০২:০০ পি.এম
এক সময় তারা যেন একই মুদ্রার দুই পিঠ ছিলেন। ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু একসঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখেছিলেন। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার সময় তাদের বিশ্বাস ছিল যে, তেহরানের শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়বে এবং সেই বিজয়ের ঢেউ ইসরায়েলের রাজনীতিতে নতুন শক্তি নিয়ে আসবে। কিন্তু কয়েক মাসের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর এখন পরিস্থিতি বিপরীত হয়ে গেছে।
যে যুদ্ধটি নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ আরও শক্তিশালী করার কথিত ছিল, সেটিই এখন নতুন সংকটের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। অন্যদিকে, ইসরায়েল মনে করছে, যুদ্ধের ঘোষিত লক্ষ্যগুলোর কোনোটিই পুরোপুরি অর্জিত হয়নি। বার্তাসংস্থা রয়টার্স-এর প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ পেয়েছে।
ইসরায়েলি কর্মকর্তারা প্রকাশ্যে খুব সতর্ক ভাষায় কথা বলছেন। কারণ, তারা ট্রাম্পের সঙ্গে প্রকাশ্য বিরোধে জড়াতে চান না। তবে আড়ালে আলোচনার বিষয় সম্পূর্ণ ভিন্ন। কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মনে করছেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রাথমিক সমঝোতা ইসরায়েলের জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক।
আরও পড়ুন: ইউজিসির দুই বছরের মধ্যে সব বিশ্ববিদ্যালয়কে ডিজিটাল নেটওয়ার্কে আনার পরিকল্পনা
মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের তথ্য অনুযায়ী, এই সমঝোতায় লেবাননসহ সকল ফ্রন্টে সামরিক অভিযান বন্ধের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল। আর এই স্থানেই তেল আবিবের মধ্যে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কারণ, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান থামানোর কোনও আগ্রহ ইসরায়েলের নেই। বরং দক্ষিণ লেবাননের সামরিক উপস্থিতি ধরে রাখতে চায় দেশটি। এ নিয়েই ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে কয়েক দফা মতবিরোধ হয়েছে। এক পর্যায়ে বৈরুতে হামলা ঠেকানোর চেষ্টা করতে গিয়ে ট্রাম্প reportedly নেতানিয়াহুকে ‘পুরোপুরি পাগল’ বলেছিলেন। যদিও পরে নেতানিয়াহু আবার লেবাননে হামলার নির্দেশ দেন। এর পর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।
অবশেষে, নেতানিয়াহু স্বীকার করেছেন যে, তাঁর ও ট্রাম্পের মধ্যে সব সময় মতের মিল হয় না। তাঁর ভাষ্যে, অনেক বিষয়ে দুই নেতা একমত হলেও এমন সময় আসে, যখন মতপার্থক্য তৈরি হয়। এবং তাঁর প্রথম দায়িত্ব হলো ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
এরই মধ্যে আগামী অক্টোবরে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচন সামনে চলে এসেছে। জনমত জরিপগুলো নেতানিয়াহুর জন্য সুখবর দিচ্ছে না। আরও বড় বিষয় হলো, ইসরায়েলিদের একাংশের মধ্যেও ট্রাম্পের প্রতি আস্থা কমতে শুরু করেছে। এক সময় ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে নিজের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে তুলে ধরতেন নেতানিয়াহু। কিন্তু আজ সেই সম্পর্কই যেন নতুন প্রশ্নের মুখোমুখি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নেতানিয়াহুর সবচেয়ে বড় আশা হয়তো একটাই। সেটি হলো, এই সমঝোতা ব্যর্থ হবে এবং কয়েক মাসের মধ্যে পরিস্থিতি আবার পাল্টে যাবে। কারণ, বর্তমান পরিস্থিতিতে ট্রাম্প ও তেহরানের কাছে চলে আসা ইসরায়েলের জন্য এক নতুন বাস্তবতার জন্ম দিয়েছে।
আরও পড়ুন: ইয়েমেনে সংঘাতের কারণে ২ লাখ ৩০ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন