বৃহস্পতিবার, ২৫শে জুন, ২০২৬ ইং
০৭:৫১ পি.এম
নামাজ ইসলামের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিধান। কেয়ামতের দিন প্রথম যার হিসেব নেয়া হবে, সেটি হল নামাজ। এটি আদায়ের জন্য রয়েছে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা। এসব নীতিমালা মেনে আদায় না করলে নামাজ কবুল হবে না।
অনেকে জানতে চান, শেষ বৈঠক না করে দাঁড়িয়ে গেলে করণীয় কী?
এর উত্তরে ফুকাহায়ে কেরাম বলেন, বৈঠক বা হাঁটুগেড়ে বসা নামাজের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। দুই রাকাতের নামাজের শেষে বৈঠক করা ফরজ, আর চার রাকাত ও তিন রাকাতের নামাজের প্রথম দুই রাকাতের পর বৈঠক করা ওয়াজিব এবং শেষ বৈঠক ফরজ। নামাজের প্রথম বৈঠকে তাশাহুদ পড়া ওয়াজিব, অপরদিকে শেষ বৈঠকে তাশাহুদ, দরুদ ও দোয়ায়ে মাসুরা পড়া সুন্নত।
যে কোনো ফরজ নামাজে যদি কেউ শেষ বৈঠক না করে তৃতীয়, চতুর্থ বা পঞ্চম রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে যায়, সে ক্ষেত্রে যেমন, ফজরের নামাজে দ্বিতীয় রাকাতের পর বৈঠক না করে তৃতীয় রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে যাওয়াটা, মাগরিবের নামাজে তৃতীয় নামাজের পর বৈঠক না করে চতুর্থ রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে যাওয়া অথবা জোহর, আসর ও ইশার নামাজে চতুর্থ রাকাতের পর বৈঠক না করে পঞ্চম রাকাতের জন্য দাঁড়িয়ে যাওয়ার মতো কার্যক্রম, সেক্ষেত্রে সিজদায় যাওয়ার আগ পর্যন্ত যদি কেউ ভুল বুঝতে পারে, তাহলে তার করণীয় হবে ওই অবস্থান থেকে বৈঠকে ফিরে আসা এবং এই ভুলের কারণে সাহু সিজদার মাধ্যমে নামাজ শেষ করা।
যদি কেউ অতিরিক্ত রাকাতের সিজদা করে ফেলানোর আগে ভুল বুঝতে না পারে, তাহলে সাহু সিজদার মাধ্যমে ওই ভুলের প্রতিকার করা সম্ভব নয়। এ ধরনের ক্ষেত্রে ওই নামাজটি নফল হিসেবে আদায় হবে। সিজদায় গিয়ে বা সিজদার পর ভুল বুঝতে পারার মতো হলে, নামাজের করণীয় হচ্ছে যথা নিয়মে শেষ বৈঠকের মাধ্যমে ওই নামাজ নফল হিসেবে শেষ করা এবং ফরজ নামাজটি নতুনভাবে আদায় করা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নরসিংদীতে ট্রেনে কাটা পড়ে এক অজ্ঞাতপরিচয় বৃদ্ধা (৬৫) মারা গেছেন।
প্রতিনিধি জানিয়েছে যে, বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বিকেল ৪টার দিকে নরসিংদী শহরের বাসাইল রেলগেট এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বৃদ্ধার হাতে দুই প্যাকেট কাঁচা মাংস ও কিছু কাঁচা আম ছিল। সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বৃদ্ধার পরিচয় শনাক্ত করা যায়নি।
এ বিষয়ে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি কোথাও বেড়াতে বা আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার পথে ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বিশ্বকাপে কুরাসাও জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান চিকিৎসকের দায়িত্ব পালন করে একটি অনন্য ইতিহাস গড়েছেন ড. সুজান হুরম্যান।
ড. সুজান চলমান বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া দলের মধ্যে প্রধান চিকিৎসক হিসেবে নারী হিসেবে রয়েছেন। ফুটবল সংস্কৃতির পুরুষতান্ত্রিক প্রতিবন্ধকতা ভেঙে তিনি একটি অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৯৬ বছরের ইতিহাসে তিনি তৃতীয় নারী চিকিৎসক যিনি এ বিশ্ব আসরে দায়িত্ব পালন করছেন।
কুরাসাও জনসংখ্যা ও আয়তনের দিক থেকে বিশ্বকাপের ইতিহাসে স্থান করে নেওয়া সবচেয়ে ছোট দেশ। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ড ফুটবল দলের প্রথম নারী প্রধান চিকিৎসক ডা. সেলেস্তে গিয়ার্টসেমা ছিলেন। অন্যদিকে, ডা. সিলজা শোয়ার্জ ২০২৩ সাল থেকে জার্মানি পুরুষ দলের চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ফিফা ডা. সুজানকে জানিয়েছিল যে তিনি চলতি বিশ্বকাপে একমাত্র নারী চিকিৎসক, তবে বিষয়টি তিনি গুরুত্ব দেননি। ফুটবলে নারীর প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর চ্যালেঞ্জ, সুযোগ এবং প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিবিসিকে হুরম্যান বলেন, 'শুরুতে আমি বুঝতে পারিনি, কারণ এতগুলো দলে একজন নারী হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু আমি আশা করি শীঘ্রই আরো বেশি নারীকে দেখতে পাব, কারণ এমন অনেক সক্ষম নারী রয়েছেন যারা পুরুষ ফুটবলারদের চিকিৎসক হিসেবে কাজ করতে পারবেন।'
কুরাসাও ফুটবল ফেডারেশনের খেলোয়াড় এবং স্টাফসহ পুরো ৪৯ জনের বহরে তিনিই একমাত্র নারী। ৩৬ বছর বয়সী এই চিকিৎসক, যিনি ব্রাজিলীয় বংশোদ্ভূত ও ডাচ নাগরিক, এর আগে রিয়াল মাদ্রিদ, পিএসভি আইন্দহোভেন এবং গো অ্যাহেড ইগলসের মতো নামি ক্লাবে কাজ করেছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মালয়েশিয়ার সারাওয়াক রাজ্যের কাপিত ম্যাজিস্ট্রেট আদালত একটি বাংলাদেশি নির্মাণ শ্রমিককে সহকর্মীকে মারধর এবং হত্যার হুমকি দেয়ার দায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেছেন।
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, আদালত সূত্রে পাওয়া তথ্য জানাচ্ছে, ৩১ বছর বয়সী বাংলাদেশি শ্রমিক জামান গত ২৪ মে কাপিত এলাকার একটি জলবিদ্যুৎ বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের ক্যাম্পে এক স্বদেশী সহকর্মীকে ওপর হামলা করেন এবং তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। পরবর্তীতে তিনি আদালতে ম্যাজিস্ট্রেট রোমারিও জোনইয়ের সামনে নিজের অপরাধ স্বীকার করেন।
আদালত দুটি পৃথক অপরাধের জন্য তাকে তিন মাস করে মোট ছয় মাসের কারাদণ্ড প্রদান করেছেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত ২৪ মে রাতের প্রায় ৯টা ১২ মিনিটে প্রকল্পের ক্যাম্প সাইটে অভিযুক্ত জামান ও তার সহকর্মীর মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে জামান ভুক্তভোগীর ডান চোখে ঘুষি মারেন, ফলে তিনি গুরুতর আহত হন। একই সময় তিনি প্রকাশ্যে ওই শ্রমিককে হত্যার হুমকি দেন, যা ঘটনাস্থলে উপস্থিত আরেক শ্রমিক শুনে ফেলেন।
তদন্তের সময় জানা যায়, কাজে অনিয়ম এবং মদ্যপান নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, জামান নিয়মিত মদ্যপান করেন এবং কাজে অবহেলা করেন। এ বিষয়ে সহকর্মী তাকে সতর্ক করে এবং তিরস্কার করলে জামান ক্ষিপ্ত হয়ে হামলা চালান।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষ থেকে প্রসিকিউটিং অফিসার এএসপি চ্যাং কোক সিয়ং শুনানি পরিচালনা করেন। তবে শুনানির সময় অভিযুক্ত জামানের পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি গ্যালারির একজন সমর্থককে ঘিরে এখন ফুটবল বিশ্বের বিশাল আলোচনা চলছে। তিনি তুরস্কের সমর্থক নেচদেত ওলচেরমান, যিনি ‘উদি নেকো’ নামেই পরিচিত। বিশ্বকাপের একটি ম্যাচে তার অদ্ভুত সাজসজ্জার কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে।
গত ১৪ জুন কানাডার ভ্যাঙ্কুভারে অনুষ্ঠিত তুরস্ক এবং অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচ চলাকালে টেলিভিশন ক্যামেরায় তার অভিনব উপস্থিতি ধরা পড়ে। মুখজুড়ে কালো রঙ, সাদা রঙে রাঙানো চুল ও দাড়ি এবং চোখে সাদা লেন্স তাকে দেখে অনেক দর্শক প্রথমে বিস্মিত হয়ে যান। এর কয়েক মুহূর্তের মধ্যে তার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
পরে জানা যায়, তার সাজ শুধুমাত্র দর্শকদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য ছিল না। হাঙ্গেরিয়ান গণমাধ্যম টেলেক্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তুরস্কের জনপ্রিয় ক্লাব বেসিকতাসের ঐতিহ্যবাহী কালো-সাদা রঙের প্রতি সম্মান জানাতেই তিনি এই বিশেষ রূপ ধারণ করেছিলেন। একই সঙ্গে, এটি ‘ব্ল্যাক বুল’ বা কালো ষাঁড়ের শক্তি, ধৈর্য ও অদম্য মানসিকতারও প্রতীক হিসেবে ধরা হচ্ছে।
দীর্ঘ সময় ধরে তুরস্ক জাতীয় দল এবং বেসিকতাসের নিবেদিতপ্রাণ একজন সমর্থক হিসেবে পরিচিত নেচদেত ওলচেরমান। দেশের প্রায় সব গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক এবং ক্লাব ফুটবল ম্যাচেই তাকে গ্যালারিতে উপস্থিত দেখা যায়। তার ফুটবলপ্রেম এতটাই গভীর যে বেসিকতাস ক্লাবের পক্ষ থেকে তিনি একাধিকবার সম্মাননা পেয়েছেন বলেও জানা গেছে।
‘উদি নেকো’ নামটির পেছনেও রয়েছে বিশেষ গুরুত্ব। ‘নেকো’ এসেছে তার নাম নেচদেতের সংক্ষিপ্ত রূপ থেকে, এবং ‘উদি’ শব্দটি তুরস্কের ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র ‘উদ’ এর সঙ্গে একটি সাংস্কৃতিক পরিচয়ের ইঙ্গিত বহন করে।
ফুটবল অঙ্গনের পরিচিত মুখ হলেও তিনি পেশাগত জীবনে একজন সফল জুয়েলারি ব্যবসায়ী। অতীতে তুরস্কের জেন্ডারমেরি বাহিনীর সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততা ছিল বলে বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু গ্যালারিতে উপস্থিত হলে তিনি যেন সম্পূর্ণ ভিন্ন এক চরিত্রে রূপান্তরিত হন, যা তাকে অন্য সমর্থকদের থেকে আলাদা করে তোলে।
অন্যদিকে, বিশ্বকাপে তুরস্কের পারফরম্যান্স খুবই হতাশাজনক হয়েছে। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে তারা অস্ট্রেলিয়ার কাছে ২-০ গোলে ও পরবর্তী ম্যাচে প্যারাগুয়ের কাছে ১-০ গোলে পরাজিত হয়েছে, ফলে দলের বিদায় প্রায় নিশ্চিত হয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে তাদের শেষ ম্যাচটি এখন অনেকটাই নিয়মরক্ষার বিষয়।
তবে দল যখন ব্যর্থতার দিকে যাচ্ছে, তখনো বিশ্বকাপের গ্যালারিতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ভাইরাল সমর্থক ‘উদি নেকো’, যার অদ্ভুত সাজ এবং অনন্য ফুটবলপ্রেম অসংখ্য দর্শককে মুগ্ধ করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ