা হাদিসুল গা-শিয়াহ’ এই দুইটি সুরা পাঠ করতেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৯১৩)

কিছু বর্ণনায় এসেছে, রাসুল (সা.) সুরা জুমুআ ও সুরা আলা পড়তেন।

১১. পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর কাপড় পরিধান করা: আবু জার (রা.) থেকে বলা হয়েছে, নবী (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন উত্তমরূপে গোসল করে, পবিত্রতা অর্জন করে, তার উত্তম পোশাক পরিধান করে এবং আল্লাহ তার পরিবারের জন্য যে সুগন্ধির ব্যবস্থা করেছেন, তা শরীরে লাগায়, এরপর জুমার নামাজে এসে অনর্থক আচরণ না করে এবং দুই ব্যক্তির মাঝে ফাঁক করে অগ্রসর না হয়, তার এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমার মধ্যবর্তী সময়ের গুনাহ ক্ষমা হয়ে যায়। (সুনানে ইবনে মাজা, হাদিস: ১০৯৭)

১২. মসজিদে সুগন্ধি লাগানো: ওমর (রা.) জুমার দিনে দ্বিপ্রহরে মসজিদে সুগন্ধি লাগানোর জন্য নির্দেশ দিয়েছিলেন।

১৩. ক্ষমা প্রার্থনা করা: এদিন মহান রবের কাছে গুনাহ মাফের বর্ষণ হয়। মহানবী (সা.) বলেছেন, যদি কোনো মুসলিম পবিত্র হয়ে জামে মসজিদে হাঁটতে থাকে, তারপর ইমাম নামাজ শেষ করা পর্যন্ত নীরব থাকে, তাহলে তার নামাজ ওই জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত তার গুনাহের কাফফারা হয়ে যাবে, যদি সে ধ্বংসকারী তথা কবীরা গুনাহ থেকে বাঁচে। (মুসনাদে আহমাদ, হাদিস ২৩৭২৯)

১৪. মৃতদের জন্য দোয়া করা: জুমার দিনে কবরের আজাব মাফ হয়ে যায়। আবু কাতাদাহ (রা.) থেকে বলা হয়েছে, মহানবী (সা.) জুমার দিন ছাড়া (অন্য দিন) ঠিক দুপুরে নামাজ আদায় করাটা অপছন্দ করতেন। তিনি বলেছেন, জুমার দিন ছাড়া (অন্যান্য দিনে) জাহান্নামের আগুনকে উত্তপ্ত করা হয়। (সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১০৮৩)

জুমার দিনে কিংবা রাতে যে মারা যায়, তার জন্য কবরের আজাব উঠিয়ে নেওয়া হবে, এটা এই হাদিস থেকে প্রমাণিত। তবে কিয়ামত পর্যন্ত আজাব দেওয়া হবে না, এটা নিশ্চিত নয়।

১৫. বেশি বেশি দোয়া করা: বিশেষ সময়ে দোয়া কবুল হয়। আবু হুরাইরা (রা.) থেকে বলা হয়েছে, নবী (সা.) বলেছেন, জুমার দিনের মধ্যে অবশ্যই এমন একটি মুহূর্ত আছে, যখন কোনো মুসলিম আল্লাহর কাছে কল্যাণ প্রার্থনা করে, নিশ্চয়ই তিনি তাকে তা দান করেন। তিনি বলেন, সে মুহূর্তটি অত্যন্ত স্বল্প। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১৮৫৮)

বেশিরভাগের মতে, সে সময়টি আসরের পর থেকে মাগরিবের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত। (জাদুল মাআদ থেকে সংক্ষেপিত)

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%