০১:৫৬ পি.এম
যুদ্ধের শুরুতেই অনেকেই মনে করেছিলেন, এবার হয়তো ইরানের গল্প শেষ হতে যাচ্ছে। রাজধানী তেহরানের আকাশে একের পর এক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটছে। ধোঁয়ায় ঢাকা পড়ছে ভবনগুলো। জরুরি সাইরেনের শব্দ গুঞ্জরিত হচ্ছে। আর এই অবস্থার মধ্যেই আসতে থাকে একের পর এক খবর। যা শোকে স্তব্ধ করে দেয় ইরানসহ বিশ্বের অসংখ্য মানুষকে।
যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে লক্ষ্য রাখা হয়েছে শুধু ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটিগুলি নয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরান শুধু সামরিক স্থাপনাই নয়, বরং দেশের নেতৃত্বের কেন্দ্রেও বড় আঘাত এসেছে। নিশানায় ছিলেন ইরানের সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তিরা। সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি থেকে শুরু করে সামরিক প্রধান, গোয়েন্দামন্ত্রী, নিরাপত্তা উপদেষ্টা এক এক করে ঝরে পড়েছেন তেহরানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুখগুলো। কিন্তু এত বড় ধাক্কা সত্ত্বেও ইরান যুদ্ধ চালিয়ে গেছে।
যুদ্ধের প্রথম দিনেই নিহত হয়েছিলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। ১৯৮৯ সাল থেকে দেশের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা খামেনি তেহরানে নিজ বাসভবনে এক বৈঠকের সময় বিমান হামলার শিকার হন। সেই হামলায় তাঁর পরিবারের কয়েকজন সদস্যও প্রাণ হারান। যদিও আহত অবস্থায় বেঁচে যান তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনি। পরবর্তীতে তিনিই দেশের নতুন সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব নেন।
আরও পড়ুন: কংগ্রেসকে পরজীবী ও রাহুলকে ব্যর্থ পণ্য আখ্যা দিলেন নরেন্দ্র মোদি
এরপর একটি বড় ধাক্কা আসে নিরাপত্তা প্রধান আলী লারিজনির মৃত্যুতে। দীর্ঘদিন ধরে ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত এই নেতা মার্চে ইসরায়েলি হামলায় পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মারা যান। অনেক বিশ্লেষকের মতভেদ হলো, খামেনির পর তাঁর মৃত্যু ছিল ইরানের জন্য সবচেয়ে বড় ক্ষতি।
এদিকে যুদ্ধের প্রথম দিনেই প্রাণ হারান ইসলামি বিপ্লবী গার্ডস আইআরজিসির প্রধান মোহাম্মদ পাকপুর। যুদ্ধের মাত্র কয়েক মাস আগে তিনি এই দায়িত্ব পান। একই দিনে নিহত হন সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আবদুর রহিম মুসাভি। তিনি নিয়োজিত ছিলেন আইআরজিসি ও নিয়মিত সেনাবাহিনীর মধ্যে সমন্বয়কের দায়িত্বে। পূর্বসূরির মোহাম্মদ বাঘেরি যে পদে ছিলেন, সেখানেও যোগ দেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহ, সামরিক কার্যালয়ের প্রধান মোহাম্মদ শিরাজি এবং প্রথম দিনের হামলায় আরও নিহত হন।
শুধু তা নয়, যুদ্ধে ইরান হারিয়েছে সশস্ত্র বাহিনীর অন্যতম প্রধান ভরসা আলী শামখানিকে। তেহরানের তাজরিখ স্কয়ারে অনুষ্ঠিত হয় তার জানাজা। হামলায় প্রাণ হারান নৌপ্রধান আলিরেজা তাংসিরি, যাকে হরমুজ প্রণালিতে মাইন স্থাপন ও তা অবরোধ করার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিহিত করা হয়।
গোয়েন্দামন্ত্রী ইসমাইল খাতিব, আধা সামরিক বাহিনী 'বাসিজ'-এর প্রধান গোলামরেজা সুলেইমানি এবং আইআরজিসির মুখপাত্র আলী মোহাম্মদ নাইনি সবাই প্রাণ হারিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের বর্বরোচিত হামলার কারণে। যেখানে মৃত্যুর ঠিক আগেও মোহাম্মদ নাইনি জানিয়েছিলেন, যুদ্ধ চললেও বন্ধ হয়নি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন। এপ্রিলের শুরুতে নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ৫০ জনেরও বেশি শীর্ষ ইরানি নেতা নিহত হয়েছেন।
আরও পড়ুন: পাকিস্তানের গোয়াদরে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে নিহত ৩ সন্ত্রাসী
এত বড় ধাক্কা সত্ত্বেও মধ্যপ্রাচ্যের সিংহখ্যাত ইরান ভেঙে পড়েনি। বরং দ্রুত নতুন নেতৃত্ব গড়ে তুলে যুদ্ধ চালিয়ে গেছে। অনেকের প্রত্যাশা ছিল, এই হামলার মধ্য দিয়েই হয়তো পতন ঘটবে তেহরানের শাসনব্যবস্থার। তবে বাস্তবে ঘটেছে উল্টোটা। যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে ঘোল খাইয়ে সমঝোতা আদায় করেছে ইরান।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন