ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কৃষকের শ্রম আল্লাহর কুদরতের এক অনন্য নিদর্শন


কৃষকের শ্রম আল্লাহর কুদরতের এক অনন্য নিদর্শন

কৃষিকাজ যে একটি অতি শ্রেষ্ঠ পেশা, এটি আল্লাহর অসংখ্য নিদর্শনের মধ্যে একটি এবং মানুষের অন্তরে ঈমানকে সুদৃঢ় করার একটি মাধ্যম।

এটি মহান আল্লাহর একত্ববাদের স্পষ্ট প্রমাণ। আল্লাহ তাআলা বলেন, 'তোমরা কি ভেবে দেখেছ, তোমরা যে বীজ বপন করো? তোমরাই কি তা উৎপন্ন করো, নাকি আমরাই উৎপন্নকারী?' (সুরা : আল-ওয়াকিয়া, আয়াত : ৬৩-৬৪)

কৃষিজগতের বিভিন্ন বৈচিত্র্য আল্লাহর কুদরতের এক মহান নিদর্শন। এখানে দেখা যায়, কিছু শস্য, কিছু ফল, কিছু ফুল, কিছু ঘাস, কিছু ফলমূল, কিছু শাক-সবজি, কিছু লতানো এবং কিছু মাচাবিহীন—এগুলো সবই আল্লাহর সৃষ্টির বিস্ময়। আল্লাহ তাআলা বলেন, 'অতএব মানুষ যেন তার খাদ্যের প্রতি দৃষ্টি দেয়।

আরও পড়ুন: তারেক রহমান: জামায়াত-এনসিপি আমার রাষ্ট্রীয় সম্মান সহ্য করতে পারছে না

আমিই প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করেছি, অতঃপর আমি জমিনকে যথাযথভাবে বিদীর্ণ করেছি। তারপর তাতে উৎপন্ন করেছি শস্য, আঙুর, শাক-সবজি, জলপাই, খেজুর, ঘন বৃক্ষরাজির উদ্যান, ফলমূল ও ঘাস—তোমাদের ও তোমাদের পশুদের ভোগের জন্য।' (সুরা : আবাসা, আয়াত : ২৪-৩২)

কৃষকের কাজ আল্লাহর কুদরতের প্রমাণ হিসেবে যথেষ্ট। কৃষক মাটিতে একটি বীজ বপন করে, আল্লাহর দেওয়া পানি দিয়ে তা সেচ দেয়, আল্লাহর তৈরি জমি প্রস্তুত করে এবং আল্লাহর দেওয়া যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে। এরপর সে অপেক্ষা করে—এই বীজ থেকে কী বের হয়।

কিন্তু কে সেই বীজকে বিদীর্ণ করে অঙ্কুর বের করেন? কে মাটিকে ভেদ করে ফসল বের করেন? আল্লাহ ছাড়া আর কে? ফসল দুনিয়ার ক্ষণস্থায়িত্বের জীবন্ত উদাহরণ। আল্লাহ তাআলা বলেন, 'পার্থিব জীবনের দৃষ্টান্ত হলো এমন—যেমন আমি আকাশ থেকে পানি বর্ষণ করি, ফলে তার দ্বারা জমিনের উদ্ভিদ মানুষের ও পশুর খাদ্যের সঙ্গে মিশে যায়। অবশেষে যখন জমিন তার সৌন্দর্য ধারণ করে এবং সুশোভিত হয়, আর তার অধিবাসীরা মনে করে যে তারা এর ওপর পূর্ণ ক্ষমতাবান, তখন আমার আদেশ রাত বা দিনে এসে পড়ে। অতঃপর আমি তাকে এমনভাবে কেটে ফেলি যেন গতকাল এখানে কিছুই ছিল না। এভাবেই আমি চিন্তাশীল সম্প্রদায়ের জন্য নিদর্শনগুলো বিস্তারিত বর্ণনা করি।' (সুরা : ইউনুস, আয়াত : ২৪)

এই উদাহরণের মাধ্যমে আল্লাহ মানুষকে বুঝিয়েছেন—মানুষও প্রথমে দুর্বল অবস্থায় জন্মগ্রহণ করে, পরে যৌবনে শক্তিশালী হয় এবং মনে করে সে দীর্ঘকাল বেঁচে থাকবে, সব কিছু করতে পারবে।

আরও পড়ুন: আদাবরে যুবদল নেতাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম

তারপর বার্ধক্য আসে, শক্তি কমে যায়, অবশেষে তার জীবনও সেই ফসলের মতো হয়ে যায়, যা প্রথমে সবুজ ছিল, পরে শুকিয়ে কেটে ফেলা হয়। ফসল, উত্তম কথা ও দান একে অপরের সঙ্গে গভীর সম্পর্কযুক্ত।

আল্লাহ তাআলা উত্তম ও মন্দ কথার উদাহরণ দিয়ে বলেন, 'তুমি কি দেখনি, আল্লাহ কিভাবে দৃষ্টান্ত দিয়েছেন? উত্তম বাক্য হলো উত্তম বৃক্ষের মতো, যার মূল সুদৃঢ় এবং যার শাখা আকাশে। সে তার রবের অনুমতিতে সর্বদা ফল দান করে। আর মন্দ বাক্যের দৃষ্টান্ত হলো মন্দ বৃক্ষের মতো, যা জমিনের ওপর থেকে উপড়ে ফেলা হয়েছে, যার কোনো স্থায়িত্ব নেই।' (সুরা : ইবরাহিম, আয়াত : ২৪-২৬)

অতএব, উত্তম কথা ও সৎকর্মের সঙ্গে ফসলের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। কৃষিকাজ ও আল্লাহর ইবাদতের মধ্যে সম্পর্কও গুরুত্বপূর্ণ। উদ্ভিদ আল্লাহর তাসবিহ পাঠ করে। আল্লাহ বলেন, 'সাত আসমান, জমিন এবং এতে যা কিছু আছে সবই তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করে। এমন কোনো বস্তু নেই যা তাঁর প্রশংসাসহ তাসবিহ করে না; কিন্তু তোমরা তাদের তাসবিহ বুঝতে পারো না।' (সুরা : আল-ইসরা/বনি ইসরাঈল, আয়াত : ৪৪)

উদ্ভিদ আল্লাহর সামনে সিজদা করে। আল্লাহ বলেন, 'আর তৃণলতা ও বৃক্ষ উভয়েই সিজদা করে।' (সুরা : আর-রহমান, আয়াত : ৬) ফসলের মধ্যে জাকাত রয়েছে। আল্লাহ বলেন, 'আর ফসল কাটার দিন তার হক (জাকাত) প্রদান করো।' (সুরা : আল-আনআম, আয়াত : ১৪১)

আরও পড়ুন: শেরপুরে বাসের চাপায় সিএনজি যাত্রী নিহত, আহত ৪

কৃষিকাজ ও হজের সম্পর্কও উল্লেখযোগ্য। হজের সময় মক্কার পবিত্র এলাকার উদ্ভিদ ও গাছপালা নষ্ট করা নিষিদ্ধ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, 'আল্লাহ মক্কাকে হারাম (পবিত্র) করেছেন। আমার আগে বা আমার পরে কারোর জন্য এটি বৈধ নয়। আমার জন্যও দিনের কিছু সময়ের জন্য বৈধ করা হয়েছিল। এর ঘাস কাটা যাবে না, গাছ কাটা যাবে না, শিকার তাড়ানো যাবে না...' (সহিহ বুখারি, হাদিস : ১৮৩৩)

কৃষিকাজ একটি নৈতিক শিক্ষালয়। কৃষি মানুষকে বহু উত্তম চরিত্র শিক্ষা দেয়। যেমন—

১. আমানতদারি: কৃষকের হাতে মানুষের জীবনধারণের একটি বড় আমানত রয়েছে, যা সঠিকভাবে রক্ষা করা জরুরি। ইউসুফ (আ.) মিসরের রাজার স্বপ্নের ব্যাখ্যা দিয়ে বলেছিলেন— 'তোমরা সাত বছর ধারাবাহিকভাবে চাষ করবে। অতঃপর যা কাটবে তা শীষের মধ্যে রেখে দেবে, সামান্য যা খাবে তা ছাড়া। এরপর আসবে সাতটি কঠিন বছর, যা তোমাদের সঞ্চিত সব খেয়ে ফেলবে...' (সুরা : ইউসুফ, আয়াত : ৪৭-৪৯)

তাঁদের এই পরামর্শ অনুসরণের ফলে আল্লাহর ইচ্ছায় তারা দুর্ভিক্ষ থেকে রক্ষা পেয়েছিল।

আরও পড়ুন: কোনো দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে পেলে কতদিন ক্ষমতায় থাকবেন নেতানিয়াহু?

২. বিপদগ্রস্তকে সাহায্য করা: ইউনুস (আ.) মাছের পেট থেকে বের হওয়ার পর আল্লাহ তাঁর জন্য ইয়াকতিনগাছ উৎপন্ন করেছিলেন, যা তাঁর দুর্বলতা দূর করেছিল। আল্লাহ বলেন, 'অতঃপর আমি তাকে তীরে নিক্ষেপ করলাম, তখন সে ছিল অসুস্থ। আর আমি তার ওপর একটি ইয়াকতিনগাছ উৎপন্ন করলাম।' (সুরা : আস-সাফফাত, আয়াত : ১৪৫-১৪৬)

এভাবেই মরিয়ম (আ.)-এর জন্য খেজুরের ব্যবস্থা করা হয়েছিল— 'আর তুমি খেজুরগাছের কাণ্ড তোমার দিকে নাড়াও, তা তোমার ওপর পাকা তাজা খেজুর ফেলবে।' (সুরা : মারইয়াম, আয়াত : ২৫)

৩. আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা: কৃষক প্রতিদিন নিজের চোখের সামনে আল্লাহর নিয়ামত দেখতে পায়। তাই তার উচিত আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকা। দুই বাগানের মালিকের ঘটনা আমাদের শিক্ষা দেয়—সে আল্লাহর নিয়ামত অস্বীকার করেছিল। তার মুমিন বন্ধু তাকে বলেছিল— 'তুমি যখন তোমার বাগানে প্রবেশ করলে তখন কেন বললে না—মাশাআল্লাহ, আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া কোনো শক্তি নেই?' (সুরা : আল-কাহফ, আয়াত : ৩৯)

কিন্তু সে শিক্ষা গ্রহণ করেনি, তাই তার বাগান ধ্বংস হয়ে যায়।

আরও পড়ুন: কুড়িগ্রামে দুই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চার খাদ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

উপসংহার: কৃষকদের জন্য এর চেয়ে বড় সম্মান আর কী হতে পারে যে মহান আল্লাহ তাঁর শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি রাসুলুল্লাহ (সা.) এবং তাঁর সাহাবিদের উদাহরণ দিয়েছেন ফসলের মাধ্যমে। আল্লাহ বলেন, 'মুহাম্মদ আল্লাহর রাসুল এবং তাঁর সঙ্গীরা কাফিরদের প্রতি কঠোর, নিজেদের মধ্যে পরস্পরের প্রতি দয়ালু। তুমি তাদের দেখবে তারা রুকু ও সিজদায় অবনত, তারা আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি কামনা করে। তাওরাত ও ইনজিলে তাদের দৃষ্টান্ত হলো এমন একটি চারাগাছের মতো, যা প্রথমে কুঁড়ি বের করে, পরে শক্তিশালী করে, তারপর তা মোটা ও দৃঢ় হয় এবং নিজের কাণ্ডের ওপর দাঁড়িয়ে যায়—যা কৃষকদের আনন্দ দেয়।' (সুরা : আল-ফাতহ, আয়াত : ২৯)

অতএব, কৃষিকাজ শুধু জীবিকার মাধ্যম নয়; বরং এটি আল্লাহর নিদর্শন, ইবাদতের একটি ক্ষেত্র এবং মানবতার সেবার এক মহান পথ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মেসির কাছে রেকর্ড হারিয়ে মুখ খুললেন ক্লোসা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৩শে জুন, ২০২৬ ইং

০৮:৩৭ এম


মেসির কাছে রেকর্ড হারিয়ে মুখ খুললেন ক্লোসা

১৮ গোল করে জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসাকে টপকে লিওনেল মেসি এখন বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোল করে এই নতুন রেকর্ডটি গড়েন তিনি। যদিও মেসির কাছে রেকর্ডটি হারানোর পরেও বিষয়টি ক্লোসা বেশ রসিকতার ছলে এবং ইতিবাচকভাবে নিয়েছেন। সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলের নতুন কীর্তি গড়ায় লিওনেল মেসিকে তিনি অভিনন্দন জানিয়েছেন।

জার্মান সংবাদমাধ্যম ‘জিউডডয়েচে সাইটুং’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ক্লোসা বলেন, ‘আমি সব সময়ই বলেছি, মেসি(রেকর্ড ভাঙলে) মোটেও মন্দ নয়! আমার চোখে লিওনেল মেসিই সর্বকালের সেরা ফুটবলার। অভিনন্দন, চ্যাম্পিয়ন!’

জানা যায়, এর আগে ১৬ গোল নিয়ে দীর্ঘ সময় জার্মান কিংবদন্তি ক্লোসার দখলে ছিল বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার সিংহাসন। তবে গত সোমবার অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে আর্জেন্টিনার ২-০ ব্যবধানে জয় নিয়ে নিজের ১৭ ও ১৮তম গোলটি করে ক্লোসাকে ছাড়িয়ে যান মেসি।

চলতি বিশ্বকাপে নিজের এই রেকর্ড ভেঙে যাবে এমনটা টুর্নামেন্ট শুরুর ঠিক আগে সংবাদমাধ্যমটিকে ক্লোসা জানিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘এটা খুবই স্বাভাবিক বিষয়। রেকর্ড তো একদিন না একদিন ভাঙবেই, আর মেসি যদি সেটা ভাঙে তবে তাকে স্বাগত। আমি সবসময়ই মেসির একজন বড় ভক্ত। মেসি এক কথায় একজন জিনিয়াস।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দাম বৃদ্ধির পর আজ দেশে যে দামে বিক্রি হচ্ছে স্বর্ণ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৩শে জুন, ২০২৬ ইং

০৮:৪২ এম


দাম বৃদ্ধির পর আজ দেশে যে দামে বিক্রি হচ্ছে স্বর্ণ

শেষ সমন্বয়ে দেশের বাজারে বাড়তি দাম প্রয়োগ করা হয়েছে স্বর্ণের। এই অনুযায়ী আজ মঙ্গলবার (২৩ জুন) সর্বশেষ সমন্বয়কৃত দামেই দেশের বাজারে মূল্যবান এই ধাতু বিক্রি হচ্ছে।

সর্বশেষ সোমবার (২২ জুন) সকালে দেওয়া এক বিজ্ঞপ্তিতে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ওইদিন ভরিতে মূল্যবান এই ধাতুটির দাম ৪ হাজার ৪৩২ টাকা বাড়ানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়ে গেছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় ভ্যাটসহ স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। সোমবার সকাল ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের বাজারে ভ্যাটসহ প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়ছে ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকা। পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ২০ হাজার ৩৯১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৯ হাজার ২৪৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৫৪ হাজার ৬০৬ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।

বাজুস জানিয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দাম কার্যকর থাকবে। তবে অলঙ্কারের ডিজাইন অনুযায়ী শ্রমিকের মজুরি প্রযোজ্য। স্বর্ণালঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। এছাড়া সুনির্দিষ্ট ভ্যাট, মজুরি ও পাথর বাদ দিয়ে অলঙ্কার এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে বাজুসের পূর্বের নিয়ম বহাল থাকবে। রুপার অলঙ্কারের ভ্যাটের বিষয়ে খুব শিগগিরই সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

এর আগে, গত ২০ জুন সকালে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন। ওইদিন প্রতি ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা কমিয়ে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২৬ হাজার ৩৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৬ হাজার ১৯২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৫ হাজার ৬৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫১ হাজার ৬৯০ টাকা ছিল। যা কার্যকর হয়েছিল ওইদিন সকাল ১০টা থেকেই।

এবার পর্যন্ত চলতি বছরে দেশের বাজারে ৭৯ বার সমন্বয় করা হয়েছে স্বর্ণের দাম। এর মধ্যে দাম ৪০ দফা বৃদ্ধি পেয়েছে, ৩৮ দফা কমিয়ে আনা হয়েছে এবং ১ দফা ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। গত ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ৯৩ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় হয়েছিল; যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো হয়েছিল, আর ২৯ বার কমানো হয়েছিল।

অন্যদিকে, দেশে রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৫ হাজার ২৪৯ টাকায়। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৫ হাজার ১৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ২৫৭ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ৩ হাজার ২০৮ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।

এমন পরিস্থিতিতে চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশের বাজারে ৪৭ দফা সমন্বয় করা হয়েছে রুপার দাম। যেখানে দাম ২৪ দফা বাড়ানো হয়েছে; আর বাকি ২৩ দফা কমানো হয়েছে। ২০২৫ সালে দেশের বাজারে মোট ১৩ বার রুপার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল; যার মধ্যে ১০ বার দাম বেড়েছে, আর ৩ বার কমেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আওয়ামী লীগকে ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৩শে জুন, ২০২৬ ইং

০৮:৪৫ এম


প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আওয়ামী লীগকে ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে। এর অংশ হিসেবে ঢাকা-গোপালগঞ্জসহ ৬ জেলায় সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়াও রাজধানীতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ২০ হাজারের বেশি সদস্য বাড়তি চেকপোস্ট ও টহল জোরদারসহ তৎপর রয়েছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এ উপলক্ষে বিভিন্ন জায়গায় ঝটিকা মিছিল বের করার পরিকল্পনা রয়েছে সংগঠনটির। এতে যদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে নেতাকর্মীরা সংঘর্ষে জড়ানোর কারণ হয়, সেই আশঙ্কায় পুলিশ সদর দফতর সারা দেশে সতর্কতা জারি করেছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) আগেই জানিয়েছিল, ২৩ জুনের জন্য রাজধানীতে ১৮ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবে। ২ শতাধিক স্থানে বিশেষ চেকপোস্ট বসবে, পিকেটিং ও ব্লকরেইড চলবে, গোয়েন্দা নজরদারি থাকবে, এমনকি ৪টি কন্ট্রোল রুম থেকে নিরাপত্তার পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং ১৫টি কুইক রেসপন্স টিম স্ট্যান্ডবাই থাকবে।

অন্যদিকে, রাজধানীর ১৫ স্থানে ১ প্ল্যাটুন করে বিজিবি মোতায়েন থাকবে এবং তল্লাশি ও টহলের দায়িত্ব থাকবে র‌্যাবের বিশেষ টিমের।

এদিকে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা-গোপালগঞ্জসহ ৬ জেলায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বাড়তি সতর্কতা গ্রহণ করা হয়েছে অপতৎপরতা ঠেকাতে।

অপরাধ বিশ্লেষকরা মন্তব্য করেছেন, বর্তমান পরিস্থিতির আলোকে আওয়ামী লীগ কর্মসূচির মাধ্যমে বড় কিছু করতে পারবে না। তবে জনগণের জানমালের ক্ষতি ঠেকাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সজাগ থাকতে হবে। নাশকতা প্রতিরোধে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শও তাদের দেওয়া হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জেলা ও দায়রা জজ পদমর্যাদার ২২ বিচারকের বদলির আদেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৩শে জুন, ২০২৬ ইং

০৮:৫১ এম


জেলা ও দায়রা জজ পদমর্যাদার ২২ বিচারকের বদলির আদেশ

সরকার দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে জেলা ও দায়রা জজ পদমর্যাদার ২২ বিচারককে বদলি করেছে। সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শ অনুযায়ী, গত রোববার (২১ জুন) আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, জনস্বার্থে বদলি হওয়া বিচারকদের আগামী ২৪ তারিখের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থলের দায়িত্ব হস্তান্তর করতে হবে এবং নতুন কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরে পর্যন্ত পদায়ন পাওয়া কর্মকর্তারা নতুন দায়িত্ব পালন করবেন।

প্রজ্ঞাপনে খুলনার বিভাগীয় বিশেষ জজ মো. আসহারুল ইসলামকে নড়াইলের জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে, সুনামগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানকে সুনামগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে এবং নীলফামারী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১–এর বিচারক প্রিয়া তাসনিম মাহমুদকে নীলফামারীর জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

এছাড়া ঢাকার প্রশাসনিক ট্রাইব্যুনাল-২–এর সদস্য মোহাম্মদ আল মামুনকে কিশোরগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ এবং চট্টগ্রামের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. জাহিদুল হককে পঞ্চগড়ের জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।

নিবন্ধন অধিদপ্তরের মহাপরিদর্শক (নিবন্ধন) কাজী আবুবকর হান্নানকেও চট্টগ্রামের জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।

অন্যদিকে, রংপুরের জেলা ও দায়রা জজ ফজলে মোহাম্মদ নাঈমকে চট্টগ্রামের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক হিসেবে এবং নোয়াখালীর জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ মোসাদ্দেক ইবনে আজিজকে আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত কর্মকর্তা হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

একই সময়ে আইন ও বিচার বিভাগে সংযুক্ত থাকা (জেলা ও দায়রা জজ) বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকেও নতুন দায়িত্ব পেতে চলেছেন। এর মধ্যে বি. এম. তৌফিক কবীরকে ঢাকার বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতে, মোহা. ইমদাদুল হককে রাজশাহীর মহানগর দায়রা জজ হিসেবে, এস. এম. আমিনকে সিলেটের স্ট্যাট সার্চ আপিল ট্রাইব্যুনালে এবং মুহাম্মদ সাইফুল মতিন নোমানকে সিলেটের জননিরাপত্তা বিঘ্নকারী অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক হিসেবে সুনামগঞ্জে মোহাম্মদ মাসউদুর রহমান, ময়মনসিংহে ছায়ানারা ফেরদৌস এবং চাঁদপুরে তাসলিম জোহরাকে পদায়ন করা হয়েছে। এভাবে, সরকার মো. আদিব আলীকে খুলনার বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালত এবং মো. গোলাম সারোয়ারকে বগুড়ার পারিবারিক আপিল আদালতের বিচারক হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%