এস এস সাহান,ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি
০৪:৩৮ পি.এম
ফরিদপুর সদর উপজেলার চর মাধবদিয়া ইউনিয়নের লোকমান খান ডাঙ্গি এলাকায় একটি পাটক্ষেত থেকে রোববার সকালে ইউসুফ ফকির (৪৭) নামে এক ভুসিমাল ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করেছে কোতোয়ালি থানা পুলিশ। স্থানীয় কৃষক মজিবর সিকদার নিজের পাটক্ষেতে কাজ করতে গিয়ে ইউসুফ ফকিরকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। তাঁর পাশেই একটি বিষের বোতল পড়ে ছিল। পুলিশ বিশ্বাস করছে, ইউসুফ ফকিরকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে, কারণ মরদেহে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ইউসুফ ফকির মমিন খাঁর হাটের একজন পরিচিত ভুসিমাল ব্যবসায়ী। গত ১৬ জুলাই সন্ধ্যা থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। অনেক খোঁজাখুঁজি শেষেও তাঁর সন্ধান না মেলায় ১৭ জুলাই তাঁর ভাতিজা সাইফুল ইসলাম কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-১৩৬০) গ্রোকরেন। শনিবার (১৮ জুলাই) সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ইউসুফ ফকিরকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশ খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মরদেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে, তাই এটি হত্যাকাণ্ড হতে পারে। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং ঘটনাস্থল থেকে সংগ্রহ করা আলামত পরীক্ষা করা হবে। বর্তমানে কোতোয়ালি থানা পুলিশ ঘটনা তদন্তে কাজ করে যাচ্ছে, জড়িতদের শনাক্ত এবং ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বলিউডের ‘দেশি গার্ল’ এবং হলিউডের আন্তর্জাতিক তারকা প্রিয়াঙ্কা চোপড়া দীর্ঘ সময় ধরে নিজের অবস্থানকে আরো শক্তিশালী করেছেন। দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে অভিনয়ের পাশাপাশি ব্যবসা ও বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বিশাল সম্পদের সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন তিনি।
আজ ১৮ জুলাই (শনিবার) ৪৪ বছরে পা রেখেছেন এই অভিনেত্রী, যার সম্পদের পরিমাণ নিয়ে ভক্তদের আগ্রহের শেষ নেই। ২০১৮ সালে রাজস্থানের জোধপুরে রাজকীয় আয়োজনে মার্কিন সংগীতশিল্পী নিক জোনাসকে বিয়ে করেছেন প্রিয়াঙ্কা। বর্তমানে এই তারকা দম্পতি যুক্তরাষ্ট্রেই বসবাস করছেন। তারা ২০২২ সালে সারোগেসির মাধ্যমে কন্যাসন্তান মালতী মেরিকে পেয়ে দারুণ খুশি হয়েছেন।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, প্রিয়ঙ্কা এবং নিক জোনাস বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম ধনী তারকা দম্পতিদের মধ্যে একটি। তাদের যৌথ সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ২৫০ কোটি রুপি। প্রিয়াঙ্কা ২০০২ সালে একটি তামিল সিনেমার মাধ্যমে অভিনয়জীবন শুরু করেছিলেন। এরপর তিনি বলিউডে ২০০৩ সালে অভিষেক ঘটানোর পর ‘ফ্যাশন’, ‘ডন’, ‘বাজিরাও মাস্তানি’সহ একাধিক সফল চলচ্চিত্রে অভিনয় করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন।
বর্তমানে তিনি ভারতের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাওয়া অভিনেত্রীদের একজন। ভারতীয় গণমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, মহেশ বাবুর সঙ্গে আসন্ন সিনেমার জন্য তিনি প্রায় ৩০ কোটি রুপি পারিশ্রমিক নিচ্ছেন। এছাড়া আন্তর্জাতিক সিরিজ ‘সিটাডেল’-এ অভিনয়ের জন্য প্রায় ৪১ কোটি রুপি পারিশ্রমিক পেয়েছেন বলেও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

অভিনয়ের বাইরেও ব্যবসায়ী হিসেবে সাফল্য অর্জন করেছেন প্রিয়াঙ্কা। গয়না, প্রসাধনী ও ফ্যাশন ব্র্যান্ডের শুভেচ্ছাদূত হওয়ার পাশাপাশি ২০২১ সালে তিনি নিজের হেয়ার কেয়ার ব্র্যান্ড চালু করেন। এছাড়া ডেটিং অ্যাপ, জুতার ব্র্যান্ড এবং খাদ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক বিভিন্ন স্টার্টআপে তার বিনিয়োগ রয়েছে।
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৫৮৩ কোটি রুপি। অন্যদিকে, নিক জোনাসের সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৬৬৬ কোটি রুপি। ফলে তাদের সম্মিলিত সম্পদের একটি বড় অংশের মালিক তিনিও। ২০১৯ সালে লস অ্যাঞ্জেলেসে প্রায় ২০০ লাখ মার্কিন ডলার ব্যয়ে একটি বিলাসবহুল প্রাসাদ কিনেছিলেন প্রিয়াঙ্কা ও নিক। প্রায় ২০ হাজার বর্গফুট জায়গাজুড়ে নির্মিত এই বাড়িতে রয়েছে আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দম্পতির বিপুল সম্পদের বড় অংশই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের ফল।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) নবীন শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে এবং সেইসঙ্গে তাদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে একটি বিশেষ ‘গ্রুমিং সেশন’ অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা চলবে আগামী ২১ জুলাই পর্যন্ত।
এই বিশেষ সেশনে প্রতিদিন ৪টি গ্রুপে শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করবেন।
শনিবার (১৮ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩য় একাডেমিক ভবনের অডিটরিয়ামে এ সেশনের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম। এ সেশন পরিচালনা করেন বাংলাদেশে ইউএনডিপির যোগাযোগ প্রধান মো. আব্দুল কাইয়ুম, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মনির মোর্শেদ এবং শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. ফজলুল করীম প্রমুখ।
গ্রুমিং সেশনে নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক আলোচনায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম বলেন, “উচ্চশিক্ষার বৈশ্বিক চ্যালেঞ্চ মোকাবিলায় কেবল পাঠ্যবইয়ের পড়াশোনা যথেষ্ট নয়, বরং গবেষণামুখী মনোভাব গড়ে তুলতে হবে।”
অধ্যাপক ড. মো. ফজলুল করীম বলেন, “কর্পোরেট এবং বাস্তব জীবনের জন্য যোগাযোগ দক্ষতা, নেতৃত্ব গুণাবলি এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতা অর্জন করতে হবে।”
প্রক্টর অধ্যাপক ড. মনির মোর্শেদ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার পাশাপাশি শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্থানীয় জুলাই যোদ্ধাদের আমন্ত্রণ না জানানো—এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফরোজা আফসানার এই অবহেলা নিয়ে শনিবার (১৮ জুলাই) বিকেল ৩টা পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত ছিল।
জানা গেছে, উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ১৬ জুলাই উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে শহিদদের স্মরণে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি উপজেলা ও পৌর বিএনপির কয়েকজন নেতাও উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সরিষাবাড়ী উপজেলা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা এবং জুলাই যোদ্ধারা প্রায় শতাধিক ব্যক্তি ফেসবুকে পোস্ট করে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তারা দাবি করেন, গণঅভ্যুত্থানে সরাসরি অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে এই আয়োজন করা হয়েছে, যা তাদের অবমূল্যায়ন করেছে। একই সঙ্গে তারা জেলা প্রশাসক, ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
কয়েকজন ছাত্রদল নেতা ও জুলাই যোদ্ধা অভিযোগ করে বলেন, জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত আন্দোলনে রাজপথে সক্রিয় থাকা ব্যক্তিদের কাউকেই ডাকানো হয়নি। তাদের দাবি, “যাদের আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের স্মরণে এই আয়োজন, সেই জুলাই যোদ্ধারাই যদি উপস্থিত না থাকেন, তাহলে এ ধরনের আলোচনা সভার উদ্দেশ্য কী?” তারা জানান, অনুষ্ঠানে একজনও প্রকৃত জুলাই যোদ্ধা ছিলেন না। তারা বিষয়টিকে জুলাই যোদ্ধাদের প্রতি অবহেলা ও অপমান হিসেবে দেখছেন।
অনেকে আবার প্রশ্ন তুলেছেন—যাদের আত্মত্যাগ ও সংগ্রামের স্মরণে এই আয়োজন, সেই জুলাই যোদ্ধারাই কেন আমন্ত্রণের বাইরে থাকা হলো? এই ঘটনার ফলে স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। এটি কি অবহেলা, নাকি পরিকল্পিতভাবে উপেক্ষা? এর দায়ভার কার—আয়োজক কমিটির, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের, নাকি অন্য কারও? এটি কি প্রশাসনিক সমন্বয়ের ঘাটতি, নাকি অন্য কোনো কারণে এমনটি ঘটেছে—এ নিয়েও আলোচনা চলছে।
এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং হস্তক্ষেপের দাবিতে আগামী রবিবার সরিষাবাড়ীতে ছাত্রনেতা ও জুলাই যোদ্ধাদের উদ্যোগে মানববন্ধনের প্রস্তুতি রয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা চলছে।
অভিযুক্ত বিষয় সম্পর্কে সরিষাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজা আফসানা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সকলকে জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানের আগের দিন এ বিষয়ে সভাও অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে শুক্রবার দুপুর ২টা ৩১ মিনিটে জামালপুর জেলা প্রশাসকের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
তবে ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার এস. এম. হুমায়ুন কবির সরকার এই প্রতিবেদককে মাসুদুর রহমানের মাধ্যমে মুঠোফোনে বলেন, বিষয়টি আমরা দেখব। কেন হয়েছে, কীভাবে হয়েছে—সেটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দক্ষিণ নরওয়ের ড্রামেন শহরের পাশে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের কারণে ১০০টিরও বেশি বাড়িঘর পুড়ে গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য শত শত মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়েছে। পুলিশ জানায়, শুক্রবার (১৭ জুলাই) স্থানীয় সময় বিকালে শহরের একটি ‘টাউনহাউস’(সারিবদ্ধ বাড়ি) থেকে আগুনের শুরু হয়।
এরপর মুহূর্তের মধ্যে আগুন আশপাশের এলাকা ও পার্শ্ববর্তী বনাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে দমকলকর্মীরা তাদের প্রচেষ্টা চালিয়ে যান। এই সময়, ৬০ জনেরও বেশি দমকলকর্মী আগুন নেভানোর কাজে নিযুক্ত ছিলেন এবং হেলিকপ্টারের সাহায্যে পানি ছিটিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টা চলছিল।
অগ্নিকাণ্ডের কারণে জ্বলতে থাকা অবস্থায় এবং আগুন পার্শ্ববর্তী বনাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ায় পুলিশ শত শত মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়। এ ঘটনায় কোনো বাসিন্দার নিখোঁজ হওয়ার খবর জানা যায়নি। আগুনের সৃষ্টির কারণ কী ছিল, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা সম্ভব হয়নি।
দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনআরকে জানিয়েছে, বর্তমানে শত শত মানুষ একটি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। উল্লেখ্য, ড্রামেন শহরটি অসলো থেকে প্রায় ৩৪ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ