ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

বিশ্ববাজারে লাফিয়ে বাড়ছে স্বর্ণের দাম, বাড়বে দেশেও!


বিশ্ববাজারে লাফিয়ে বাড়ছে স্বর্ণের দাম, বাড়বে দেশেও!

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুদ্ধ বন্ধ ও হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু করার বিষয়ে একটি প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছানোর খবরে স্বর্ণের দাম বিশ্ববাজারে প্রায় ২ শতাংশ বেড়ে গেছে। একই সময়ে তেলের দাম কমে যাওয়ায় মুদ্রাস্ফীতি ও উচ্চ সুদের হার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ কিছুটা কমে গিয়েছে।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে যে, সোমবার (১৫ জুন) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩০৪ দশমিক ১১ ডলারে পৌঁছেছে। এটি ৯ জুনের পর সর্বোচ্চ দাম। একই সময় আগস্ট ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচারটির দামও ২ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৩২৫ দশমিক ২০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তারা যুদ্ধ শেষ করার, ইরানের ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার করার এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়ার বিষয়ে একটি কাঠামোগত সমঝোতায় পৌঁছেছেন।

আরও পড়ুন: রাষ্ট্রপতি: আজকের শিক্ষার্থীরাই জাতির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে দক্ষ হতে হবে

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ আশা করেছেন যে, শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। এদিকে, ১০ দিনের সর্বনিম্ন পর্যায়ে ডলারের অবস্থান নেমে আসায় অন্যান্য মুদ্রাধারীদের জন্য ডলার-নির্ধারিত স্বর্ণ তুলনামূলকভাবে সস্তা হয়ে পড়েছে। একই সাথে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ৪ শতাংশের বেশি কমেছে।

কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার মন্তব্য করেছেন যে, ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি কমে যাওয়ার ফলশ্রুতিতে এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার সম্ভাবনার কারণে তেলের দাম কমে গেছে। অতিরিক্তভাবে, ডলারের দুর্বলতা মুদ্রাস্ফীতির চাপ কমাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, বর্তমান পরিস্থিতি স্বর্ণের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে। তবে, শান্তি চুক্তি কতটা টেকসই হয়, তার উপর এই প্রবণতার স্থায়িত্ব নির্ভর করছে।

ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানকে ঘিরে মার্কিন-ইসরায়েল সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে স্বর্ণের দাম প্রায় ২০ শতাংশের মতো কমে গেছে। ওই সময়, হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বব্যাপী তেলের দাম বেড়ে যায়, যা মুদ্রাস্ফীতি ও উচ্চ সুদের হার বজায় থাকার আশঙ্কা তৈরি করেছিল।

আরও পড়ুন: নির্বাচনের আগে ইরানে হামলার পরিকল্পনা নেই: ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী

অর্থনীতিবিদদের মতে, স্বর্ণ সাধারণত মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে নিরাপদ আশ্রয় বলে মনে করা হয়। কিন্তু উচ্চ সুদের হারের পরিবেশে এই ধাতুর আকর্ষণ কমে যেতে পারে, কারণ তখন স্বর্ণ ধরে রাখার সম্ভাব্য ব্যয় বৃদ্ধি পায়।

সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, শান্তি চুক্তির পর ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা গত সপ্তাহের ৬৯ শতাংশ থেকে কমে ৪৭ শতাংশে নেমে আসছে। ওসিবিসি এক নোটে উল্লেখ করেছে যে, মুদ্রার অবমূল্যায়ন উদ্বেগ, আর্থিক ঝুঁকি এবং চলমান ভূ-রাজনৈতিক বিভাজন দীর্ঘমেয়াদে স্বর্ণের চাহিদাকে সমর্থন করে। তবে, জ্বালানিনির্ভর মুদ্রাস্ফীতি কমে গেলে বাজারে নতুন গতিশীলতা তৈরি হতে পারে।

অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও বড় ধরনের উত্থান দেখা গেছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম ৩ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৭০ দশমিক ০৭ ডলার হয়েছে। প্লাটিনামের দাম একই হারে বেড়ে ১ হাজার ৭৭১ দশমিক ২৭ ডলারে পৌঁছেছে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৩২৫ দশমিক ৭৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে, বিশ্ববাজারে দাম বাড়ায় দেশে স্বর্ণ ও রুপা দাম বাড়তে পারে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সূত্রে জানা গেছে যে, বিশ্ববাজারে দাম বাড়লে দেশের বাজারেও তার প্রভাব পড়বে। তাই যে কোনো সময় দেশের বাজারে মূল্যবান ধাতুগুলোর দাম বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।

আরও পড়ুন: বিচারকের কাছে অভিযোগ প্রত্যাহারের আবেদন জানালেন পলক

অতীতে, গত ১৩ জুন সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) স্বর্ণ ও রুপার দাম বাড়িয়েছে। সেদিন ভরিতে দুটি মূল্যবান ধাতুর দাম যথাক্রমে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা ও ২৯১ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছিল।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরিতে (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ৯৪০ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৪ হাজার ৭৩৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৪৯ হাজার ৮৮২ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।

বর্তমানে, ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ১৩২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৮৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ১৯৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ৩ হাজার ১৪৯ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।

আরও পড়ুন: বেরোবিসাসের ষান্মাসিক সেরা ফিচার লেখক হলেন মাসফিকুল হাসান

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের বিশ্বকাপে নিষেধাজ্ঞার অনুরোধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:২৩ এম


যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আর্জেন্টাইন সমর্থকদের বিশ্বকাপে নিষেধাজ্ঞার অনুরোধ

চলমান বিশ্বকাপে নিজেদের দেশের ১৩ হাজার সমর্থকের স্টেডিয়ামে প্রবেশ ঠেকাতে যুক্তরাষ্ট্রের সাহায্য চেয়েছে আর্জেন্টিনা সরকার। সন্তানদের ভরণপোষণে ব্যর্থ হওয়ার কারণে এবং বিভিন্ন আইনী জটিলতায় জড়িত থাকার জন্য এই সব সমর্থকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে আর্জেন্টাইন সরকার।

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এএস-এর একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃপক্ষের কাছে মোট প্রায় ১৩ হাজার ব্যক্তির একটি তালিকা পাঠিয়েছে বুয়েনস আইরেস। তালিকাভুক্ত এই ব্যক্তিদের মধ্যে বেশির ভাগের বিরুদ্ধে সন্তানদের ভরণপোষণ বা ‘চাইল্ড সাপোর্ট’ বকেয়া রাখার অভিযোগ রয়েছে।

আর্জেন্টিনা প্রশাসনের ধারণা এটি যে, যারা নিজেদের সন্তানের মৌলিক ও আর্থিক দায়িত্ব পালন করতে ব্যর্থ হয়েছেন, তাদের বিশ্বকাপের মতো আনন্দঘন বৈশ্বিক ক্রীড়া আসরে উপস্থিত থাকার কোনো নৈতিক অধিকার নেই। বুয়েনস আইরেসের মেয়র হোর্হে মাখরি কঠোর অবস্থানের কথা জানানোর সময় বলেন, 'যারা নিজেদের সন্তানের প্রয়োজন মেটাতে পারে না, তাদের কোনোভাবেই স্টেডিয়ামে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।'

নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করতে আর্জেন্টিনা সরকার ‘সেফ স্ট্যান্ডস’ বা নিরাপদ গ্যালারি নামক একটি বিশেষ কর্মসূচি পরিচালনা করছে। এর মূল লক্ষ্য হলো আদালতে প্রমাণিত ভরণপোষণ বকেয়া রাখা ব্যক্তি এবং সহিংস অপরাধের সাথে জড়িতদের ক্রীড়া ভেন্যু থেকে দূরে রাখা। ইতিমধ্যেই এই কর্মসূচির আওতায় দেশটিতে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করা হয়েছে। ২০২৩ সালে কর্মসূচিটি কার্যকর হওয়ার পর থেকে আর্জেন্টিনার ঘরোয়া ফুটবলে ১ হাজার ৩২৮টি ম্যাচে প্রায় ৪০ লাখের বেশি দর্শককে যাচাই করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় ১ হাজার ১৬৬ জন পলাতক অপরাধী বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে সক্ষম হয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

আর্জেন্টিনার জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী পাত্রিসিয়া বুররিচ জানিয়েছেন, সব মিলিয়ে ১৫ হাজারের বেশি মানুষের একটি তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে, যাদের স্টেডিয়ামে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর সঙ্গে নিয়মিত তথ্য বিনিময়ের মাধ্যমে এই তালিকাভুক্ত ব্যক্তিদের স্টেডিয়ামে প্রবেশ আটকানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, যাতে আর্জেন্টিনার কোনো চিহ্নিত অপরাধী বৈশ্বিক এই আসরের পরিবেশ নষ্ট করতে না পারে।

এদিকে, মাঠের লড়াইয়ে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা এবারও শিরোপার অন্যতম প্রধান দাবিদার। ‘জে’ গ্রুপে লিওনেল স্কালোনির দল তাদের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হবে আলজেরিয়ার। গ্রুপ পর্বের বাকি ম্যাচগুলোতে আলবিসেলেস্তেদের প্রতিপক্ষ অস্ট্রিয়া ও জর্ডান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির খবরে বিশ্বের প্রতিক্রিয়া কী?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:২৪ এম


যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির খবরে বিশ্বের প্রতিক্রিয়া কী?

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সংঘাত স্থায়ীভাবে অবসানের লক্ষ্যে একটি শান্তিচুক্তিতে পৌঁছানোর কথা ঘোষণা করেছে। সোমবার (১৫ জুন) ভোরে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের ঘোষণার পর, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান নিশ্চিত করেছে তারা চুক্তিতে পৌঁছেছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) একটি বার্তায় উল্লেখ করেছেন, দুই পক্ষ সামরিক অভিযান সব ফ্রন্টে অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে বন্ধ করার বিষয়ে সম্মত হয়েছে।

তিনি আরও জানিয়েছেন, সমঝোতা স্মারকে সম্মতি হওয়ার পর মধ্যস্থতাকারীরা এ সপ্তাহে কয়েকটি প্রাক-বাস্তবায়ন বৈঠকের আয়োজন করবেন। এসব বৈঠকে চুক্তি বাস্তবায়নের কারিগরি বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে।

শেহবাজ শরিফ জানান, শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডে চুক্তি স্বাক্ষরের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে। আলোচনায় সহায়তার জন্য কাতারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি।

ওয়াশিংটন এবং তেহরান শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানোর ঘোষণা দেয়ার পর বিশ্বজুড়ে বহু দেশ এবং সম্প্রদায় তাদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইছি ইরান-যুক্তরাষ্ট্র চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি সমঝোতা স্মারকটিকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে, এই সমঝোতা বাস্তবায়িত হবে। তিনি আরও বলেন, হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ ও অবাধ নৌ চলাচল নিশ্চিত করা এবং ইরানের পারমাণবিক ইস্যুসহ অন্যান্য বিষয়ে চূড়ান্ত চুক্তি দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন হবে।

জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস বলেন, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের নেতাদের অভিনন্দন জানিয়ে জানান, এই চুক্তি সম্ভবত আরও বিস্তৃত অগ্রগতির পথ খুলে দিতে পারে। তিনি বলেন, ‘এটি বৈশ্বিক অর্থনীতিকে নতুন গতি দিতে এবং মধ্যপ্রাচ্যকে আরও নিরাপদ অঞ্চলে পরিণত করার পথ প্রশস্ত করতে পারে।’

নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইনস্টন পিটার্স সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘আমরা সব পক্ষকে ইতিবাচক এই গতি ধরে রাখার আহ্বান জানাই। পরিস্থিতি এখনও নাজুক হলেও, চুক্তিটি কয়েক দশকের জটিল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি গঠনমূলক পদক্ষেপ।’

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান বলেছেন, ‘আমি আশা করি, দীর্ঘদিন ধরে যার প্রয়োজন ছিল পুরো বিশ্বের, সেই এই খবর আমাদের অঞ্চলে স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তার পরিবেশ প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করবে।’ তিনি চুক্তি স্বাক্ষরের আগ পর্যন্ত সব পক্ষকে উত্তেজনা বাড়াতে পারে এমন বক্তব্য, উসকানি ও কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। এরদোয়ান বলেন, এ অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরেই শান্তিপূর্ণ পরিবেশের প্রয়োজন ছিল এবং আঙ্কারা এ ধরনের উদ্যোগে সমর্থন অব্যাহত রাখতে প্রস্তুত।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি চুক্তির ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন। মহাসচিবের মুখপাত্র এক বিবৃতিতে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি শান্তি চুক্তিতে সম্মত হয়েছে—এই ঘোষণা আমরা স্বাগত জানাই। এটি সংঘাতের শান্তিপূর্ণ সমাধানের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।’

অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ জানান, তিনি আশা করেন এই চুক্তি ‘টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী শান্তি’ প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে। তিনি জানান, ‘কিছুটা সময় লাগলেও এই গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নৌপথ পুনরায় সচল করা জ্বালানির দাম এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর চাপ কমানোর জন্য অত্যন্ত জরুরি।’

জার্মানি, ইতালি, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য জানিয়েছে, ইরান যদি তার পারমাণবিক কর্মসূচি বিষয়ে স্পষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করে, তাহলে তারা তেহরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে প্রস্তুত। এক যৌথ বিবৃতিতে চার দেশের নেতারা বলেন, ‘ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না।’ দুই পক্ষের ওপর চাপ অব্যাহত থাকে বলে উল্লেখ করেছে। এছাড়া বিবৃতিতে হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌ চলাচল নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে এবং লেবাননের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র: আল জাজিরা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সব গণপরিবহনে বাধ্যতামূলক চালু হচ্ছে জিপিএস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:২৬ এম


সব গণপরিবহনে বাধ্যতামূলক চালু হচ্ছে জিপিএস

বাংলাদেশের সব গণপরিবহনে জিপিএস সংযুক্ত করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এটি আগামী ১ আগস্ট থেকে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

দেশের গণপরিবহন ব্যবস্থার আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সমন্বয়ের মাধ্যমে নিরাপদ সড়ক পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) সম্প্রতি এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিআরটিএ জানায়, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের তরফে গত ১১ জুন এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, সব গণপরিবহনে জিপিএস ডিভাইস সংযুক্ত করতে হবে এবং এটি সার্বক্ষণিকভাবে সচল রাখতে হবে।

জিপিএস সংযুক্তির কারিগরি বিবরণ বাংলাদেশের সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) স্থানীয় অফিস থেকে সরাসরি অথবা সংস্থাটির ওয়েবসাইট www.brta.gov.bd থেকে জেনে নেওয়া যাবে।

এছাড়া, প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮-এর ধারা ২৫ এবং সড়ক পরিবহন বিধিমালা, ২০২২-এর বিধি ৫৫ অনুযায়ী গণপরিবহনে জিপিএস সংযুক্তকরণ নিশ্চিত হওয়ার পরই রেজিস্ট্রেশন প্রদান ও ফিটনেস সনদ নবায়ন করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তি, অস্বস্তিতে ইসরায়েল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১৫ই জুন, ২০২৬ ইং

০৯:২৮ এম


যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তিচুক্তি, অস্বস্তিতে ইসরায়েল

দীর্ঘ উত্তেজনা ও সংঘাতের পর, যুদ্ধ বন্ধে অবশেষে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান শান্তিচুক্তিতে পৌঁছেছে।

আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তি সইয়ের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এই সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন একটি বাস্তবতা তৈরি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি অস্বস্তিতে পড়েছে ইসরায়েল।

চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া হবে, ইরানের বিরুদ্ধে আরোপিত মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করা হবে, বিভিন্ন ফ্রন্টে লেবাননসহ সামরিক অভিযান বন্ধ করতে হবে এবং পারমাণবিক ইস্যুতে নতুন আলোচনার পথ তৈরি হতে পারে।

এই সমঝোতার ঘোষণার পরেই ইসরায়েলে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ডানপন্থী সংবাদমাধ্যমগুলো এখন ট্রাম্পের সমালোচনার জন্য সরব হয়ে উঠেছে।

কিছু মাস আগে যেসব গণমাধ্যম ট্রাম্পকে ইসরায়েলের অন্যতম নির্ভরযোগ্য মিত্র হিসেবে তুলে ধরেছিল, তারা এখন তার অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তির ফলে লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতা সীমিত বা বন্ধ করার জন্য আন্তর্জাতিক চাপ বাড়তে পারে। কিছু ক্ষেত্রে সেনা উপস্থিতি কমানোর বিষয়েও আলোচনা তৈরি হতে পারে। এ কারণে ইসরায়েলের কট্টরপন্থী মহল এই সমঝোতাটিকে শুধুমাত্র রাজনৈতিক নয়, বরং কৌশলগত পরাজয় হিসেবেও দেখছে।

তাদের ধারণা, চুক্তিটি কার্যকর হলে আঞ্চলিক রাজনীতিতে ইরানের অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে এবং তেহরান এটিকে নিজেদের বিজয় হিসেবে তুলে ধরবে। ফলে বহুদিন ধরে ইরানের বিরুদ্ধে যে আঞ্চলিক চাপ সৃষ্টি করা হয়েছিল, তার বড় একটি অংশ দুর্বল হয়ে পড়তে পারে।

চুক্তির ঘোষণা আসার মাত্র এক দিন আগেও পরিস্থিতি ছিল উত্তপ্ত। রবিবার (১৪ জুন) বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি হামলার ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। ওই হামলার তীব্র সমালোচনা করে ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে কঠোর জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেয়। তবে এই পরিস্থিতির মধ্যেই ওয়াশিংটন ও তেহরান সমঝোতার পথে এগিয়ে যাওয়ায় কূটনৈতিক মহলে বিস্ময় তৈরি হয়েছে।

যদিও এখনো চুক্তির পূর্ণাঙ্গ শর্ত প্রকাশ করা হয়নি এবং ইরানের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক অনুমোদন আসেনি। তবে মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক ভূরাজনীতিতে এটিকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষরের পরই সমঝোতার প্রকৃত কাঠামো ও এর আঞ্চলিক প্রভাব আরও স্পষ্ট হবে।

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চুক্তি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প লিখেছেন, “ইরানের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। সকলকে অভিনন্দন। হরমুজ প্রণালীর শুল্কমুক্ত ব্যবহারে আমি অনুমোদন দিচ্ছি‌। পাশাপাশি সেখান থেকে মার্কিন অবরোধ তুলে নেওয়ার নির্দেশ দিচ্ছি। এবার সারা পৃথিবীর জাহাজ তাদের ইঞ্জিন চালু করে দিক। তেল পরিবাহিত হোক।”

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ সোমবার ভোররাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, যুদ্ধ বন্ধে একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। আগামী শুক্রবার (১৯ জুন) সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তি সই হবে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, আমরা আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা করছি যে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের মধ্যে শান্তি চুক্তি অর্জিত হয়েছে। উভয় পক্ষ সকল সম্মুখে, লেবানন সহ, সামরিক অভিযানের তাৎক্ষণিক এবং স্থায়ী বন্ধ ঘোষণা করেছে।

ইরান সরকারের পক্ষ থেকে চুক্তিতে পৌঁছানোর বিষয়ে এখনো কিছু জানানো হয়নি। তবে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে এ খবর প্রচার করা হয়েছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর বিবৃতির বরাত দিয়ে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও দেশটির কিছু সংবাদমাধ্যমে এই চুক্তিকে ইরানের জন্য বিজয় হিসেবে বর্ণনা করছে।

সূত্র: আলজাজিরা, বিবিসি, রয়টার্স ও মেহর নিউজ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%