০৯:০৪ এম
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুদ্ধ বন্ধ ও হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু করার বিষয়ে একটি প্রাথমিক সমঝোতায় পৌঁছানোর খবরে স্বর্ণের দাম বিশ্ববাজারে প্রায় ২ শতাংশ বেড়ে গেছে। একই সময়ে তেলের দাম কমে যাওয়ায় মুদ্রাস্ফীতি ও উচ্চ সুদের হার নিয়ে বিনিয়োগকারীদের উদ্বেগ কিছুটা কমে গিয়েছে।
বার্তাসংস্থা রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে যে, সোমবার (১৫ জুন) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩০৪ দশমিক ১১ ডলারে পৌঁছেছে। এটি ৯ জুনের পর সর্বোচ্চ দাম। একই সময় আগস্ট ডেলিভারির জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচারটির দামও ২ শতাংশ বেড়ে ৪ হাজার ৩২৫ দশমিক ২০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তারা যুদ্ধ শেষ করার, ইরানের ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার করার এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেয়ার বিষয়ে একটি কাঠামোগত সমঝোতায় পৌঁছেছেন।
আরও পড়ুন: রাষ্ট্রপতি: আজকের শিক্ষার্থীরাই জাতির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে দক্ষ হতে হবে
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ আশা করেছেন যে, শুক্রবার সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। এদিকে, ১০ দিনের সর্বনিম্ন পর্যায়ে ডলারের অবস্থান নেমে আসায় অন্যান্য মুদ্রাধারীদের জন্য ডলার-নির্ধারিত স্বর্ণ তুলনামূলকভাবে সস্তা হয়ে পড়েছে। একই সাথে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ৪ শতাংশের বেশি কমেছে।
কেসিএম ট্রেডের প্রধান বাজার বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার মন্তব্য করেছেন যে, ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকি কমে যাওয়ার ফলশ্রুতিতে এবং হরমুজ প্রণালি পুনরায় খোলার সম্ভাবনার কারণে তেলের দাম কমে গেছে। অতিরিক্তভাবে, ডলারের দুর্বলতা মুদ্রাস্ফীতির চাপ কমাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।
বিশ্লেষকদের ধারণা, বর্তমান পরিস্থিতি স্বর্ণের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করেছে। তবে, শান্তি চুক্তি কতটা টেকসই হয়, তার উপর এই প্রবণতার স্থায়িত্ব নির্ভর করছে।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানকে ঘিরে মার্কিন-ইসরায়েল সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে স্বর্ণের দাম প্রায় ২০ শতাংশের মতো কমে গেছে। ওই সময়, হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্বব্যাপী তেলের দাম বেড়ে যায়, যা মুদ্রাস্ফীতি ও উচ্চ সুদের হার বজায় থাকার আশঙ্কা তৈরি করেছিল।
আরও পড়ুন: নির্বাচনের আগে ইরানে হামলার পরিকল্পনা নেই: ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী
অর্থনীতিবিদদের মতে, স্বর্ণ সাধারণত মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে নিরাপদ আশ্রয় বলে মনে করা হয়। কিন্তু উচ্চ সুদের হারের পরিবেশে এই ধাতুর আকর্ষণ কমে যেতে পারে, কারণ তখন স্বর্ণ ধরে রাখার সম্ভাব্য ব্যয় বৃদ্ধি পায়।
সিএমই ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, শান্তি চুক্তির পর ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা গত সপ্তাহের ৬৯ শতাংশ থেকে কমে ৪৭ শতাংশে নেমে আসছে। ওসিবিসি এক নোটে উল্লেখ করেছে যে, মুদ্রার অবমূল্যায়ন উদ্বেগ, আর্থিক ঝুঁকি এবং চলমান ভূ-রাজনৈতিক বিভাজন দীর্ঘমেয়াদে স্বর্ণের চাহিদাকে সমর্থন করে। তবে, জ্বালানিনির্ভর মুদ্রাস্ফীতি কমে গেলে বাজারে নতুন গতিশীলতা তৈরি হতে পারে।
অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও বড় ধরনের উত্থান দেখা গেছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম ৩ দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৭০ দশমিক ০৭ ডলার হয়েছে। প্লাটিনামের দাম একই হারে বেড়ে ১ হাজার ৭৭১ দশমিক ২৭ ডলারে পৌঁছেছে এবং প্যালাডিয়ামের দাম ৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৩২৫ দশমিক ৭৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে, বিশ্ববাজারে দাম বাড়ায় দেশে স্বর্ণ ও রুপা দাম বাড়তে পারে। বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সূত্রে জানা গেছে যে, বিশ্ববাজারে দাম বাড়লে দেশের বাজারেও তার প্রভাব পড়বে। তাই যে কোনো সময় দেশের বাজারে মূল্যবান ধাতুগুলোর দাম বাড়ানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
আরও পড়ুন: বিচারকের কাছে অভিযোগ প্রত্যাহারের আবেদন জানালেন পলক
অতীতে, গত ১৩ জুন সকালে এক বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) স্বর্ণ ও রুপার দাম বাড়িয়েছে। সেদিন ভরিতে দুটি মূল্যবান ধাতুর দাম যথাক্রমে ৬ হাজার ৫৯০ টাকা ও ২৯১ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছিল।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরিতে (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২৪ হাজার ৯৪০ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১৪ হাজার ৭৩৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ ১ লাখ ৪৯ হাজার ৮৮২ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।
বর্তমানে, ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৫ হাজার ১৩২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ৮৯৯ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ১৯৯ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা ৩ হাজার ১৪৯ টাকায় বেচাকেনা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: বেরোবিসাসের ষান্মাসিক সেরা ফিচার লেখক হলেন মাসফিকুল হাসান
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন