০৪:০৬ পি.এম
জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট ক্ষতির কারণে কোম্পানিগুলোকে দায়ী করে মামলা ঠেকাতে নিউজিল্যান্ডে একটি বিতর্কিত আইন পাস করা হয়েছে।
ডানপন্থি জোট সরকারের পক্ষ থেকে এই বিলটি মঙ্গলবার রাতে পার্লামেন্টে ৬৭-৫৩ ভোটে চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে। ওয়েলিংটন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেওয়ানি মামলার মাধ্যমে যেন তারা জলবায়ু নীতি বাধাগ্রস্ত না হয় এবং ব্যবসায়ীদের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটিই এ আইনের লক্ষ্য।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-জাপান চুক্তি: ২০২৭ সালের এপ্রিল থেকে শুরু হবে পাঁচ বছর মেয়াদি কর্মসংস্থান চুক্তি
জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত পরিবেশগত ক্ষতিতে ভূমিকা রাখার অভিযোগে নিউজিল্যান্ডের ছয়টি বড় কোম্পানির বিরুদ্ধে আদিবাসী মাওরি জলবায়ু অধিকারকর্মী মাইকেল স্মিথের করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে এই আইনটি তৈরি করা হয়েছে। আইন কার্যকর হওয়ার ফলে স্মিথের আইনি লড়াই কার্যত শেষ হয়ে গেছে। জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম আরএনজেডকে স্মিথ জানিয়েছেন, এটি ‘গণতন্ত্রের জন্য একটি কালো দিন’ বলে বিবেচনা করছেন।
তিনি মন্তব্য করেন, ‘যদি পার্লামেন্ট চলমান কোনো মামলা বাতিল করতে পারে, তাহলে কোনো আইনি দাবিই আর নিরাপদ নয়। রাজনৈতিকভাবে অসুবিধাজনক হয়ে উঠলেই তা বাতিল করা সম্ভব।’ স্মিথের মামলায় নিউজিল্যান্ডের কয়েকটি সবচেয়ে বড় ও পরিচিত কোম্পানি আসামি হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে দুগ্ধ খাতের বৃহৎ প্রতিষ্ঠান ফনটেরা।
বিরোধী গ্রিন পার্টির আইনপ্রণেতা স্টিভ এবেল পার্লামেন্টে বলেন, জনস্বার্থের বিরুদ্ধে ‘ইচ্ছাকৃতভাবে’ এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। আইনমন্ত্রী পল গোল্ডস্মিথ জানিয়েছেন, নতুন আইন জলবায়ু সংক্রান্ত দায়িত্বের বিষয়ে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নিশ্চয়তা দেবে।
গোল্ডস্মিথ বলেন, ‘হাইকোর্টে চলমান মামলায় একজন আবেদনকারী গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণের জন্য ছয়টি বড় প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দেওয়ানি মামলা করেছেন। এ মামলার ফলে একটি নতুন ব্যবস্থা তৈরির ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, যা পার্লামেন্ট ইতোমধ্যে প্রণয়ন করা কাঠামোর সঙ্গে সাংঘর্ষিক।’
আরও পড়ুন: হাসনাত আবদুল্লাহর অভিযোগ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যর্থতার শিকার প্রতিমন্ত্রী ইশরাক
তিনি এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, ‘এটি ব্যবসার আস্থা ও বিনিয়োগে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে।’ জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট ক্ষতির দাবি নিষ্পত্তির জন্য আদালতকেই উপযুক্ত স্থান নয় বলেও মন্তব্য করেছেন। তার মতে, এতে ‘জটিল পরিবেশগত, অর্থনৈতিক ও সামাজিক নানা বিষয়’ জড়িত।
তিনি বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় আমাদের পদক্ষেপ জাতীয় পর্যায়ে সরকারের মাধ্যমে পরিচালনার মাধ্যমেই সবচেয়ে ভালোভাবে সম্পন্ন হবে। আদালতে খণ্ড খণ্ড মামলা করে এর সমাধান করা উচিত নয়।’ গত মাসে একটি স্বাধীন জলবায়ু পরামর্শক সংস্থা সতর্ক করেছে যে, সরকারের নীতির কারণে নিউজিল্যান্ড নির্ধারিত নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হতে পারে।
আইন করে ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ক্লাইমেট চেঞ্জ কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, প্রধানমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লাক্সনের সরকার ২০২৫ সালে নিঃসরণ কমানোর বিষয়ে কমিশনের পরামর্শকে উপেক্ষা করেছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়ে থাকে, ‘পথ পরিবর্তনের সুযোগ এখন খুবই সীমিত।’
কমিশন সতর্ক করে বলেছে, কৃষিকে নিঃসরণমূল্য নির্ধারণের আওতার বাইরে রাখা, পরিবেশবান্ধব যানবাহনের নিয়মে পরিবর্তন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য প্রতিবেদন দেওয়ার বাধ্যবাধকতা কমানো এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির অবকাঠামো স্থাপনের পরিকল্পনার কারণে অন্যান্য খাতে নিঃসরণ কমলেও সামগ্রিকভাবে তা বেড়ে যেতে পারে।
আরও পড়ুন: সীতাকুণ্ডে ইয়াবা কারবারিদের ধরে টাকা নিয়ে ছেড়ে দেয় পুলিশ, থানার ক্যাশিয়ার নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন
কমিশনের প্রধান নির্বাহী জো হেন্ডি বলেছেন, এসব তথ্য ‘স্পষ্ট সতর্কবার্তা।’ তিনি আরও বলেন, ‘নিঃসরণ ধীরে ধীরে কমছে। তবে ২০২৪ সালে অগ্রগতি থেমে গেছে। বর্তমান নীতিগুলো প্রয়োজনীয় গতিতে কাজ করছে না।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন