০২:০৩ পি.এম
ক্রিপ্টোকারেন্সি এক্সচেঞ্জ বাইন্যান্স থেকে গ্রাহকরা ৩৬০ কোটি ডলারের বেশি অর্থ তুলে নিয়েছেন। ৬৩০ কোটি ডলারের ডিজিটাল সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর রোববার (১ নভেম্বর) লেনদেন পুনরায় চালু হলে তারা এই অর্থ উত্তোলন করেন।
সাইবার হামলার পর নিরাপত্তার স্বার্থে বাইন্যান্স সব ধরনের লেনদেন বন্ধ করে দিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআইসহ একাধিক সংস্থা এই সাইবার হামলার জন্য উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করেছে।
বাইন্যান্স জানিয়েছে, চুরি হওয়া সম্পদের প্রায় ৯৫ শতাংশের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে বাকি অর্থের সংস্থান করতে আরও সময় লাগতে পারে। হামলায় গ্রাহকদের যে পরিমাণ আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, তার পুরোটাই বহনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
আরও পড়ুন: মধ্যপ্রাচ্যে নতুন যুদ্ধ প্রতিরোধে সমঝোতার আহ্বান জানালো মিসর
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বাইন্যান্স জানায়, ১ নভেম্বর সকাল ৬টা থেকে বিকেল ৩টা ৩০ মিনিট (জিএমটি) পর্যন্ত গ্রাহকরা ৪৬৪ কোটি ৯০ লাখ ডলারের সম্পদ তুলে নিয়েছেন। একই সময়ে জমা পড়েছে ১০১ কোটি ডলার। ফলে নিট অর্থ উত্তোলনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩৬৪ কোটি ডলার।
প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, লেনদেন চালুর পরপরই অর্থ উত্তোলনের পরিমাণ বেড়ে যায়। তবে পরে তা কমে আসে এবং পরিস্থিতি প্রত্যাশা অনুযায়ী স্থিতিশীল হচ্ছে। বাইন্যান্সের ব্যবস্থাপনায় থাকা মোট ১৭ হাজার ১০০ কোটি ডলারের সম্পদের তুলনায় এই নিট উত্তোলনের পরিমাণ ২ শতাংশের কিছু বেশি।
এর আগে গত সপ্তাহে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছিল, হামলার ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় তাদের কাছে ৬৩০ কোটি ডলারের বেশি তহবিল সংরক্ষিত রয়েছে।
বাইন্যান্স আরও জানিয়েছে, বিটকয়েন ও ইথেরিয়ামসহ দুই ডজনের বেশি প্রধান ক্রিপ্টোকারেন্সির উত্তোলন আবার চালু হয়েছে। নিরাপত্তা যাচাই শেষ হলে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য সেবাও চালু করা হবে।
আরও পড়ুন: ইরানে ফের হামলা হলে ক্ষেপণাস্ত্রের নিশানায় আসতে পারে ইউরোপ
হামলার জন্য উত্তর কোরিয়ার সাইবার অপরাধী গোষ্ঠী ট্রেডারট্রেইটরকে দায়ী করা হচ্ছে। গোষ্ঠীটি লাজারাস গ্রুপ নামেও পরিচিত। ২০২৫ সালে ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ বাইবিট থেকে রেকর্ড ১৫০ কোটি ডলারের সম্পদ চুরির অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে।
গত শনিবার এফবিআই ওই গোষ্ঠীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বেশ কয়েকটি ক্রিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেটের ঠিকানা প্রকাশ করে। এসব ঠিকানার সঙ্গে যুক্ত লেনদেন বন্ধ করতে ক্রিপ্টো খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর সহযোগিতাও চেয়েছে সংস্থাটি।
বাইন্যান্সের প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, একজন প্রকৌশলীর ল্যাপটপ হ্যাক হওয়ার মধ্য দিয়ে ঘটনার সূত্রপাত। ওই ল্যাপটপের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার পর হ্যাকাররা অননুমোদিত লেনদেনের সুযোগ তৈরি করে।
এই হামলায় বিন্যান্সের বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম Binance.com ক্ষতিগ্রস্ত হলেও যুক্তরাষ্ট্রের গ্রাহকদের জন্য পরিচালিত প্ল্যাটফর্মটি আক্রান্ত হয়নি বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
আরও পড়ুন: পশ্চিম তীরে দরজা ভেঙে ফিলিস্তিনিদের আরও আটটি বাড়ি দখল
চুরি হওয়া সম্পদের ক্ষতিপূরণ দিতে বাইন্যান্স তাদের করপোরেট তহবিল, ফিউচার্স ইন্স্যুরেন্স এবং জরুরি রিজার্ভ ব্যবহার করেছে। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, হামলার কারণে গ্রাহকদের আর্থিক ক্ষতির পুরো দায় তারা বহন করবে।
চীনে প্রতিষ্ঠিত বাইন্যান্স বর্তমানে বিশ্বজুড়ে কয়েকশ মিলিয়ন নিবন্ধিত ব্যবহারকারী নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন