মঙ্গলবার, ১ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০১:৪৩ পি.এম
পদ ছাড়লেন টিম কুক, সোমবার ১৫ বছর ধরে অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর। একই দিনে নতুন সিইও হিসেবে জন টার্নাসের হাতে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন তিনি।
বিদায়ের দিনে অ্যাপলের সহপ্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবসকে স্মরণ করেন কুক। তিনি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের প্রশংসা করে তাদের ‘অসাধারণ’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
কুক এখন অ্যাপলের নির্বাহী চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করবেন। অন্যদিকে ১ সেপ্টেম্বর থেকে প্রতিষ্ঠানের সিইও হিসেবে কাজ শুরু করবেন টার্নাস।
অ্যাপলে কুকের যাত্রা শুরু হয় ১৯৯৮ সালে। সেই সময়ে প্রতিষ্ঠানের সহপ্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবস তাকে অ্যাপলে নিয়োগ দেন। কুক প্রথমে অ্যাপলের সরবরাহব্যবস্থা দেখার দায়িত্বে ছিলেন। ২০০৫ সালে তাকে প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (সিওও) হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
এ দায়িত্বে থেকে তিনি অ্যাপলের পণ্য তৈরি ও সরবরাহের পুরো ব্যবস্থাকে আরো দক্ষ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় দক্ষতার কারণে অল্প সময়ের মধ্যেই কুক অ্যাপলে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হয়ে ওঠেন।
২০১১ সালে তিনি অ্যাপলের সিইও হন। ওই সময় স্টিভ জবস দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। কুক দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র কয়েক সপ্তাহ পর অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সারে মারা যান জবস।
জবসের পর অ্যাপলের নেতৃত্ব ধরে রাখার বড় দায়িত্ব কুকের ওপর পড়ে। কুকের নেতৃত্বে গত প্রায় ১৫ বছরে অ্যাপল বিশ্বের অন্যতম মূল্যবান প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। সোমবার প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য ৪ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। এর মাধ্যমে কুকের নেতৃত্বে অ্যাপলের ব্যবসার ব্যাপক বিস্তারের বিষয়টি আরো স্পষ্ট হয়েছে। চাকরির শেষ দিনে কর্মীদের কাছে পাঠানো এক বার্তায় কুক স্টিভ জবসের কথা স্মরণ করেন। তিনি লেখেন, ‘স্টিভ যেভাবে একবার বলেছিলেন, আমরা মহাবিশ্বে আমাদের ছাপ রেখে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করতে পেরেছি।’
কর্মীদের প্রশংসা করে কুক বলেন, অ্যাপলের সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান তাদের। তিনি বলেন, তার সাফল্য নিয়ে যা-ই বলা হোক না কেন, তিনি জানেন এর সবকিছুই কর্মীদের কারণে সম্ভব হয়েছে। এত অসাধারণ মানুষের সঙ্গে এর আগে তিনি কখনো কাজ করেননি বলেও উল্লেখ করেন কুক। অ্যাপলের সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ১ লাখ ৬৬ হাজার কর্মী রয়েছে। বিদায়ী বার্তায় কুক আরো বলেন, তিনি অ্যাপল এবং প্রতিষ্ঠানটির কর্মীদের ভালোবাসেন। তাদের নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করাকে তিনি জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মানের বিষয় বলে উল্লেখ করেন।
কুকের পর অ্যাপলের সিইও হচ্ছেন জন টার্নাস। ১ সেপ্টেম্বর থেকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই দায়িত্ব পালন করবেন। স্টিভ জবসের পর টার্নাস হবেন অ্যাপলের নেতৃত্ব দেওয়া দ্বিতীয় সিইও। টার্নাস ২০০১ সালে অ্যাপলের নকশা দলে যোগ দেন। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। পরে তিনি অ্যাপলের হার্ডওয়্যার প্রকৌশল বিভাগের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট হন। আইফোন, আইপ্যাডসহ অ্যাপলের বিভিন্ন হার্ডওয়্যার পণ্য তৈরির কাজে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। সিইও হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর টার্নাস খুব বেশি সময় পাবেন না নিজেকে গুছিয়ে নেওয়ার জন্য।
আগামী ৯ সেপ্টেম্বর অ্যাপলের বার্ষিক আইফোন অনুষ্ঠান হওয়ার কথা রয়েছে। সেখানে প্রতিষ্ঠানটি তাদের প্রথম ভাঁজ করা ফোন উন্মোচন করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে নতুন সিইও হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই বড় একটি পণ্য উন্মোচন অনুষ্ঠানের নেতৃত্ব দিতে হবে টার্নাসকে। অ্যাপলের নেতৃত্বে এই পরিবর্তন এমন এক সময়ে হলো, যখন প্রতিষ্ঠানটি বেশ কয়েকটি বড় চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। উন্নত কম্পিউটিং চিপের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। এতে চিপ সরবরাহের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।
অ্যাপলের মতো বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের জন্য সরবরাহ ব্যবস্থা ঠিক রাখা এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এর পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতাও বেড়েছে। গুগল, মাইক্রোসফটসহ বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান এআই প্রযুক্তিতে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। এই প্রতিযোগিতায় অ্যাপলকে আরো শক্ত অবস্থান তৈরি করতে হবে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনেও অ্যাপলকে নানা রাজনৈতিক ও নীতিগত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
উত্তর আমেরিকার মাটিতে বিশ্বকাপের খেতাব ধরে রাখার যে মিশন ছিল, সেটি লিওনেল মেসির জন্য সফলভাবে সম্পন্ন হয়নি। ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ ব্যবধানে পরাজিত হয়ে আলবিসেলেস্তেদের স্বপ্ন ভঙ্গ হয়ে যায়।
এই পরাজয়ের ম্যাচটি মেসির জাতীয় দলের পোশাকে শেষ উপস্থিতি হিসেবে চিহ্নিত হলো। বিশ্বকাপের কয়েক সপ্তাহ পর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায় নেন, যিনি ছিলেন বিশ্বজয়ী অধিনায়ক।
জাতীয় দল থেকে মেসির বিদায়ের ঘটনা এটি প্রথম নয়। ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকা ফাইনালে চিলির কাছে টাইব্রেকারে হেরে আবেগঘনভাবে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন ২৯ বছর বয়সী মেসি।
পেড্রাগালে টাইব্রেকারে শট মিস করার সেই হৃদয়ভাঙা রাতে মেসির এমন সিদ্ধান্ত পুরো ফুটবলবিশ্বকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল। সেই সময়, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসির পাশে দাঁড়িয়ে এক ঐতিহাসিক বার্তা দিয়েছিলেন পর্তুগিজ যুবরাজ ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।
তৎকালীন স্প্যানিশ পত্রিকা ‘মুন্দো দেপোর্তিভো’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেসির কঠিন সিদ্ধান্তের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে রোনালদো বলেছিলেন, ‘মেসি খুব কঠিন একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সবার উচিত ওর মানসিক অবস্থাটা বোঝা। ও হারতে বা ব্যর্থ হতে অভ্যস্ত নয়, এমনকি দ্বিতীয় হওয়াটাও ওর সঙ্গে যায় না।
কেবল একটা পেনাল্টি মিস করলেই কেউ খারাপ ফুটবলার হয়ে যায় না।’
রোনালদো তখন ভাবতে পারেননি যে মেসি পরবর্তীতে ফিরে এসে ২০২১ ও ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকা এবং ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপ জয় করবেন—যে বিশ্বকাপ ট্রফিটি পর্তুগিজ মহাতারকার জন্য এখনো অধরা। তবুও, প্রতিদ্বন্দ্বীর কষ্টে সমব্যাথী হয়ে সেদিন রোনালদো প্রকাশ করেছিলেন নিজের অনুভূতি, ‘মেসিকে এভাবে চোখের জলে ভেঙে পড়তে দেখাটা সত্যিই বেদনার। আমি আশা করি ও নিজের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে জাতীয় দলে ফিরবে, কারণ আর্জেন্টিনার ওকে ভীষণ প্রয়োজন।’
রোনালদোর সেই আশাবাণী সত্য প্রমাণ করে সেবার অবসর ভেঙে ফিরে এসে দেশকে এনে দিয়েছিলেন পরম কাঙ্ক্ষিত সব সোনালী ট্রফি।
তবে এবার ৩৯ বছর বয়সী মেসির পক্ষে আর ফেরা সম্ভব কি না, তা নিয়ে রয়েছে গভীর সংশয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাজবাড়ী শহরের বড় বাজারের কাপড় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে নারী উদ্যোক্তা জাকিয়া সুলতানার বিরোধের প্রেক্ষিতে মারধরের ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই মামলায় তিন যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজবাড়ী সদর থানার ওসি উত্তম কুমার ঘোষ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন—আব্দুল্লাহ আল সিয়াম খান (১৯), মো. রুবেল হোসেন (১৯) এবং মো. হেলাল উদ্দিন (৩৮)।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সোমবার (৩১ আগস্ট) দিবাগত রাতে জাকিয়া সুলতানা বাদী হয়ে সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, জাকিয়ার প্রতিষ্ঠান ‘আস্থা পোশাক শিল্প গার্মেন্টে’-এর একজন কর্মচারী চাকরি ছেড়ে দেওয়ার পর বেতন ও মালামালের হিসাব নিয়ে বিরোধ দেখা দেয়। অভিযোগ রয়েছে, গত ২৩ আগস্ট ওই কর্মচারী কয়েকজন লোক নিয়ে প্রতিষ্ঠানে গিয়ে বেতন দাবি ও হুমকি দেন।
এই ঘটনার পর শনিবার (২৯ আগস্ট) বড় বাজারে জাকিয়া ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে, একজন নারী পুলিশ সদস্যের সঙ্গে থাকা জাকিয়াকে কয়েকজন যুবক লাথি ও ঘুষি মারেন।
ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।
ওসি উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, ‘এ ঘটনায় তিন জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
শিরোনাম পড়ে নিশ্চয়ই অবাক হচ্ছেন! অবাক হওয়ারই কথা। মাঠের বাউন্ডারি লাইনই তো ১০০ মিটার হয় না।
এখন প্রশ্ন উঠছে, একজন বোলার কীভাবে ১০০ কিলোমিটার রান-আপ নিয়ে একটি বল করতে পারেন? এমনটাই ভাবছেন সবাই।
এক কাঠি সরেস হয়ে হয়তো এমনটাও ভাবছেন সাংবাদিক ভুল করে লেখেননি তো। ভুল নয়, সত্যিই এমন লেখা হয়েছে। তবে এটি পেশাদার কোনো ম্যাচ নয়, বরং একটি বলের চ্যারিটি ম্যাচ। সেই ম্যাচে অংশগ্রহণ করেছেন বাবা ও ছেলে।
ছেলে স্যাম বোদোয়ানোর বোলিংয়ের বিপরীতে ব্যাট করেছেন তার বাবা। ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক অ্যান্ড্রু স্ট্রাউসের প্রয়াত স্ত্রীর স্মৃতিতে গঠিত রুথ স্ট্রাউস ফাউন্ডেশনের (Ruth Strauss Foundation) জন্য অর্থ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে এই পাগলাটে রান-আপ নিয়েছেন বোদোয়ানো। দাতব্য কাজের মাধ্যমে তিনি ৬ হাজার পাউন্ড অর্থ সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছেন।
বোদোয়ানো রান-আপের শুরুটা করেন ক্রিকেটের তীর্থভূমি হিসেবে পরিচিত লর্ডস থেকে।
গন্তব্য ছিল ওয়াকিংয়ের ভ্যালি এন্ড ক্রিকেট ক্লাব। ইংল্যান্ড-পাকিস্তানের লর্ডস টেস্টের তৃতীয় দিনের খেলা শেষ হওয়ার পর শনিবার সন্ধ্যায় বল হাতে দৌড় শুরু করেন তিনি। প্রায় ১০০ কিলোমিটার দৌড়ে স্ট্রাইক প্রান্তে ব্যাট হাতে থাকা বাবার দিকে বল ছুঁড়েন তিনি। অফ স্টাম্পের বেশ বাইরে করা বলটি ব্যাটে লাগান তার বাবা। এরপর উপস্থিত সবাই আনন্দিত হয়ে করতালি দিতে থাকেন।
টেস্ট ক্রিকেটের পোশাক পরিহিত বোদোয়ানো নির্ধারিত সময়ের আগেই বোলিং প্রান্তে অবস্থান নেন। রবিবার দুপুর ২টায় বল করার কথা থাকলেও ভ্যালি এন্ড ক্রিকেট ক্লাবে আগেই হাজির হন তিনি। আগের রেকর্ডটি ছিল অন্য একজনের ২৪ কিলোমিটারের। এমন দৌড় আগেও দিয়েছেন বোদোয়ানো। সেবার ক্রিকেট প্যাড পরে ও হাতে ব্যাট নিয়ে ৫ কিলোমিটার দৌড়ে আলোচনায় এসেছিলেন তিনি। সময় নিয়েছিলেন ২০ মিনিটের কম।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নওগাঁর পোরশা উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের নকল নবীস আমির উদ্দিন বাবুকে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি নথিতে কাটাছেঁড়া বা টেম্পারিংয়ের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। একই ঘটনায় আরও দুজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় বলে জেলা রেজিস্ট্রার অফিস সূত্রে জানা গেছে।জেলা রেজিস্ট্রার অফিস সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য ও সংশ্লিষ্ট নথি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৯ মে পোরশা উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে একটি চিঠি জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে পাঠানো হয়। ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ১৪২১/৪৭১ নম্বর বালাম বইয়ের একটি স্থানে ‘১২৫’ সংখ্যাটি কেটে ‘১৩৫’ করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সরকারি রেকর্ডে এ ধরনের পরিবর্তনের বিষয়টি নজরে আসার পর পোরশা সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয় থেকে রেকর্ডরুমের রেজিস্টার যাচাই করা হয়। রেজিস্টার পর্যালোচনায় দেখা যায়, সংশ্লিষ্ট বালামটি পর্যায়ক্রমে ইসমত আলী, রাবেয়া বেগম এবং সর্বশেষ ২০২৫ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি নকল নবীস আমির উদ্দিন বাবু বের করেছিলেন। এরপর সংশ্লিষ্ট তিনজনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। তাদের দাখিল করা জবাব সন্তোষজনক না হওয়ায় তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয় বলে জেলা রেজিস্ট্রার অফিস সূত্রে জানা গেছে। পরবর্তীতে জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের নির্দেশে বিষয়টি তদন্তের জন্য ধামইরহাটের সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রারের কাছে পাঠানো হয়। তদন্তের সময় সংশ্লিষ্ট নথির হাতের লেখা ও অন্যান্য বিষয় পর্যালোচনা করা হলেও বিষয়টি বৈজ্ঞানিকভাবে নিশ্চিত হওয়ার প্রয়োজন দেখা দেয়। এ কারণে ফরেনসিক পরীক্ষার মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই করার সুপারিশ করে জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে প্রতিবেদন দেওয়া হয়। পরে অধিকতর তদন্তের জন্য বিষয়টি মান্দার সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রারের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জেলা রেজিস্ট্রার অফিস সূত্রে জানা গেছে। প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে এবং কথিত নথি টেম্পারিংয়ের সঙ্গে কারা সরাসরি জড়িত সে বিষয়ে তদন্তের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।এদিকে, গত ২৩ আগস্ট ২০২৬ পোরশা সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কথিত দালাল সিন্ডিকেট নিয়ে সংবাদ সংগ্রহের সময় আমির উদ্দিন বাবুসহ কয়েকজনের উপস্থিতি দেখা যায়। পরে ওই ভূমি অফিসকেন্দ্রিক দালাল সিন্ডিকেটের অভিযোগ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়।স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেন, আমির উদ্দিন বাবু সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে বিভিন্ন ভূমি অফিসে দালালি করেন এবং ভূমি-সংক্রান্ত কাজে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। নথি টেম্পারিং এবং দালালি সংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে আমির উদ্দিন বাবুর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।জেলা রেজিস্ট্রার অফিস সূত্রে পাওয়া নথি ও তথ্যের ভিত্তিতেই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। নথি টেম্পারিংয়ের অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা তদন্ত শেষে নির্ধারিত হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ