ঢাকা রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ১৮ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নেতানিয়াহুর বিপদের মুখে দ্বন্দ্বে ট্রাম্প!


নেতানিয়াহুর বিপদের মুখে দ্বন্দ্বে ট্রাম্প!

এক সময় তারা যেন একই মুদ্রার দুই পিঠ ছিলেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু একসঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেছিলেন। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার সময় তাদের বিশ্বাস ছিল যে, তেহরানের শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়বে এবং সেই বিজয়ের ঢেউ ইসরায়েলের রাজনীতিতে নতুন শক্তি নিয়ে আসবে। কিন্তু কয়েক মাসের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর এখন পরিস্থিতি বিপরীত হয়ে গেছে।

যে যুদ্ধটি নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ আরও শক্তিশালী করার কথিত ছিল, সেটিই এখন নতুন সংকটের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। অন্যদিকে, ইসরায়েল মনে করছে, যুদ্ধের ঘোষিত লক্ষ্যগুলোর কোনোটিই পুরোপুরি অর্জিত হয়নি। বার্তাসংস্থা রয়টার্স-এর প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ পেয়েছে।

ইসরায়েলি কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে খুব সতর্ক ভাষায় কথা বলছেন। কারণ, তারা ট্রাম্পের সঙ্গে প্রকাশ্য বিরোধে জড়াতে চান না। তবে আড়ালে আলোচনার বিষয় সম্পূর্ণ ভিন্ন। কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মনে করছেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রাথমিক সমঝোতা ইসরায়েলের জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক।

আরও পড়ুন: ইউজিসির দুই বছরের মধ্যে সব বিশ্ববিদ্যালয়কে ডিজিটাল নেটওয়ার্কে আনার পরিকল্পনা

মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের তথ্য অনুযায়ী, এই সমঝোতায় লেবাননসহ সকল ফ্রন্টে সামরিক অভিযান বন্ধের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল। আর এই স্থানেই তেল আবিবের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কারণ, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান থামানোর কোনও আগ্রহ ইসরায়েলের নেই। বরং দক্ষিণ লেবাননের সামরিক উপস্থিতি ধরে রাখতে চায় দেশটি। এ নিয়েই ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে কয়েক দফা মতবিরোধ হয়েছে। এক পর্যায়ে বৈরুতে হামলা ঠেকানোর চেষ্টা করতে গিয়ে ট্রাম্প reportedly নেতানিয়াহুকে ‘পুরোপুরি পাগল’ বলেছিলেন। যদিও পরে নেতানিয়াহু আবার লেবাননে হামলার নির্দেশ দেন। এর পর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।

অবশেষে, নেতানিয়াহু স্বীকার করেছেন যে, তাঁর ও ট্রাম্পের মধ্যে সব সময় মতের মিল হয় না। তাঁর ভাষ্যে, অনেক বিষয়ে দুই নেতা একমত হলেও এমন সময় আসে, যখন মতপার্থক্য তৈরি হয়। এবং তাঁর প্রথম দায়িত্ব হলো ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

এরই মধ্যে আগামী অক্টোবরে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচন সামনে চলে এসেছে। জনমত জরিপগুলো নেতানিয়াহুর জন্য সুখবর দিচ্ছে না। আরও বড় বিষয় হলো, ইসরায়েলিদের একাংশের মধ্যেও ট্রাম্পের প্রতি আস্থা কমতে শুরু করেছে। এক সময় ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে নিজের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে তুলে ধরতেন নেতানিয়াহু। কিন্তু আজ সেই সম্পর্কই যেন নতুন প্রশ্নের মুখোমুখি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নেতানিয়াহুর সবচেয়ে বড় আশা হয়তো একটাই। সেটি হলো, এই সমঝোতা ব্যর্থ হবে এবং কয়েক মাসের মধ্যে পরিস্থিতি আবার পাল্টে যাবে। কারণ, বর্তমান পরিস্থিতিতে ট্রাম্প ও তেহরানের কাছে চলে আসা ইসরায়েলের জন্য এক নতুন বাস্তবতার জন্ম দিয়েছে।

আরও পড়ুন: ইয়েমেনে সংঘাতের কারণে ২ লাখ ৩০ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর
প্রধানমন্ত্রীর সফর

বাংলাদেশ চীনকে বিনিয়োগের জন্য আহ্বান জানাবে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

০২:০৪ পি.এম


বাংলাদেশ চীনকে বিনিয়োগের জন্য আহ্বান জানাবে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে

আসন্ন চীন সফরে বাংলাদেশ নতুন করে বড় ধরনের বিনিয়োগের আহ্বান জানাবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম। সফরটির মাধ্যমে ঢাকা দুইটি চুক্তি এবং ১৩টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের আশা করছে। এ তথ্যটি শনিবার (২০ জুন) সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন তিনি।

পররাষ্ট্রসচিব আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সফরের উদ্দেশ্য হল বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে, অবকাঠামো উন্নয়ন করা এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার লক্ষ্যে চীনের বিনিয়োগকারীদের বিশেষ অনুরোধ জানানো হবে বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য। চীনের রাষ্ট্রপতি শি চিনপিংয়ের গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভগুলোকেও সরকারের পক্ষ থেকে স্বাগত জানানো হয়েছে ঢাকা থেকে।

এছাড়া, সফরের পরেই অংশ নেওয়ার বিষয়ে জানানো সম্ভব হবে বলেও উল্লেখ করেছেন সচিব। আরও একটি তথ্য রয়েছে যে, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে ২১ থেকে ২২ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কুয়ালালামপুর সফর করবেন। প্রধানমন্ত্রী রবিবার মালয়েশিয়া সফরে যাবেন। তিনি জানান, মালয়েশিয়া সফরের সময় দেশটির শ্রমবাজারে বাংলাদেশি শ্রমিকদের প্রবেশ সহজ করার চেষ্টা করা হবে। তবে সিদ্ধান্ত আসবে মালয়েশিয়ার নিজস্ব রিভিউ শেষ হলে।

এ ছাড়া, আসিয়ানের সদস্য হওয়ার জন্য বাংলাদেশকে সমর্থন দেওয়ার জন্য মালয়েশিয়াকে অনুরোধ জানানো হবে বলেও জানিয়েছেন পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়ায় দেশটির প্রধানমন্ত্রী এবং রাজার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। পাশাপাশি মালয়েশিয়ার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বৈঠকেরও পরিকল্পনা রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চীন নির্মাণ করছে বিশ্বের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ বাঁধ, ভারতেও এগোচ্ছে পাল্টা প্রকল্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

০২:০৬ পি.এম


চীন নির্মাণ করছে বিশ্বের বৃহত্তম জলবিদ্যুৎ বাঁধ, ভারতেও এগোচ্ছে পাল্টা প্রকল্প

চীন আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎ বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু করেছে। এই প্রকল্পটি তিব্বতের ইয়ারলুং সাংপো নদীর নিম্ন অংশে গড়ে তোলা হচ্ছে।

ভারতের অরুণাচল প্রদেশ সীমান্ত থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দূরে এর অবস্থান। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি চীনের অন্যতম বড় অবকাঠামো প্রকল্প হতে যাচ্ছে।

চীনের এই প্রকল্পের পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে ভারতও একটি বৃহৎ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এগিয়ে নিচ্ছে। যার নাম সিয়াং আপার মাল্টিপারপাস প্রজেক্ট (এসইউএমপি)।

এই প্রকল্পটি অরুণাচল প্রদেশের আপার সিয়াং ও সিয়াং জেলায় সিয়াং নদীর ওপর নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই প্রকল্পের ক্ষমতা ১১ হাজার মেগাওয়াট ধরা হয়েছে। এটি জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি বন্যা নিয়ন্ত্রণের কাজও করবে। বাস্তবায়িত হলে এটি ভারতের সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎ প্রকল্প হবে।

রাষ্ট্রীয় সংস্থা এনএইচপিসি এই প্রকল্পের নেতৃত্ব দিচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতি বছর প্রায় ৪৭ বিলিয়ন ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে। প্রকল্পটির সম্ভাব্য ব্যয় প্রায় ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার কোটি রুপির সমান।

তবে দুই দেশের প্রকল্পের মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে। চীনের মেডগ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ক্ষমতা প্রায় ৬০ হাজার মেগাওয়াট। এটি ইতোমধ্যেই নির্মাণ পর্যায়ে রয়েছে। অন্যদিকে ভারতের এসইউএমপি এখনও প্রাথমিক সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পর্যায়ে আছে। নির্মাণের কাজ এখনো শুরু হয়নি।

চীনের প্রকল্পের সক্ষমতা ভারতের তুলনায় অনেক বেশি বলে খবরের ভিত্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভারত নিজেদের কৌশলগত পরিকল্পনা দ্রুত এগিয়ে নিতে চাইছে। একিক্রমে চীনের প্রতিটি পদক্ষেপও নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। কারণ এই নদী নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মতবিরোধ বিদ্যমান রয়েছে।

চীনের ইয়ারলুং সাংপো নদী ভারতীয় সীমান্তে প্রবেশ করার পর সিয়াং নদী নামে পরিচিত হয়। এরপর এটি বিস্তৃত হয়ে ব্রহ্মপুত্র নদে পরিণত হয়। অরুণাচল প্রদেশ ও আসামের লাখো মানুষের জীবন ও জীবিকা এই নদীর ওপর নির্ভরশীল।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, উজানে বড় বাঁধ তৈরি হলে নদীর স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ পরিবর্তিত হতে পারে। এতে পরিবেশের বড় ক্ষতি হতে পারে। কৃষি উৎপাদনও ব্যাহত হতে পারে। পাশাপাশি ভাটির এলাকায় হঠাৎ বন্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

ভারতীয় সংসদে দেওয়া এক লিখিত জবাবে কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়েছে যে, তারা ব্রহ্মপুত্র নদ অববাহিকায় সব ধরনের কার্যক্রম সতর্কভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। এর মধ্যে চীনের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পও রয়েছে। সরকার আরো জানিয়েছে, ভাটির এলাকার মানুষের জীবন ও জীবিকা রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। নয়াদিল্লি দীর্ঘদিন ধরে বেইজিংয়ের কাছে দাবি জানিয়ে আসছে যে, সীমান্ত অতিক্রম করা নদীগুলোর প্রকল্পে স্বচ্ছতা রাখতে হবে এবং আগাম তথ্য দিতে হবে। তবে এই বিষয়ে এখনো বড় কোনো অগ্রগতি হয়নি।

অন্যদিকে ভারতের এসইউএমপি প্রকল্পটি শুধুমাত্র বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য তৈরি হচ্ছে না, বরং মৌসুমি বন্যা নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যেও তৈরি করা হচ্ছে। একই সঙ্গে উজানের পানি প্রবাহের কারণে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলার দিকটিও এতে যুক্ত করা হয়েছে। এই প্রকল্পকে ঘিরে কেবল অর্থনৈতিক নয়, ভূরাজনৈতিক গুরুত্বও বাড়ছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

এদিকে পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারত উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বন্যার আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা, নদী পর্যবেক্ষণ নেটওয়ার্ক এবং অবকাঠামো শক্তিশালী করার কাজও বৃদ্ধি করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে ১৭ চুক্তি সইয়ের সম্ভাবনা: পররাষ্ট্র সচিব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

০২:০৮ পি.এম


প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে ১৭ চুক্তি সইয়ের সম্ভাবনা: পররাষ্ট্র সচিব

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরে দুই দেশের মধ্যে ১৭টি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে বলে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

শনিবার (২০ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য প্রকাশ করেন।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরে দুই দেশের মধ্যে ১৫ থেকে ১৭টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) অথবা চুক্তি সই হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক, দুইটি চুক্তি, একটি অ্যাকশন প্ল্যান এবং একটি প্রটোকল সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীন সফরের জন্য এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। আগামী ২১ থেকে ২৬ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মালয়েশিয়া ও চীন সফরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বদলাচ্ছে উড়ন্ত হোয়াইট হাউস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ২০ই জুন, ২০২৬ ইং

০২:১০ পি.এম


বদলাচ্ছে উড়ন্ত হোয়াইট হাউস

মার্কিন প্রেসিডেন্টের সুবিখ্যাত প্রতীকগুলির মধ্যে একটি হলো এয়ারফোর্স ওয়ান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট যেখানেই আকাশপথে যান, এয়ারফোর্স ওয়ান তাকে বহন করে। এয়ারফোর্স ওয়ান কেবল একটি বিমান নয়, একে বলা হয়, উড়ন্ত হোয়াইট হাউস। এতে মজুত আছে অত্যন্ত সুরক্ষিত এবং নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা, যার মাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট পৃথিবীর যে প্রান্তেই থাকুন, বিমানে বসেই তিনি দেশ শাসন করতে সক্ষম। বলা ভালো, তিনি বিশ্ব চালাতে পারছেন।

এয়ারফোর্স ওয়ানে উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত আছে, যা আকাশে শত্রুর যেকোনো ধরনের আক্রমণ প্রতিরোধে সক্ষম। রাষ্ট্রপতি, কর্মী এবং ক্রু ছাড়া এয়ারফোর্স ওয়ানে একশরও বেশি অতিথির ভ্রমণের সুযোগ রয়েছে। এটি সার্জিক্যাল রুমসহ জরুরি চিকিৎসার জন্য সর্বাধুনিক মেডিক্যাল সরঞ্জাম এবং ওষুধ মজুদ রয়েছে। পাশাপাশি, আকাশে উড়তে উড়তেই রিফুয়েলিংয়েরও ব্যবস্থা রয়েছে এই এয়ারক্র্যাফটে।

বর্তমানে বোয়িং ৭৪৭-২০০ সিরিজের দুটি বিমান এয়ারফোর্স ওয়ান হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ১৯৯০ সাল থেকেই বিমান দুটি মার্কিন প্রেসিডেন্টদের বহন করে আসছে। তবে পুরোনো বিমান দুটি পরিবর্তন করে বোয়িং নতুন এয়ারফোর্স ওয়ানে যুক্ত করার জন্য দুটি অত্যাধুনিক বিমান নির্মাণ করছে। নতুন বিমান দুটি বহরে যুক্ত হতে অন্তত আরও দুই বছর লাগবে। কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য অপেক্ষা করাটা সহজ নয়। পুরনো বিমান আর তার ভালো লাগছে না। নতুন বোয়িংয়ের জন্য তিনি অপেক্ষা করতে করতে হয়তো তাঁর মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে।

এ অবস্থায় মধ্যবর্তী সময়ের জন্য একটি আধুনিক বোয়িং ৭৪৭-৮ এয়ারক্র্যাফটকে এয়ারফোর্স ওয়ান হিসেবে প্রস্তুত করা হয়েছে। শুক্রবার, ম্যারিল্যান্ডের বেজ অ্যান্ড্রুজে নতুন এয়ারফোর্স ওয়ান উদ্বোধন করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিমানটি ঘুরে দেখার পর, লাল গালিচা বিছানো সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় বিমানবাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশ্যে তিনি মন্তব্য করেন, ‘সবকিছুর ডিজাইন দারুণ করা হয়েছে। আমি বলব, এটি আমার রুচিমতো হয়েছে।’

নতুন বিমানটিকে বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বিলাসবহুল হিসেবে অভিহিত করে ট্রাম্প বলেছেন, 'বিমানটিকে এমন এক বিলাসবহুল উড়ন্ত হোয়াইট হাউসে রূপান্তরিত করা হয়েছে, যা আগে কেউ কখনো দেখেনি।' গত বছর কাতার রাজপরিবার থেকে ৪০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের বিলাসবহুল জাম্বো জেট এই যুক্তরাষ্ট্রকে উপহার দেওয়া হয়েছিল। ভিন্ন একটি দেশের কাছ থেকে ৪০০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের উপহার নেওয়ার নৈতিক, আইনি এবং জাতীয় নিরাপত্তা সম্পর্কিত নানা প্রশ্নকে উপেক্ষা করেই মার্কিন বিমানবাহিনী এর এয়ারফোর্স ওয়ানে রূপান্তরের কাজ শুরু করে।

নতুন এয়ারফোর্স ওয়ানে আগের সুবিধাগুলির পাশাপাশি আরো আভিজাত্য, আধুনিকতা এবং বিলাসিতা যুক্ত হচ্ছে। বিমানটিতে নিরাপত্তাব্যবস্থা, বিশেষ যোগাযোগ প্রযুক্তি, লজিস্টিক সহায়তা এবং আধুনিক প্রযুক্তির সক্ষমতায় গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন করা হয়েছে। বিমানবাহিনীর দাবি, এই বিমানে সম্ভাব্য সব ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি দূর করা হয়েছে। নতুন এয়ারফোর্স ওয়ানে লেজের অংশে থাকা আমেরিকান পতাকা আগে থেকে কিছুটা ঢিলেঢালা। ট্রাম্প ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘আমরা এর মধ্যে একটা ঢেউয়ের ছোঁয়া দিয়েছি। আমরা সবসময় সোজা নুডলসের মতো নকশা ব্যবহার করে এসেছি, যা আমি কখনই খুব একটা পছন্দ করিনি।’

এটি এমন একটি পরিবেশ যে, এয়ারফোর্স ওয়ান সাজানোর ক্ষেত্রে ডোনাল্ড ট্রাম্পের রুচিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। যখন এই নতুন বিমান বহরে যুক্ত হবে, তখন পুরোনো বিমানগুলোর সংস্কার শেষে সেগুলো জাদুঘরে পাঠানো হবে। ১৯৯০ সাল থেকে আগের বিমান দুটি দুই জর্জ বুশ, বিল ক্লিনটন, বারাক ওবামা এবং জো বাইডেনকে নিয়ে বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ মাইল উড়েছে। এয়ারফোর্স ওয়ানে যুক্ত হওয়ার আগে শিগগিরই নতুন বিমানটি ‘কমিশনিং ফ্লাইট’ শুরু করবে। কমিশনিং ফ্লাইটকে বিমানের পরিবর্তনের চূড়ান্ত পরীক্ষা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। ট্রাম্প আশা করছেন, আগামী ৪ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম জন্মদিনের আগেই তিনি নতুন বিমানটিতে চড়ে মাউন্ট রাশমোরে যেতে পারবেন। স্বাধীনতা দিবসের দিনে তিনি নতুন উড়ন্ত হোয়াইট হাউস নিয়ে আসল হোয়াইট হাউসের ওপর দিয়ে উড়ে যেতে চান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪১
জোহর ১১:৪৫
আসর ০৩:৫৩
মাগরিব ০৫:৩০
ইশা ০৬:৪১
সূর্যোদয় : ০৫:৫৭ সূর্যাস্ত : ০৫:৩০
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%